Bengali Serial Novel

কেয়ার গন্ধ

দীপঙ্কর শুরু করলেন সবাইকে অবাক করে, “হে মহাত্মন্, তোমায় আমি যত্নে রোপণ করেছি এবং দিন দিন সুন্দর বৃক্ষের ন্যায় যাতে বর্ধিত হও সে নিমিত্ত আমি বিশেষ যত্ন করব।”

অভিজিৎ চৌধুরী

শেষ আপডেট: ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৬:১৫
Share:

ছবি: সৌমেন দাস।

পূর্বানুবৃত্তি: শেষ অবধি ঠিক হল, জ্যোৎস্নাদেবী ম্যাকবেথ নির্দেশনা করবেন। এই সিদ্ধান্তই পছন্দ হল তাঁর। পঞ্চমীর দিন সাধনের গাড়িতে রওনা দিলেন তিনি। বিষ্ণুপুরে অপেক্ষা করছিলেন জনমেজয়। সেখানে পৌঁছে রামকৃষ্ণ আশ্রমেপ্রসাদ গ্রহণ করা হল। দেখা হল মৃন্ময়ী মন্দির।অন্য দিকে জ্যোৎস্নাদেবী কাকে কোন ভূমিকায় নির্বাচিত করবেন, তা নিয়ে জোর জল্পনা কল্পনা অনুমান চলছে পানসদা ফটিক তনুশ্রীদের মধ্যে। শেষ অবধি সেখানে পৌঁছলেন জ্যোৎস্নাদেবী। পানসদা পেলেন ম্যাকবেথের রোল, তনুশ্রীলেডি ম্যাকবেথ আর ফটিক ম্যাকডাফ।

ফটিক ম্যাকডাফের ভূমিকায় নির্বাচিত হতে পানসদা খোঁচা দিলেন, “আনটাইমলি বর্ন।”

জনমেজয় দুই বাহু উপরে তুলে বলেন, “হলে প্রাণ অবসান, কেহ করে গুণগান/ মহাকবি সেক্ষপিয়র আদর্শ হেথায়।”

এ বার তনুশ্রী বলে, “মগন অনন্ত ঘুমে, শান্তির শ্মশান-ভূমে,/ নিন্দা বা আদর তার হবে ধরাময়॥”

জ্যোৎস্নাদেবী বললেন, “বাহ্‌, তোমরা তো সব তৈরি। যাত্রার অভিনয়ের মধ্যে আছ। সকলেই স্ক্রিপ্টের সঙ্গে পরিচিত। দীপঙ্কর, তুমি! আড়ষ্টতা ভেঙে এগিয়ে এসো।”

দীপ চুপিচুপি বলে, “বাবা, এগিয়ে যাও। তুমি রাজা ডানকান।”

দীপঙ্কর শুরু করলেন সবাইকে অবাক করে, “হে মহাত্মন্, তোমায় আমি যত্নে রোপণ করেছি এবং দিন দিন সুন্দর বৃক্ষের ন্যায় যাতে বর্ধিত হও সে নিমিত্ত আমি বিশেষ যত্ন করব।”

“হে সদাশয় ব্যাঙ্কো, তুমি যোগ্যতায় কিছুমাত্র ন্যূন নও, যোগ্যতা প্রকাশে কিছুমাত্র ত্রুটি কর নাই।”

“এসো, তোমাকে আলিঙ্গন করি।”

জনমেজয় বলে উঠলেন, “সাধু, সাধু।”

জ্যোৎস্নাদেবী বললেন, “রাতে আমাদের আবার রিহার্সাল হবে।”

রাতে রিহার্সাল হল। একটু ক্লান্ত ছিলেন জ্যোৎস্নাদেবী। মিহিরকুমার রায় বলে এক জন এলেন, তিনি বললেন, “ম্যাডাম, সকালে আপনাকে হরিতলা নাটমঞ্চে নিয়ে যাব।”

তিনি বললেন, “নিশ্চয়ই যাব।”

পরদিন বেশ ভোরে এলেন মিহিরবাবু। তিনি ম্যাডামকে নিয়ে এলেন নবনির্মিত হরিতলা মঞ্চে। বীণাপাণি অপেরার সকলে এলেন একে একে।

জ্যোৎস্নাদেবী বললেন, “কী চমৎকার করেছ! আমার তো মনে হচ্ছে, এ রকম মঞ্চ যাত্রায় নতুন জোয়ার আনবে। মরা গাঙে বান আনবে। সবই তো করে ফেলেছ, শুধু ঢোকার পথের খানিকটা চেকার্স টাইলস দিয়ে দিতে পারো।”

মিহির বললেন, “ম্যাডাম, হয়ে যাবে।”

“লাখ পনেরো তো পড়েছে, তাই না! নাকি আরও বেশি!”

