এ দেশের অন্যতম সম্মানজনক এবং কঠিন পেশা হল আইএএস, আইপিএস বা আইএফএস। সেই পেশায় পা রাখার প্রথম ধাপ ইউনিয়ন পাবলিক সার্ভিস কমিশন বা ইউপিএসসি পরিচালিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া।
একাগ্রতা, অধ্যবসায়, মেধা আর পরিশ্রম— এই চার মন্ত্রেই আইএএস, আইপিএস এবং আইএফএস হওয়ার স্বপ্নপূরণ সম্ভব। ইউপিএসসি উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য প্রচুর পরিশ্রম এবং ধৈর্যের প্রয়োজন।
দেশের লক্ষ লক্ষ পড়ুয়ার অন্যতম স্বপ্ন সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় পাশ করা। ইউপিএসসি দেশের অন্যতম কঠিন পরীক্ষাও বটে। ফলে ইউপিএসসিতে সফল হওয়া মুখের কথা নয়! হাই স্কুল বা কলেজের পঠনপাঠন শেষের পর কেরিয়ার গড়তে অনেকেই ইউপিএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি নেন। অনেকের স্বপ্নপূরণ হয়, আবার অনেকে ব্যর্থতার মুখ দেখেন।
এর মধ্যেই ইউপিএসসি পরীক্ষায় পাশ করে আইপিএস, আইএএস, আইএফএস হওয়া কয়েক জন বাকিদের কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে ওঠেন। তেমনই এক জন আইপিএস রবিমোহন সাইনি।
তবে রবিমোহন প্রথম বার খবরের শিরোনামে উঠে আসেন আইপিএস হওয়ার অনেক আগে। বলিউডের বিগ বি অমিতাভ বচ্চন সঞ্চালিত কুইজ় শো ‘কৌন বনেগা ক্রোড়পতি জুনিয়র’ (কেবিসি)-এ অংশগ্রহণ করেছিলেন কিশোর রবিমোহন।
কেবিসিতে অংশ নেওয়ার পর রাতারাতি জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন রবি। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতেও পরিণত হয়েছিলেন। বহু বছর পরে সেই একই রবিমোহন ভারতীয় পুলিশ সার্ভিসে অফিসার হন। প্রমাণ করেন, দৃঢ় সংকল্প এবং কঠোর পরিশ্রম করলে সাফল্য আসবেই।
২০০১ সালে রবিমোহন যখন কেবিসিতে উপস্থিত হয়েছিলেন তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র ১৪ বছর। সেই সময় দশম শ্রেণির ছাত্র ছিলেন তিনি। অমিতাভ সঞ্চালিত শোয়ে ১ কোটি টাকা জিতেছিলেন কিশোর রবিমোহন।
কেবিসিতে অনেক প্রশ্নের দুর্দান্ত উত্তর দিয়েছিলেন রবিমোহন। ১৫টি প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিয়েছিলেন তিনি। জ্ঞান এবং আত্মবিশ্বাসের জোরে ১ কোটি টাকা পুরস্কার জেতেন তিনি। রাতারাতি জনপ্রিয়তা পান। সে সময় একটি সাক্ষাৎকারে রবিমোহন বলেছিলেন, তাঁর কেবিসিতে অংশগ্রহণের অন্যতম কারণ ছিল অমিতাভের সঙ্গে দেখা করা।
রবিমোহন রাজস্থানের আলওয়ারের বাসিন্দা। সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারে তাঁর জন্ম। রবির বাবা নৌবাহিনীতে চাকরি করতেন। সেই সূত্রে রবি পড়াশোনা করেছেন নেভাল পাবলিক স্কুল থেকে।
স্কুলের গণ্ডি পেরিয়ে চিকিৎসক হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন রবিমোহন। ডাক্তারির প্রবেশিকা পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন। র্যাঙ্কও করেন। মহাত্মা গান্ধী মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি হন তিনি।
ডাক্তারির ডিগ্রি অর্জনের পর শিক্ষানবিশ চিকিৎসক হিসাবে কাজ করতে শুরু করেন রবিমোহন। ওই সময়েই সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় বসার ইচ্ছা তৈরি হয় তাঁর মনে। ভাগ্য পরীক্ষা করতে ইউপিএসসির প্রস্তুতিও শুরু করেন।
অন্য অনেক ইউপিএসসি পরীক্ষার্থীর মতো রবিমোহনকেও চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়েছিল। ২০১২ সালে ইউপিএসসি পরীক্ষায় বসেন তিনি। প্রাথমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেও সে বছর মেইনস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেননি রবিমোহন।
বিফল হওয়া সত্ত্বেও হাল ছাড়েননি রবিমোহন। এর পরেই ইউপিএসসি নিয়ে জেদ চাপে তাঁর। সঙ্কল্প নেন— ওই পরীক্ষায় পাশ তিনি করবেনই। আবার নতুন করে ইউপিএসসির প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন রবিমোহন। ২০১৩ সালে আবার পরীক্ষায় বসেন।
২০১৩ সালে রবিমোহন ইউপিএসসির প্রিলিমিনারি এবং মেইনস— উভয় পরীক্ষাতেই উত্তীর্ণ হন। তবে সে বছর আইপিএস হওয়া হয়ে ওঠেনি তাঁর। ‘ইন্ডিয়ান পোস্ট অ্যান্ড টেলিকম’-এর অ্যাকাউন্টস এবং ফিনান্স সার্ভিসে যোগ দেন তিনি।
তবে রবিমোহনের লক্ষ্য ছিল আইপিএস হওয়া। ২০১৪ সালে তিনি আবার সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা দেন। সর্বভারতীয় স্তরে ৪৬১ র্যাঙ্ক করেন। শেষমেশ আইপিএস হওয়ার সুযোগ পান তিনি। প্রশিক্ষণ শুরু হয় তাঁর।
২০২১ সালে গুজরাতের পোরবন্দরে পুলিশ সুপার হিসাবে নিযুক্ত হওয়ার পর রবিমোহন আবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তিনি প্রমাণ করেছেন লক্ষ্যে অবিচল থেকে প্রচেষ্টা চালালে সাফল্য আসবেই।