PAF Chief Becomes Salesman

‘সিঁদুর’-এর ক্ষত ঢেকে লড়াকু জেটের দর হাঁকাহাকি, কোন জাদুতে ‘বিশ্বের সেরা সেলসম্যান’ হয়ে উঠলেন পাক বায়ুসেনাপ্রধান?

‘সিঁদুর’-এ ভারতের হাতে মার খাওয়া পাকিস্তান বিমানবাহিনীর পোয়াবারো! চিনের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে তৈরি ‘জেএফ-১৭’ লড়াকু জেট বিক্রির একাধিক খদ্দের প্রায় জুটিয়ে ফেলেছে ইসলামাবাদ। নেপথ্যে আছে রাওয়ালপিন্ডির বায়ুসেনাপ্রধান এয়ার চিফ মার্শাল জ়াহির আহমেদ বাবর সিধুর হাতযশ।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ ০৭:৪৯
Share:
০১ ২০

‘সিঁদুর’-এ মার খেয়ে পাকিস্তানের ভাগ্যবদল! রাতারাতি আমেরিকার ‘নয়নের মণি’ হয়ে উঠেছে ইসলামাবাদ। ফলে সামরিক কূটনীতিকে (মিলিটারি ডিপ্লোমেসি) হাতিয়ার করে দেশের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার সুযোগ পেয়ে গিয়েছেন সেনা সর্বাধিনায়ক বা সিডিএফ (চিফ অফ ডিফেন্স ফোর্সেস) ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। তাঁর নেতৃত্বে অস্ত্র ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম বিক্রিতে জোর দিচ্ছে রাওয়ালপিন্ডি। এর জেরে রাতারাতি খবরের শিরোনামে চলে এসেছেন এক শীর্ষ সেনা অফিসার, যাঁকে দুনিয়ার অন্যতম সেরা ‘সেলসম্যান’ বললে অত্যুক্তি হবে না।

০২ ২০

তিনি পাক বায়ুসেনাপ্রধান এয়ার চিফ মার্শাল জ়াহির আহমেদ বাবর সিধু। ‘সিঁদুর’ পর্ব মেটার পর ফিল্ড মার্শাল মুনিরের মতো তাঁকে নিয়ে অবশ্য তেমন মাতামাতি করেনি ভারত তথা পশ্চিমি গণমাধ্যম। তার কারণ অবশ্য একটাই। লড়াই থামার পর রাওয়ালপিন্ডির বিমানবাহিনীর কোমরভাঙা দশা সারা দুনিয়ার সামনে বেআব্রু হয়ে পড়ে। একের পর এক উপগ্রহচিত্রে সামনে আসতে থাকে নয়াদিল্লির ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নুর খান-সহ ইসলামাবাদের ১১টি বিমানঘাঁটির (এয়ারফিল্ড) ধ্বংসপ্রাপ্ত ছবি।

Advertisement
০৩ ২০

এয়ার চিফ মার্শাল বাবর কিন্তু এতে মুষড়ে পড়েননি। ‘সিঁদুর’-এর ক্ষত গায়ে মেখেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, গণপ্রজাতন্ত্রী চিন (পিপল্‌‌‌‌স রিপাবলিক অফ চায়না) থেকে শুরু করে পশ্চিম এশিয়া ও ইউরোপ সফর করেন তিনি। নতুন বছরে নয়াদিল্লির পূর্বের প্রতিবেশী অশান্ত বাংলাদেশেও যেতে দেখা গিয়েছে তাঁকে। প্রতিটা ক্ষেত্রেই তাঁর মূল লক্ষ্য ছিল যুদ্ধবিমান ও ড্রোন বিক্রি। মূলত বেজিঙের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে তৈরি ‘জেএফ-১৭ থান্ডার’ লড়াকু জেটে পাক কোষাগারের ভাগ্য বদলাতে চাইছেন তিনি।

