বয়স সবেমাত্র ২১ পেরিয়েছে। এর মধ্যে শুধুমাত্র সমাজমাধ্যম থেকেই কোটি কোটি টাকা রোজগার! প্রাপ্তবয়স্কদের একটি বিশেষ চ্যানেলে মডেলিং করে এবং তা থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা আয় করে অনেক দিন ধরেই আলোচনায় সোফি রেইন নামে আমেরিকার তরুণী।
এ বার অর্জিত অর্থ এবং বিলাসবহুল জীবনের ঝলক দেখিয়ে আবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে সোফি। নেটাগরিকদের মনে একটাই প্রশ্ন, এত কম বয়সে কী করে এত টাকা উপার্জন করলেন!
বিষয়স্রষ্টা (কন্টেন্ট ক্রিয়েটর) সোফি সম্প্রতি একটি ভিডিয়ো ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করেন। সেই ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, ব্যক্তিগত বিমানে চড়ে ভ্রমণ করছেন তিনি। পাশাপাশি, ফোন খুলে প্রাপ্তবয়স্কদের ওয়েবসাইট ‘ওনলিফ্যান্স’ থেকে করা আয়ের পরিমাণও দেখিয়েছেন তিনি। যদিও ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
সোফির ফোনের পর্দায় দেখা গিয়েছে, ‘ওনলিফ্যান্স’ থেকে এখনও পর্যন্ত ১০ কোটি ডলারেরও বেশি আয় করেছেন তিনি। ভারতীয় মুদ্রায় যে অর্থের পরিমাণ ৯০০ কোটি টাকারও বেশি। তিনি যে মিথ্যা বলছেন না, তা বোঝানোর জন্য মোবাইলের পর্দা বার বার ‘রিফ্রেশ’ও করেন সোফি।
২১ বছর বয়সি তরুণী আরও ব্যাখ্যা করেছেন যে, আয় সম্পর্কে মিথ্যা বলার কোনও কারণ এবং রুচি তাঁর নেই। আয়ের দিক থেকে ওই প্ল্যাটফর্মের সমস্ত বিষয়স্রষ্টার মধ্যে শীর্ষ ০.০১ শতাংশের মধ্যে তিনি রয়েছেন বলেও দাবি সোফির। মাঝেমধ্যেই নিজের আয়ের পরিমাণ ভক্তদের সঙ্গে ভাগ করে নেন সোফি।
ব্যক্তিগত বিমানের ভিতরে রেকর্ড করা একটি ভিডিয়োয় সোফি বলেন, “এটিই আমার তৈরি শেষ ভিডিয়ো। আমি আমার আয় সম্পর্কে মিথ্যা বলছি না এবং আমি এখনই আপনাদের এখানে দেখাব। আমি শুধুমাত্র ভক্তদের জন্য আছি। আমি এখন প্রাইভেট জেটে আছি, তাই ইন্টারনেট ভাল করে কাজ করছে না। তবে আমি আমার আয় সম্পর্কে মিথ্যা বলছি না এবং কখনও বলব না। আমার আয় সম্পর্কে মিথ্যা বলার কোনও কারণ নেই।’’
তবে দুষ্টু ওয়েবসাইটে আয় করা নিয়ে আগ্রহীদের ওই ভিডিয়োবার্তায় সতর্কও করেছেন সোফি। ইনস্টাগ্রাম ক্যাপশনে মডেল লিখেছেন, “আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই যে প্ল্যাটফর্মের বেশির ভাগ নির্মাতার জন্য কিন্তু এটা বাস্তব নয়। দয়া করে ভাববেন না যে আপনি রাতারাতি কোটিপতি হয়ে যাবেন। বেশির ভাগ বিষয়স্রষ্টা এত আয় করতে পারেন না। সৌভাগ্যবশত আমি প্রচুর অনুরাগী পেয়েছি। আমার ভাগ্যও কাজ করেছে।’’
