US China Conflict

চিনের নাকের ডগায় কামান থেকে গোলা ছুড়ছে তিন দেশের সেনা! আগুন নিয়ে না খেলার ‘পরামর্শ’ জিনপিঙের

ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকায় চিনের একেবারে ‘নাকের ডগা’য় বিরাট সামরিক মহড়ায় নেমেছে মার্কিন ফৌজ। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আছে জাপান, ফিলিপিন্স-সহ একাধিক দেশের সেনা, রণতরী ও যুদ্ধবিমান। সব দেখে পাল্টা হুমকি দিল বেজিং।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২৫ এপ্রিল ২০২৬ ০৭:৫৮
Share:
০১ ২০

আর মাত্র কয়েক দিনের অপেক্ষা। তার পরেই চিনসফরে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেখানে ড্রাগন প্রেসিডেন্ট শি জিনপিঙের সঙ্গে বৈঠক হওয়ার কথা আছে তাঁর। এই আবহে জাপান ও ফিলিপিন্সের সঙ্গে ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী যৌথ মহড়ায় গা ঘামাতেই ‘রেগে কাঁই’ বেজিং! অন্য দিকে মান্দারিনভাষীদের দেশকে ‘নরক’-এর সঙ্গে তুলনা করে বিতর্কের আগুনে ঘি ঢেলেছেন ট্রাম্পও। সব দেখেশুনে কপালের চিন্তার ভাঁজ চওড়া হচ্ছে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের।

০২ ২০

চলতি বছরের ২০ এপ্রিল, সোমবার তাইওয়ান প্রণালী সংলগ্ন এলাকায় জাপান এবং ফিলিপিন্সকে নিয়ে যুদ্ধাভ্যাসে নামে মার্কিন নৌসেনা। এই মহড়ার সাঙ্কেতিক নাম ‘বালিকাতান, ২০২৬’, যা চলবে টানা ১৯ দিন। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট যুদ্ধাভ্যাসে আছে ফ্রান্স, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া এবং নিউ জ়িল্যান্ডের বেশ কিছু সৈনিক। মহড়ায় সরাসরি গোলাবর্ষণের অনুশীলনকে অন্তর্ভুক্ত করেছে ওয়াশিংটন। বিষয়টি নজরে আসতেই চিনা প্রশাসন সুর চড়িয়েছে।

Advertisement
০৩ ২০

‘বালিকাতান, ২০২৬’ মহড়ার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মার্কিন ফৌজের মুখপাত্র কর্নেল রবার্ট বান বলেন, ‘‘এর মাধ্যমে ফিলিপিন্সের সঙ্গে ইস্পাতকঠিন বন্ধুত্বকে তুলে ধরব আমরা। মনে রাখতে হবে, ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকাকে উন্মুক্ত রাখার ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র অঙ্গীকারবদ্ধ।’’ সংশ্লিষ্ট যুদ্ধাভ্যাসে ১৭ হাজারের বেশি আমেরিকান সৈনিক অংশ নিয়েছেন বলে সূত্র মারফত মিলেছে খবর। তবে পশ্চিম এশিয়ায় ইরান যুদ্ধ চলার কারণে এই সংক্রান্ত সঠিক তথ্য দিতে অস্বীকার করেন কর্নেল বান।

০৪ ২০

সরকারি ভাবে আমেরিকা জানিয়েছে, ‘বালিকাতান’ মহড়ায় বৃহত্তম সৈনিক দলকে মোতায়েন করেছে তারা। নৌবাহিনীর পাশাপাশি এতে লড়াইয়ের কৌশল অনুশীলন করবে মার্কিন বায়ুসেনা। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র ফিলিপিন্সের বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে চলবে এই যুদ্ধাভ্যাস। শুধু তা-ই নয়, ‘বিতর্কিত’ দক্ষিণ চিন সাগর জুড়ে দাপাদাপি করতে দেখা যাবে একাধিক দেশের বাহিনীকে। যুক্তরাষ্ট্রের এ-হেন পদক্ষেপের জেরে বেজিঙের মেজাজ যে সপ্তমে চড়েছে, তা বলাই বাহুল্য।

০৫ ২০

আর তাই ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকায় ‘বালিকাতান’ মহড়া শুরু হতেই কড়া বিবৃতি দিয়েছে শি প্রশাসন। চিনা বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র গুও জ়িয়াকুন বলেন, ‘‘ওয়াশিংটন, টোকিয়ো ও ফিলিপিন্সকে একটা কথা স্মরণ করিয়ে দিতে চাই। নিরাপত্তার নামে অন্ধ ভাবে একত্রিত হওয়াটা আগুন নিয়ে খেলার শামিল। উল্টে এর আঁচ নিজেদের গায়ে লাগতে পারে।’’ বেজিঙের হুঁশিয়ারি আমেরিকা সে ভাবে গায়ে না মাখলেও এর জেরে দক্ষিণ চিন সাগরের জল ঘোলা হচ্ছে বলেই মনে করছে প্রতিরক্ষা মহল।

