মাদকপাচারের জিগির তুলে ‘শত্রু’ দেশের প্রেসিডেন্টকে তুলে এনেছে তাঁর ফৌজ। অগ্নিগর্ভ পারস্য দেশের গণবিক্ষোভে সমানে উস্কানি দিচ্ছেন তিনি। এ ছাড়া জবরদস্তি করেই আটলান্টিকে ঢোকা বন্ধ করেছেন রুশ তেলবাহী জাহাজের। ছক কষছেন বিশ্বের সবচেয়ে বড় দ্বীপ গ্রিনল্যান্ডকে কব্জা করার। এ-হেন পরিস্থিতিতে ‘ক্যারিবিয়ান-কাঁটা’ উপড়ে ফেলতে দোর্দণ্ডপ্রতাপ সেই প্রেসিডেন্টের পরবর্তী লক্ষ্য কিউবা। সেই ইঙ্গিত মিলতে ভুরু কুঁচকেছেন শুভাকাঙ্ক্ষীরাও। তাঁদের মনে উঁকি দিচ্ছে একটাই প্রশ্ন। তাড়াহুড়়ো করতে গিয়ে শেষে পচা শামুকে আমেরিকার পা কাটবে না তো?
তিনি, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নতুন বছরের প্রথম মাসে বৃহস্পতি যে তাঁর তুঙ্গে, সে কথা বলার অপেক্ষা রাখে না। ভেনেজ়ুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে তুলে আনা থেকে শুরু করে মস্কোর তেলবাহী জাহাজ ‘অপহরণ’, যে কাজেই হাত দিয়েছেন সাফল্য শতকরা ১০০ শতাংশ! আর তাই ভাগ্যদেবী সহায় থাকতে থাকতেই ‘গলার কাঁটা’ কিউবাকে নতজানু হতে বাধ্য করতে চাইছেন এই বর্ষীয়ান রিপাবলিকান নেতা। সে চেষ্টায় অবশ্য বার বার ব্যর্থ হয়েছেন তাঁর পূর্বসূরিরা।
গত শতাব্দীতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ (১৯৩৯-’৪৫) শেষ হওয়ার পর ‘ঠান্ডা লড়াই’য়ে (কোল্ড ওয়ার) জড়িয়ে পড়ে দুই মহাশক্তি। এর এক দিকে ছিল পুঁজিবাদী যুক্তরাষ্ট্র। আর অন্য প্রান্তে কমিউনিস্ট সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন (বর্তমান রাশিয়া)। ওই সংঘাত চলাকালীন আমেরিকার অন্যতম মাথাব্যথার কারণ হয়ে ওঠে ক্যারিবিয়ান দ্বীপরাষ্ট্র কিউবা। সেনা অভিযান চালিয়েও তাকে কব্জা করতে ব্যর্থ হয় ওয়াশিংটন। উল্টে বেদম মার খেয়ে প্রাণ বাঁচাতে পালিয়ে আসে মার্কিন সেনা। তাদের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও নেহাত কম ছিল না।
বিশ্বযুদ্ধোত্তর কিউবার বাতিস্তা সরকার চলত আমেরিকার কথায়। দু’তরফে ভাব-ভালবাসা এতটাই গভীর ছিল যে হাভানায় ঘাঁটি তৈরির সুযোগ পেয়েছিল মার্কিন ফৌজ। কিন্তু, ৫০-এর দশকে ক্যারিবিয়ান দ্বীপরাষ্ট্রে ধূমকেতুর মতো উত্থান হয় কিংবদন্তি অভিন্ন হৃদয়ের দুই বামনেতার, ফিদেল কাস্ত্রো এবং চে গেভারার। দেশ জুড়ে কমিউনিস্ট ভাবাদর্শ ছড়িয়ে দেন তাঁরা। শুধু তা-ই নয়, তাঁদের নেতৃত্বে চলা গেরিলা যুদ্ধে উৎখাত হয় বাতিস্তা সরকার। সামরিক সাহায্য দিয়েও তা আটকাতে পারেনি ওয়াশিংটন।
১৯৫৯ সালে কিউবার প্রধানমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেন কাস্ত্রো। মার্কিন-সোভিয়েত ‘ঠান্ডা লড়াই’ তখন তুঙ্গে উঠেছে। কুর্সিতে বসেই মস্কোর সঙ্গে দহরম-মহরম শুরু করে দেন ফিদেল। হাভানার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়তে থাকে চিনেরও। ফলে প্রমাদ গোনে ওয়াশিংটন। পরবর্তী দশকগুলিতে কিউবার ওই সরকার ফেলতে উঠেপড়ে লাগে যুক্তরাষ্ট্রের গুপ্তচরবাহিনী সিআইএ (সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি)। কাস্ত্রোকে খুনের একাধিক ছক কষে তারা। কিন্তু প্রতি বারই শূন্য হাতে ফিরতে হয়েছে তাদের।
