ভারতের অন্যতম নামী রাজনৈতিক পরিবারে বাজল বিয়ের ঘণ্টা। বিয়ের পিঁড়িতে বসতে চলেছেন মহারাষ্ট্রের প্রবীণ রাজনীতিবিদ শরদ পওয়ারের নাতনি তথা লোকসভা সাংসদ সুপ্রিয়া সুলের কন্যা রেবতী সুলে।
মহারাষ্ট্রের অন্যতম সুপরিচিত রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য হওয়ার কারণে রেবতীর বিয়ের খবর জনসাধারণের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। সূত্রের খবর, শীঘ্রই নাগপুরের ব্যবসায়ী সারং লখানীর সঙ্গে সাত পাকে বাঁধা পড়তে চলেছেন রেবতী।
রেবতী এবং সারঙের বাগ্দানের গুঞ্জন প্রথম শুরু হয় পারিবারিক সমাজমাধ্যম পোস্টের মাধ্যমে। তার পরেই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। রেবতী এবং সারঙের সম্পর্কে জানতে কৌতূহলী হয়ে উঠেছেন সাধারণ মানুষ।
রেবতী-সারঙের বাগ্দানের খবর চাউর হতেই দেশের অনেক রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্ব যুগলকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। যদিও এখনও পর্যন্ত তাঁদের বিয়ের তারিখ জানা যায়নি। তবে বিয়ের প্রস্তুতি জোরকদমে চলছে বলেই খবর।
মহারাষ্ট্রের বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ তথা ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টি (শরদ) প্রধান শরদের কন্যা সুপ্রিয়া এবং সদানন্দ সুলের মেয়ে রেবতী। দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য হলেও সক্রিয় রাজনীতি থেকে দূরেই থাকেন তিনি। জনসমক্ষেও খুব একটা আসেন না।
গত লোকসভা নির্বাচনে সুপ্রিয়া বারামতী লোকসভা কেন্দ্রে প্রার্থী হওয়ার পর মায়ের সমর্থনে প্রচার করতে দেখা গিয়েছিল রেবতীকে। তবে সুপ্রিয়া নির্বাচনে জিতে সাংসদ হওয়ার পর আবার আ়ড়ালে চলে যান তিনি।
ছোটবেলা থেকে মূলত পড়াশোনাকেই পাখির চোখ করেছিলেন রেবতী। ২০২০ সালে মুম্বইয়ের সেন্ট জ়েভিয়ার্স কলেজ থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক হন রেবতী। এর পর উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে চলে যান। লন্ডন স্কুল অফ ইকোনমিক্স থেকে জনপ্রশাসন (পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন) নিয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।
পওয়ার এবং সুলে পরিবারের ঘনিষ্ঠ সূত্রের খবর, রেবতী এক দিকে যেমন শিক্ষা অনুরাগী, তেমনই অমায়িক। এত বড় রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য হওয়া নিয়ে কোনও দম্ভ তাঁর নেই।
অন্য দিকে, নাগপুরের এক সম্ভ্রান্ত ব্যবসায়িক পরিবারের পুত্র সারং। বিশ্বরাজ গোষ্ঠীর চেয়ারম্যান তথা ম্যানেজিং ডিরেক্টর অরুণ লখানীর পুত্র তিনি।
সারং বর্তমানে বিশ্বরাজ গোষ্ঠীরই এগ্জ়িকিউটিভ ডিরেক্টর হিসাবে কর্মরত। সংস্থার বিভিন্ন প্রকল্প দেখাশোনা, কৌশল রচনা এবং পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন তিনি।
নাগপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই বাণিজ্য নিয়ে পড়াশোনা করেছেন সারং। পরে আইআইএম বেঙ্গালুরু থেকে পড়াশোনা করেন। কলম্বিয়া বিজ়নেস স্কুল থেকে এমবিএ ডিগ্রিও রয়েছে ব্যবসায়ী পুত্র সারঙের।
পারিবারিক ব্যবসায় যোগ দেওয়ার আগে ‘নীতি আয়োগ’ এবং ‘সিটিজেনস ফর অ্যাকাউন্টেবল গভর্নেন্স’-এর মতো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও কাজ করেছেন সারং।
ব্যবসা ছাড়াও খেলাধুলার প্রতি বিশেষ ঝোঁক রয়েছে সারঙের। বেশ কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন দেশে আন্তর্জাতিক ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্টে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেছেন তিনি।
রেবতীর দাদা বিজয় সুলে ইনস্টাগ্রামে রেবতী এবং সারঙের একটি ছবি পোস্ট করে দম্পতিকে অভিনন্দন জানানোর পরে বাগ্দানের খবর ছড়ায়। মঙ্গলবার সমাজমাধ্যমে রেবতী এবং সারঙের একটি ছবি পোস্ট করে বিজয় লেখেন, ‘অভিনন্দন বোন এবং ভগিনীপতি।’ তার পরেই সমাজমাধ্যমে গুঞ্জন শুরু হয়। যদিও কোনও পরিবারই এখনও পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি।
রেবতী এবং সারঙের বাগ্দানের খবরে রাজনৈতিক রংও লেগেছে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সুলে এবং লখানী পরিবারের মধ্যে তৈরি হতে চলা সম্পর্কের নেপথ্যে রয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নিতিন গডকরী এবং মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফডণবীস। তাঁরাই নাকি ‘ঘটকালি’ করেছেন। তবে সে দাবির কোনও উপযুক্ত প্রমাণ মেলেনি।
কয়েক দিন আগে কপ্টার দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে রেবতীর মামা তথা মহারাষ্ট্রের প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পওয়ারের। সেই আবহে তাঁদের পরিবারে শোকের ছায়া।
এ ছাড়াও গত সোমবার গলায় সংক্রমণ এবং বুকে চাপ ও ব্যথার কারণে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে শরদকে। এখনও তিনি হাসপাতালে ভর্তি। তার মধ্যেই মঙ্গলবার প্রকাশ্যে এল রেবতী এবং সারঙের বাগ্দানের খবর।