UFO Disclosure

সত্যিই রয়েছে ভিন্‌গ্রহীদের যান? ওবামার ‘ভুলে’ প্রকাশ্যে আসবে সত্য? কী বেরোবে ট্রাম্প ‘প্যান্ডোরা বাক্স’ খুললে?

ভিন্‌গ্রহীদের যান বা ইউএফও পৃথিবীর সবচেয়ে বিতর্কিত এবং আকর্ষণীয় বিষয়গুলির মধ্যে অন্যতম। তা নিয়ে তত্ত্ব-গল্পও রয়েছে অনেক। রয়েছে অনেক বিতর্কও।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৬:৩৫
Share:
০১ ২২

অনেক বছর ধরেই পৃথিবীর বুকে ভিন্‌গ্রহীদের যান বা ইউএফও ‘দেখতে পাওয়া’ নিয়ে একাধিক দাবি, জল্পনা উঠেছে। সেই সব দাবি এবং জল্পনার ভাগীদার হয়েছে বিভিন্ন দেশ। কেউ কেউ আবার ভিন্‌গ্রহীদের হাতে অপহৃত হওয়ার দাবি তুলেছেন। ভিন্‌গ্রহীদের নিয়ে সিনেমাও তৈরি হয়েছে অনেক।

০২ ২২

ভিন্‌গ্রহীদের যান বা ইউএফও পৃথিবীর সবচেয়ে বিতর্কিত এবং আকর্ষণীয় বিষয়গুলির মধ্যে অন্যতম। তা নিয়ে তত্ত্ব-গল্পও রয়েছে অনেক। রয়েছে অনেক বিতর্কও। তবে এ সবের মাঝে একটা প্রশ্নই বার বার উঁকি দিয়েছে মানুষের মনে— সত্যিই কি ভিন্‌গ্রহীদের অস্তিত্ব আছে? সত্যিই কি তারা এসে দেখা দিয়েছিল পৃথিবীতে? এই বার সেই প্রশ্নের উত্তর পেতে পারে বিশ্ব।

Advertisement
০৩ ২২

অনেক দিন পর ভিন্‌গ্রহী এবং ভিন্‌গ্রহীদের যান আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে আমেরিকায়। কারণ, আমেরিকার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার একটি পডকাস্ট। ওই পডকাস্টের পরেই আমেরিকার হাতে থাকা ভিন্‌গ্রহী সংক্রান্ত নথি প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

০৪ ২২

গত ১৪ ফেব্রুয়ারি ‘নো লাই উইথ ব্রায়ান টাইলার কোহেন’ নামে একটি পডকাস্টে উপস্থিত হয়েছিলেন ওবামা। সেখানেই ওঠে এলিয়েন বা ভিন্‌গ্রহীদের প্রসঙ্গ। ভিন্‌গ্রহীদের সত্যিই অস্তিত্ব রয়েছে কি না তা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘‘তারা বাস্তবে রয়েছে। কিন্তু আমি তাদের দেখিনি। এরিয়া ৫১-এ তাদের কোথাও রাখা হচ্ছে না বলেও জানি।’’

০৫ ২২

ওবামার ওই বক্তব্যের সংক্ষিপ্ত ক্লিপটি ভাইরাল হওয়ার পরেই তা আলোড়ন ফেলে বিশ্ব জুড়ে। পাশাপাশি নতুন করে বহির্জাগতিক জীবন, ইউএফও এবং সরকারের সম্ভাব্য গোপন তথ্য সম্পর্কে ব্যাপক জল্পনা এবং তত্ত্বও তৈরি হয়েছে।

০৬ ২২

যদিও বিষয়টি নিয়ে জলঘোলা হতেই ওবামা ইনস্টাগ্রাম এবং অন্যান্য সমাজমাধ্যমে তাঁর বিবৃতির অর্থ স্পষ্ট করেন। প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট লেখেন, ‘‘পরিসংখ্যানগত ভাবে মহাবিশ্ব এত বিশাল যে সেখানে প্রাণ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু সৌরজগৎগুলির মধ্যে দূরত্ব এত বেশি যে আমাদের কাছে ভিন্‌গ্রহীদের আসার সম্ভাবনা কম এবং আমি প্রেসি়ডেন্ট থাকাকালীন এমন কোনও প্রমাণ দেখিনি যে বহির্জগতের প্রাণীরা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।’’