০৬ ২০

দ্বীপরাষ্ট্র ফিলিপিন্সকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ চিন সাগরে প্রথম বার মার্কিন ফৌজ সামরিক মহড়ায় নামল, এমনটা নয়। ম্যানিলার সঙ্গে বেশ কিছু সামরিক সমঝোতা রয়েছে ওয়াশিংটনের। সেই চুক্তি অনুযায়ী, এ বছর ‘বালিকাতান’ মহড়ার ৪১তম সংস্করণে অংশ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা। গত বছর (পড়ুন ২০২৫ সাল) এই যুদ্ধাভ্যাসে অত্যাধুনিক জাহাজ বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র নেভি-মেরিন এক্সপেডিশনারি শিপ ইন্টারডিকশন সিস্টেম (এনএমইএসআইএস) এবং হিমার্স বা হাই মোবিলিটি আর্টিলারি রকেট সিস্টেম নামায় আমেরিকা।

০৭ ২০

কানাডা-ভিত্তিক গণমাধ্যম ‘দ্য ইউরেশিয়ান টাইমস’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মহড়ায় একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন মাইক্রোঅয়েভ অস্ত্রের পরীক্ষা চালায় মার্কিন সেনা। এ ছাড়া ২০২৪ সালের যুদ্ধাভ্যাসে ফিলিপিন্সে মাঝারি পাল্লার ‘টাইফন মিড-রেঞ্জ ক্যাপাবিলিটি’ ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করে যুক্তরাষ্ট্র। পাশাপাশি, ম্যানিলার ফৌজকে সংশ্লিষ্ট হাতিয়ারটি ব্যবহারের প্রশিক্ষণ দেয় তারা। অনুশীলন চলাকালীন দক্ষিণ চিন সাগরে ডোবানো হয় একটি বাতিল রণতরী। পর পর এই ধরনের ঘটনা চিনের যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে, তাতে কোনও সন্দেহ নেই।

০৮ ২০

অতীতের ঘটনাগুলিকে মনে রেখে এ বারের মহড়া নিয়ে গণমাধ্যমে মুখ খুলেছে ফিলিপিন্স। ম্যানিলা জানিয়েছে, ভারতীয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকায় সবচেয়ে বড় যুদ্ধাভ্যাস হতে যাচ্ছে ‘বালিকাতান, ২০২৬’। শুধুমাত্র সৈন্যসংখ্যার নিরিখে নয়। বরং সামরিক অনুশীলনের পরিধি ও জটিল রণকৌশল আয়ত্ত করাই এর লক্ষ্য। এতে শারীরিক কসরত, কমান্ড পোস্টের অনুশীলন, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, উভচর অভিযানের কৌশল, সম্মিলিত হাতিয়ারে সরাসরি গোলাবর্ষণ, বিমানহামলা, সাইবার প্রতিরক্ষা এবং কৃত্রিম উপগ্রহের ব্যবহার শিখবে ফিলিপিন্স ফৌজ।

০৯ ২০

এ বারের ‘বালিকাতান’ মহড়ায় প্রথম বার সরাসরি গোলাবর্ষণ অনুশীলন করবে জাপানি সেনা। টোকিয়োর বাহিনীর বহরে আছে রণতরী ধ্বংসকারী ‘টাইপ-৮৮ সারফেস টু শিপ’ ক্ষেপণাস্ত্র। ট্রাকের উপরে রেখে এর মাধ্যমে দিব্যি হামলা চালাতে পারে তারা। সূত্রের খবর, যুদ্ধাভ্যাসে সংশ্লিষ্ট হাতিয়ারের সক্ষমতা দুনিয়ার সামনে তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে সামুরাই যোদ্ধাদের। তবে আনুষ্ঠানিক ভাবে এই নিয়ে কোনও ঘোষণা করেনি সানায়ে তাকাইচি সরকারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক।

১০ ২০

পশ্চিমি গণমাধ্যমগুলির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘বালিকাতান’ মহড়া শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘরে ফিরবে না অংশগ্রহণকারী দেশগুলির ফৌজ। সূত্রের খবর, এর পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, জাপান এবং কানাডা নৌবাহিনীর আলাদা আলাদা করে বহুপাক্ষিক যুদ্ধাভ্যাস করার কথা রয়েছে। এ বছরের মার্চে বেশ কয়েক দিন ধরে সেটা চলবে ফিলিপিন্সের পশ্চিম উপকূলে। ফলে আপাতত একাধিক রাষ্ট্রের রণতরী মোতায়েন থাকছে ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকার ওই দ্বীপরাষ্ট্রে। সাবেক সেনাকর্তাদের কথায় এতেও অস্বস্তি বাড়ছে চিনের।

