Bollywood Gossip

সহ-অভিনেতার সঙ্গে পরকীয়া, বিয়ে না করে ক্রিকেটারের সন্তানের মা হন, প্রযোজকের থেকে ‘বিশেষ’ প্রস্তাবও পেয়েছিলেন নায়িকা!

বিয়ে ভেঙে যাওয়ার কয়েক মাস পর ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের প্রাক্তন ক্রিকেটার ভিভিয়ান রিচার্ডসের সঙ্গে আলাপ হয়েছিল নীনার। আশির দশকের শেষ দিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের ক্রিকেট দল ভারত সফরে এসেছিল। সেই সময় রাজস্থানের জয়পুরে একটি ডিনার পার্টিতে নীনার সঙ্গে ভিভিয়ানের প্রথম দেখা হয়েছিল।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০৩ মার্চ ২০২৬ ০৯:৫৮
Share:
০১ ২৩

আশির দশক থেকে হিন্দি ছবি এবং ছোট পর্দার পাশাপাশি দক্ষিণী ফিল্মজগতেও নিজের পরিচিতি গড়ে তোলেন অভিনেত্রী নীনা গুপ্ত। বিগত কয়েক বছরে সাহসী চরিত্রে অভিনয় করে বহুল প্রশংসা কুড়িয়েছেন। কিন্তু তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কাঁটাছেড়াও কম হয়নি। ক্রিকেটারকে বিয়ে না করেই তাঁর সন্তানের জন্ম দেওয়া, বিবাহিত সহ-অভিনেতার সঙ্গে পরকীয়া, ৪৯ বছর বয়সে আবার বিয়ে— সব মিলিয়ে নীনার ব্যক্তিগত জীবন বর্ণময়।

০২ ২৩

কলেজ জীবনেই বিয়ে করে ফেলেছিলেন নীনা। তখন তাঁর বয়স মাত্র ১৮ বছর। অম্লানকুসুম ঘোষ নামে এক তরুণের সঙ্গে প্রেম করতেন তিনি। সেই তরুণ ছিলেন আইআইটি দিল্লির ছাত্র। ১৯৭৭ সালে বিয়ে হয়েছিল দু’জনের।

Advertisement
০৩ ২৩

প্রেম করে বিয়ে করলেও নীনার প্রথম বিয়ে টেকেনি। শোনা যায়, পারিবারিক এবং ব্যক্তিগত প্রত্যাশার ভিন্নতার কারণে এক বছরের মধ্যেই তাঁরা বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেন। ১৯৭৮ সালে বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে যায় তাঁদের।

০৪ ২৩

বিবাহবিচ্ছেদের পরেই এক সহ-অভিনেতার সঙ্গে নাম জড়িয়ে পড়ে নীনার। গুঞ্জন শোনা যেতে থাকে, সেই সহ-অভিনেতার সঙ্গে বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্কে রয়েছেন অভিনেত্রী।

০৫ ২৩

আশির দশক থেকে ছোট পর্দার একাধিক ধারাবাহিকে অভিনয় করে কম সময়ের মধ্যে পরিচিতি গড়ে তুলেছিলেন কনওয়লজিৎ সিংহ। চেহারার সঙ্গে সাদৃশ্য থাকায় অনেকেই তাঁকে ছোট পর্দার ‘অমিতাভ বচ্চন’ বলে উল্লেখ করতেন। বলিউডের জনশ্রুতি, নীনার সঙ্গে সম্পর্ক ছিল তাঁর।

০৬ ২৩

নব্বইয়ের দশকে ‘সাঁস’ নামের এক হিন্দি ধারাবাহিকে কনওয়লজিতের সঙ্গে জুটি বেঁধেছিলেন নীনা। তখন কনওয়লজিৎ বিবাহিত। ‘সাঁস’ ধারাবাহিকে কনওয়লজিৎ এবং নীনার সম্পর্কের রসায়ন দর্শকের মনে ধরেছিল। কান পাতলে শোনা যেত, ক্যামেরার পিছনেও নাকি তাঁদের সম্পর্ক গাঢ় হতে শুরু করেছিল।

০৭ ২৩

নীনা এবং কনওয়লজিৎ নাকি গোপনে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন। যদিও বলিপাড়ার একাংশের দাবি, কনওয়লজিৎ এবং নীনার মধ্যে শুধুমাত্র পেশার খাতিরে বন্ধুত্ব ছিল। তার বাইরে আর কিছুই ছিল না। পরকীয়া নিয়ে মিথ্যা খবর রটানো হয়েছিল ধারাবাহিকের টিআরপির স্বার্থে।

