Iran Movement Threat for India

‘অত্যাচারী’ খামেনেই না কি পাকপ্রেমী শাহ পরিবার! অগ্নিগর্ভ ইরানের ‘পালের হাওয়া’ কোন দিকে গেলে লাভবান হবে ভারত?

অগ্নিগর্ভ ইরানে কট্টরপন্থী শিয়া ধর্মগুরু আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেইয়ের বিরুদ্ধে বাড়ছে জনরোষ। তাঁকে সরিয়ে পুরনো রাজশাহি ফেরাতে চাইছে পারস্যের আমজনতার বড় অংশ। তেহরানের কুর্সি বদলে কতটা লাভবান হবে ভারত?

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ ০৭:৫৬
Share:
০১ ২০

গণবিক্ষোভের আগুনে জ্বলছে ইরান। কট্টরপন্থী শিয়া ধর্মগুরু তথা সর্বোচ্চ নেতা (সুপ্রিম লিডার) আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেইয়ের ‘অপশাসন’ থেকে মুক্তি চাইছে পারস্যের আমজনতা। তেহরানে ফের রাজশাহি ফেরানোর দাবিতে সরব আন্দোলনকারীদের একাংশ। ফলে ফেলে আসা কুর্সি ফিরে পাওয়ার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাসিত ইরানি যুবরাজ রেজ়া পহেলভি। উপসাগরীয় দেশটিতে ফের শাহের (রাজা) শাসন ফিরলে কতটা লাভবান হবে ভারত? সেই অঙ্ক ইতিমধ্যেই কষতে শুরু করেছে সাউথ ব্লক।

০২ ২০

ঐতিহাসিক ভাবে ভারত-ইরান সম্পর্ক কখনওই সরলরেখায় চলেনি। এ দেশে ব্রিটিশ শাসনের গোড়াপত্তনের কয়েক বছর আগে (পড়ুন ১৭৩৯ সালে) মোগলদের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে দিল্লি দখল করেন তৎকালীন পারস্য সম্রাট নাদির শাহ। রাজধানী কব্জা করার পর সেখানে যথেচ্ছ লুটপাট চালায় তাঁর সেনা। শুধু তা-ই নয়, মোগলদের সাধের ময়ূর সিংহাসন এবং কোহিনূর হিরে-সহ বিপুল ধনসম্পত্তি নিয়ে তেহরান ফেরেন তিনি। নাদির চলে গেলেও তাঁর আতঙ্ক কাটিয়ে উঠতে দিল্লিবাসীর দীর্ঘ সময় লেগেছিল।

Advertisement
০৩ ২০

১৯৪৭ সালে ভারতের স্বাধীনতা ও দেশভাগের সময় রাজশাহি থাকলেও ইরানেও একটা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা গড়ে উঠেছিল। ১৯৫২ সালের জুলাইয়ে নির্বাচনে জিতে প্রধানমন্ত্রী হন মহম্মদ মোসাদ্দেক। ক্ষমতা হাতে পেয়েই পারস্যের খনিজ তেলের জাতীয়তাকরণ করেন তিনি। ফলে রাতারাতি উপসাগরীয় দেশটি থেকে পাততাড়ি গোটাতে হয় ব্রিটেনের ‘অ্যাংলো-পার্সিয়ান অয়েল কোম্পানি’কে। বর্তমানে বহুজাতিক ওই সংস্থাটি ‘ব্রিটিশ পেট্রোলিয়াম’ বা বিপি নামে পরিচিত।

০৪ ২০

১৯১৩ সাল থেকে পারস্যের ‘তরল সোনা’ উত্তোলন এবং তা ইউরোপের বাজারে বিক্রির কাজ করছিল ‘অ্যাংলো-পার্সিয়ান অয়েল কোম্পানি’। মোসাদ্দেকের সিদ্ধান্তে রাতারাতি লালবাতি জ্বলার অবস্থায় পৌঁছোয় তারা। এতে ব্রিটিশ সরকারের আর্থিক লোকসানের অঙ্কও নেহাত কম ছিল না। ফলে ইরানি প্রধানমন্ত্রীকে গদি থেকে সরাতে কোমর বেঁধে নেমে পড়ে ইংরেজদের গুপ্তচরবাহিনী এমআই৬। এ ব্যাপারে আমেরিকার গুপ্তচর সংস্থা ‘সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি’ বা সিআইএ-র সাহায্য নিয়েছিল তারা।

০৫ ২০

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর (১৯৩৯-’৪৫) দুই মহাশক্তির ষড়যন্ত্র সামলানোর ক্ষমতা মোসাদ্দেকের ছিল না। ফলে অচিরেই এক অভ্যুত্থানে ক্ষমতা হারান তিনি। তাঁকে গৃহবন্দি করেন তৎকালীন ইরানি শাহ মহম্মদ রেজ়া পহেলভি। মোসাদ্দেক পতনের সালটা ছিল ১৯৫৩। তত দিনে অবশ্য সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের (বর্তমান রাশিয়া) সঙ্গে ‘ঠান্ডা লড়াই’য়ে (কোল্ড ওয়ার) জড়িয়ে পড়েছে আমেরিকা। ক্ষমতা বদলে শাহের হাত শক্ত করতে থাকে যুক্তরাষ্ট্র। বিনিময়ে মহম্মদ রেজ়া পহেলভির নিরঙ্কুশ সমর্থন আদায় করতে সক্ষম হয়েছিল ওয়াশিংটন।

০৬ ২০

সোভিয়েত-আমেরিকা ‘ঠান্ডা লড়াই’ পর্বে জোট নিরপেক্ষ অবস্থান নেয় নয়াদিল্লি। ফলে ওয়াশিংটন বা মস্কোর নেতৃত্বাধীন কোনও সামরিক চুক্তিতেই নাম লেখায়নি ভারত। সাউথ ব্লকের এই সিদ্ধান্তকে কিন্তু বেশ সন্দেহের চোখে দেখেছিল যুক্তরাষ্ট্র। কারণ, গত শতাব্দীর ৫০-এর দশকে আর্থিক ও সামরিক দিক থেকে ক্রমেই ক্রেমলিনের সঙ্গে এ দেশের ঘনিষ্ঠতা বাড়তে থাকে। রুশ প্রযুক্তিতে লৌহ-ইস্পাত কারখানা নির্মাণে জোর দেয় কেন্দ্র। হাতে পায় মস্কোর তৈরি মিগ-২১র মতো ওই সময়ের সেরা লড়াকু জেট।

০৭ ২০

ভারতের পাশাপাশি ‘ঠান্ডা লড়াই’-এর প্রথম পর্বে আফগানিস্তানেও সোভিয়েত প্রভাব বাড়ছিল। ফলে প্রমাদ গোনে আমেরিকা। হিন্দুকুশের কোলের দেশটি মস্কোর দিকে ঝুঁকে পড়লে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় প্রভাব রাখা যে কঠিন হবে, তা বুঝতে ওয়াশিংটনের দেরি হয়নি। ফলে ত়ড়িঘড়ি ১৯৫৫ সালে বাগদাদে একটি সামরিক চুক্তি সেরে ফেলে মার্কিন সরকার, যার পোশাকি নাম ছিল ‘কেন্দ্রীয় চুক্তি সংস্থা’ বা সেন্টো (সেন্ট্রাল ট্রিটি অর্গানাইজ়েশন)। সংশ্লিষ্ট সৈন্য সমঝোতায় ব্রিটেন, পাকিস্তান, ইরাক, তুরস্কের পাশাপাশি ছিল ইরানও।

