Net worth of Jeffrey Epstein

যৌনতা বেচে সাড়ে পাঁচ হাজার কোটির সম্পত্তি! এপস্টিনের বিপুল সম্পদের ‘প্রকৃত’ উত্তরাধিকারী কে? নির্যাতিতারাই বা কী পাবেন?

কারাগারে মারা যাওয়ার দু’দিন আগে, তাঁর বিপুল সম্পত্তি কার হাতে তুলে দেওয়া হবে সে নিয়ে একটি বিস্তারিত আইনি নথিতে স্বাক্ষর করেছিলেন জেফ্রি এপস্টিন। দোষী সাব্যস্ত যৌন অপরাধীর ২০১৯ সালে মৃত্যুর সময় সম্পত্তির মূল্য ছিল প্রায় ৬০ কোটি ডলার।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১২:২৫
Share:
০১ ১৯

আমেরিকার ধনকুবের জেফ্রি এপস্টিনকে যৌন অপরাধের দায়ে গ্রেফতার করা হয় ২০০৮ সালে। ১৮ মাস কারাবাসের পর তিনি মুক্তি পান। ২০১৯ সালে পুনরায় জেলবন্দি হন নাবালক যৌনতার চক্র চালানোর অভিযোগে। তাঁর কিছু ফাইল প্রকাশ্যে আসার পর কেঁপে উঠেছে গোটা বিশ্ব। দুনিয়ার বহু দেশের বহু বিখ্যাত ও ক্ষমতাবান ব্যক্তির সঙ্গে যোগসূত্র ছিল এই কুখ্যাত যৌন অপরাধীর।

০২ ১৯

এপস্টিনের ব্যক্তিগত দ্বীপে পা পড়েছিল আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, টেসলা কর্তা ইলন মাস্ক, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিন্টন থেকে স্টিফেন হকিং, মাইকেল জ্যাকসন, প্রিন্স অ্যান্ড্রু, ল্যারি পেজের। এপস্টিন ফাইলে নাম আছে আমেরিকার চিন্তাবিদ নোম চমস্কি, দলাই লামার। দুনিয়ার তাবড় নামজাদা শিল্পপতি, রাজনীতিক, অধ্যাপক, আইনজীবীর নাম রয়েছে এপস্টিন ফাইলে।

Advertisement
০৩ ১৯

সূত্রের খবর, ২০০৮ সালে এক নাবালিকাকে দেহব্যবসায় নামানোর অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হন এপস্টিন। ২০০৬ সালে আমেরিকার পাম সমুদ্রসৈকতে এক নাবালিকার সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করার অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছিলেন এপস্টিন। ২০০৮ সালে এপস্টিনের বিরুদ্ধে নাবালিকা ধর্ষণ ও নিগ্রহের অভিযোগে মামলা দায়ের হয়। ২০১৯ সালের অগস্টে গ্রেফতারির মাসখানেকের মাথায় জেলেই আত্মহত্যা করেন তিনি।

০৪ ১৯

সম্প্রতি আমেরিকার বিচার দফতর এপস্টিন ফাইলের ৩০ লক্ষ পাতা প্রকাশ্যে এনেছে। তার মধ্যে রয়েছে ২০০০ ভিডিয়ো। ১ লক্ষ ৮০ হাজার ছবি। সেই ফাইলের ছত্রে ছত্রে রয়েছে নানা তথ্য। রয়েছে অনেক ভুক্তভোগী, নির্যাতিতার কাহিনি। যৌননিগ্রহের শিকার ভার্জিনিয়া জিউফ্রে এপস্টিনের সঙ্গী তথা ব্রিটিশ সমাজকর্মী ঘিসলাইন ম্যাক্সওয়েলের বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন। সেই মামলার সূত্র ধরেই একে একে প্রকাশ্যে আসে মার্কিন ধনকুবেরের কীর্তি।

০৫ ১৯

২০১৯ সালের অগস্টে নিউ ইয়র্কের একটি কারাগারে মারা যাওয়ার দু’দিন আগে, তাঁর বিপুল সম্পত্তি কার হাতে তুলে দেওয়া হবে সে নিয়ে একটি বিস্তারিত আইনি নথিতে স্বাক্ষর করেছিলেন এপস্টিন। কী ভাব বিশাল সম্পত্তি ও অর্থ বণ্টন করা হবে তা-ও উল্লেখ করা হয়েছিল ওই নথিতে। দোষী সাব্যস্ত যৌন অপরাধীর ২০১৯ সালে মৃত্যুর সময় সম্পত্তির মূল্য ছিল প্রায় ৬০ কোটি ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার কোটি)।

০৬ ১৯

এপস্টিনের জন্মের বছর অনুসারে নামকরণ করা হয়েছিল এপস্টিনের ইচ্ছাপত্রটির (উইল)। যদিও যৌন কেলেঙ্কারিতে দোষী সাব্যস্ত অপরাধীর এই সম্পদের কোনওটিই দাবিদারের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি। এপস্টিনের মৃত্যুর পর তাঁর সম্পত্তি একটি ট্রাস্টে স্থানান্তরিত হয়।