মিহির মৃদু গলায় বললেন, “না ম্যাডাম, আট লাখের একটু কম।”

পানসদা বললেন, “ম্যাডাম, মিহির কমিয়ে বলছে। লোকসান করবে বলেই করেছে। ফেলটু প্রমোটার। সবাই টাকা মেরে দেয়।”

হাসলেন জ্যোৎস্নাদেবী। মিহিরকে জিজ্ঞেস করলেন, “বিয়ে করেছ?”

“না, মা আর আমি থাকি।”

পানসদা বললেন, “পাশ করা ভেটেরিনারি ডাক্তার। মোহনপুর ক্যাম্পাসের ছাত্র। কত জনের চাকরি করে দিয়েছে, আর নিজের জন্য কিছুই করল না। পরোপকারের রাজনীতি, এই যুগে চলে!”

মিহির বললেন, “ম্যাডাম, দমদমে আবার ভেটেরিনারি শুরু করব।”

ফটিক বলল, “মার খাবে মিহিরদা। ছাত্রনেতা ছিলে, এখন আর কিছু মনে আছে তোমার!”

দীর্ঘশ্বাস ফেললেন জ্যোৎস্নাদেবী। গিরিশবাবুর মতো মানুষ না থাকলে বাংলা রঙ্গমঞ্চে তারাসুন্দরী, তিনকড়ি দাসীদের কি মানুষ দেখতে পেত!

ফটিক পুরনো একটা জনপ্রিয় হিন্দি গান ধরল, “আজিব দাস্তাঁ হ্যায় ইয়ে/ কাঁহা শুরু কাঁহা খতম...”

পানসদা বললেন, “ফটকে তোর গলা খাসা, কিন্তু হিন্দি উচ্চারণে গোলমাল আছে।”

জ্যোৎস্নাদেবী বললেন, “তোমার গলাটা সুন্দর। রেওয়াজ করলে আরও খুলবে।... তবে মিহির, জানি তুমি ভালবেসে করেছ, কিন্তু এতটা লোকসান করলে কাজ করবে কী করে!”

মিহির বললেন, “ম্যাডাম, আমি তো অ্যাক্টিং করতে পারি না। যাত্রাপালা ভালবাসি। ভালবাসি বীণাপাণি অপেরাকে।”

জ্যোৎস্নাদেবী বললেন, “উদ্বোধক হবেন মিহিরকুমার রায়। ফলকেও ওর নাম লেখা থাকবে।”

মিহির বললেন, “ম্যাডাম, রাজনীতির লোকেরা মানবেন না। খুব গোলমাল হবে। আমার রাজনৈতিক পরিচয় ভিন্ন তো!”

জ্যোৎস্নাদেবী চুপ করে রইলেন। সেই স্টারের জন্য বিনোদিনীর আত্মত্যাগ। সময় প্রবহমান, যারা কিছু করবে না, তারা চিরকালই এ রকম।

মিহির প্রণাম করলেন জ্যোৎস্নাদেবীকে। ওঁর চোখে জল, হয়তো আনন্দে। কারণ জ্যোৎস্নাদেবীর স্পর্শে এই নাটমন্দির স্বপ্নতীর্থ হয়ে উঠবে আগামী দিনগুলিতে। মিহির এটুকু জেনেই নিজেকে ধন্য মনে করবেন।

পুরুলিয়ায় একটি চমৎকার ডাকবাংলোয় রাখা হয়েছে ওঁদের। প্রকৃতি এখানে অনুদার নন। কাছেই কোথাও বোধনের ঢাক বাজছে।

জনমেজয় বললেন, “ম্যাডাম, আপনি উদ্বোধন করলে কোনও কথা হবে না। না হলে বলুন, কোনও আমলা বা রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে আমাদের প্রাণের যাত্রার কী সম্পর্ক! আমরা তো কোনও রাজনীতির রং যাতে না লাগে, সেই ভাবে এগিয়েছি। মিহিরদাকে চাঁদা তুলে আরও কিছু টাকা দেব।”

