ছবির শুটিং শেষ হয়ে গিয়েছিল ৩৭ বছর আগে। কিন্তু সেই ছবি আর মুক্তি পায়নি। বলিউ়ড থেকে শুরু করে দক্ষিণী ফিল্মজগতের তারকা-মহাতারকারা এই ছবিতে অভিনয় করেছিলেন। তবুও বছরের পর বছর ধরে সেই ছবির ভবিষ্যৎ ছিল অন্ধকারে। ৩৭ বছর পর আবার মুক্তি পাচ্ছে সেই ছবি।
বলিপাড়া সূত্রে খবর, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার কথা ‘হম মে শাহেনশা কৌন’। হিন্দি ভাষার এই ছবির পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন হরমেশ মলহোত্র। কিন্তু ছবি মুক্তির মুখ দেখার সৌভাগ্য হল না তাঁর। বহু বছর আগেই প্রয়াত হয়েছেন তিনি।
পরিচালকের পরিবর্তে ছবির সকল দায়িত্ব এসে পড়েছে প্রযোজক রাজা রায়ের কাঁধে। প্রথম থেকেই ছবির প্রযোজনার কাজের সঙ্গে জড়িয়ে ছিলেন তিনি। অথচ তাঁর কারণেই ছবির কাজ ক্রমাগত পিছিয়ে যাচ্ছিল।
‘হম মে শাহেনশা কৌন’ ছবিতে শত্রুঘ্ন সিন্হা, হেমা মালিনী, অনিতা রাজ, প্রেম চোপড়া, শরদ সাক্সেনার মতো বলি তারকাদের পাশাপাশি দক্ষিণের জনপ্রিয় তারকা রজনীকান্তও এই ছবিতে অভিনয় করেছিলেন।
ছবির পরিচালকের পাশাপাশি এক অভিনেতাও ছবিমুক্তির সুখবর পেলেন না। প্রয়াত অভিনেতা অমরীশ পুরীও এই ছবিতে অভিনয় করেছিলেন।
‘হম মে শাহেনশা কৌন’ ছবির সঙ্গীতনির্মাণের দায়িত্বে ছিলেন বলিপাড়ার জনপ্রিয় লক্ষ্মীকান্ত-প্যারেলাল জুটি। গানগুলির বাণী লেখার দায়িত্বে ছিলেন আনন্দ বক্সী।
৩৭ বছর আগে পুরনো ক্যামেরায় পুরনো পদ্ধতিতে শুট করা হয়েছিল ‘হম মে শাহেনশা কৌন’ ছবিটি। শোনা যায়, ছবির শুটিং শেষ হয়ে যাওয়ার পর আর শংসাপত্র পাওয়ার জন্য কোনও তোড়জোড় করেননি রাজা।
ছবির কাজ সম্পূর্ণ না করেই বিদেশে চলে গিয়েছিলেন রাজা। সেখানে গিয়ে ব্যবসা শুরু করেন তিনি। ব্যবসা নিয়ে এতই ব্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন যে, ছবির কাজ যে আটকে ছিল সে কথা ভুলেই গিয়েছিলেন।
ব্যবসা নিয়ে কেরিয়ার গড়ে রাজা যখন সড়গড় হয়ে উঠেছিলেন, তখনই তাঁর ব্যক্তিগত জীবনে ঘটে চরম বিপর্যয়। বিদেশে থাকাকালীন রাজার কনিষ্ঠ পুত্র মারা যান।
পুত্রশোকে কাতর হয়ে নিজেকে ছবির যাবতীয় কাজকর্ম থেকে সরিয়ে ফেলেছিলেন রাজা। তার পর মারা গিয়েছিলেন ছবির পরিচালক হরমেশও।
ছবিমুক্তির পথে একের পর এক বাধা আসতে শুরু করেছিল। অবশেষে ৩৭ বছর পর শংসাপত্র হাতে পেয়ে ছবিমুক্তির অনুমতি পেলেন প্রযোজক।
৩৭ বছর পর চলতি বছরে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার কথা ‘হম মে শাহেনশা কৌন’ ছবিটি। কিন্তু এই ছবির মান বাড়ানোর জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্য নিয়েছেন ছবিনির্মাতারা।
ছবিটি যেহেতু পুরনো ক্যামেরায় শুট করা এবং অডিয়ো-ভিস্যুয়ালের জন্যও পুরনো পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছিল, তাই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে দৃশ্যায়ন এবং অডিয়োর মানোন্নয়ন করা হয়েছে।
৩৭ বছর আগে শুট হওয়া তারকাখচিত এই ছবি প্রেক্ষাগৃহে দেখার জন্য মুখিয়ে রয়েছেন দর্শক। এত বছরের অপেক্ষার পর ছবি মুক্তি পাচ্ছে বলে যারপরনাই আনন্দিত ছবিনির্মাতারাও।