০৪ ২০

পশ্চিমি গণমাধ্যমগুলির দাবি, গত সাড়ে সাত মাসে তিন থেকে চারটি দেশের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যুদ্ধবিমানটির চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত করে ফেলেছেন পাক বায়ুসেনাপ্রধান। তবে সম্ভবত সবচেয়ে বড় বরাত ইন্দোনেশিয়ার থেকে পেতে চলেছে ইসলামাবাদ। সব কিছু ঠিক থাকলে আগামী দিনে ৪০টি ‘জেএফ-১৭ থান্ডার’ জাকার্তার হাতে তুলে দেবেন এয়ার চিফ মার্শাল বাবর। এ ছাড়াও বিশ্বের সর্বাধিক মুসলিম জনসংখ্যার দেশটি রাওয়ালপিন্ডির থেকে পেতে পারে সশস্ত্র ড্রোন। যদিও সরকারি ভাবে এখনও কিছুই ঘোষণা হয়নি।

০৫ ২০

চিন-পাক যৌথ উদ্যোগে তৈরি সংশ্লিষ্ট যুদ্ধবিমানটির ব্যাপারে আগ্রহ দেখিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, সৌদি আরব, ইরাক, বাংলাদেশ এবং রোমানিয়া। এর মধ্যে আবু ধাবির সঙ্গে এ ব্যাপারে একটি সমঝোতা স্মারক বা মউ (মেমোর্যা ন্ডাম অফ আন্ডারস্ট্যান্ডিং) সই করেছেন ইসলামাবাদের বিমানবাহিনীর প্রধান। সূত্রের খবর, দরদস্তুর চলছে রিয়াধ, বাগদাদ ও বুখারেস্টের সঙ্গে। তবে চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত বিষয়টিকে যথাসম্ভব গোপন রাখছেন রাওয়ালপিন্ডির এয়ার চিফ মার্শাল বাবর।

০৬ ২০

নতুন বছরের গোড়াতেই বাংলাদেশ সফর করেন ইসলামাবাদের বায়ুসেনাপ্রধান। ঢাকায় ভারতের পূর্বের প্রতিবেশী দেশটির বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসাম মাহমুদ খানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক সারেন তিনি। আলোচনায় বসার আগে এয়ার চিফ মার্শাল বাবরকে ‘গার্ড অফ অনার’-এ সম্মানিত করে বাংলাদেশের ফৌজ। পরে সংশ্লিষ্ট বৈঠক নিয়ে পাকিস্তানের জনপ্রিয় ইংরেজি দৈনিক ‘দ্য ডন’-এ প্রকাশিত হয় একটি রিপোর্ট। সেখানেই ‘জেএফ-১৭’ কেনার ব্যাপারে ঢাকা আগ্রহী বলে দাবি করা হয়েছে।

০৭ ২০

তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, ‘সিঁদুর’-এ সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্ত হয় পাক বিমানবাহিনী। তার পরেও কোন জাদুবলে একের পর এক দেশের সঙ্গে লড়াকু জেটের চুক্তিকে প্রায় চূড়ান্ত করে ফেলছেন এয়ার চিফ মার্শাল বাবর? প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের দাবি, এর নেপথ্যে রয়েছে একাধিক কারণ। ভারতের সঙ্গে ‘যুদ্ধ’ থামতেই দুঁদে কূটনীতিকদের মতো প্রথমে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং চিন সফর করেন ইসলামাবাদের বায়ুসেনাপ্রধান। তা ছাড়া দুবাই এয়ারশোতে ভাগ্যও কিছুটা সহায় ছিল তাঁর, বলছেন সাবেক সেনাকর্তারা।

