সত্তরের দশক থেকে অভিনয় শুরু। একসময় বলিউডের ব্যস্ততম শিশুশিল্পী হিসাবে খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। সেই অভিনেতা সেটে পৌঁছোনোর পর অমিতাভ বচ্চনের মতো তারকাও নাকি ‘দর’ পেতেন না। এখন কী করছেন ফাহিম আজানি?
পেশার খাতিরে নিজের পরিচয় দিতেন মাস্টার রাজু অথবা রাজু শ্রেষ্ঠ হিসাবে। পরে আসল নামের বদলে পেশাগত নামেই অধিক পরিচিতি পেতে শুরু করেন ফাহিম। সম্প্রতি এক পডকাস্টে তাঁর জনপ্রিয়তা এবং অমিতাভ বচ্চন সম্পর্কে কিছু কথা তুলে ধরেন তিনি।
‘অমর প্রেম’, ‘বাবর্চি’, ‘অভিমান’, ‘দিওয়ার’, ‘ফুল’, ‘আগ’, ‘সাজন চলে সসুরাল’-এর মতো একাধিক হিন্দি ছবিতে অভিনয় করেছেন ফাহিম। বাণিজ্যিক ধারার চলচ্চিত্রে শিশুচরিত্রে অভিনয় করে দর্শকের মন জয় করেছিলেন তিনি।
সাবলীল অভিনয় এবং মিষ্টি চেহারার জন্য সেই সময়ের ব্যস্ততম শিশুশিল্পী হয়ে উঠেছিলেন ফাহিম। তিনি একসময় এত ব্যস্ততার মধ্যে ছিলেন যে, একটি ছবির শুট শেষ করে সঙ্গে সঙ্গে অন্য ছবির শুটিংয়ের জন্য যেতে হত। ফাহিমের সর্ব ক্ষণের সঙ্গী ছিলেন তাঁর মা।
১৯৭৫ সালে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায় ‘ফরার’। সেই ছবিতে অমিতাভ বচ্চন, সঞ্জীব কুমার, শর্মিলা ঠাকুরের মতো তারকাদের সঙ্গে অভিনয় করেছিলেন ফাহিম। কিন্তু তিনি যখন সেটে পৌঁছোতেন, তখন নাকি ছবিনির্মাতারা তাঁকে নিয়েই ব্যস্ত হয়ে পড়তেন।
ফাহিম সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘‘অমিতাভ কখনও সেটে দেরি করে পৌঁছোতেন না। যে সময় সেটে দেরি করে পৌঁছোনো থেকে শুরু করে কথা দিয়ে না আসাও ‘ফ্যাশন’ ছিল, সেই সময় অমিতাভ ছিলেন এক কথার মানুষ। প্রতি দিন সময় মেনে সেটে চলে যেতেন তিনি।’’
ফাহিমের দাবি, ‘ফরার’ ছবিতে অমিতাভ পৌঁছে গেলেই শুটিং শুরু হয়ে যেত। অমিতাভের শট চলাকালীন ফাহিম পৌঁছে গেলে সকলে অমিতাভকে বাদ দিয়ে ফাহিমকে নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়তেন। সাময়িক ভাবে অমিতাভের শুট নাকি বন্ধ হয়ে যেত।
ফাহিম বলেন, ‘‘অমিতাভের কোনও শট নেওয়া হলে তা বন্ধ হয়ে যেত। আমি সেটে ঢুকতাম। সঙ্গে সঙ্গে আমার দৃশ্যগুলি শুট করা শুরু হত। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে শুটিং শেষ করে আমি অন্য জায়গায় চলে যেতাম। অমিতাভ আমার জন্য অপেক্ষা করতেন।’’
এখনও পর্যন্ত ২৫০টিরও বেশি ছবিতে অভিনয় করে ফেলেছেন ফাহিম। অভিনেতা জানান, একসময় তিনি এতই ব্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন যে, তাঁর হাতে নাকি অমিতাভের চেয়েও বেশি কাজ থাকত।
নিজের খ্যাতি প্রসঙ্গে ফাহিম বলেন, ‘‘অমিতাভের চেয়ে একসময় আমার জনপ্রিয়তা বেশি ছিল। এই কথাটা ভাবতে গেলেও এখন বেশ মজা লাগে। ওঁর চেয়ে বেশি ব্যস্ত থাকতাম আমি।’’
এক বার নাকি ‘ফরার’ ছবির শুটিং চলাকালীন অমিতাভকে বকাও দিয়েছিলেন ফাহিমের মা। অভিনেতা বলেন, ‘‘একটি দৃশ্যে অমিতাভকে হাতের আঘাত দেখাতে হত। সেই সময় আমরা দুপুরের খাওয়াদাওয়া সারছি। অমিতাভের কাটা দাগের জন্য চারদিকে মাছি ভনভন করছিল। তা দেখে রেগে গিয়েছিল মা। অমিতাভকে বকা দিয়ে বলেছিল আঘাতের জায়গাটা ঢেকে রাখতে।’’
বলিপাড়ায় কানাঘুষো শোনা যায়, অমিতাভের রাতারাতি সাফল্য অনেক বলি অভিনেতাই মেনে নিতে পারেননি। সে কথা জানিয়েছেন ফাহিম নিজেও। তাঁর কথায়, জয়া বচ্চন সব সময় অমিতাভের পক্ষে কথা বলতেন।
‘বাবর্চি’ সিনেমার সেটে নাকি অমিতাভকে নিয়ে খোঁটা দিচ্ছিলেন বলি অভিনেতা রাজেশ খন্না। সেই সময় অমিতাভের সঙ্গে সেটে উপস্থিত ছিলেন জয়া। ফাহিমও সেই ঘটনার সাক্ষী ছিলেন।
ফাহিম জানান, অমিতাভকে নিয়ে মন্তব্য করায় রেগে গিয়েছিলেন জয়া। অমিতাভকে নিয়ে রাজেশ এবং জয়ার মধ্যে এমন কথা কাটাকাটি হয়েছিল যে, ক্ষণিকের জন্য শুটিংও থেমে যায়।
শিশুশিল্পী হিসাবে সফল হওয়ার পর দীর্ঘ বিরতি নেন ফাহিম। পড়াশোনা শেষ করে আবার বড়পর্দায় কেরিয়ার গড়ার জন্য ফিরে যান তিনি। কিন্তু নায়ক হিসাবে ফেরার চেষ্টা ব্যর্থ হয় তাঁর।
২০০০ সালের পর বেশ কয়েকটি হিন্দি ছবির পাশাপাশি হিন্দি ধারাবাহিকেও অভিনয় করতে দেখা গিয়েছিল ফাহিমকে। কিন্তু শিশুশিল্পী হিসাবে তিনি যে বিশাল জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন, নায়ক হিসাবে তা অধরা থেকে যায়।
২০২২ সালে টেলিভিশনের পর্দায় শেষ বারের মতো দেখা যায় ফাহিমকে। ২০২৫ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘ইমার্জেন্সি’ ছবির প্রযোজনার কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। ২০১২ সালে ‘লাইফ অফ পাই’ নামের জনপ্রিয় হলিউডি ছবিতে ডাবিংয়ের কাজ করেছেন তিনি।