০৭ ১৯

‘১৯৫৩ ট্রাস্ট’ নামের ৩২ পৃষ্ঠার এই নথিটি প্রায় ত্রিশ লক্ষ পৃষ্ঠার তদন্তমূলক ফাইলে অন্তর্ভুক্ত ছিল। ট্রাস্ট বা ইচ্ছাপত্রটি এর আগে জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি। জানুয়ারির শেষে এপস্টিন ফাইল্‌সের সর্বশেষ অংশ হিসাবে প্রকাশিত হয়েছিল এই নথিটি।

০৮ ১৯

এপস্টিনের ইচ্ছাপত্র অনুসারে তাঁর ৬০ কোটি ডলারের সম্পত্তির সিংহভাগই তাঁর সর্বশেষ হাঁটুর বয়সি বান্ধবী ক্যারিনা শুলিয়াককে দান করা হবে। মৃত্যুর পরে এই বিশাল সম্পত্তি কার হাতে উঠবে তা উইল করে আগে থেকেই ঠিক করে গিয়েছিলেন এপস্টিন।

০৯ ১৯

বেলারুশের বাসিন্দা ত্রিশোর্ধ্ব তরুণী শুলিয়াক ছিলেন এপস্টিনের শেষ বান্ধবী। একে অপরকে ২০১০ সাল থেকে চিনতেন এপস্টিন ও শুলিয়াক। অল্প সময়ের মধ্যে, এপস্টিনের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ সঙ্গীদের একজন হয়ে ওঠেন শুলিয়াক। ম্যানহাটনের সংশোধনাগারের ব্যক্তিরা ছাড়া শুলিয়াকই শেষ ব্যক্তি যিনি এপস্টিনের সঙ্গে কথা বলেছিলেন। ব্যুরো অফ প্রিজ়নস রেকর্ড অনুসারে, মৃত্যুর আগের সন্ধ্যায় বান্ধবীর সঙ্গে ২০ মিনিট ফোনালাপ সেরেছিলেন এপস্টিন।

১০ ১৯

২০০৯ সালে ২০ বছর বয়সি শুলিয়াক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। দন্তচিকিৎসার ছাত্রী ছিলেন তিনি। শুলিয়াককে ডেন্টাল স্কুলে ভর্তির জন্য এপস্টিনই টাকা দিয়েছিলেন বলে জানা গিয়েছে। ৬৬ বছর বয়সি এপস্টিন শুলিয়াকের মায়ের ব্যয়বহুল চিকিৎসার খরচ বহন করেছিলেন বলে সূত্রের খবর। বেলারুশে শুলিয়াকের বাবা-মা যেখানে থাকেন সেই বাড়ির খরচও বহন করতেন বৃদ্ধ প্রেমিক।

১১ ১৯

শুলিয়াককে বিয়ে করার কথা ভেবেছিলেন এপস্টিন। সেই বিয়ের প্রস্তুতিও মনে মনে শুরু করেছিলেন যৌন অপরাধী। বিয়ের সময় হবু কনেকে ৩৩ ক্যারেটের হিরের আংটি দেওয়ার মনস্থ করেছিলেন। এপস্টিন ইচ্ছাপত্রে প্রকাশ করে গিয়েছিলেন, তাঁর থেকে ৪০ বছরের ছোট বান্ধবী শুলিয়াক মোট ১০ কোটি ডলার পাবেন।

১২ ১৯

এ ছাড়াও প্রতি বছর তাঁকে ৫ কোটি ডলার বার্ষিক বৃত্তি দেওয়া হবে। ট্রাস্টে শুলিয়াককে এপস্টিনের বেশির ভাগ সম্পত্তির অধিকারী বলে উল্লেখ করা হয়েছে। নগদ এবং গয়না ছাড়াও, এপস্টিন শুলিয়াককে তাঁর বেশ কয়েকটি দামি সম্পত্তি দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন।

১৩ ১৯

মার্কিন ধনকুবেরের রিয়্যাল এস্টেট পোর্টফোলিয়োর মধ্যে ছিল একাধিক বিলাসবহুল বাসস্থান। এর মধ্যে ছিল মার্কিন ভার্জিন দ্বীপপুঞ্জের কুখ্যাত লিট্ল সেন্ট জেমস, যেটি ‘পেডো আইল্যান্ড’ নামে পরিচিত, নিউ ইয়র্ক সিটিতে তাঁর আপার ইস্ট সাইড টাউন হাউস, নিউ মেক্সিকোতে জোরো র‌্যাঞ্চ এবং প্যারিস, পাম বিচে অন্যান্য রিয়্যাল এস্টেট সম্পত্তিগুলি।