০৮ ২০

সেন্টো গড়ে ওঠার পরবর্তী বছরগুলিতে ইসলামাবাদের সঙ্গে শুরু হয় তেহরানের মাখামাখি। গত শতাব্দীর ৬০-এর দশকে পাকিস্তানকে সঙ্গে নিয়ে আলাদা করে একটি যৌথ বাহিনী গড়ে তোলার পক্ষেও সওয়াল করেন ইরানি শাহ মহম্মদ রেজ়া পহেলভি। ১৯৬৫ সালে ভারত-পাক যুদ্ধের সময় প্রকাশ্যেই রাওয়ালপিন্ডির জেনারেলদের হাতিয়ার ও গোলা-বারুদ সরবরাহে যুক্ত ছিল তাঁর সরকার। মূলত যুক্তরাষ্ট্রের পাঠানো অস্ত্র পূর্বের প্রতিবেশী দেশটির ফৌজকে সরবরাহ করছিলেন শাহ রেজ়া পহেলভি।

০৯ ২০

১৯৬৫-র লড়াইয়ের সময় মৌখিক ভাবে নিরপেক্ষ অবস্থান নেয় আমেরিকা। যদিও এক জার্মান ব্যক্তির মাধ্যমে ইসলামাবাদকে হাতিয়ার সরবরাহ জারি রেখেছিল ওয়াশিংটন। গোয়েন্দা সূত্রে খবর, সেই অস্ত্র ইরান হয়েই ঢুকত পাকিস্তানে। ১৯৭১ সালের বাংলাদেশ যুদ্ধের সময় রাওয়ালপিন্ডিকে ১২টি সামরিক কপ্টার দিয়ে সাহায্য করেন পারস্যের শাহ রেজ়া পহেলভি। লড়াইয়ের মুখে পাকিস্তান বিভাজিত হলে ভারতকে ফল ভুগতে হবে বলে হুঁশিয়ারিও দেন তিনি। ফলে উপসাগরীয় দেশটির সঙ্গে নয়াদিল্লির দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক তলানিতে পৌঁছোয়।

১০ ২০

১৯৬৫ ও ১৯৭১, দু’বারই যুদ্ধের সময় সস্তায় পাকিস্তানকে খনিজ তেল সরবরাহ করেন ইরানি শাহ। যদিও তাতে ইসলামাবাদের ভাগ্যবদল হয়নি। দু’বারই পরাজয়ের মুখ দেখতে হয় তাদের। ১৯৭৯ সালে ‘ইসলামীয় বিপ্লব’-এ সাবেক পারস্য দেশটির ক্ষমতা দখল করেন কট্টরপন্থী শিয়া ধর্মগুরু রুহুল্লাহ খোমিনি। তিনি কুর্সিতে বসতেই পতন হয় শাহ রাজবংশের। প্রাণ বাঁচাতে তড়িঘড়ি দেশ ছেড়ে চম্পট দেন মহম্মদ রেজ়া পহেলভি। আমেরিকায় আশ্রয় নেয় তাঁর পরিবার। মাত্র এক বছরের মধ্যে মিশরের রাজধানী কায়েরোয় মৃত্যু হয় পারস্যের শেষ রাজার।

১১ ২০

খোমিনি ক্ষমতায় আসার পর ধীরে ধীরে কাটতে শুরু করে নয়াদিল্লি-তেহরানের সম্পর্কের শীতলতা। তাঁর শপথের কয়েক দিনের মাথায়ই ভেঙে যায় সেন্টো। শুধু তা-ই নয়, যুক্তরাষ্ট্রকে ‘প্রধান শত্রু’ হিসাবে চিহ্নিত করেন ওই কট্টরপন্থী শিয়া ধর্মগুরু। ১৯৮০-’৮৮ পর্যন্ত ইরান-ইরাক যুদ্ধ চলাকালীন নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখে ভারত। লড়াইয়ের বছরগুলিতে যুযুধান দুই দেশের বায়ুসেনা অফিসারদের প্রশিক্ষণ দিয়েছিল এ দেশের বিমানবাহিনী। এর জন্য তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীকে ধন্যবাদ জানাতে ভোলেনি পারস্য প্রশাসন।

