বলিউডের ‘ভাইজান’-এর ছবিতে অভিনয় করে কেরিয়ার শুরু। মাত্র ১৬ বছর বয়সে বিনোদনজগতে পা দিয়েছিলেন। ছোটপর্দাতেও অভিনয়ের সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু পেশাজীবনে পায়ের তলার মাটি শক্ত করার আগেই কঠিন রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েন। পাশে থাকেনি পরিবারও। বর্তমানে একচালার ঘরে থাকেন বলি অভিনেত্রী পূজা দাদওয়াল।
১৯৭৮ সালের জানুয়ারিতে জন্ম পূজার। শৈশব থেকেই অভিনয়জগতে কাজ করার স্বপ্ন বুনেছিলেন তিনি। শত চেষ্টার পর কিশোরী বয়সেই সেই স্বপ্ন পূরণ করে ফেলেছিলেন তিনি। অভিনয়ের প্রথম সুযোগ পেয়েছিলেন বড়পর্দায়।
১৯৯৫ সালে কেকে সিংহের পরিচালনায় প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায় অ্যাকশন ঘরানার ছবি ‘বীরগতি’। এই ছবিতে মুখ্যচরিত্রে অভিনয় করতে দেখা যায় বলিউডের ‘ভাইজান’ সলমন খানকে। মাত্র ১৭ বছর বয়সে সলমনের সঙ্গে একই ছবিতে অভিনয়ের সুযোগ পান পূজা।
‘বীরগতি’ ছবিতে বলি অভিনেতা অতুল অগ্নিহোত্রীর সঙ্গে জুটি বেঁধে অভিনয় করেছিলেন পূজা। সলমনের সঙ্গে কেরিয়ারের প্রথম ছবিতে অভিনয় তাঁর পেশাজীবনের গোড়ায় মাইলফলক গড়ে তোলে।
‘বীরগতি’ ছবিতে অভিনয়ের পর একে একে ‘হিন্দুস্তান’, ‘সিন্দুর সৌগন্ধ’, ‘ইন্তেকাম’, ‘দবদবা’-সহ বেশ কিছু ছবিতে অভিনয় করেন পূজা। কিন্তু একাধিক হিন্দি ছবিতে অভিনয় করলেও বলিউডে জায়গা করে নিতে পারেননি তিনি। তাই উপার্জনের আশায় ছোটপর্দার দিকে পা বাড়ান পূজা।
টেলিভিশনের পর্দায় ‘আশিকি’, ‘ঘরানা’র মতো একাধিক হিন্দি ধারাবাহিকে অভিনয় করতে দেখা যায় পূজাকে। কিন্তু সেখানেও কেরিয়ার গোছাতে ব্যর্থ হন তিনি। টেলি অভিনেত্রী হিসাবে সাফল্য বেশি দিন উপভোগ করতে পারেননি পূজা। ঘন ঘন শারীরিক অসুস্থতা তাঁর পেশাজীবনে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
ধীরে ধীরে কাজ পাওয়ার সুযোগ কমে যায় পূজার। জীবনের এই কঠিন সময়ে পূজার পাশে দাঁড়ান রাজেন্দ্র সিংহ নামে এক ব্যক্তি। পূজা একাধিক সাক্ষাৎকারে রাজেন্দ্রের নামোল্লেখ করেছেন। বিনোদনজগতের সঙ্গে যুক্ত নন রাজেন্দ্র। তবে, পূজার জীবনের দুঃসময়ের বন্ধু হয়ে সর্বদা তাঁর পাশে থেকেছেন তিনি।
অভিনয় থেকে সরে গিয়ে গোয়ায় চলে যান পূজা। উপার্জনের জন্য সেখানে একটি ক্যাসিনোয় কাজ করা শুরু করেন তিনি। কিন্তু স্বাস্থ্য সহায় হয়নি। ফুসফুসের সংক্রমণ ধরা পড়ে পূজার। দুরারোগ্য যক্ষ্মায় আক্রান্ত হলে মুম্বইয়ের এক হাসপাতালে ভর্তি করানো হয় তাঁকে।
পূজা পুরনো সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, অসুস্থতার সময় তাঁর পরিবারের কোনও সদস্যই পাশে ছিলেন না। বাধ্য হয়ে ২০১৮ সালে ভিডিয়োবার্তার মাধ্যমে সলমনের কাছে সাহায্য চান পূজা। টানা ছ’মাস পূজার চিকিৎসার খরচ বহন করে সলমনের স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা।
এমনকি, হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পরেও বেশ কয়েক মাস পূজাকে নিরবচ্ছিন্ন সাহায্য করেছিল সলমনের সংস্থা। অর্থ দিয়ে নয়, বরং পেশাজীবনে কাজ পাওয়ার জন্য সাহায্য প্রার্থনা করেছিলেন পূজা। সেই সময় সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন অভিনেতা রবি কিশন।
সুস্থ হওয়ার পর আবারও অভিনয়ে ফেরার চেষ্টা করেন পূজা। ২০২০ সালে ‘শুকরানা: গুরু নানক দেব জি কা’ নামের পঞ্জাবি ভাষার ছবিতে কাজ করলেও তা পূজাকে স্থায়ী কোনও জায়গা দিতে পারেনি। তাঁর পারিবারিক বন্ধু রাজেন্দ্রের কাছ থেকে ফোন নম্বর নিয়ে যোগাযোগ করেছিলেন প্রযোজকেরা। কিন্তু বিশেষ লাভ হয়নি।
অভিনয় থেকে ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে দূরত্ব তৈরি হয়ে গিয়েছে পূজার। বর্তমানে মুম্বইয়ে একচালার ঘরে থাকেন তিনি। বিনোদনজগতের সঙ্গে কোনও রকম যোগাযোগ নেই তাঁর।
সলমনের ছবিতে অভিনয় করে যাঁর কেরিয়ার শুরু, তিনি উপার্জনের জন্য অন্য পথ বেছে নিয়েছেন। একচালার ঘরে রান্না করে সময় কাটান পূজা। উপার্জনের জন্য টিফিন পরিষেবা দিতে শুরু করেছেন তিনি। আলোর রোশনাই থেকে দূরে সরে কঠিন সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে দিন অতিবাহিত করছেন এককালের বলি অভিনেত্রী।