জ্যোৎস্নাদেবী বললেন, “সেই ভাল। মিহির, তুমি আপত্তি কোরো না।”

“আচ্ছা,” মিহির হেসে বলে।

বীণাপাণি অপেরার ছোট্ট ঘরটায় এ বার আসা হল। রবীন্দ্রনাথের ছবিতে একটা মালা, আর তার ফুলগুলি কবে শুকিয়ে গেছে।

জ্যোৎস্নাদেবী বললেন, “বাইশে শ্রাবণের মালাটা এ বার বদলে দাও।”

ফটিক লজ্জা পেয়ে তাড়াতাড়ি খুলে নিল।

“অনায়াসে যে পেরেছে ছলনা সহিতে/ সে পায় তোমার হাতে/ শান্তির অক্ষয় অধিকার— স্মৃতি থেকে বললাম, ভুলও হতে পারে। মৃত্যুর আগে তাঁর লেখা শেষ তিনটি লাইন।” বললেন জ্যোৎস্নাদেবী।

সবাই একটু স্তব্ধ হয়ে রইল।

এ বার ভাল করে দেখে তিনি বললেন, “এটা তো ছবি নয়, কেউ এঁকেছেন!”

ফটিক বলল, “পানসদার আঁকা ম্যাডাম।”

নীল জোব্বা, মাথায় কালো লম্বা টুপি, সামনের দিকটা ঢাকা। কানের পাশ থেকে চুলগুলি বেরিয়ে আছে। চোখে কান্না ঢাকার জন্য রোদচশমা।

পানসদা বললেন, “ম্যাডাম, শান্তিনিকেতন নিশ্চয়ই বহু বার গেছেন!”

“না, মাত্র এক বার গেছি। ভুবনডাঙার মাঠে যাত্রা করতে গেছিলাম। দীপঙ্কর আর দাদুভাইকে নিয়ে এ বার যাব।”

পানসদা বললেন, “আমাদের নেবেন না!”

অসাধারণ সুপুরুষ, ব্যক্তিত্ববান সেই পানসদা যেন একেবারে অচেনা ম্যাডামের কাছে।

ম্যাডাম বললেন, “যিনি কবির এত সুন্দর প্রতিকৃতি এঁকেছেন, তিনি তো যাবেনই।”

ফটিক বলল, “আর আমরা!”

“ঠিক আছে, ‘ম্যাকবেথ’ শেষ হলে সকলে মিলে যাব আমরা আমাদের সেই রাজার কাছে। রাজা সবারে দেন মান।”

বাইশে শ্রাবণের কথা মনে পড়তেই ওই প্রতিকৃতির দিকে তাকিয়ে কেমন উদাস হয়ে গেলেন জ্যোৎস্নাদেবী। মনে মনে যেন বললেন, ‘অলঙ্কার খুলে নেবে, একে একে বর্ণসজ্জাহীন উত্তরীয়ে/ ঢেকে দিবে, ললাটে আঁকিবে শুভ্র তিলকের রেখা...’

তার পর বললেন, “রিহার্সালে ফিরতে হবে। আগুনেরও সেই দাহিকাশক্তি ছিল না যে রবীন্দ্রনাথকে মুছে দেবে।”

এ বার ভজা চা দিল, সঙ্গে কুচো নিমকি। সবাইকে একে একে দিতে লাগল। দীপঙ্কর ও দীপ চলে এসেছে। দীপ ঠাম্মার কাছ ঘেঁষে এসে বসল।

“আমরা রিহার্সালে ফিরব। রবীন্দ্রনাথ বাঙালি-জীবনে চিরভাস্বর। বাইশে শ্রাবণ নেই, আছে শুধু পঁচিশে বৈশাখ। ‘রক্তকরবী’ করেছ তোমরা?”

“না।” বললেন পানস।

“এক বার ‘রক্তকরবী’-র জন্য আসব।”

“নন্দিনী আপনি করবেন ম্যাডাম,” তনুশ্রী তখনই বলে উঠল।

“দূর পাগলি! এই বয়সে আর নন্দিনী হয়! তোকে আমি সাজিয়ে দেব। তুই করবি।”

মনে মনে বললেন, ‘আমার সেই প্রেমিক যে হারিয়ে গেছে। ছিল কি কেউ কখনও!’