সোফি আরও যোগ করেছেন, “এই কাজের অনেক ঝুঁকিও আছে। নেটমাধ্যমে সব সময় কেউ না কেউ আপনার উপর নজরদারি চালায়, হয়রানি করে। যদি আপনি এই ক্ষেত্রে যোগ দিতে চান, তা হলে দয়া করে আরও এক বার ভাল করে ভাবুন। টাকার সঙ্গে ঝুঁকিও রয়েছে। তবে আমি যে অবস্থানে আছি তাতে থাকতে পেরে আমি অত্যন্ত কৃতজ্ঞ এবং এই দুই বছর ধরে আমাকে সমর্থন করার জন্য আমি আপনাদের প্রত্যেককে ধন্যবাদ জানাই।’’
সোফির সেই পোস্ট ঝড়ের গতিতে ছড়িয়েছে সমাজমাধ্যমে। ১ কোটিরও বেশি বার দেখা হয়েছে পোস্টটি। সোফির আয় নিয়ে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে সমাজমাধ্যম থেকে সংবাদমাধ্যমে। কারণ, সোফির এই আয় পিছনে ফেলে দিয়েছে তাবড় বলিউ়ড তারকাদেরও।
ফ্লরিডায় একটি নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারে বেড়ে উঠেছেন সোফি। পরিবারে বাবা-মা ছাড়াও রয়েছেন এক বোন, দুই ভাই। ছোট থেকে আর্থিক অসচ্ছলতার মধ্যেই বড় হতে হয়েছে তাঁদের। সোফির বাবা একটি রেস্তরাঁর ম্যানেজার ছিলেন।
পরিবারকে সাহায্য করতে মাত্র ১৭ বছর বয়সে ন্যূনতম মজুরিতে খাবার পরিবেশন করতে হয়েছে সোফিকে। সেই সময় থেকেই বাড়ির ঋণ শোধ করতে না পারার চিন্তা কুরে কুরে খেত সোফির বাবাকে। বাবাকে সাহায্য করতে ‘ওনলিফ্যানসে’ বিষয়স্রষ্টা হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে অর্থাৎ মাত্র ১৯ বছর বয়স থেকে সোফি তাঁর বোন সিয়েরার সঙ্গে ভিডিয়ো তৈরি করা শুরু করেন। পরে তিনি খ্যাতি অর্জন করেন। একটি ভিডিয়োই তাঁকে হঠাৎ করে খ্যাতির আলোয় নিয়ে আসে। তার পর থেকে এই প্ল্যাটফর্মে তাঁর অনুরাগীর সংখ্যা ধীরে ধীরে ১ কোটি ছাড়ায়।
বর্তমানে সোফি এই মাধ্যমটির শীর্ষ উপার্জনকারীদের মধ্যে অন্যতম। তাঁর ইনস্টাগ্রাম অনুরাগীর সংখ্যা পাঁচ কোটির বেশি। এক্স সমাজমাধ্যমে প্রায় তিন কোটি অনুগামী রয়েছে তাঁর। সংবাদমাধ্যমে সোফি এক বার বলেছিলেন, উপার্জনের জন্য প্রধান অনুপ্রেরণা বাবা-মা এবং ভাইবোন। পরিবারকে একটি সুন্দর জীবন উপহার দেওয়ার জন্য তিনি এই ভাবেই এগিয়ে যেতে চান।
প্রাপ্তবয়স্কদের ওয়েবসাইট ‘ওনলিফ্যানস’-এ সোফির ভিডিয়োগুলির চাহিদা ব্যাপক। গত এক বছর ধরে তা আরও বেড়েছে। মূলত কোভিড অতিমারির সময় থেকে ওই ওয়েবসাইটের রমরমা বৃদ্ধি পেয়েছিল। বিভিন্ন মডেলের ভিডিয়ো পাওয়া যায় এই ওয়েবসাইটে।
এই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে ভিডিয়ো প্রকাশ করে সোফির মতো বহু মডেল রোজগার করেন কয়েক কোটি টাকা। প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে এই ওয়েবসাইটটি বিপুল জনপ্রিয়। এখানে ভিডিয়ো দেখার জন্য টাকার বিনিময়ে সাবস্ক্রিপশন নিতে হয়। সে কারণে এই প্ল্যাটফর্মে যাঁরা ভিডিয়ো পোস্ট করেন, তাঁরা অন্য মাধ্যমগুলির তুলনায় বেশি পারিশ্রমিক পান।