১১ ২০

ম্যানিলার পশ্চিম উপকূল নিয়ে আবার সীমান্ত বিবাদ রয়েছে বেজিঙের। কারণ, দক্ষিণ চিন সাগরের পুরোটাই নিজেদের এলাকা বলে দীর্ঘ দিন ধরে দাবি করে আসছে ড্রাগন। এ-হেন পরিস্থিতিতে মান্দারিনভাষীদের একেবারে ‘নাকের ডগা’য় ডুবোজাহাজ ধ্বংসের অনুশীলন, রণতরী থেকে গোলাবর্ষণ এবং উপকূল থেকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মতো জটিল রণকৌশলের লাগাতার অনুশীলন চালাবে তিন দেশের নৌসেনা। আমেরিকার থেকে কিছু কিছু সামরিক প্রশিক্ষণ নেওয়ার কথাও আছে তাদের।

১২ ২০

‘বালিকাতান’ মহড়ায় চিনকে একমাত্র স্বস্তি দিয়েছে ফ্রান্স। এই যুদ্ধাভ্যাসে বিরাট ফরাসি নৌবহরের যোগ দেওয়ার কথা ছিল। গত মার্চে প্যারিস জানিয়ে দেয়, ফিলিপিন্সে ক্রুজ়ার শ্রেণির রণতরী জঁ দার্ক, একটি উভচর আক্রমণকারী জাহাজ, একটি ফ্রিগেট, একগুচ্ছ হামলাকারী কপ্টার এবং অন্তত ১৫০ জন সৈনিক পাঠাবে তারা। কিন্তু, পরে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁর প্রশাসন। গত ১৩ এপ্রিল এ ব্যাপারে বিবৃতি দেন ম্যানিলায় নিযুক্ত ফরাসি রাষ্ট্রদূত মারি ফন্তানেল।

১৩ ২০

বিবৃতিতে মারি বলেছেন, ‘‘পশ্চিম এশিয়ায় চলা ইরান যুদ্ধের জেরে পরিস্থিতির ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছে। আর তাই জঁ দার্ক-এর মতো ক্রুজ়ারকে ইউরোপ ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া যায়নি। তবে বালিকাতান মহড়া থেকে নাম প্রত্যাহার করছি না আমরা।’’ ফলে সংশ্লিষ্ট যুদ্ধাভ্যাসে অংশ নিয়েছে ফরাসি নৌবাহিনীর একটি অত্যন্ত ছোট দল। তাতে মাত্র ১৫-২০ জন সৈনিক রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। বিশ্লেষকদের দাবি, এর মাধ্যমে ফিলিপিন্স ইস্যুতে প্যারিস যে এখনও ওয়াশিংটনের পাশেই রয়েছে, ট্রাম্পকে সেই বার্তা দিতে চেয়েছেন মাক্রোঁ সরকার।

১৪ ২০

ফিলিপিন্সের অভিযোগ, গত কয়েক বছর ধরে দক্ষিণ চিন সাগরে উত্তরোত্তর বেড়েই চলেছে চিনের ‘পিপল্‌স লিবারেশন অফ আর্মি’ বা পিএলএ নৌবাহিনী ও উপকূলরক্ষী বাহিনীর (চাইনিজ় কোস্ট গার্ড) উপদ্রব। প্রায়ই ম্যানিলার জলসীমায় ঢুকে ‘দৌরাত্ম্য’ চালায় তারা। দ্বীপরাষ্ট্রের রণতরীতে ধাক্কা মারা, মৎস্যজীবীদের ট্রলার ডোবানো বা ক্ষতি করার যথেষ্ট ‘বদনাম’ রয়েছে তাদের। এত দিন এগুলির কোনওটাই মানেনি বেজিং। আর তাই ‘বালিকাতান’ মহড়াকে ড্রাগনের উপর চাপ বৃদ্ধির কৌশল হিসাবেই দেখছেন সামরিক বিশ্লেষকেরা।

১৫ ২০

ফিলিপিন্স উপকূলের খুব কাছে একটি কৃত্রিম দ্বীপ তৈরি করেছে চিন। কিছু দিন আগে সেখান থেকে লড়াকু জেট উড়িয়ে ম্যানিলার উপকূলরক্ষী বাহিনীর বিমানে আগুন (ফ্লেয়ার) ‘ছুড়ে মারে’ পিএলএ বায়ুসেনা। পাশাপাশি, ওই এলাকার প্রবাল দ্বীপপুঞ্জ স্প্র্যাটলির আশপাশের জলে সায়নাইড মেশানোর অভিযোগও রয়েছে বেজিঙের মৎস্যজীবীদের বিরুদ্ধে। একে ‘নাশকতা’ বলে উল্লেখ করে পাল্টা বেজিংকে হমকি দেয় ফিলিপিন্সের ফৌজ। এই ধরনের ঘটনা দক্ষিণ চিন সাগরে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি করছে বলে দাবি ওয়াকিবহাল মহলের।