প্রধানমন্ত্রী পদে শপথ নিয়েই ক্যারিবিয়ান দ্বীপরাষ্ট্র থেকে কমিউনিস্ট বিরোধীদের নির্বাসনে পাঠান কাস্ত্রো। প্রথম পর্যায়ে তাঁকে উৎখাত করতে ওই দেশত্যাগীদের সঙ্গেই যোগাযোগ করে সিআইএ। নির্বাসিতদের নিয়ে আমেরিকার মাটিতে তৈরি হয় ‘ডেমোক্র্যাটিক রেভলিউশনারি ফ্রন্ট’ বা ডিআরএফ। এদের সামরিক প্রশিক্ষণ দেওয়ার কাজটাও করেছিল মার্কিন ফৌজ। উদ্দেশ্য ছিল, কাঁটা দিয়ে কাঁটা ওপড়ানো। গোটা বিষয়টি চলছিল তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডোয়াইট ডি আইজ়েনহাওয়ারের তত্ত্বাবধানে। সালটা ছিল ১৯৬০।
সামরিক অভিযানের জন্য ডিআরএফ পুরোপুরি ভাবে তৈরি হয়ে গেলে এক দুঃসাহসিক অভিযানের পরিকল্পনা করে সিআইএ। সেইমতো ১৯৬১ সালের এপ্রিলে তাদের সঙ্গে নিয়ে দক্ষিণ-পশ্চিম কিউবার বে অফ পিগস পেরিয়ে প্লেয়া গিরোন উপকূলে নামে মার্কিন কমান্ডো বাহিনী। ঠিক ছিল, দ্রুত ওই এলাকা দখল করে হাভানার দিকে এগোবে ফৌজ। তখন পালানোর পথ পাবেন না স্বয়ং কাস্ত্রো। গোটা বিষয়টিকে নিশ্ছিদ্র করতে ক্যারিবিয়ান দ্বীপরাষ্ট্রের একাধিক জায়গায় বোমাবর্ষণও করেছিল যুক্তরাষ্ট্রের বায়ুসেনা।
কিন্তু বাস্তবে ঘটে এর উল্টো ঘটনা। মার্কিন সেনা বে অফ পিগস পেরোতেই চারদিক থেকে ঘিরে ধরে তাঁদের উপর গুলিবর্ষণ শুরু করে কিউবার লুকিয়ে থাকা কমিউনিস্ট ফৌজ। তাঁদের কাছে ছিল অত্যাধুনিক সোভিয়েত হাতিয়ার। হাভানার এই প্রত্যাঘাতের প্রথম পর্যায়ের নেতৃত্বে ছিলেন হোসে রামন ফার্নান্দেজ়। পরে রণাঙ্গনে চলে আসেন স্বয়ং কাস্ত্রো। তাঁদের আঘাতে গোড়াতেই ছত্রভঙ্গ হয়ে যায় ডিআরএফ। প্রাণ হারান যুক্তরাষ্ট্রের বহু সৈনিক ও সেনা অফিসার। ফলে পিছু হটতে বাধ্য হয় তারা।
বে অফ পিগসের অভিযানের সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ছিলেন জন ফিটজেরাল্ড কেনেডি। ওই ব্যর্থতা একেবারেই মানতে পারেননি তিনি। আর তাই এ বার কিউবার আমজনতার উপর সন্ত্রাসী হামলা চালাতে সিআইএকে নির্দেশ দেন তিনি। হুকুম হয় হাভানার বিরুদ্ধে মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধেরও। ধীরে ধীরে ক্যারিবিয়ান দ্বীপরাষ্ট্রটির বিরুদ্ধে আর্থিক অবরোধ গড়ে তোলে আমেরিকা। ওয়াশিংটনের গুপ্তচরবাহিনীর ওই অভিযানের কোড নাম ছিল ‘অপারেশন মঙ্গুজ়’, যা ১৯৬১ থেকে ১৯৬২ সাল পর্যন্ত চলেছিল।
‘অপারেশন মঙ্গুজ়’ বা তার পরবর্তী সময়ে কাস্ত্রোকে খুনের কম চেষ্টা করেনি সিআইএ। এর মধ্যে অন্যতম হল তাঁর চুরুটে বিস্ফোরক মেশানো। নিউ ইয়র্কের এক পুলিশকর্মীর পরামর্শমতো এই ফন্দি আঁটেন সিআইএ কর্তারা। মার্কিন গুপ্তচরেরা কিউবার ওই কিংবদন্তি নেতার চুরুটে যে পরিমাণ বিস্ফোরক রেখেছিলেন, তাতে তাঁর মাথা উড়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু, আশ্চর্যজনক ভাবে ব্যর্থ হয় সেই ষড়যন্ত্র। এর পর কাস্ত্রোর জুতো ও চুরুটের মধ্যে রাসায়নিক রাখা শুরু করে সিআইএ। পোশাকে জীবাণু ছড়িয়েও চেষ্টা হয় হত্যার।
যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি নথি অনুযায়ী, কাস্ত্রোর জুতোয় যে রাসায়নিক রাখা হয়েছিল তাতে তাঁর চুল পড়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু, সে সব হওয়া তো দূরে থাকে, কিউবার ওই কিংবদন্তি নেতার শরীরে বাসা বাঁধেনি কোনও রকমের অসুস্থতাই। একটা সময়ে তাঁর কলমে বিষযুক্ত সুচ রাখা হয়েছিল। সেই খবর কানে আসতেই সংশ্লিষ্ট কলমটি বদলে ফেলেন ফিদেল। শেষে মরিয়া হয়ে তাঁর প্রথম স্ত্রী মির্তা দিয়াজ-বালার্টকে হাত করেন সিআইএ-র দুঁদে অফিসারেরা।
কাস্ত্রোকে খুন করতে তাঁর প্রাক্তন স্ত্রীর হাতে বিষের ক্যাপসুল তুলে দেন মার্কিন গুপ্তচরেরা। একটা কোল্ডক্রিমের কৌটোয় সেটা লুকিয়ে রেখেছিলেন মির্তা। যদিও ফিদেলের চোখকে ফাঁকি দিতে পারেননি। ধরা পড়ে যাওয়ার পর স্ত্রীর হাতে আগ্নেয়াস্ত্র তুলে দেন হাভানার তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, গুলি করে তাঁকে হত্যা করতে। এর পর আর স্বামীকে খুন করতে পারেননি মির্তা। কাস্ত্রোকে ছেড়ে চিরদিনের জন্য চলে যান তিনি। যাওয়ার আগে ফাঁস করে দিয়ে যান আমেরিকার যাবতীয় চক্রান্ত, যা প্রকাশ্যে আসতেই আন্তর্জাতিক মহলে ঢি ঢি পড়ে যায়।
এত কিছুর পরেও হাল ছাড়েনি যুক্তরাষ্ট্র। হাভানার লিব্রে হোটেলে কাস্ত্রোর মিল্কশেকে বিষের বড়ি ফেলে দেয় সিআইএ। যদিও সেই পানীয় মুখে তোলেননি ফিদেল। তাঁর ডাইভিং স্যুটে যক্ষ্মার ব্যাকটেরিয়া মেশানোর অভিযোগও রয়েছে ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে। ১৯৭৬ সালে প্রধানমন্ত্রীর পদ ছেড়ে দিয়ে কিউবার প্রেসিডেন্ট হন কাস্ত্রো। ২০০০ সালে পানামা সফরে যান তিনি। সেখানে বিস্ফোরণে তাঁর মঞ্চ উড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করে মার্কিন গুপ্তচরবাহিনী। কিন্তু ফিদেল সেখানে পৌঁছোনোর আগেই বাজেয়াপ্ত হয় যাবতীয় বিস্ফোরক।
একটা সময় কিছুই করতে না পেরে কাস্ত্রোর চরিত্র হনন শুরু করে আমেরিকা। তাতেও অবশ্য তেমন লাভ হয়নি। উল্টে এই ধরনের অভিযানগুলি তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রের কট্টর বিরোধী করে তোলে। গত শতাব্দীর ৬০-এর দশকে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নকে হানাভায় পরমাণু ক্ষেপণাস্ত্র রাখার অনুমতি দেন তিনি। গুপ্তচর মারফত সেই খবর পাওয়ার পর চোখ কপালে ওঠে ওয়াশিংটনের। তড়িঘড়ি রণতরী পাঠিয়ে ক্যারিবিয়ান দ্বীপরাষ্ট্রটিকে ঘিরে ফেলে তারা। মস্কোর সঙ্গে শুরু হয় চরম চাপানউতর।
১৯৬২ সালের এই ঘটনা ইতিহাসে কিউবার ক্ষেপণাস্ত্র সঙ্কট নামে পরিচিত, যা আমেরিকা ও সোভিয়েত ইউনিয়নকে প্রায় যুদ্ধের মুখোমুখি এনে ফেলেছিল। শেষ পর্যন্ত অবশ্য হাভানা থেকে ওই ক্ষেপণাস্ত্র সরিয়ে নেয় মস্কো। পিছু হটে মার্কিন রণতরীও। পাশাপাশি পূর্ব ইউরোপ থেকে ক্ষেপণাস্ত্র প্রত্যাহারে বাধ্য হয় ওয়াশিংটনও। ওই ঘটনার ঠিক পরের বছরই টেক্সাসের ডালাসে রহস্যজনক ভাবে গুলিতে খুন হন যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জন ফিটজেরাল্ড কেনেডি। দিনটা ছিল ১৯৬৩-র ২২ নভেম্বর।
বাতিস্তা সরকারের পতন থেকে শুরু করে ২০২৬ সাল পর্যন্ত কিউবার কোনও লোকসানই আমেরিকা করতে পারেনি, এ কথা ভাবলে ভুল হবে। গত ৬৭ বছরে হাভানার উপর আর্থিক নিষেধাজ্ঞার চাপ ক্রমাগত বাড়িয়েছে ওয়াশিংটন। ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে যথেষ্ট ক্ষতির মুখ দেখতে হয়েছে ওই ক্যারিবিয়ান দ্বীপরাষ্ট্রকে। ভারত-সহ পশ্চিম বা মধ্য এশিয়ার দেশগুলির সঙ্গে কখনওই সে ভাবে লেনদেন বাড়াতে পারেনি কাস্ত্রোর কিউবা।
দ্বিতীয়ত, এত দিন পর্যন্ত ভেনেজ়ুয়েলার খনিজ তেল হাভানার জ্বালানি সঙ্কট মিটিয়ে আসছিল। বিনিময়ে কারাকাসে নিরাপত্তা এবং চিকিৎসাকর্মী সরবরাহ করত কিউবা। মাদুরোর পতনের পর সেই সুযোগ পুরোপুরি ভাবে হাতছাড়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট ক্যারিবিয়ান দ্বীপরাষ্ট্রের। মার্কিন গণমাধ্যমগুলির একাংশের দাবি, বর্তমানে সমস্যা এতটাই তীব্র যে, প্রায়ই দেশটির বিস্তীর্ণ এলাকা ডুবে থাকছে অন্ধকারে। সন্ধ্যা নামার পর সেখানে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারছে না কিউবার সরকার।
এ-হেন পরিস্থিতিতে নিজের সমাজমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ একটি তাৎপর্যপূর্ণ পোস্ট করেছেন ট্রাম্প। সেখানে তিনি লেখেন, ‘‘কিউবায় আর তেল বা টাকা যাবে না— শূন্য! খুব দেরি হওয়ার আগেই আমি তাই দৃঢ় ভাবে তাদের একটি চুক্তি করার পরামর্শ দিচ্ছি।’’ মার্কিন প্রেসিডেন্ট মনে করেন, ভেনেজ়ুয়েলার তেল ছাড়া সংশ্লিষ্ট ক্যারিবিয়ান দ্বীপরাষ্ট্রের পতন অবশ্যম্ভাবী এবং বর্তমানে তারা সেই দরজার সামনেই দাঁড়িয়ে আছে।
তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, বর্তমান মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিয়োর সঙ্গে আবার কিউবার নাড়ির টান রয়েছে। বাতিস্তা সরকারের পতনের ঠিক তিন বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় চলে আসে তাঁর পরিবার। রাজনৈতিক কেরিয়ারের গোড়া থেকেই কাস্ত্রোকে ‘খুনি এবং স্বৈরাচারী’ বলে বার বার উল্লেখ করেছেন রুবিয়ো। ক্যারিবিয়ান দ্বীপরাষ্ট্রটির আগামী দিনের নেতা হিসাবে এ-হেন রুবিয়োকেই তুলে ধরেছেন ট্রাম্প। গোটা বিষয়টিতে কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছে হাভানা।
কিউবার কাউন্টার-ইন্টেলিজেন্স দফতরের প্রাক্তন প্রধান ফ্যাবিয়ান এসকালান্টের দাবি, কাস্ত্রোকে মারতে ৬৩৮ বার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয় আমেরিকা। যদিও ‘ঠান্ডা লড়াই’য়ের যুগে হাভানাকে বাঁচাতে সর্বদাই তৎপর ছিল সোভিয়েত ইউনিয়ন। মাদুরো পর্বের পর সেই সুযোগ প্রায় নেই বললেই চলে। তার পরেও ক্যারিবিয়ান দ্বীপরাষ্ট্রটির জেদ ট্রাম্পের অহঙ্কার চূর্ণ করতে পারে, বলছেন বিশ্লেষকদের একাংশ।