International Solar Alliance

আন্তর্জাতিক সৌরজোট থেকে বেরিয়ে ভারতকে চাপে ফেলার চেষ্টা! শুল্কলোভী ট্রাম্পের ‘আপারকাটে’ ধরাশায়ী হবে নয়াদিল্লি?

বিশ্বে অপ্রচলিত শক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি করতে বিভিন্ন দেশে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে জোর দিয়ে একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা তৈরি হয়েছিল। আন্তর্জাতিক সেই সৌরজোটের নাম ‘ইন্টারন্যাশনাল সোলার অ্যালায়েন্স (আইএসএ)’।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১০ জানুয়ারি ২০২৬ ০৭:৪৬
Share:
০১ ২৪

ভারতের উপর চাপ বৃদ্ধি করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে আমেরিকা! কিছু ক্ষেত্রে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে চাইছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। বিশ্বের ৬৬টি সংস্থা থেকে আমেরিকা বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর তেমনটাই মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশ।

০২ ২৪

বিশ্বে অপ্রচলিত শক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি করতে বিভিন্ন দেশে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে জোর দিয়ে একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা তৈরি করা হয়েছিল। আন্তর্জাতিক সেই সৌরজোটের নাম ‘ইন্টারন্যাশনাল সোলার অ্যালায়েন্স (আইএসএ)’।

Advertisement
০৩ ২৪

মূলত ফ্রান্স এবং ভারতের উদ্যোগেই তৈরি হয়েছিল সংস্থাটি। বর্তমানে ভারতই সংস্থাটির প্রধান। আমেরিকা যে ৬৬টি সংস্থা থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তার মধ্যে আইএসএ অন্যতম।

০৪ ২৪

বুধবার এই সংক্রান্ত নির্দেশনামায় স্বাক্ষর করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আমেরিকা যে সংস্থাগুলি থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে, সেগুলির মধ্যে ৩১টি রাষ্ট্রপুঞ্জ অনুমোদিত। ওই তালিকায় রয়েছে রাষ্ট্রপুঞ্জের জলবায়ু সংক্রান্ত সংস্থাও। এর আগে প্যারিস জলবায়ু চুক্তি, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) এবং ইউনেস্কো থেকে বেরিয়ে গিয়েছে আমেরিকা। এর মধ্যে ইউনেস্কো থেকে বেরিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হবে চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর। এ বার রাষ্ট্রপুঞ্জের জলবায়ু সংক্রান্ত সংস্থা থেকেও বেরিয়ে যাচ্ছে ট্রাম্পের আমেরিকা।

০৫ ২৪

হোয়াইট হাউসের বক্তব্য, সংস্থাগুলিতে যোগ দিয়ে আমেরিকার স্বার্থরক্ষা হচ্ছে না। এই সব সংস্থা আমেরিকার জাতীয় স্বার্থবিরোধী কাজ করে। সেগুলি ‘অপ্রয়োজনীয়’ এবং ‘অব্যবস্থাপনাহীন’। তাই এই সংস্থাগুলিতে থাকা সিদ্ধান্ত তারা পুনর্মূল্যায়ন করতে চায় বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউস।

০৬ ২৪

হোয়াইট হাউসের তরফে একটি বিবৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, “আমেরিকার অগ্রাধিকারের তালিকায় থাকা বিষয়গুলির চেয়ে অন্য বিষয়গুলি যেখানে গুরুত্ব পায়, সেখানে আমেরিকার করদাতাদের অর্থব্যয় বন্ধ হওয়া উচিত।” আমেরিকার বিদেশসচিব মার্কো রুবিয়ো বলেন, “এ সব সংস্থা এবং জোটের মধ্যে কয়েকটি যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থবিরোধী মনোভাব নিয়ে কাজ করছিল।”

০৭ ২৪

তবে আইএসএ থেকে আমেরিকার নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি মোটেও ভাল চোখে দেখছেন না আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞেরা। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বহুপাক্ষিক সহযোগিতা থেকে আমেরিকার এ ভাবে সরে যাওয়ার বিষয়টিও নতুন করে ভাবাচ্ছে অনেককে। কিন্তু কী এই আইএসএ? আইএসএ বা আন্তর্জাতিক সৌরজোট একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা। ভারত এবং ফ্রান্সের যৌথ নেতৃত্বাধীন উদ্যোগ, যা জলবায়ু পরিবর্তন এবং পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি নিয়ে কাজ করে।

