অর্থাভাবে বড় হয়ে ওঠা। চোখে ছিল শুধু রোজগারের স্বপ্ন। সেই স্বপ্ন সফল করতে গ্রামের বাড়ি ছেড়ে এক বড় শহর থেকে অন্য বড় শহরে গিয়েছেন। শেষ পর্যন্ত স্বপ্নপূরণ হয়েছে তাঁর। পাশাপাশি জনপ্রিয়তাও অর্জন করেছেন বলিউডের ছবিনির্মাতা ফরাহ খানের রাঁধুনি দিলীপ মুখিয়া।
বিহারের মধুবনী জেলার একটি ছোট্ট গ্রামে জন্ম দিলীপের। তাঁর বাবা পেশায় কৃষক ছিলেন। ছেলেকে পড়াশোনা শেখাতে চান বলে স্কুলে ভর্তি করিয়েছিলেন বটে। কিন্তু অর্থাভাবের কারণে আর স্কুলের খরচ চালাতে পারেননি দিলীপের বাবা।
পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করে স্কুল ছেড়ে দেন দিলীপ। তাঁর চোখে তখন রোজগারের স্বপ্ন। গ্রামে রোজগারের আশা ক্ষীণ বলে বাবার কাছে নামমাত্র টাকা নিয়ে দিলীপ ছুটলেন দিল্লি।
পকেটে মাত্র ২৫০ টাকা নিয়ে দিল্লি পৌঁছেছিলেন দিলীপ। কখনও তিনি দিনমজুরির কাজ করতেন। কখনও আবার রাস্তার ধারের ধাবায় খাবার পরিবেশন করতেন।
বেশি উপার্জনের আশায় দিল্লি ছেড়ে মুম্বই চলে যান দিলীপ। রান্নার প্রতি আগ্রহ ছিল তাঁর। এক ছোট রেস্তরাঁয় রাঁধুনি হিসাবে কাজ করতে শুরু করেন তিনি। তখনই ভাগ্যের চাকা ঘুরে যায় তাঁর।
বলিউডের প্রথম সারির ছবিনির্মাতা ফরাহ খানের বাড়িতে রাঁধুনির কাজ পেয়ে যান দিলীপ। কয়েক বছরের মাথায় ফরাহের বিশ্বস্ত হয়ে ওঠেন তিনি। নানা ঘরানার রান্না করতেও পটু হয়ে যান দিলীপ।
প্রায় ১০ বছর আগেকার কথা। ফরাহের বাড়িতে তিনি যখন প্রথম চাকরিতে ঢুকেছিলেন, তখন মাস গেলে হাতে ২০ হাজার টাকা বেতন পেতেন।
তার পর এল ২০২৪ সাল। ফরাহের বাড়ির চার দেওয়ালেও বাইরেও রাতারাতি পরিচিতি পেয়ে গেলেন দিলীপ।
২০২৪ সালের গোড়ার দিকে ফরাহ তাঁর দৈনন্দিন ভ্লগে দিলীপের মুখ দেখানো শুরু করলেন। ফরাহের সঙ্গে দিলীপের ঠাট্টা-ইয়ার্কি দর্শকমনে জায়গা করে নেয়। দিলীপের সারল্যও সকলের মনে দাগ কাটে।
ফরাহের দৌলতে সমাজমাধ্যমের পাতায় কম সময়ের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে যান দিলীপ। বর্তমানে নামকরা সংস্থার বিজ্ঞাপনী প্রচারেও অভিনয় করতে দেখা গিয়েছে দিলীপকে।
সোনু সুদ, সোনাক্ষী সিন্হা থেকে শুরু করে শাহরুখ খানের মতো বলি তারকাদের সঙ্গেও ভিডিয়ো করেন দিলীপ। ফরাহের রাঁধুনির সঙ্গে সদ্ভাব রয়েছে তাবড় তারকাদের।
২৫০ টাকা পকেটে নিয়ে যিনি উপার্জনের জন্য গ্রামের বাড়ি ছেড়েছিলেন, বর্তমানে লক্ষ লক্ষ টাকা আয় করেন তিনি। অর্থ নিয়ে আর কোনও চিন্তা নেই দিলীপের।
স্ত্রী এবং তিন সন্তান নিয়ে দিলীপের সংসার। তবে তাঁরা দিলীপের সঙ্গে মুম্বইয়ে থাকেন না। গ্রামের বাড়িতে দিলীপের বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকেন।
নিজের গ্রামে নতুন বাড়ি তৈরি করছেন দিলীপ। তিন সন্তানের পড়াশোনা করে নিজেদের পায়ে দাঁড়াবে— এখন এইটুকুই ইচ্ছা তাঁর।
দিলীপের জ্যেষ্ঠ পুত্রেরও রান্নাবান্নার প্রতি ঝোঁক রয়েছে। তা নিয়ে পড়াশোনাও করতে চান তিনি। বলিপাড়া সূত্রে খবর, দিলীপের জ্যেষ্ঠ পুত্রের পড়াশোনার সমস্ত খরচের দায়িত্ব নিয়েছেন ফরাহ।