০৮ ২৩

বলিউডের জনশ্রুতি, শাস্ত্রীয় সঙ্গীতশিল্পী পণ্ডিত জসরাজের পুত্র শারঙ্গদেব পণ্ডিতের সঙ্গেও নাকি বাগ্‌দান সারা হয়ে গিয়েছিল নীনার। দুই পরিবারের সম্মতিতে আংটিবদলও হয়ে গিয়েছিল।

০৯ ২৩

কানাঘুষো শোনা যায়, শারঙ্গদেবের সঙ্গে নীনার বিয়ের আমন্ত্রণপত্রও ছাপানো হয়ে গিয়েছিল। বিয়ের জন্য মানসিক প্রস্তুতিও নিয়ে ফেলেছিলেন নীনা। কিন্তু বাগ্‌দান সারার পরে নাকি বিয়ে ভেঙে দিয়েছিলেন শারঙ্গদেব। বিয়ে ভাঙার কোনও কারণও জানাননি তিনি। বিয়ে ভেঙে যাওয়ায় মানসিক ভাবে বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছিলেন অভিনেত্রী।

১০ ২৩

বিয়ে ভেঙে যাওয়ার কয়েক মাস পর ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের প্রাক্তন ক্রিকেটার ভিভিয়ান রিচার্ডসের সঙ্গে আলাপ হয়েছিল নীনার। আশির দশকের শেষ দিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের ক্রিকেট দল ভারতসফরে এসেছিল। সেই সময় রাজস্থানের জয়পুরে একটি ডিনার পার্টিতে নীনার সঙ্গে ভিভিয়ানের প্রথম দেখা হয়।

১১ ২৩

নীনা এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন যে, সেই ডিনার পার্টিতে যেতে আগ্রহী ছিলেন না তিনি। কিন্তু বন্ধুদের জোরাজুরিতে সেখানে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন। ভিভিয়ানের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত সময়ের আলাপেই তাঁর ব্যক্তিত্ব দেখে প্রেমে পড়ে গিয়েছিলেন নীনা।

১২ ২৩

সেই সময় ভিভিয়ান ছিলেন বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম ‘খুনে’ ব্যাটার। নীনাও তখন কেরিয়ারের মধ্যগগনে। বিবাহিত ভিভিয়ানের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন অভিনেত্রী। সেই সম্পর্ক থেকে কন্যাসন্তান মাসাবা গুপ্তের জন্ম দেন নীনা।

১৩ ২৩

বহু বছর ‘সিঙ্গল মাদার’ হিসাবে সংসার চালিয়েছেন নীনা। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী বলেন, ‘‘আমার আর ভিভিয়ানের পক্ষে একসঙ্গে থাকা সম্ভব ছিল না। হয় আমাকে আমার কাজ ছেড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ় চলে যেতে হত। না হলে ওকে নিজের কেরিয়ার ত্যাগ করে ভারতে আসতে হত।’’

১৪ ২৩

নীনার কথায়, ‘‘আমি প্রেমে অন্ধ হয়ে গিয়েছিলাম। সন্তানের জন্ম দেওয়ার সিদ্ধান্ত আমার ছিল। সমাজের কাছে সন্তানের পিতৃপরিচয় জানানোর ক্ষেত্রে ভিভিয়ানের কোনও আপত্তি ছিল না। আমার সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছিল ও।’’ বিয়ে না করেই সন্তানের জন্ম দিয়েছিলেন নীনা। কিন্তু ভিভিয়ানের কাছ থেকে কোনও রকম আর্থিক সাহায্য নেননি তিনি।

১৫ ২৩

নীনা সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘‘আমি যে অভিনয় নিয়ে কেরিয়ার গড়েছি, তাতে বাবা-মায়ের আপত্তি ছিল। ওদের আপত্তি থাকা সত্ত্বেও আমি মুম্বই গিয়েছিলাম। ওঁদের কাছে কখনও হাত পাতিনি। নিজে থেকে যা দিয়েছিলেন, সেটুকুই নিয়েছি। আমি হাত পাততে পছন্দ করি না। ভিভিয়ানের কাছেও টাকা চাইনি কখনও।’’