বললেন, “দক্ষিণে বেঁধেছি নীড়/ চুকেছে লোকের ভিড়/ বকুনির বিড়বিড় গেছে থেমেথুমে।...বাকিটা কে বলবে?”

দীপঙ্কর বললেন, “যারা আছে কাছাকাছি/ তাহাদের নিয়ে আছি,/ শুধু ভালোবেসে বাঁচি বাঁচি যত কাল।”

এ বার জনমেজয় বললেন, “কিছু নাহি করি দাওয়া, ছাতে বসে খাই হাওয়া,/ যতটুকু পড়ে-পাওয়া ততটুকু ভালো—”

এ বার দীপ বলল, “যারা মোরে ভালোবাসে/ ঘুরে ফিরে কাছে আসে/ হাসিখুশি আশেপাশে নয়নের আলো।”

জ্যোৎস্নাদেবী নাতিকে জড়িয়ে ধরলেন। দীপ আবার কেয়া ফুলের গন্ধ পেল।

এ বার ফটিক বলল, “ডাইনিদের রোল করার সবাইকে পেয়ে গেছি।”

তিনি হেসে বললেন, “কারা করবে!”

ফটিক বলল, “ভজা, কী রে তুই বলে ফেল ম্যাডামকে, বলেছিলি বলবি!”

ভজা লজ্জা পেয়ে পালিয়ে গেল।

ফটিক বলল, “ও বলছে ওর বৌ, শালি আর ও, তিন জনে করবে।”

“ওরা আগে অভিনয় করেছে!”

“হ্যাঁ ম্যাডাম। ভজা ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্টে খাবারও দেয়, আবার অভিনয়ও করে।”

“দারুণ তো! আজ মহাসপ্তমী, তাই না!”

“হ্যাঁ ম্যাডাম, অঞ্জলি দেবেন! তা হলে ব্যবস্থা করে দেব।”

“না, আমি মা-কে দূর থেকে প্রণাম করব। আচার-বিচার-সংস্কারে আমার বিশ্বাস বড্ড দুর্বল।”

ভজা এ বার গরম কচুরি নিয়ে এল।

তিনি বললেন, “এ তো শুধু খাওয়াদাওয়া চলছে, রিহার্সাল করতে হবে তো!”

“এই তো ম্যাডাম, শুরু হবে....” ফটিক বলল।

ঢাক বাজছে। বাতাসে ধূপের গন্ধ ভেসে এসে নাকে লাগছে। আকাশে সাদা মেঘের ভেলা।

এক দল কীর্তন-গাইয়ের দল যাচ্ছে খোল বাজিয়ে, তারা গাইছে, “যাব ব্রজের কূলে কূলে/ মাখব পায়ে রাঙা ধূলি/ ওরে, নয়নেতে নয়ন দিয়ে রাখব তারে/ চলে গেলে যেতে দেব না/ চলে গেল যেতে দেব না...”

“জয় রাধে” বলে তাঁরা বীণাপাণি অপেরার দরজার সামনে দাঁড়ালেন।

ফটিক বলল, “মোহন্ত মশাই, এখন যে রিহার্সাল শুরু হবে।”

“শুনলুম মা এয়েচেন, একটু পদধূলি নেবনি!”

জ্যোৎস্নাদেবী বাইরে এসে বললেন, “বাবা, জয় গুরু! পায়ে হাত দেবেন না। আমি তেমন অধিকারিণী নই।”

মোহন্ত বললেন, “মা, আপনি যে সাক্ষাৎ জগদ্ধাত্রী। ভক্তের প্রণাম গ্রহণ করুন।”

মোহন্ত হাতজোড় করলেন। তিনিও তাঁকে প্রতিনমস্কার করলেন।

ওঁরা চলে গেলে তিনি বললেন, “মনটা ভাল হয়ে গেল।”

এ বার ভজা এল, সঙ্গে তার বৌ আর শালি। ওরা সকলে প্রণাম করল।

ভজার বৌয়ের থুতনি ধরে তিনি বললেন, “তোমার নাম কী?”

“সুমিতা।”

“আর তোমার!”

“অমিতা।”

“এ তো দেখছি রবিঠাকুরের ছোঁয়া। নোবেলজয়ী অমর্ত্য সেনের মায়ের নাম অমিতা সেন, জানো!”

“হ্যাঁ ম্যাডাম। আমার বাবা উদয়নের সিকিয়োরিটি গার্ড ছিলেন।”

“চমৎকার... আমরা শুরু করি তা হলে? আচ্ছা ভজা, তোর ভাল নাম কী?”