০৭ ২২

মজার বিষয় হল, ওবামার ওই মন্তব্যের পরেই বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওবামার বিরুদ্ধে ‘গোপন তথ্য’ ফাঁস করার অভিযোগ তুলেছেন তিনি। একই সঙ্গে আমেরিকার প্রতিরক্ষা এবং সংশ্লিষ্ট অন্য সংস্থাগুলিকে ইউএফও এবং বহির্জাগতিক জীবন নিয়ে আমেরিকার হাতে থাকা সরকারি নথি প্রকাশ করার এবং জনসমক্ষে আনার নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাম্প।

০৮ ২২

ট্রাম্প তাঁর নিজস্ব সমাজমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, ‘‘উনি (ওবামা) গোপন তথ্য ফাঁস করে ভুল করেছেন। এমনটা কাম্য ছিল না। আমি জানি না ভিন্‌গ্রহী বলে সত্যিই কিছু রয়েছে কি না। তবে এটা বলতে পারি যে, গোপন তথ্য ফাঁস করা হয়েছে। অনেকে ভিন্‌গ্রহীদের অস্তিত্বে বিশ্বাস করেন। যদিও আমি এই নিয়ে কোনও কথা বলি না।”

০৯ ২২

একই সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও লেখেন, “বিষয়টি নিয়ে মানুষের মনে আগ্রহ এবং কৌতূহল তৈরি হয়েছে। তার ভিত্তিতে আমি যুদ্ধসচিব এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিভাগ এবং সংস্থাগুলিকে নির্দেশ দেব, তারা যেন ভিন্‌গ্রহী, বহির্জাগতিক জীবন, ভিন্‌গ্রহীদের যান সংক্রান্ত অত্যন্ত জটিল, কিন্তু আকর্ষণীয় এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি সংক্রান্ত সরকারি নথি প্রকাশ করার প্রক্রিয়া শুরু করে। ঈশ্বর আমেরিকার মঙ্গল করুন!”

১০ ২২

ওবামার মন্তব্যের পর ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া বিষয়টি নিয়ে জল্পনা আরও উস্কে দিয়েছে। অনেকে দাবি করেছেন যে, ওবামার ‘ভুল’ এবং ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া অবশেষে ভিন্‌গ্রহী সম্পর্কে অনেক তথ্য প্রকাশ্যে আনতে পারে।

১১ ২২

মহাবিশ্বে আমরা একা, না পৃথিবীর বাইরে আরও প্রাণ রয়েছে— সেই প্রশ্নটি নিঃসন্দেহে বিজ্ঞানের সবচেয়ে বড় ধাঁধাগুলির মধ্যে একটি। ১৯৯০-এর দশকে বহির্বিশ্ব নিয়ে গবেষণা শুরু হওয়ার পর থেকে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা সৌরজগতের বাইরে থাকা ৬,০০০-এরও বেশি গ্রহ বা ‘এক্সোপ্ল্যানেট’-এর খোঁজ পেয়েছেন। বিশেষজ্ঞদের অনেকেরই বিশ্বাস, রাতের আকাশে দেখা যায় এমন প্রতিটি নক্ষত্রের চারপাশে কমপক্ষে একটি গ্রহ প্রদক্ষিণ করছে এবং এ রকম হাজার হাজার কোটি নক্ষত্র রয়েছে। তাই পৃথিবী ছাড়া বহির্বিশ্বের আর কোথাও প্রাণ নেই, তেমনটা মনে করার কিছু নেই। যদিও অনেকের যুক্তি, প্রত্যক্ষ প্রমাণ ছাড়া এ বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্তে আসা ঠিক নয়।

১২ ২২

২০১০ সালে ডিসকভারি চ্যানেলের ‘ইনটু দ্য ইউনিভার্স উইথ স্টিফেন হকিং’ অনুষ্ঠানের একটি পর্বে বিখ্যাত জ্যোতির্পদার্থবিজ্ঞানী এবং বিশ্বতত্ত্ববিদ স্টিফেন হকিং বলেছিলেন, ‘‘যদি কখনও ভিন্‌গ্রহীরা আমাদের কাছে আসে, তা হলে আমার মনে হয় এর পরিণতি অনেকটা ক্রিস্টোফার কলম্বাসের আমেরিকায় প্রথম অবতরণের মতো হবে, যা আদিবাসীদের জন্য খুব একটা ভাল হয়নি।”

১৩ ২২

পরে এ নিয়ে আবার তাঁর আশঙ্কা ব্যক্ত করেন হকিং। বলেন, ‘‘আমরা ভিন্‌গ্রহীদের সম্পর্কে খুব বেশি কিছু জানি না। তবে আমরা মানুষের সম্পর্কে জানি। আপনি যদি ইতিহাসের দিকে তাকান, তা হলে দেখবেন, কম বুদ্ধিমান প্রাণীর সঙ্গে মানুষের যোগাযোগ প্রায়শই প্রথম পক্ষের দৃষ্টিকোণ থেকে ক্ষতিকারক হয়েছে। যদি ভিন্‌গ্রহীরা থাকে, তা হলে তারা অনেক বেশি শক্তিশালী হবে এবং আমাদের ব্যাকটেরিয়ার চেয়ে মূল্যবান মনে না-ও করতে পারে।’’

১৪ ২২

ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরোর প্রাক্তন প্রধান এস সোমনাথ বহির্জাগতিক জীবন প্রসঙ্গে এক বার বলেছিলেন, ‘‘এতে কোনও সন্দেহ নেই। আমার বিবেক আমাকে বলে যে মানুষ ছাড়াও বর্হিজগতে আরও প্রাণ রয়েছে। যদিও আমার কাছে কোনও প্রমাণ নেই। যদি এমন কোনও ভিন্‌গ্রহী সভ্যতা থাকে যা আমাদের থেকে মাত্র এক হাজার বছর বা ১০,০০০ বছর এগিয়ে থাকে, তা হলে খুব সম্ভবত তারা অত্যন্ত উন্নত এবং প্রাণের অস্তিত্ব রয়েছে এমন অন্যান্য গ্রহ পরিদর্শন করতে সক্ষম। এটাও সম্ভব যে, ভিন্‌গ্রহীরা ইতিমধ্যেই আমাদের সঙ্গে এমন ভাবে যোগাযোগ করছে যা এখনও মানুষের বোধের বাইরে। আমি সব সময় বিশ্বাস করি যে আমাদের চারপাশে ভিন্‌গ্রহী রয়েছে এবং তারা অনেক বেশি বিকশিত।’’

১৫ ২২

অতীতে বহু বার পৃথিবীর বুকে ভিন্‌গ্রহীদের যান দেখতে পাওয়ার দাবি উঠেছে। চলতি বছরের শুরুতে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল (এটিসি)-র তরফে প্রকাশ্যে আনা একটি অডিয়ো ক্লিপ অনুযায়ী, রোড দ্বীপের উপর দিয়ে একটি পাইপার পিএ-৩২আরটি-৩০০টি টার্বো ল্যান্স-২ বিমান নিয়ে ওড়ার সময় এক জন বিমানচালক একটি সন্দেহজনক উড়ন্ত বস্তু দেখতে পান আকাশে। বিমানচালক সেটিকে ‘বিস্ময়কর’ বলে মন্তব্য করেন। ওই বস্তু যে সাধারণ কোনও বেলুন না, তা জোর দিয়েই দাবি করেছিলেন তিনি। তার আগে মার্কিন নৌবাহিনীর প্রাক্তন লেফটেন্যান্ট রায়ান গ্রেভ্‌স ভিন্‌গ্রহীদের যান দেখতে পাওয়ার দাবি করেছিলেন।

১৬ ২২

রায়ান দাবি করেছিলেন, স্কোয়াড্রনের দু’টি বিমান পাশাপাশি ওড়ার সময় গাঢ় ধূসর রঙের একটি গোলক জাতীয় বস্তুকে আকাশে উড়তে দেখেছিলেন। আকাশে মাঝেমধ্যে সেই গোলক স্থির হয়ে যাচ্ছিল বলেও দাবি করেন তিনি।