০৮ ২০

গত বছরের (পড়ুন ২০২৫ সালের) জুলাইয়ে ‘সিঁদুর’-এর দগদগে ঘা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পা রাখেন বাবর। শেষ এক দশকে পাক বিমানবাহিনীর আর কোনও প্রধানকে আমেরিকা সফর করতে দেখা যায়নি। সেখানে ওয়াশিংটনের বিমানবাহিনীর প্রধান জেনারেল ডেভিড ডব্লিউ অ্যালভিনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক সারেন তিনি। কথা বলেন মার্কিন যুদ্ধ দফতরের (ডিপার্টমেন্ট অফ ওয়ার) সদর কার্যালয় পেন্টাগনের শীর্ষকর্তাদের সঙ্গে। বাবরের ওই সফরকে তাই দুর্দান্ত কূটনৈতিক চাল বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকদের একাংশ।

০৯ ২০

‘সিঁদুর’ পর্ব মিটতেই ভারতীয় বিমানবাহিনীর বহরে থাকা ফরাসি সংস্থা ‘দাঁসো অ্যাভিয়েশন’-এর তৈরি সাড়ে চার প্রজন্মের ‘রাফাল’ লড়াকু জেট নিয়ে মিথ্যা প্রচার শুরু করে পাকিস্তান। বাবরেরা রটিয়ে দেন, লড়াই চলাকালীন ওই যুদ্ধবিমানের তিন-চারটিকে মাঝ-আকাশেই উড়িয়েছেন তাঁরা। ইসলামাবাদের বায়ুসেনাপ্রধানের সফরের পর ওই প্রচারে হাওয়া দেওয়া শুরু করে ওয়াশিংটন। যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যমগুলি প্রশ্ন তোলে ফরাসি জেটটির সক্ষমতা নিয়ে। সাবেক সেনাকর্তাদের দাবি, নিজেদের স্বার্থসিদ্ধিতেই এতে জড়ায় আমেরিকা।

১০ ২০

পাকিস্তান বিমানবাহিনীর বহরে আছে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি ‘এফ-১৬’ লড়াকু জেট। ভারতের সঙ্গে ‘যুদ্ধ’ চলাকালীন এর কয়েকটিকে হারায় ইসলামাবাদ। এতে আন্তর্জাতিক অস্ত্রের বাজারে মুখ পোড়ে আমেরিকার। দ্বিতীয়ত, দীর্ঘ দিন ধরেই পঞ্চম প্রজন্মের ‘স্টেলথ’ শ্রেণির জেট ‘এফ-৩৫ লাইটনিং টু’ বহুল পরিমাণে বিক্রির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পেন্টাগন। কিন্তু, নানা কারণে সেই স্বপ্ন পূরণ হয়নি ওয়াশিংটনের। উল্টে সাড়ে চার প্রজন্মের হওয়া সত্ত্বেও রাফালের চাহিদা গত তিন-চার বছরে বেড়েছে। ‘সিঁদুর’-এর পর মিথ্যা প্রচারে তা নষ্ট করার সুযোগ পেয়ে যায় মার্কিন ‘ডিপ স্টেট’।

১১ ২০

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের দাবি, এগুলি ছাড়া পাকিস্তানের মাথায় মার্কিন ‘আশীর্বাদের’ হাত থাকার নেপথ্যে আরও একটি কারণ আছে। ইসলামাবাদের সেই তুরুপের তাস হল আফগানিস্তান। হিন্দুকুশের পাহাড়ঘেরা ওই দেশটিকে বরাবরই সন্ত্রাসবাদের আঁতুড়ঘর হিসাবে দেখে এসেছে ওয়াশিংটন। তা ছাড়া সেখানকার তালিবান সরকারের সঙ্গে রাশিয়া ও চিনের সখ্য মানতে সমস্যা হচ্ছে তাদের। এই পরিস্থিতিতে জঙ্গিদমনের নামে যুক্তরাষ্ট্র সেখানে সামরিক অভিযান চালাতে রাওয়ালপিন্ডি যে পাশে থাকবে, সেই আশ্বাসও দিয়েছেন বাবর।