“অনুপম।”

“ইস, বীণাপাণি অপেরা তোকে অনুপম থেকে ভজা করে ফেলল! যাই হোক, আমরা শুরু করি।... ম্যাকবেথ আর ব্যাঙ্কো যুদ্ধ জয় করে রাজ্যে ফিরছেন। বিউগল বাজছে। রেডি? পানস, তুমি রেডি? আর ব্যাঙ্কো করবে জনমেজয়। আমি একটু কাস্টিং বদলালাম। আমি চাই সবাই পুরো স্ক্রিপ্ট জানবে। ম্যাকবেথ করবে পানস।”

পানস, জনমেজয় দু’জনে এক সঙ্গে বললেন, “ঠিক আছে।”

ম্যাকবেথ: কে তোরা প্রকাশ ত্বরা, যদিথাকে ভাষা?

প্রথম ডাইনি, অর্থাৎ ভজা বা অনুপম: জয় জয় জয় ম্যাকবেথের জয়! গ্লামিসের পতি যারে সর্বলোকে কয়।

দ্বিতীয় ডাইনি, সুমিতা: কদরের পতি আজ, জয় জয় জয়, জয় জয় ম্যাকবেথের জয় জয়।

“আর এক বার বলতে হবে সুমিতা, জয় জয় জয়। প্রথম থেকে বলো...” জ্যোৎস্না দেবী বললেন।

সুমিতা: কদরের পতি আজ, জয় জয় জয়, জয় জয় ম্যাকবেথের জয় জয় জয়।

“ঠিক আছে। গলাটা আর একটু তুলবে। ঠিক আছে, ভাল হচ্ছে।”

তৃতীয় ডাইনি, অর্থাৎ অমিতা: জয় জয় জয় ম্যাকবেথের জয়, রাজরাজেশ্বর সে-ই হবে নিশ্চয়।

জ্যোৎস্নাদেবী বললেন, “আমাকে অনুসরণ করে বলো, রাজরাজেশ্বর সেই-ই হবে নিশ্চয়।”

অমিতা বলল।

জ্যোৎস্নাদেবী বললেন, “প্রয়োজনে নিজেরা যোগ করবে। স্ক্রিপ্ট একটা রেখা, তাতে রং দেবে, জীবন দেবে অভিনেতা, অভিনেত্রী।... ঠিক আছে, হয়ে যাবে।”

৩২

বিকেলে আবার রিহার্সাল শুরু হল চারটেয়, চলবে সন্ধে সাতটা অবধি, পুজোর সময় রাতে সব প্রতিমা দেখতে বেরোবে বাড়ির লোকজনদের সঙ্গে।

জনমেজয় বললে, “ম্যাডাম, আপনি কোনও পুজোমণ্ডপে যাবেন না?”

জ্যোৎস্নাদেবী হেসে বললেন, “না, আমার প্রতিমা যাত্রা, সেই উপাসনার সুযোগ তোমরা করে দিলে। এমনিতেও দেখা হয় না। পুজোর দিনগুলিতেই বায়না বেশি থাকত। পথে যেতে যেতে মণ্ডপ পড়লে প্রণাম করতাম। তার পর যখন কাজ কমল, ওঁকে সঙ্গে নিয়ে বেরোতাম। তার পর উনি যখন চলে গেলেন, আর বেরোই না। একা একা কেটে যায় ঘরের মধ্যে।”

দীপ বলল, “ঠাম্মা, এ বার বেরোতে হবে। সন্ধেয় ঠাকুর দেখতে বেরোতে হবে। আর তুমি তো চন্দননগরে জগদ্ধাত্রী পুজো দেখোনি, দেখবে কত মজা হয়।”

জ্যোৎস্নাদেবী বললেন, “ঠিক কথা। আমাকেও বেরোতে হবে, তবে আমার নাতির জন্য। তুমি সবাইকে নিমন্ত্রণ করো জগদ্ধাত্রী পুজো দেখতে যাওয়ার জন্য।”

দীপ সবাইকে বলল, “যাবে কিন্তু তোমরা আমাদের বাড়ি চন্দননগর, জগদ্ধাত্রী পুজোয়।”

সবাই বলল, “আমরা যাব এ বার চন্দননগর।”

ক্রমশ

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন