Ibu Baron

দ্বীপরাষ্ট্রের গহীনে দেখা মিলল পৃথিবীর সবচেয়ে লম্বা সাপের! আস্ত মানুষ গিলতে পারে সাড়ে ২৩ ফুট লম্বা ‘ইবু ব্যারন’

জীববৈচিত্রে সমৃদ্ধ ইন্দোনেশিয়ার মারোস অঞ্চলের বনভূমির বাসিন্দা এই ইবু ব্যারন। এখনও পর্যন্ত নথিভুক্ত দীর্ঘতম বন্য সাপ এটি। প্রাকৃতিক পরিবেশে বেড়ে ওঠা ও বসবাসকারী সাপেদের দৈর্ঘ্যের সমস্ত রেকর্ড ছাড়িয়ে গিয়েছে এই সাপটি।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৬:২৫
Share:
০১ ১৬

মিলল বিশ্বের বৃহত্তম সাপের সন্ধান। সে এক অতিকায় স্ত্রী অজগর। নিবাস দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দ্বীপরাষ্ট্রে। লম্বায় ২৩ ফুট ৭ ইঞ্চি। ২০২৫ সালের শেষের দিকে ইন্দোনেশিয়ার সুলাওয়েসির মারোস অঞ্চলের গভীর বনভূমিতে দেখা মিলেছে এই বিশালাকার স্ত্রী জালিকাযুক্ত অজগরের (রেটিকুলেটেড পাইথন)।

০২ ১৬

গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডের মতে, পরিমাপ করা সম্ভব হয়েছে এমন সাপের মধ্যে এই অজগরের প্রজাতিটি দীর্ঘতম। ১৮ জানুয়ারি সাপটির দৈর্ঘ্য মাপার পর সংস্থাটি জানিয়েছে মাথা থেকে লেজের ডগা পর্যন্ত সাপটির দৈর্ঘ্য ৭.২২ মিটার। আনুষ্ঠানিক ভাবে এটির আকার যাচাই করেছে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড।

Advertisement
০৩ ১৬

বৈজ্ঞানিক প্রমাণ রয়েছে যে, এটি এখনও পর্যন্ত নথিভুক্ত সবচেয়ে দীর্ঘ বন্য সাপ। প্রাকৃতিক পরিবেশে বেড়ে ওঠা ও বসবাসকারী সাপেদের দৈর্ঘ্যের সমস্ত রেকর্ড ছাড়িয়ে গিয়েছে এই সাপটি। সাপটিকে দেখে মেরুদণ্ড বরাবর ঠান্ডা স্রোত বয়ে যাওয়া অস্বাভাবিক নয়।

০৪ ১৬

জালিকাযুক্ত স্ত্রী অজগরটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘ইবু ব্যারন’। ইংরেজিতে ভাষান্তর করলে অর্থ দাঁড়ায় ‘দ্য ব্যারনেস’। বিরল ও বিশালাকৃতির স্ত্রী রেটিকুলেটেড পাইথনটি দৈর্ঘ্যে একটি ছোট বাসের সমান। ওজন প্রায় ৯৬ কেজি। দৈত্যাকার অজগরটি প্রায় একটি ফুটবল গোলপোস্টের সমান লম্বা। ছ’টি ট্রলিকে পর পর সাজালে যতটা দীর্ঘ হয় ততটাই লম্বা সাপটি।

০৫ ১৬

জীববৈচিত্রে সমৃদ্ধ ইন্দোনেশিয়ার মারোস অঞ্চলের বনভূমির বাসিন্দা এই ইবু ব্যারন। স্থানীয় বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞেরা প্রথমে এটির উপস্থিতির কথা জানতে পারেন। পরে ইন্দোনেশিয়ান ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্সেসের একটি দল গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের সঙ্গে যৌথ ভাবে সমস্ত বিধি মেনে সাপটির দৈর্ঘ্য মাপে।

০৬ ১৬

ইবু ব্যারনের মূল্যায়ন ও পরিমাপ করেছিলেন দু’জন। বোর্নিয়োর কালিমান্টানের পরিচিত বন্যপ্রাণী গাইড, সাপ উদ্ধারকারী ডিয়াজ নুগ্রাহা এবং বালির বাসিন্দা অভিযাত্রী ও আলোকচিত্রী রাদু ফ্রেন্টিউ। ডিয়াজ এক জন লাইসেন্সপ্রাপ্ত সর্প উদ্ধারকারী। একটি বিশাল আকৃতির সাপের ‘গুজব’ শুনেই সুলাওয়েসিতে পৌঁছে যান ডিয়াজ এবং ফ্রেন্টিউ। সেখানে গিয়ে জানতে পারেন গুজব নয়, ঘটনাটি ১০০ ভাগ সত্যি।

০৭ ১৬

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে সাপটির অস্তিত্ব সন্ধানের সম্পূর্ণ কৃতিত্ব দেওয়া হয়েছে স্থানীয় বন্যপ্রাণ সংরক্ষণবিদকে। ইবু ব্যারনকে খুঁজে পাওয়ার পর সেটির নিরাপত্তা ও দেখভাল করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন স্থানীয় প্রাণী সংরক্ষণবিদ বুদি পুরওয়ান্তো। রাক্ষুসে অজগরের কথা ছড়িয়ে পড়ার পর তাকে হত্যা বা বিক্রি করার ঝুঁকি ছিল প্রবল। কারণ এই ধরনের বিশাল আকারের প্রাণীগুলিকে ব্যক্তিগত সংগ্রহে রাখার লোকের অভাব নেই। চড়া দামে বিকোয় বলে অবৈধ বন্যপ্রাণী ব্যবসার বলি হতে হয় অসহায় বন্যপ্রাণীদের।

০৮ ১৬

সাপটিকে দেখতে পেয়েই সেটিকে কিনে নেন পুরওয়ান্তো। মারোসে তাঁর জমিতে একটি অস্থায়ী আশ্রয় তৈরি করেন। যেখানে উদ্ধার করা অজগরটি আরও কয়েকটি সঙ্গীসাথীর সঙ্গে রয়েছে। অজগরটিকে আশপাশের এলাকায় ছেড়ে দেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। কারণ সেখানে সাপের উপযুক্ত শিকারি প্রাণীর সংখ্যা কম। অন্য দিকে এটি একটি ঘন বসতিপূর্ণ এলাকা।

০৯ ১৬

২০২৬ সালের জানুয়ারিতে সাপটির দৈর্ঘ্য পরীক্ষা করার কাজ শুরু হয়। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডের আধিকারিকেরা জানিয়েছেন, সাপটিকে যদি অজ্ঞান করে পরিমাপ করা হত তবে তার দৈর্ঘ্য আরও বাড়তে পারত। ইবু ব্যারনকে অ্যানেস্থেশিয়া দিয়ে দেহ যদি সম্পূর্ণ শিথিল করা হত, তা হলে এটির আকার ১০ শতাংশ পর্যন্ত লম্বা হতে পারত। তা হত প্রায় ২৬ ফুট।

১০ ১৬

চিকিৎসার প্রয়োজন না হলে সংস্থাটি প্রাণীদের অ্যানেস্থেশিয়া দেওয়াকে সমর্থন করে না। তাই ইবু ব্যারনকে স্বাভাবিক অবস্থাতেই পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন সর্প বিশেষজ্ঞেরা।

১১ ১৬

রেটিকুলেটেড পাইথন বা জালিকাযুক্ত অজগর বিশ্বের অন্যতম লম্বা সাপ এবং অন্যতম লম্বা সরীসৃপও বটে। ২০ ফুটের কাছাকাছি দৈর্ঘ্য এদের। দেহে বিভিন্ন রঙের সমন্বয়ে গঠিত একটি জটিল জ্যামিতিক নকশা থাকে। এই সাপ দুর্দান্ত সাঁতারুও বটে।

১২ ১৬

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাসিন্দা এই সাপটিকে সাধারণত বৃষ্টি অরণ্য, বনভূমি, তৃণভূমি এবং প্রায়শই জলের উৎসের কাছাকাছি দেখা যায়। নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপিন্স, বোর্নিয়ো, ভিয়েতনাম এবং মালয়েশিয়ার কিছু অংশে দেখা মেলে এদের।

১৩ ১৬

শিকারকে হাতের সামনে পেলে ছোবল মারে না এরা। শিকারকে হত্যা করার জন্য বিষ ব্যবহার করে না। শরীর দিয়ে পেঁচিয়ে ভয়াবহ চাপ দিতে থাকে। সেই চাপে শিকারের হাড়গোড় ভেঙে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ অকেজো হয়ে যায়। তার পর শিকারকে আস্ত গিলে খায় সাপটি। এদের শিকার ধরার কায়দাও রোমহর্ষক। এদের চলাফেরা প্রায় নিঃশব্দ।

১৪ ১৬

নমনীয় চোয়াল এবং পেট ও অন্ত্র প্রসারিত করার ক্ষমতা অজগরের এই প্রজাতিকে বড় প্রাণী, এমনকি মানুষকে গিলে ফেলতেও সাহায্য করে। এই মাংসাশী প্রজাতিটি সাধারণত ছোট স্তন্যপায়ী প্রাণী, পাখি খায়। এমন শিকারের প্রতি এদের প্রবল আগ্রহ রয়েছে যেগুলি তারা পুরো গিলে ফেলতে পারে। তাই এরা সাধারণত বড় প্রাণী এড়িয়ে চলে। বিভিন্ন প্রাণীর ডিম এবং মৃতদেহও খায়।

১৫ ১৬

জালিকাযুক্ত অজগরই বিশ্বের সবচেয়ে লম্বা সাপের প্রজাতি হিসাবে স্বীকৃত। বন্য অঞ্চলে, বেশির ভাগ প্রাপ্তবয়স্ক সাপেরই দৈর্ঘ্য ১০ থেকে ১৯ ফুটের মধ্যে হয়। ২০ ফুটের বেশি লম্বা অজগরকে বিরল প্রজাতি বলে গণ্য করা হয়ে থাকে। ২৩ ফুটের কাছাকাছি বা তার বেশি লম্বা অজগর ব্যতিক্রমের পর্যায়ে পড়ে।

১৬ ১৬

২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে ইন্দোনেশিয়ার দক্ষিণ সুলাওয়েসি প্রদেশে দু’টি ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছিল। যেখানে দু’জন মহিলাকে গিলে ফেলেছিল বিশ্বের সবচেয়ে লম্বা এবং ওজনের দিক থেকে তৃতীয় সাপ জালিকাযুক্ত অজগর বা রেটিকুলেটেড পাইথন। সাধারণত মানুষকে আক্রমণ করে না এই প্রজাতির অজগরটি। মানুষ শিকারের বেশির ভাগই গ্রামসংলগ্ন বনাঞ্চলে ঘটেছিল।

সব ছবি:গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডের সৌজন্যে ও এআই সহায়তায় প্রণীত।

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, X (Twitter), Facebook, Youtube, Threads এবং Instagram পেজ)
Follow us on:
আরও গ্যালারি
Advertisement