১৪ ১৯

ট্রাস্টটি এপস্টিনের দীর্ঘ দিনের ব্যক্তিগত আইনজীবী ড্যারেন ইন্ডিক এবং তাঁর অভ্যন্তরীণ হিসাবরক্ষক রিচার্ড কানকেও সম্পত্তির দাবিদার বলে ঘোষণা করেছে। ইন্ডিকে ৫ কোটি ডলার বরাদ্দ করা হয়েছিল। রিচার্ডের ২.৫ কোটি ডলার পাওয়ার কথা ছিল। উভয়কেই এস্টেটের সহ-নির্বাহী হিসাবে মনোনীত করা হয়েছিল। এপস্টিনের মৃত্যুর পর, ইন্ডিক এবং কান একটি ক্ষতিপূরণ কর্মসূচি চালু করেন। এর মাধ্যমে এপস্টিনের নির্মম যৌন নির্যাতনের ফলে ক্ষতিগ্রস্তদের ১২ কোটি ১০ লক্ষ ডলার সাহায্য করা হয়।

১৫ ১৯

এপস্টিনের ইচ্ছা অনুসারে ভাই মার্ক এপস্টিন এবং দীর্ঘ দিনের বান্ধবী তথা সহকারী গিজ়লাইন ম্যাক্সওয়েলকেও সম্পত্তির ভাগ দেওয়া হবে। গিজ়লাইন ২০২১ সালে কিশোরীদের যৌন নির্যাতনের ষড়যন্ত্রের জন্য দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন। ২০ বছরের সাজা ভোগ করছেন। ট্রাস্ট নির্দিষ্ট করে বলেছিল যে এঁদের প্রত্যেকেরই এক কোটি ডলার পাওয়া উচিত। এ ছাড়াও হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিতের অধ্যাপক মার্টিন নোয়াকের জন্য ৫০ লক্ষ ডলার রেখে যাওয়ারও ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন এপস্টিন।

১৬ ১৯

ট্রাস্টে তালিকাভুক্ত ৪০টি নামের মধ্যে বেশ কয়েক জনকে বিচার বিভাগের বিজ্ঞপ্তিতে এখনও অসম্পূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। কর, দীর্ঘস্থায়ী আইনি বিরোধ এবং ক্ষতিগ্রস্তদের অর্থপ্রদানের কারণে তাঁর মৃত্যুর পর থেকে সম্পত্তির মূল্য তীব্র ভাবে হ্রাস পেয়েছে।

১৭ ১৯

এপস্টিনের মৃত্যুর সময় তাঁর সম্পত্তির মূল্য ছিল প্রায় ৬০ কোটি ডলার। নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুসারে, সাম্প্রতিক আদালতের হিসাবনিকাশের সময় এর মূল্য ১২ কোটির ডলারে কাছাকাছি। যদিও সম্পত্তির চূড়ান্ত পরিমাণ বাড়তে পারে কারণ কিছু ভেঞ্চার-ক্যাপিটাল বিনিয়োগ রয়েছে এপস্টিনের। সেই বিনিয়োগের মূল্য ২০১৯ সালের পর নির্ধারণ করা হয়নি।

১৮ ১৯

এস্টেটের আইনজীবী ড্যানিয়েল ওয়েইনার বলেছেন, যত ক্ষণ না সমস্ত পাওনাদার এবং এস্টেটের দাবি সম্পূর্ণ রূপে পূরণ হয়, তত ক্ষণ পর্যন্ত সেই এস্টেট থেকে কোনও অর্থ পাবেন না ইন্ডিক, কান বা অন্য কোনও দাবিদার। এর মধ্যে এপস্টিনের হাতে নির্যাতনের শিকার মহিলাদের ক্ষতিপূরণের দাবিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

১৯ ১৯

এপস্টিনের সম্পদের উৎস অস্পষ্টই ছিল। ২০২৫ সালে আদালতের নথিপত্র এবং আর্থিক রেকর্ড পর্যালোচনা করে তিনি কী ভাবে এই সম্পদ সংগ্রহ করেছিলেন সে বিষয়ে নতুন করে আলোকপাত করে ফোর্বস পত্রিকা। তথ্য বিশ্লেষণে উঠে এসেছে যে এপস্টিন তাঁর দুই অতি ধনী ‘ক্লায়েন্ট’ ভিক্টোরিয়া’স সিক্রেটের প্রাক্তন প্রধান লেস ওয়েক্সনার এবং প্রাইভেট ইকুইটি বিনিয়োগকারী লিওন ব্ল্যাকের উপর ব্যাপক ভাবে নির্ভর করেছিলেন। ১৯৯৯ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে এপস্টিনের আয়ের ৭৫ শতাংশই এঁদের বদান্যতায়।

সব ছবি:সংগৃহীত।

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, X (Twitter), Facebook, Youtube, Threads এবং Instagram পেজ)
Follow us on:
আরও গ্যালারি
Advertisement