১২ ২০

১৯৯৩ সালে প্রথম প্রধানমন্ত্রী হিসাবে ইরান সফর করেন নরসিংহ রাও। ফলে পরবর্তী দশকগুলিতে আরও কাছাকাছি আসে নয়াদিল্লি ও তেহরান। সাবেক পারস্য দেশটিতে তখন মার্কিন নিষেধাজ্ঞার চাপ তীব্র হয়েছে। ফলে অর্থনীতি টিকিয়ে রাখতে সস্তায় ভারতকে ‘তরল সোনা’ সরবরাহ শুরু করে সেখানকার সরকার। পাশাপাশি, ফারজ়াদ-বি প্রাকৃতিক গ্যাস ক্ষেত্রে ‘মেগা এন্ট্রি’ পায় এ দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ‘অয়েল অ্যান্ড ন্যাচরাল গ্যাস কর্পোরেশন’ বা ওএনজিসি।

১৩ ২০

২০০৩ সালে চাবাহার নিয়ে ভারতের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি করে ইরানি প্রশাসন। সেই সমঝোতা অনুযায়ী, ওই এলাকায় নয়াদিল্লির অর্থানুকূল্যে গড়ে উঠেছে একটি বন্দর। ফলে পাকিস্তানকে এড়িয়ে মধ্য এশিয়ার একাধিক দেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক লেনদেন করতে পারছে কেন্দ্র। বন্দরনির্মাণের পাশাপাশি চাবাহারের সঙ্গে ২৪০ কিলোমিটার রাস্তাও তৈরি করেছে ভারত। কৌশলগত দিক থেকে তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

১৪ ২০

আলি খামেনেইয়ের শাসনে থাকা ইরান আরও একটি কারণে ভারতের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। ২০১৮ সালে রাশিয়ার ‘আন্তর্জাতিক উত্তর-দক্ষিণ পরিবহণ বারান্দা’ বা আইএনএসটিসি (ইন্টারন্যাশনাল নর্থ-সাউথ ট্রাম্পপোর্ট করিডোর) প্রকল্পে যোগ দেয় নয়াদিল্লি। সমুদ্র, রেল ও স্থলপথের ৭,২০০ কিলোমিটার লম্বা এই পরিবহণ রুটের একটা বড় অংশই থাকবে পারস্য দেশে। এর মাধ্যমে লোহিত সাগর ও সুয়েজ় খালের প্রথাগত রাস্তা এড়িয়ে মুম্বই থেকে মস্কো পর্যন্ত পণ্য লেনদেন করতে পারবেন এ দেশের ব্যবসায়ীরা।

১৫ ২০

বিশ্লেষকদের দাবি, আইএনএসটিসি পুরোপুরি চালু হয়ে গেলে অনেকটাই হ্রাস পাবে আন্তর্জাতিক লেনদেনের খরচ। তখন প্রতি ১৫ টন পণ্যে ২,৫০০ ডলার করে বাঁচাতে পারবেন এ দেশের ব্যবসায়ীরা। পাশাপাশি, উজ়বেকিস্তান, কাজ়াখস্তান, তুর্কমেনিস্তান, আজ়ারবাইজান ও আর্মেনিয়া-সহ মধ্য এশিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্যবসা বাড়ানোর সুযোগ চলে আসবে নয়াদিল্লির হাতে। আর তাই সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের কাজ চালিয়ে যেতে তেহরানের কুর্সিতে আলি খামেনেইয়ের থাকা জরুরি বলেই মনে করছেন তাঁরা।

১৬ ২০

শিয়া কট্টরপন্থীদের নিয়ন্ত্রণে থাকা ইরান বর্তমানে স্থানীয় মুদ্রায় ভারতের জন্য বাণিজ্য শুরু করেছে। এ-হেন খামেনেইদের সরকার কখনওই যে নয়াদিল্লির উদ্বেগ বাড়ায়নি, তা কিন্তু নয়। ২০১৯ সালের ৫ অগস্ট সংবিধানের ৩৭০ ও ৩৫(এ) ধারা প্রত্যাহার করে কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকার। ফলে বিশেষ মর্যাদা হারায় জম্মু-কাশ্মীর। ওই সময় এই ইস্যুতে পাকিস্তানের পক্ষে সুর চড়াতে দেখা গিয়েছিল তেহরানকে।