০৮ ২৪

দ্রুত বর্ধনশীল এবং সবচেয়ে সাশ্রয়ী মূল্যের পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির উৎসগুলির মধ্যে অন্যতম সৌরশক্তি। বিশ্বব্যাপী, বিশেষ করে কর্কটক্রান্তি এবং মকরক্রান্তির মধ্যে অবস্থিত দেশগুলিতে সৌরশক্তির প্রচার এবং সবুজ শক্তিকে আরও সাশ্রয়ী এবং সহজলভ্য করে তোলার জন্য ভারত এবং ফ্রান্স ২০১৫ সালে আইএসএ চালু করে।

০৯ ২৪

আইএসএ-র লক্ষ্য, ২০৩০ সালের মধ্যে ১ লক্ষ কোটি ডলার পর্যন্ত সৌর বিনিয়োগ সংগ্রহ করা, প্রযুক্তি ও অর্থায়নের খরচ কমানো এবং সদস্য দেশগুলির মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি করা। ১২০টিরও বেশি দেশ আইএসএ-র সমর্থনে স্বাক্ষর করেছে, যার মধ্যে ৯০টিরও বেশি দেশের কাছে পূর্ণ সদস্যপদ রয়েছে।

১০ ২৪

আইএসএ-র লক্ষ্যগুলি পূরণ করতে অনেক দিন ধরেই অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে ভারত। বৃহত্তর জলবায়ু এবং শক্তির অংশ হিসাবে সৌরশক্তিকে প্রচারে আনতে হরিয়ানার গুরুগ্রামে সদর দফতরও রয়েছে আইএসএ-র।

১১ ২৪

সেই আইএসএ থেকেই এ বার নিজেদের সরিয়ে নিল আমেরিকা। সমালোচকেরা সতর্ক করছেন, আমেরিকার এই সিদ্ধান্ত বিশ্বব্যাপী সৌরশক্তি সহযোগিতাকে দুর্বল করে দেবে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সবুজ শক্তি এবং সাশ্রয়ী মূল্যের পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি ব্যাপক ভাবে ব্যবহারের যে প্রচেষ্টা, তারও পরিপন্থী হয়ে দাঁড়াবে এই সিদ্ধান্ত।

১২ ২৪

আমেরিকার সদস্যপদ প্রত্যাহারের ফলে বিশ্বব্যাপী জলবায়ু নীতি, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারির উপর প্রভাব পড়বে বলে মত আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের। আমেরিকার সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়বে ভারতের উপরেও। ভারতের জন্য জলবায়ু কূটনীতি এবং বৃহৎ পরিসরে সহযোগিতার একটি প্রধান উদাহরণ আইএসএ। সৌরশক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং জীবাশ্ম জ্বালানির উপর নির্ভরতা হ্রাস করার ভারতের লক্ষ্যগুলিকে সমর্থন করে এই জোট।

১৩ ২৪

সেই জোট থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরে আসা সহযোগিতামূলক প্রচেষ্টাকে জটিল করে তুলতে পারে। আমেরিকার দেখাদেখি অন্য কয়েকটি দেশও যদি সেই জোট থেকে সরে আসে, তা হলেও প্রতিবন্ধকতা বাড়বে।

১৪ ২৪

বিশেষজ্ঞেরা এ-ও যুক্তি দিয়েছেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে পরিষ্কার জ্বালানি এবং জলবায়ু সহযোগিতার ভবিষ্যৎ গঠনে আমেরিকার অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়বে। কারণ, এমন এক মুহূর্তে আমেরিকা জলবায়ু নেতৃত্ব থেকে সরছে, যখন সারা বিশ্ব বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

১৫ ২৪

পাশাপাশি, বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির অন্যতম আমেরিকা সৌরশক্তি নিয়ে গবেষণায় অনেক এগিয়ে। ফলে আমেরিকা আইএসএ ছেড়ে দেওয়ার ফলে সৌরপ্রযুক্তির ব্যয়হ্রাসের অগ্রগতি ধীর হতে পারে। যদিও আন্তর্জাতিক মহলের অনেকেই আশা করেছেন, ভারত এবং আইএসএ-র অন্যান্য প্রধান সদস্যেরা সৌরজোটকে শক্তিশালী করার কাজ আমেরিকাকে ছাড়াই অব্যাহত রাখবে।

১৬ ২৪

অন্য দিকে, আন্তর্জাতিক মহলের বিশেষজ্ঞদের একাংশ এ-ও মনে করছেন, ভারতকে চাপে রাখতে এবং সৌরজোটে ভারতের অবস্থানকে দুর্বল করতেই আইএসএ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আমেরিকা।

১৭ ২৪

কারণ, গত কয়েক মাস ধরেই ভারতের উপর চাপ তৈরি করতে দেখা গিয়েছে আমেরিকাকে। ট্রাম্প দ্বিতীয় বার আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর প্রথম যে দেশগুলি সে দেশের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি করতে আগ্রহ দেখিয়েছিল ভারত তাদের মধ্যে অন্যতম। গত বছর দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে এই বিষয়ে দফায় দফায় আলোচনা হলেও চুক্তি ফলপ্রসূ হয়নি।

১৮ ২৪

যদিও আমেরিকার বাণিজ্যসচিব হাওয়ার্ড লুটনিক আবার দাবি করেছেন, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যচুক্তি প্রায় চূড়ান্তই হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী মার্কিন প্রেসিডেন্টকে ফোন না করার জন্যই বাণিজ্যচুক্তি ভেস্তে যায়।

১৯ ২৪

এর মধ্যে আবার রাশিয়া থেকে তেল আমদানি করার ‘শাস্তি’ হিসাবে ভারতের অধিকাংশ পণ্যের উপর বাড়তি ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপিয়ে রেখেছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ফলে এ দেশের পণ্যে তাদের মোট শুল্ক ৫০ শতাংশ।

২০ ২৪

ট্রাম্পের শুল্কবাণের পরেও রাশিয়া থেকে তেল কেনার পরিমাণ খুব বেশি কমায়নি ভারত। বরং ট্রাম্প প্রশাসনের চাপের মুখে নয়াদিল্লি অবশ্য বার বারই জানিয়ে এসেছে, দেশের উপভোক্তাদের কথা মাথায় রেখেই সিদ্ধান্ত নেবে তারা। কোন দেশ থেকে কতটা সস্তায় তেল পাওয়া যাচ্ছে, মাথায় রাখা হবে সেটাও।

২১ ২৪

সম্প্রতি রাশিয়া থেকে তেল আমদানি করার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ভারতকে আরও কঠোর ‘শাস্তি’ দিতে চলেছেন বলে জানিয়েছেন রিপাবলিকান পার্টির সদস্য লিন্ডসে গ্রাহাম। তিনি জানিয়েছেন, ভারতীয় পণ্যে শুল্কের পরিমাণ বাড়িয়ে ৫০০ শতাংশও করতে পারে আমেরিকা। একই ‘শাস্তি’র মুখে পড়তে পারে চিন এবং ব্রাজ়িলও। শীঘ্রই মার্কিন আইনসভায় এই সংক্রান্ত বিল পেশ হতে চলেছে বলেও জানিয়েছেন লিন্ডসে।

২২ ২৪

এ ছাড়াও সাম্প্রতিক সময়ে ভারত এবং মোদীকে নিয়ে একাধিক মন্তব্য করেছেন ট্রাম্প। গত মঙ্গলবার আমেরিকায় হাউস রিপাবলিকান মেম্বার রিট্রিট কর্মসূচিতে ভারত এবং মোদীকে নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, “‘স্যর, আমি কি আপনার সঙ্গে দেখা করতে পারি?’ বলে প্রধানমন্ত্রী মোদী আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।” মোদীর সঙ্গে তাঁর সুসম্পর্ক রয়েছে বলেও দাবি করেছেন তিনি।

২৩ ২৪

প্রধানমন্ত্রী প্রসঙ্গে ট্রাম্প যে ধরনের মন্তব্য করেছেন, তাতে দেশের সাধারণ জনতার মনে অসন্তোষ দানা বেঁধেছে। তবে দিল্লির বিভিন্ন সূত্রের ভিত্তিতে একটি প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এ ধরনের ক্ষেত্রে কোনও প্রতিক্রিয়া ‘হিতে বিপরীত’ হতে পারে। সেই কারণেই দিল্লি মনে করছে এখনই ‘পাল্টা জবাব’ দিয়ে লাভ নেই। বিশেষ করে আমেরিকার সঙ্গে ভারতের বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে এখনও আলোচনা চলছে। এ অবস্থায় আরও সংযমী এবং রাজনৈতিক বিচক্ষণতা দিয়ে বিষয়টি দেখতে চাইছে কেন্দ্র।

২৪ ২৪

এই প্রশ্নও উঠেছে ট্রাম্পের বাক্যবাণ, শুল্কবাণ মেনে আর কতদিন চুপ করে থাকবে নয়াদিল্লি। ট্রাম্পের ‘হঠকারী’ পদক্ষেপে ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে যে টানাপড়েন শুরু হয়েছে, তাতে কোয়াড থেকে কী বেরিয়ে আসতে পারে ভারত? তা নিয়েও জল্পনা তৈরি হয়েছে বিভিন্ন মহলে।

সব ছবি: সংগৃহীত।

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, X (Twitter), Facebook, Youtube, Threads এবং Instagram পেজ)
Follow us on:
আরও গ্যালারি
Advertisement