দেশে তো বটেই, বিশ্বের দরবারেও তাঁর জয়জয়কার। অস্ট্রেলীয় টিভি শোয়ে ম্যাজিক দেখিয়ে তাক লাগালেন ভারতীয় ‘মেন্টালিস্ট’ (যাঁরা মন পড়তে পারেন) তথা জাদুকর সুহানী শাহ।
শো চলাকালীন এক সঞ্চালকের ‘মন পড়ে’ তাঁর গোপন প্রেমিকের নাম বলে দেন সুহানী। নাম সঠিক হওয়ায় চমকে যান সঞ্চালক। এর পর অন্য এক সঞ্চালকের ‘মন পড়ে’ আইফোনের লক খুলে দেন।
সুহানীর সেই কীর্তিতে হাততালির ঝড় ওঠে। তাঁর জন্য হইহই করে ওঠেন ওই টিভি শোয়ের বিচারক থেকে শুরু করে দর্শকেরা।
সেই ঘটনার একটি ভিডিয়ো ইতিমধ্যেই ভাইরাল হয়েছে ইউটিউবে। যদিও ভিডিয়োটির সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার অনলাইন।
ভাইরাল ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, অস্ট্রেলিয়ার ওই টিভি শোয়ে সুহানী এক সঞ্চালককে এমন এক জনকে নিয়ে ভাবতে বলেন, যাঁকে তিনি মনে মনে ভালবাসেন এবং যিনি তাঁর পরিবারের সদস্য নন।
এর পর সুহানী ওই মহিলা সঞ্চালকের গোপন প্রেমিকের কথা সঠিক ভাবে অনুমান করেন। এর পরেই তাঁকে অন্য সঞ্চালকের চার সংখ্যার পাসকোড সঠিক ভাবে অনুমান করতে দেখা যায়।
সেই ভিডিয়ো ভাইরাল হওয়ার পরেই সুহানীতে মজেছেন নেটাগরিকেরা। তিনি কে, তা নিয়ে কৌতূহল প্রকাশ করেছেন অনেকে। কী ভাবে সুহানী মানুষের মন এমন নিখুঁত ভাবে পড়তে পারেন, তা নিয়েও প্রশ্ন জেগেছে নেটাগরিকদের মনে।
কে এই সুহানী? সুহানী এক জন ভারতীয় ‘মেন্টালিস্ট’, জাদুকর এবং ইউটিউবার। ১৯৯০ সালের ২৯ জানুয়ারি রাজস্থানের উদয়পুরে তাঁর জন্ম।
সুহানী সচ্ছল পরিবারের কন্যা। তাঁর বাবার আমদানি-রফতানির ব্যবসা ছিল। সেখানেই ডিজ়াইনার হিসাবে কাজ করতেন তাঁর মা। তবে ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনার প্রতি বিশেষ আগ্রহ ছিল না সুহানীর। তাঁর যাবতীয় আকর্ষণ তৈরি হয় জাদুবিদ্যার প্রতি।
দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়াশোনা করতে করতেই সুহানী স্কুল ছাড়েন। বদলে বাবা-মাকে রাজি করিয়ে জাদুবিদ্যার প্রশিক্ষণ নিতে থাকেন। শোয়ের জন্য সারা বিশ্বে সফরের কারণে সুহানী বাড়িতেই পড়াশোনা করতেন। তাঁর কথায়, ‘‘একটি স্কুল যা শেখায় তার চেয়ে বেশি শেখায় অভিজ্ঞতা।’’
১৯৯৭ সালের ২২ অক্টোবর, অর্থাৎ মাত্র সাত বছর বয়সে অহমদাবাদের ঠাকুরভাই দেশাই হলে প্রথম শো করেন সুহানী। তার পর থেকে আর ফিরে তাকাতে হয়নি।
মহারাষ্ট্রের রাস্তায় চোখ বেঁধে গাড়ি চালানোর জন্য সুহানীকে জেলেও যেতে হয়েছিল। তখন তাঁর বয়স ১৮-র গণ্ডি পেরোয়নি। সে সময় তাঁকে জুভেনাইল আদালতে পেশ করা হয়। পরে জামিনে মুক্তি পান তিনি।
জাদু দেখিয়ে বেশ কয়েকটি পুরষ্কারও জিতেছেন সুহানী। ‘অল ইন্ডিয়া ম্যাজিক অ্যাসোসিয়েশন’-এর তরফে ‘জাদু পরি’ তকমাও পেয়েছেন। সুহানির ‘লিঙ্কড্ইন’ অনুযায়ী, তিনি দেশ-বিদেশে এখন পর্যন্ত পাঁচ হাজারের বেশি শো করেছেন।
মায়াজাল বুনতে পারদর্শী সুহানী। মেন্টালিস্ট হিসাবেও প্রভূত নাম কামিয়েছেন। গোয়ায় ‘সুহানী মাইন্ডকেয়ার’ নামে একটি ক্লিনিক রয়েছে তাঁর। সেখানে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সম্মোহন করার কাজ করেন তিনি।
সুহানী কর্পোরেট প্রশিক্ষক, লেখিকা এবং পরামর্শদাতা হিসাবেও জনপ্রিয়তা পেয়েছেন। তাঁর লেখা বইটির নাম, ‘আনলিশ ইয়োর হিডেন পাওয়ার্স’।
সুহানী ইউটিউবেও যথেষ্ট সক্রিয়। সেখানে তিনি জাদুবিদ্যা সংক্রান্ত ভিডিয়ো আপলোড করেন। ‘দ্যাটস মাই জব’ নামে একটি ওয়েব শোও রয়েছে সুহানীর। যোগ দিয়েছেন বেশ কয়েকটি পডকাস্টেও।