১২ ২০

গত বছর অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার আগে চিনসফর করেন পাক বায়ুসেনাপ্রধান। সেখানে বেজিঙের প্রতিরক্ষামন্ত্রী অ্যাডমিরাল ডং জ়ুন এবং ‘পিপল্‌‌‌‌স লিবারেশন আর্মি’ বা পিএলএ বিমানবাহিনীর কমান্ডার জেনারেল চ্যাং ডিংকিউয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। ‘দ্য ডন’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেখানেই যৌথ প্রশিক্ষণ, সামরিক মহড়ার পাশাপাশি ‘জেএফ-১৭’ বিক্রির অনুমতি আদায় করতে সক্ষম হন বাবর। ফলে সংশ্লিষ্ট যুদ্ধবিমানটির ব্যাপারে বিশ্ব জুড়ে প্রচার চালাতে একাধিক গণমাধ্যমকে মাঠে নামায় ড্রাগন, বলছেন বিশ্লেষকেরা।

১৩ ২০

২০২৫ সালের অক্টোবরে রোমানিয়া যান এয়ার চিফ মার্শাল বাবর। সম্ভাব্য রুশ আক্রমণের ভয়ে কাঁটা হয়ে আছে ওই বলকান রাষ্ট্র। বুখারেস্টের অভিযোগ, প্রায়ই তাদের আকাশসীমা লঙ্ঘন করেছে মস্কোর সামরিক ড্রোন। এই পরিস্থিতি যে পূর্ব ইউরোপের দেশটির সঙ্গে লড়াকু জেটের চুক্তি সেরে ফেলার আদর্শ সময়, তা বুঝতে দেরি হয়নি ইসলামাবাদের বিমানবাহিনীর প্রধানের। সূত্রের খবর, রোমানিয়াকে সস্তায় যুদ্ধবিমান কেনার টোপও দিয়েছেন তিনি। ফলে মনে করা হচ্ছে, ‘রাফাল’ থেকে মুখ ঘোরাতে পারে বুখারেস্ট।

১৪ ২০

গত বছরের নভেম্বরে আমিরশাহির দুবাইয়ে এয়ারশো চলাকালীন হঠাৎ করেই ভেঙে পড়ে সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ভারতের ‘তেজ়স’ লড়াকু জেট। দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান ককপিটে থাকা উইং কমান্ডার নমন স্যালে। বিশ্লেষকদের দাবি, এতেও লাভবান হন বাবর। কারণ, সংশ্লিষ্ট এয়ারশোয়ে হাজির ছিলেন তিনি। ফলে তাঁর পক্ষে ‘জেএফ-১৭ থান্ডারের’ গুণকীর্তন করা অনেকটাই সহজ হয়ে যায়। শুধু তা-ই নয়, দক্ষ সেলসম্যানের মতো আবু ধাবির সঙ্গে মউ সেরে ফেলেন তিনি।

১৫ ২০

২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে কাতারের রাজধানী দোহায় ঢুকে প্যালেস্টাইনপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের গোপন ঘাঁটিকে নিশানা করে ইজ়রায়েলি বিমানবাহিনী। ওই ঘটনার কয়েক দিনের মাথায় পাকিস্তানের সঙ্গে একটি ‘কৌশলগত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি’ সারে সৌদি আরব। তাতে বলা হয়েছে, এই দু’য়ের মধ্যে কোনও একটি দেশ তৃতীয় কোনও শক্তি দ্বারা আক্রান্ত বা আগ্রাসনের শিকার হলে, তাকে উভয় দেশের উপর আঘাত বা যুদ্ধ হিসাবে বিবেচনা করা হবে। এই সমঝোতা যে ইসলামাবাদের সামনে অস্ত্র বিক্রির রাস্তা খুলেছে, তা বলাই বাহুল্য।