১৬ ২০

২০১৪ সালে ফিলিপিন্সের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে দ্বীপরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘উন্নত প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি’ বা ইডিসিএ সেরে ফেলে মার্কিন প্রশাসন। ওই সমঝোতা অনুযায়ী, বর্তমানে ম্যানিলায় মোট ন’টি সামরিক ঘাঁটিতে মোতায়েন রয়েছে ওয়াশিংটনের ফৌজ। এর মধ্যে উত্তর লুজ়ন এবং পালাওয়ানের কৌশলগত অবস্থান বেশ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, তাইওয়ান প্রণালীর গা ঘেঁষে গড়ে উঠেছে প্রথম ছাউনি। দ্বিতীয়টির মুখ দক্ষিণ চিন সাগরের দিকে। দু’টি জায়গাতেই অত্যাধুনিক হাতিয়ার মজুত করছে আমেরিকা।

১৭ ২০

এ ছাড়া ফিলিপিন্সের দক্ষিণ মিন্দানাওয়ের দাভায় একটি সামরিক জ্বালানি ডিপো গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে মার্কিন প্রশাসনের। এ বছরের ৩১ মার্চ ম্যানিলার তৃতীয় সর্বাধিক জনবহুল শহর মিন্দানা দ্বীপে পেট্রোলিয়াম সংরক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণের দরপত্রের জন্য বিজ্ঞপ্তি জারি করে ওয়াশিংটন। সেখানে বলা হয়েছে, ২০২৮ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে শেষ হবে এই পরিকাঠামো নির্মাণের কাজ। এতে সামরিক যানের জন্য ৪.১ কোটি গ্যালন, যুদ্ধবিমানের জন্য ১.৮ কোটি গ্যালন এবং রণতরীর জন্য সংরক্ষণ করা যাবে ২.৩ কোটি গ্যালন জ্বালানি।

১৮ ২০

সাবেক সেনাকর্তারা জানিয়েছেন, ফিলিপিন্সকে ঘাঁটি করে ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকায় চিনকে ঘিরে ফেলার ছক কষছে মার্কিন ফৌজ। দক্ষিণ চিন সাগরে পিএলএ নৌসেনার ‘প্রথম শৃঙ্খল’ ভেঙে ফেলতে মরিয়া হয়ে উঠেছে ওয়াশিংটন। বর্তমানে জ্বালানির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের লড়াকু জেট, বোমারু বিমান, রণতরী থেকে উভচর জাহাজ পুরোপুরি ভাবে গুয়াম বা হাওয়াই দ্বীপের উপর নির্ভরশীল। দাভায় পেট্রোলিয়াম সংরক্ষণ কেন্দ্র তৈরি হয়ে গেলে ফিলিপিন্স সাগরে আমেরিকান বাহিনীর টহল যে বৃদ্ধি পাবে, তাতে কোনও সন্দেহ নেই।

১৯ ২০

আর তাই ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকায় হঠাৎ করে মার্কিন ফৌজ এগিয়ে আসায় নিজেদের অসন্তোষ চেপে রাখেনি চিন। বেজিঙের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র বলেছেন, ‘‘আজকের দুনিয়া অনেক বেশি পারস্পরিক অবিশ্বাস ও অস্থিরতার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি, একপাক্ষিক সামরিক অভিযোগ বিশ্বে বিপর্যয় ডেকে আনছে। সেখানে এশিয়ার স্থিতিশীলতা কোনও ভাবেই নষ্ট হওয়া উচিত নয়।’’

২০ ২০

সামরিক বিশ্লেষকদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রকে রুখতে চিনের তুরুপের তাস হতে পারে বিরল খনিজ। বর্তমানে এর ৯০ শতাংশই নিয়ন্ত্রণ করছে বেজিং। সংশ্লিষ্ট ধাতুগুলি ছাড়া যুদ্ধবিমান, রেডার বা ক্ষেপণাস্ত্রের মতো উন্নত সামরিক সরঞ্জাম নির্মাণ প্রায় অসম্ভব। এর সরবরাহ আটকে ওয়াশিংটনের সঙ্গে দর কষাকষিতে ড্রাগন প্রেসিডেন্ট শি নামেন কি না সেটাই এখন দেখার।

ছবি: সংগৃহীত, প্রতীকী ও এআই সহায়তায় প্রণীত।

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, X (Twitter), Facebook, Youtube, Threads এবং Instagram পেজ)
Follow us on:
আরও গ্যালারি
Advertisement