Kalki Koechlin Insomnia

প্রেম ভাঙলে ইনসমনিয়াও হতে পারে! নিদ্রাহীন রাতের যন্ত্রণার কথা জানালেন কল্কি কেকলাঁ

টানা চার মাস ধরে চলেছিল সমস্যা। রাতে দু’চোখের পাতা এক করতে পারতেন না অভিনেত্রী। নিজেকে ভুলিয়ে রাখার জন্য হয়তো কোনও দিন গিটার বাজাতেন বা অন্য কোনও ভাবে ব্যস্ত রাখতেন নিজেকে। কারণ, ঘুম কোনও ভাবেই আসত না।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২০ এপ্রিল ২০২৬ ২০:১১
Share:

ছবি: সংগৃহীত।

প্রেমে পড়লে যেমন জীবন বদলায়, তেমন প্রেম ভাঙলেও অনেক কিছু বদলে যায় জীবনে। দ্বিতীয় দফার সেই বদল অনেকের ক্ষেত্রে যন্ত্রণারও হয়। বহু মানুষ হতাশায় ডুবে যান। মনোরোগের শিকার হন কেউ। কারও আবার মনের ব্যথা বিস্তার করে শরীরেও। অভিনেত্রী কল্কি কেকলাঁর ক্ষেত্রে ভাঙা প্রেম রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছিল। মাসের পর মাস ইনসমনিয়ায় ভুগতে হয়েছিল তাঁকে। সেই যন্ত্রণার অভিজ্ঞতার কথাই সম্প্রতি বলেছেন অভিনেত্রী। নিজের পডকাস্টে অভিনেত্রী বলেছেন, ‘‘সে দিন আমি বুঝেছিলাম, মন আর শরীর পরষ্পরের সঙ্গে কতটা জড়িয়ে থাকে।’’

Advertisement

টানা চার মাস ধরে চলেছিল সমস্যা। রাতে দু’চোথের পাতা এক করতে পারতেন না অভিনেত্রী। কল্কি বলেছেন, ‘‘রাত ২-৩টে নাগাদ উঠে পড়তাম। তার পরে আর ঘুম আসত না। তখন নিজেকে ভুলিয়ে রাখার জন্য এটা সেটা করতে হত। হয়তো কোনও দিন গিটার বাজাতাম বা অন্য কোনও ভাবে ব্যস্ত রাখতাম নিজেকে। কারণ, ঘুম কোনও ভাবেই আসত না।’’

ইনসমনিয়ার প্রভাব পড়তে শুরু করেছিল কল্কির পেশাজীবনেও। তিনি অভিনেত্রী। তাঁর প্রতি দিন নিয়মে বাঁধা থাকে না। এক এক দিন প্রবল ব্যস্ততা। আবার কোনও দিন অল্প কাজ বা ছুটি। তবে যে দিন তাঁকে কাজ করতে হত, সে দিন কী কাজ করছেন, সেটাই বুঝতে পারতেন না। কল্কি বলেছেন, ‘‘কোনও কোনও দিন কাজ করতে করতে মনে হত, আমি বোধ হয় তখনও স্বপ্ন দেখছি। কী কাজ করছি বুঝতেই পারতাম না। জেগে আছি না কি ঘুমিয়ে আছি, বুঝতে পারতাম না তা-ও।’’

Advertisement

কিন্তু প্রেমে বিচ্ছেদ থেকে কি ইনসমনিয়া হতে পারে?

চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, বিচ্ছেদ কেবল মানসিক আঘাত নয়, বরং শরীরের ওপরও প্রবল চাপ সৃষ্টি করে। দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্কের ইতি ঘটলে মস্তিষ্কে ‘কর্টিসল’ বা স্ট্রেস হরমোনের নিঃসরণ বেড়ে যায়, যা শরীরকে সব সময়ে সতর্ক অবস্থায় রাখে। ফলে স্নায়ু শান্ত হতে পারে না এবং স্বাভাবিক ঘুমের চক্র ব্যাহত হয়। একেই বিশেষজ্ঞরা ‘সেপারেশন অ্যাংজ়াইটি’ বা বিচ্ছেদজনিত উদ্বেগ বলেন। কল্কির অভিজ্ঞতা প্রমাণ করে যে, মনের ক্ষত গভীর হলে শরীরেও তার প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। আর সেই প্রতিক্রিয়া অনিদ্রাও হতে পারে। তাই মন ভাঙলে ঘুম উবে যাওয়া অস্বাভাবিক ঘটনা নয়, বরং এটি শরীরের একটি জৈবিক সংকেত, যা বলছে সতর্ক হতে। এটি সাধারণত দীর্ঘস্থায়ী হয় না। তবে সমস্যা হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

Advertisement

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement