নিজেকে ‘জীবন্ত নস্ট্রাদামুস’ বলে দাবি করেন। ব্রাজ়িলীয় সেই যুবক অ্যাথোস সালোমে এ বার রোমহর্ষক ভবিষ্যদ্বাণী করলেন ইরান-ইজ়রায়েল-আমেরিকার সংঘাত নিয়ে।
৪০ বছর বয়সি অ্যাথোস এক জন স্বঘোষিত ভবিষ্যৎ-কথক। তাঁর দাবি, বিশ্বের নামীদামি জ্যোতিষীরা পরামর্শের জন্য তাঁর কাছে ছুটে আসেন। অ্যাথোস দাবি করেন, আনায়াসেই যে কারও ভবিষ্যৎ তিনি বলে দিতে পারেন।
শুধু কোনও ব্যক্তির ভবিষ্যৎ নয়, ভবিষ্যতে ঘটতে চলা কোনও বিশেষ ঘটনার কথাও তিনি আগে থেকে বুঝতে পারেন বলে দাবি অ্যাথোসের।
অ্যাথোসের দাবি, ইতিমধ্যেই তাঁর বেশ কয়েকটি ভবিষ্যদ্বাণী সত্যি বলে প্রমাণিত হয়েছে। কোভিড থেকে শুরু করে ইউক্রেনের উপর রাশিয়ার আগ্রাসনের কথাও নাকি তিনি আগে থেকে জানতেন। আগে থেকে জানতেন ব্রিটেনের রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের মৃত্যুর কথাও।
কিন্তু এ বার ব্রাজ়িলীয় ভবিষ্যৎ-কথক পশ্চিম এশিয়ায় চলা সংঘাত নিয়ে নিজের মতামত জানিয়েছেন। ইরান-ইজ়রায়েল-আমেরিকার মধ্যে সংঘর্ষ নিয়ে অ্যাথোস যে দাবি করেছেন, তা এক কথায় ভয়ঙ্কর বলেই মনে করছেন অনেকে।
অ্যাথোস আগেই দাবি করেছিলেন যে, ২০২৬ সালের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকের মধ্যে ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি আক্রমণ শুরু করবে ইজ়রায়েল। এ বার ভবিষ্যদ্বক্তা সংবাদমাধ্যম ডেইলি স্টারকে বলেছেন, “সাম্প্রতিক ঘটনা এবং এখন যা ঘটছে তার মাধ্যমে আমি আমার ভবিষ্যদ্বাণীকে বাস্তব রূপ নিতে দেখছি।”
পাশাপাশি অ্যাথোস সতর্ক করেছেন, ‘‘এটা এই সংঘাতের কেবল শুরু। হামলা নির্ধারিত সময়েই হয়েছে। কিন্তু ইরানের উপর আরও অনেক কিছু হতে পারে।
অ্যাথোসের দাবি, এই সংঘাত এমন এক ক্ষয়িষ্ণু যুদ্ধে পরিণত হতে পারে যা আগে কেউ কখনও দেখেনি। এমন এক যুদ্ধ যা নতুন প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির বিকাশ এবং বিধ্বংসী সাইবার আক্রমণের জন্য মনে রাখবে সবাই।
ব্রাজ়িলীয় ভবিষ্যদ্বক্তা দাবি করেছেন, তিনি দীর্ঘ দিন ধরে একটি ‘অদৃশ্য যুদ্ধের’ ইঙ্গিত পাচ্ছেন। তড়িচ্চুম্বকীয় তরঙ্গ বা ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক পালস (ইএমপি) এবং সাইবার আক্রমণের মাধ্যমে পরিকাঠামোগত পতন সম্পর্কেও সতর্ক করে আসছেন তিনি। একই সঙ্গে আথোসের মত, যুদ্ধ এখনই শেষ হবে না।
ব্রাজ়িলীয় ভবিষ্যদ্বক্তা বলেছেন, “ইরানে ধ্বংসলীলা চালানোর কোনও উদ্দেশ্য নেই আমরিকার। বরং, তারা ইরানের জ্বালানি রফতানির ক্ষমতা কমাতে চায়, যাতে তেহরানের তেল আর কখনও চিনে পৌঁছোতে না পারে।”
ইরানকে ‘তাৎক্ষণিক লক্ষ্য’ হিসাবে চিহ্নিত করে অ্যাথোস বলেন, “২০২৬ সালের ভূ-রাজনৈতিক দাবা খেলায় দেখা যাচ্ছে যে চিনের জ্বালানি সরবরাহের তিনটি স্তম্ভের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। সেই তিন স্তম্ভ— ইরান, ভেনেজ়ুয়েলা এবং রাশিয়া।”
ওই ভবিষ্যদ্বক্তার মতে, ইরানের ওপর মার্কিন-ইজ়রায়েলি হামলার নেপথ্যে আসল উদ্দেশ্য হল চিনকে তার ছাড়ের তেল সরবরাহ থেকে বঞ্চিত করা। যদিও অ্যাথোসের ভবিষ্যদ্বাণীকে মান্যতা দিতে রাজি নন অনেকেই। এখন দেখার যে ব্রাজ়িলীয় ভবিষ্যৎ-কথকের দাবিগুলি সত্যি বলে প্রমাণিত হয় কি না।
নতুন বছর আসার পর আরও কিছু ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন অ্যাথোস। সুমেরুতে নেটো এবং রাশিয়ার মধ্যে সরাসরি সামরিক সংঘর্ষের পূর্বাভাস দিয়েছিলেন তিনি। তিনি এই সম্ভাব্য সংঘাতকে বরফ গলে যাওয়া এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে নতুন জাহাজ চলাচলের পথ খোলার সঙ্গে যুক্ত করেছিলেন।
নতুন বছরের শুরুতে বিশ্বব্যাপী অর্থনীতিতেও বড় ধরনের পরিবর্তনের পূর্বাভাস দিয়েছেন অ্যাথোস। তাঁর সবচেয়ে সাহসী দাবিগুলির মধ্যে একটি ছিল, সৌদি আরব মার্কিন ডলারের বাইরে একটি বর্ধিত ব্রিকস জোটের নেতৃত্ব দিতে পারে যা বিশ্বের অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা পুনর্গঠন করতে পারে এবং আমেরিকান আর্থিক আধিপত্যকে দুর্বল করতে পারে।
‘জীবন্ত নস্ট্রাদামুস’ হিসাবে পরিচিত অ্যাথোসের জনপ্রিয়তা সত্ত্বেও তাঁর ভবিষ্যদ্বাণীগুলির কোনওটিই যাচাই করা হয়নি। বিশেষজ্ঞেরা বলছেন, কোনও ভবিষ্যদ্বাণীকে নির্ভরযোগ্য হিসাবে বিবেচনা করার জন্য ঘটনার আগে স্পষ্ট বিবরণ রেকর্ড থাকা উচিত এবং একাধিক স্বাধীন উৎস দ্বারা নিশ্চিত হওয়া উচিত।