১৬ ২৩

১৯৮৯ সালে কন্যা মাসাবার জন্ম দিয়েছিলেন নীনা। কানাঘুষো শোনা যায়, নীনাকে অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় বিয়ে করতে চেয়েছিলেন সতীশ কৌশিক। নীনার সঙ্গে ভাল বন্ধুত্ব ছিল সতীশের। কলেজে একসঙ্গে পড়তেন তাঁরা। নীনাকে যেন সমাজের কুনজরে পড়তে না হয়, তাই বন্ধু হিসাবে পাশে থাকতে চেয়েছিলেন অভিনেতা।

১৭ ২৩

৪৯ বছর বয়সে বিয়ের পিঁড়িতে বসেন নীনা। পাত্র দিল্লির বাসিন্দা বিবেক মেহরা। পেশায় চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট তিনি। গুঞ্জন শোনা যায়, তাঁদের প্রথম আলাপ হয়েছিল ২০০২ সালে লন্ডন থেকে মুম্বই আসার একটি বিমানে।

১৮ ২৩

ছ’বছরের পরিচিতির পর বিবেকের সঙ্গে সাত পাকে বাঁধা পড়েন নীনা। অভিনেত্রীর কথায়, ‘‘আমি যখন কোথাও যেতাম, লোকে আমায় একটা অদ্ভুত দৃষ্টিতে দেখত। আমি খুব অস্বস্তি বোধ করতাম। বিয়ে করে নিলে সব ঠিক হয়ে যায়। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক, কিন্তু বাস্তব।’’ সমাজের প্রয়োজনে বিয়ে করেন নীনা।

১৯ ২৩

২০২১ সালে প্রকাশিত নীনার আত্মজীবনী ‘সচ কহুঁ তো’ বইয়ে ব্যক্তিগত জীবনের পাশাপাশি পেশাজীবন নিয়েও লেখেন অভিনেত্রী। কেরিয়ারে ‘কাস্টিং কাউচ’-এর শিকার হয়েছিলেন বলে দাবি করেছিলেন তিনি। এমনকি, এক প্রযোজক নাকি তাঁকে হোটেলে রাত কাটানোর প্রস্তাবও দিয়েছিলেন।

২০ ২৩

কেরিয়ারের পূর্ব অভিজ্ঞতা ভাগ করে নীনা তাঁর বইয়ে লেখেন, তখন পৃথ্বী থিয়েটারে পারফর্ম করছিলেন তিনি। হঠাৎ দক্ষিণী ফিল্মজগতের এক প্রযোজকের তরফে তাঁর কাছে ফোন আসে। ফোন করে নীনার সঙ্গে কাজ নিয়ে আলোচনা করার জন্য দেখা করতে চেয়েছিলেন সেই প্রযোজক।

২১ ২৩

নীনার দাবি, পৃথ্বী থিয়েটারের কাছাকাছি একটি হোটেলে নীনা দেখা করতে চলে গিয়েছিলেন। হোটেলে পৌঁছোনোর পর নায়িকা ভেবেছিলেন, লবিতে প্রযোজকের সঙ্গে দরকারি আলোচনা সেরে নেবেন। কিন্তু এই আচরণে যদি কাজের সুযোগ হাতছাড়া হয়ে যায়! সেই ভয়ে তিনি প্রযোজকের ঘরে চলে যান।

২২ ২৩

হোটেলের যে ঘরে প্রযোজক ছিলেন সেখানে যাওয়ার পর নানা বিষয় নিয়ে দু’জনের মধ্যে আলোচনা হয়। প্রযোজক জানিয়েছিলেন, ছবিতে কোনও মুখ্যচরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পাবেন না নীনা। নায়িকার বান্ধবীর চরিত্রে অভিনয় করতে হবে তাঁকে।

২৩ ২৩

ছবিতে নিজের চরিত্রের খুঁটিনাটি বিষয়ে প্রযোজককে আরও প্রশ্ন করছিলেন নীনা। সব জানার পর ঘর থেকে বেরোনোর প্রস্তুতি নিতে শুরু করতে নীনাকে সেই প্রযোজক জিজ্ঞাসা করেছিলেন, ‘‘তুমি রাতে এখানে থাকবে না?’’ প্রযোজকের প্রস্তাব শুনে আঁতকে উঠেছিলেন অভিনেত্রী। কোনও রকমে নিজেকে শান্ত করে হোটেল থেকে দৌড়ে বেরিয়ে গিয়েছিলেন তিনি।

সব ছবি: সংগৃহীত।

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, X (Twitter), Facebook, Youtube, Threads এবং Instagram পেজ)
Follow us on:
আরও গ্যালারি
Advertisement