১৬ ২০

এ বছরের জানুয়ারিতে প্রথমে সৌদি এবং তার পর ইরাক সফর করেন বাবর। পাক গণমাধ্যমগুলির দাবি, আরব মুলুকের দু’টি দেশই ‘জেএফ-১৭’ কিনতে বেশি আগ্রহী। এ ছা়ড়া ইসলামাবাদের বায়ুসেনার প্রশিক্ষণে ব্যবহৃত ‘মুশশাক’ নিয়েও চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রশিক্ষণ বিমানটি তৈরি করেছে ‘পাকিস্তান অ্যারোনটিক্যাল কমপ্লেক্স’ বা পিএসি। নির্মাণকারী এই সংস্থাটির নিয়ন্ত্রণ রয়েছে রাওয়ালপিন্ডির সেনা সদর দফতরের হাতে।

১৭ ২০

এয়ার চিফ মার্শাল বাবরকে বাদ দিলে বিশ্ববাজারে ইসলামাবাদের সামরিক সরঞ্জামের চাহিদা নিয়ে বিস্ফোরক দাবি করেছেন পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজ়া আসিফ। সম্প্রতি জিয়ো নিউজ়কে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘‘সিঁদুরের পর আমাদের যুদ্ধবিমান হু-হু করে বিক্রি হচ্ছে। ফলে আগামী ছ’মাসের মধ্যেই ঘুরে দাঁড়াবে দেশের অর্থনীতি। তখন আর আন্তর্জাতিক অর্থভান্ডারের (আইএমএফ) থেকে ঋণ নেওয়ার কোনও প্রয়োজন পড়বে না।’’

১৮ ২০

খোয়াজ়া আসিফের এই মন্তব্যকে অবশ্য অনেকেই ‘দিবাস্বপ্ন’ বলে উল্লেখ করেছেন। কারণ, ‘জেএফ-১৭ থান্ডারের’ যুদ্ধের অভিজ্ঞতা প্রায় নেই বললেই চলে। তা ছাড়া সংশ্লিষ্ট জেটগুলি তৈরির ব্যাপারে পুরোপুরি চিনের উপর নির্ভরশীল ইসলামাবাদ। ফলে প্রতিটা সামরিক চুক্তি থেকে ‘লাভের গুড়’ খেতে চাইতে পারে বেজিং। ফলে মুনাফার পুরোটাই রাওয়ালপিন্ডির পক্ষে ঘরে তোলা অসম্ভব।

১৯ ২০

১৯৬৫ সালের এপ্রিলে পাক পঞ্জাব প্রদেশের জাঠ পরিবারে জন্ম এয়ার চিফ মার্শাল সিধুর। তিনি ভূমিষ্ঠ হওয়ার চার মাসের মাথায় ভারতের সঙ্গে যুদ্ধে জড়ায় ফিল্ড মার্শাল আয়ুব খানের সেনাশাসনে থাকা ইসলামাবাদ। তাঁর বাবা ছিলেন একজন ইসলামীয় ধর্মগুরু। বাবরের ভাই আবার পুরোদস্তুর রাজনীতিবিদ। ২০২৪ সালের নির্বাচনে ‘পাকিস্তান মুসলিম লিগ (নওয়াজ়)’-এর টিকিটে পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির সদস্য হন তিনি।

২০ ২০

১৯৮৬ সালে পাকিস্তান বিমানবাহিনীতে যোগ দেন বাবর। তাঁর নেতৃত্বে ২০২২-’২৪ সালের মধ্যে একাধিক বার ইরান এবং আফগানিস্তান সীমান্তে বোমাবর্ষণ করেছে ইসলামাবাদের বায়ুসেনা। যদিও সেখান থেকে ভারতের মতো প্রত্যাঘাত তাঁকে সহ্য করতে হয়নি। ব্রিটেনের ‘রয়্যাল কলেজ অফ ডিফেন্স স্টাডিজ়ের’ প্রাক্তনী বাবর নিজের সম্মান পুনরুদ্ধারেই কি পুরোদস্তর ‘সেলসম্যান’ হয়ে উঠলেন? জবাব দেবে সময়।

সব ছবি: সংগৃহীত।

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, X (Twitter), Facebook, Youtube, Threads এবং Instagram পেজ)
Follow us on:
আরও গ্যালারি
Advertisement