১৭ ২০

২০১৯ সালে সংসদে পাশ হয় নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন বা সিএএ (সিটিজ়েনশিপ অ্যামেডমেন্ট অ্যাক্ট)। একে কেন্দ্র করে ওই বছরের ডিসেম্বরে রাজধানী দিল্লি-সহ দেশের একাধিক জায়গায় শুরু হয় গণআন্দোলন, যা নিয়ে হঠাৎ করেই বিতর্কিত মন্তব্য করে বসে তেহরান। সিএএ নিয়ে ইরানি বিদেশ মন্ত্রকের বক্তব্য ছিল, সংশ্লিষ্ট নাগরিকত্ব আইন পাশ করে মুসলিম বাসিন্দাদের উপর অত্যাচার চালাচ্ছে মোদী সরকার। এ বিষয়ে সঙ্গে সঙ্গে কড়া প্রতিক্রিয়া দেয় নয়াদিল্লি। ওই বছর থেকেই মার্কিন নিষেধাজ্ঞাকে ঢাল করে পারস্যের তেল কেনা বন্ধ করে কেন্দ্র।

১৮ ২০

২০১৬ সালের মার্চে ইরান সীমান্ত থেকে ভারতীয় নৌসেনার প্রাক্তন অফিসার কুলভূষণ যাদবকে অপহরণ করে পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই (ইন্টার সার্ভিসেস ইন্টেলিজ়েন্স)। এ দেশের দুঁদে গোয়েন্দাদের দাবি, তেহরানের সবুজ সঙ্কেত ছাড়া ইসলামাবাদের পক্ষে ওই অপারেশন সম্ভব ছিল না। বর্তমানে কুলভূষণের মুক্তির দাবিতে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা লড়ছে নয়াদিল্লি। রাওয়ালপিন্ডি তাঁকে ভারতীয় গুপ্তচর সংস্থা ‘রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিসিস উইং’ (র)-এর এজেন্ট বলে দাবি করেছে।

১৯ ২০

গত বছর (পড়ুন ২০২৫ সাল) ‘পাক অধিকৃত কাশ্মীর’ বা পিওকেতে ইসলামাবাদ মদতপুষ্ট লশকর-এ-ত্যায়বা ও হিজ়বুল মুজ়াহিদিনের ডাকা জনসভায় ভাষণ দেন প্যালেস্টাইনপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের নেতৃবৃন্দ। পর্দার আড়াল থেকে সংশ্লিষ্ট সংগঠনটিকে দীর্ঘ দিন ধরে মদত দিয়ে যাচ্ছে ইরান। এ-হেন হামাসের পিওকেতে এন্ট্রি জাতীয় নিরাপত্তার জন্য যে বড় চ্যালেঞ্জ, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

২০ ২০

এই অবস্থায় আলি খামেনেইয়ের পতন ঘটিয়ে ইরানি জনতা প্রাক্তন শাহের ছেলে রেজ়াকে ফের গদিতে বসালে পালের হাওয়া কোনদিকে ঘুরবে, তা বলা শক্ত। তবে ২১ শতকে ভারত-মার্কিন সম্পর্ক অন্য উচ্চতায় চলে গিয়েছে। অন্য দিকে খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে আছে পাকিস্তানের অর্থনীতি। এই পরিস্থিতিতে কুর্সিতে ফিরেই শাহ-পুত্রের পক্ষে ইসলামাবাদপন্থী হওয়া বেশ কঠিন, মত বিশ্লেষকদের একাংশের।

সব ছবি: সংগৃহীত।

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, X (Twitter), Facebook, Youtube, Threads এবং Instagram পেজ)
Follow us on:
আরও গ্যালারি
Advertisement