আশ্চর্য জিনিস, ঘটনা, ভবনে পরিপূর্ণ পৃথিবী। এর মধ্যে কিছু প্রকৃতির তৈরি, কিছু মানবসৃষ্ট। সে রকমই একটি অত্যাশ্চর্য কাঠামো হল পৃথিবীর গভীরতম সুইমিং পুল।
ডিপ ডাইভিং-এর শখ আছে যাঁদের, তাঁদের কাছে সেই সুইমিং পুল স্বর্গের মতো। তবে সেই সুইমিং পুলে ডুব দিতে গেলে ভারী রাখতে হবে পকেট। কোথায় রয়েছে বিশ্বের গভীরতম সুইমিং পুল?
বিশ্বের গভীরতম সুইমিং পুলটি রয়েছে দুবাইয়ে। নাম, ‘ডিপ ডাইভ দুবাই’। স্থাপত্যশিল্প এবং ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের এক অসাধারণ নিদর্শন। গিনেস বুকে নামও তুলেছে পুলটি।
২০২১ সালের ৭ জুলাই উদ্বোধন হয় ‘ডিপ ডাইভ দুবাই’-এর। উদ্বোধন করেন দুবাইয়ের রাজকুমার শেখ হামদান বিন মহম্মদ বিন রশিদ এল মকতুম।
এক্স হ্যান্ডলে (সাবেক টুইটার) সুইমিং পুলের ভিডিয়ো শেয়ার করে তিনি লিখেছিলেন, ‘‘গোটা বিশ্বকে স্বাগত জানাতে ডিপ ডাইভ দুবাই অপেক্ষা করে আছে।’’
বিশ্বের গভীরতম সুইমিং পুলের গভীরতা ১৯৭ ফুট বা ৬০.০২ মিটার। দুবাইয়ের নাদ অল শেবা এলাকায় এই পুলটি তৈরি করা হয়েছে। আর পাঁচটা সুইমিং পুলের তুলনায় ডিপ ডাইভ সম্পূর্ণ আলাদা।
‘ডিপ ডাইভ দুবাই’ অন্য যে কোনও ডাইভিং পুলের চেয়ে অন্তত ১৫ মিটার বেশি গভীর। ১ কোটি ৪০ লক্ষ লিটার জল রয়েছে সুইমিং পুলটিতে, যা অলিম্পিকের ছ’টি সুইমিং পুলের আয়তনের সমান।
সুইমিং পুলটির একেবারে উপর থেকে শেষ পর্যন্ত রয়েছে স্বচ্ছ জল। পুলের নীচে রয়েছে আস্ত একটা শহরও। এমনই আদলে তৈরি করা হয়েছে সেটি।
‘ডিপ ডাইভ দুবাই’-এর আকৃতি ঝিনুকের মতো। সংযুক্ত আরব আমিরশাহির মুক্তা-ডাইভিংয়ের যে ইতিহাস, তার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করতেই ঝিনুকের রূপ দেওয়া হয়েছে পুলটিকে।
সাঁতারুরা যখন পুলে ডুব দেন, তখন তাঁরা যাতে একটি ‘ডুবে যাওয়া শহরের’ মধ্যে দিয়ে সাঁতার কাটার অনুভূতি পেতে পারেন, তার জন্য তৈরি করা হয়েছে শহরটি।
সুইমিং পুলটি এমন ভাবেই তৈরি করা হয়েছে যাতে সাঁতারুরা জলের তলায় এ ঘর থেকে ও ঘরে যেতে পারেন। সুইমিং পুলের নীচে রয়েছে আধুনিক সব রকম ব্যবস্থা। রয়েছে বিলিয়ার্ড খেলার জায়গা, লাইব্রেরি, রেস্তরাঁ, কনফারেন্স রুম-সহ নানাবিধ আধুনিক সুবিধা।
পাশাপাশি সুইমিং পুলের বিভিন্ন তলায় রয়েছে নামীদামি গাড়ি এবং বাইকের সম্ভার। সাঁতারুরা জলের তলায় সেই বাইক, গাড়িগুলি ছুঁয়ে দেখতে পারেন।
নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার জন্য ‘ডিপ ডাইভ দুবাই’-এ বিভিন্ন গভীরতায় দু’টি শুকনো কক্ষ রয়েছে, যা ডুবুরিদের জলের তলায় বিশ্রাম নেওয়ার জন্য এবং খাওয়াদাওয়ার জন্য তৈরি করা হয়েছে।
‘ডিপ ডাইভ দুবাই’-এ দুবাইয়ে বিশ্বের বৃহত্তম ‘আন্ডারওয়াটার ফিল্ম স্টুডিয়ো’ও রয়েছে। জলের তলায় শুটিং করার জন্য অনেক নির্মাতাই এই সুইমিং পুলটিকে পছন্দ করেন।
‘ডিপ ডাইভ দুবাই’-এর ভিতরে ৫৬টি ক্যামেরা রয়েছে। যে কোনও কোণ থেকে পুলের নীচের সব দৃশ্য ধরা পড়বে। রয়েছে লাইট অ্যান্ড সাউন্ড ব্যবস্থা।
‘ডিপ ডাইভ দুবাই’-এর আয়োজকদের দাবি, জলের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে প্রতি ৬ ঘণ্টা অন্তর তা ফিল্টার করা হয় সিলিসিয়াস আগ্নেয় পাথরের মাধ্যমে। এই ফিল্টার প্রযুক্তি নাকি তৈরি করেছে নাসা।
১০ বছর এবং তার বেশি বয়সিদেরই ‘ডিপ ডাইভ দুবাই’-এ ডুব দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। আন্তর্জাতিক মানের ডাইভিং বিশেষজ্ঞদের একটি দলও উৎসাহীদের সাহায্য করার জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ‘ডিপ ডাইভ দুবাই’ পুলে সারা বছর জলের তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে স্থির রাখা হয়, যাতে ঠান্ডার সময়েও সাঁতারুদের পুলে নামতে অসুবিধা না হয়।