১৭ ২২

তবে সাম্প্রতিক সময়ে ইতিহাসের সবচেয়ে আলোচিত এবং উল্লেখযোগ্য সম্ভাব্য বহির্জগতীয় ঘটনা হল টিক-ট্যাক ইউএফও ঘটনা। এটি ঘটেছিল ২০০৪ সালের নভেম্বরে, যখন মার্কিন নৌবাহিনীর একটি দল দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার উপকূলে অনুশীলন করছিল। সেই সময় প্রিন্সটন জাহাজে থাকা রাডারকর্মীরা কয়েক দিনের মধ্যে একটি অদ্ভুত উড়ন্ত বস্তু শনাক্ত করেন।

১৮ ২২

২০২২ সালে আকাশ, সমুদ্র এবং মহাকাশে অজ্ঞাত অস্বাভাবিক ঘটনা তদন্তের জন্য ‘অল-ডোমেন অ্যানোমালি রেজ়োলিউশন অফিস (এএআরও)’ দফতর চালু করেছিল পেন্টাগন। তাদের গবেষণার অংশ হিসাবে ১৯৪৫ সালের বেশ কিছু সরকারি নথি পর্যালোচনা করেন এবং বর্তমান ও প্রাক্তন সামরিক কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন।

১৯ ২২

এ ছাড়াও ভিন্‌গ্রহীদের যান দেখতে পাওয়া নিয়ে বহু দাবি বার বার করা হয়েছে। অনেক মানুষ আবার একদম সামনে থেকে ভিন্‌গ্রহী এবং তাদের যান দেখার দাবি করেছেন। তবে সে সব ঘটনার কোনও পোক্ত প্রমাণ কখনও মেলেনি।

২০ ২২

তবে ২০২৫ সালের মাঝামাঝি প্রকাশিত পেন্টাগনের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইউএফও নাকি কেবল এমন একটি ষড়যন্ত্রতত্ত্ব, যার জন্ম দিয়েছে পেন্টাগনই। গোপন সামরিক কার্যকলাপকে ঢাকতে ওই তত্ত্ব তৈরি করা হয়েছিল। ঠান্ডা যুদ্ধের সময়ও নাকি মার্কিন সামরিক বাহিনী ইচ্ছাকৃত ভাবে গোপন অস্ত্র কর্মসূচি লুকোনোর জন্য এরিয়া ৫১-এর সঙ্গে সম্পর্কিত ইউএফও তত্ত্ব তৈরি করেছিল। তৈরি করা হয়েছিল ইউএফও সংক্রান্ত কিছু ভুয়ো ছবিও!

২১ ২২

মার্কিন বিমানবাহিনীর প্রথম প্রিমিয়ার স্টেলথ যুদ্ধবিমান এফ-১১৭ নাইট হক পরীক্ষা করার সময়ও নাকি ওই একই তত্ত্বের সাহায্য নিয়েছিল আমেরিকা। ২০১৩ সালে সিআইএ-র নথি যাচাই করে প্রকাশ্যে আসে যে, এরিয়া ৫১-এর আড়ালে এলআর-৭১ ব্ল্যাকবার্ড এবং এইউ-২ গোয়েন্দা বিমান-সহ অনেক উন্নত বিমান পরীক্ষা করেছিল আমেরিকা।

২২ ২২

আমেরিকার হাতে ভিন্‌গ্রহী সম্পর্কিত কোনও নথি সত্যিই রয়েছে, না পুরোটাই স্রেফ জল্পনা এবং ভাঁওতাবাজি, তা স্পষ্ট হবে ট্রাম্প সরকারের তরফে ‘প্যান্ডোরা বক্স’ খুলে সেই সংক্রান্ত নথি প্রকাশ্যে এলেই।

সব ছবি: সংগৃহীত এবং ফাইল।

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, X (Twitter), Facebook, Youtube, Threads এবং Instagram পেজ)
Follow us on:
আরও গ্যালারি
Advertisement