ছবি: রৌদ্র মিত্র।
গদাধর খুব বিপদে পড়ে গেছেন। গদাধরের শুগার ধরা পড়েছে। এত দিন গদাধর শুগারকে কষে ধরেছিলেন, অর্থাৎ মিষ্টি খেতে দারুণ ভালবাসতেন গদাধর। সারাদিনে অন্তত গোটা চারেক মিষ্টি না হলে গদাধরের মেজাজ সপ্তমে চড়ে যেত। এ ছাড়া বৌ উমা সকালে পুজো করে প্রসাদ দিতে এলে গদাধরকে চারটে বাতাসা দিতেই হত। ছেলেমেয়েদের বরাদ্দ কিন্তু একটা করে বাতাসা। এবার বাগে পেয়ে শুগার গদাধরকে জাপটে ধরেছে। রক্তপরীক্ষার রিপোর্ট খালিপেটে একশো পঁচানব্বই এবং ভরাপেটে দুশো পঞ্চান্ন। শুগার গদাধরের চোখে প্রায় জল এনে দিয়েছে।
ডাক্তার মাইতি খুব রসিক মানুষ। রিপোর্ট দেখে মুচকি হেসে গদাধরকে বলেছেন, “বাঃ! আপনার ভিতরে মনে হয় ভিয়েন বসেছে। শুধু মিষ্টি তৈরি হচ্ছে।”
গদাধর বিষণ্ণ হয়ে বললেন, “ডাক্তারবাবু, যে ছেলেটা রক্ত নিল, সেটা একটা চেটো চ্যাংড়া। মনে হয় রক্তটা ঠিক নিতে পারেনি। আমি কি আর এক জায়গায় পরীক্ষা করাব?”
ডাক্তারবাবু গম্ভীর হয়ে বললেন, “সে আপনি করাতেই পারেন, কিন্তু সেখানে যদি এক পেঁচো মাতাল রক্ত নিয়ে শুগার লেভেল আরও বাড়িয়ে দেয়, তখন তো হসপিটালে ভর্তির কেস হতে পারে।”
গদাধর একেবারে দমে গেলেন। করুণ মুখে ডঃ মাইতিকে জিজ্ঞেস করলেন, “ডাক্তারবাবু, মিষ্টি কি একবারেই বন্ধ?”
ডাক্তার মাইতি প্রেসক্রিপশন লিখতে লিখতে বললেন, “মিষ্টি কি খাওয়ার কথা বলছেন?”
“হ্যাঁ, মানে মিষ্টি তো কেউ দেখে না। খাওয়ার কথাই বলছি।”
ডাক্তারবাবু প্রেসক্রিপশনটা হাতে দিয়ে বললেন, “হ্যাঁ, ঠিক তাই। মিষ্টি আপনার দেখাও চলবে না, কারণ মিষ্টির গন্ধ আপনার নাকে এলেই শুগার বেড়ে যাবে। কথায় আছে ঘ্রাণেন অর্ধভোজনম্।”
গদাধর বিধ্বস্ত অবস্থায় বাড়ি এলেন। স্ত্রী উমা জিজ্ঞেস করলেন, “হ্যাঁ গো, ডাক্তারবাবু কী বলল?”
গদাধর বিছানায় টানটান হয়ে শুয়ে বললেন, “বলল, আপনার আর বেঁচে থেকে কোনও লাভ নেই। আপনি সারাজীবন আর মিষ্টির মুখ দেখতে পারবেন না। আপনার শরীর নতুন করে এখন আর উচ্ছে, নিমপাতা, ঢেঁড়শ, বরবটি, বেগুন এসব অখাদ্য সহ্য করতে পারবে না। হার্টফেল হতে পারে।”
উমা ভীষণ চিন্তিত হয়ে গালে হাত দিয়ে বললেন, “কী সব্বোনাশ! এই তিপ্পান্ন বছর বয়েসে মিষ্টি না খেতে পেয়ে তুমি চলে গেলে আমার কী হবে?”
গদাধর কড়িকাঠের দিকে চোখ রেখে উদাস গলায় বললেন, “তোমার আবার কী হবে! তুমি দিব্যি মাছ-মাংস, রসগোল্লা, চমচম, রাবড়ি, বোঁদে খেয়ে সাতাশি বছর অবধি দাপিয়ে বেড়াবে।”
উমা কাঁদো কাঁদো গলায় বললেন, “তুমি এই অভিশাপ দিলে? আমার এই উনপঞ্চাশ বছর থেকে বিধবা হয়ে আরও আটতিরিশ বছর রাবড়ি আর চমচম খেয়ে দাপিয়ে বেড়াব?”
গদাধরের মিষ্টি জীবন শেষ হয়ে তিতকুটে জীবন শুরু হয়ে গেল। গদাধর এক দিন রাতে বিছানায় শুয়ে ঠিক করলেন, চুপি চুপি বেরিয়ে দোকানে গিয়ে মাঝে মাঝে মিষ্টি খেয়ে আসবেন। মিষ্টির দোকানের ছেলেগুলো সব চেনা। ওদের হাতে দু’-চার টাকা দিয়ে বলে দেবে কুট্টিকে যেন কিছু না বলে।
কুট্টি আর বুড়ি হল গদাধরের ছেলে আর মেয়ে। বছরখানেক আগে বুড়ির বিয়ে হয়ে গেছে এক ডিস্কো জকির সঙ্গে। কুট্টি পঁচিশ বছরের বয়সেই প্রচুর নাম করে ফেলেছে। সে শাসক দলের অ্যাকশন স্কোয়াডের একচ্ছত্র অধিপতি। কুট্টির কর্মজীবন খুবই উজ্জ্বল। ইস্কুলে ক্লাস এইটে এক সহপাঠীকে তুলে আছাড় মারার জন্যে শাস্তিস্বরূপ ওকে বার্ষিক পরীক্ষা দিতে দেওয়া হয়নি। কারণ যাকে আছাড় মেরেছিল, সেও পরীক্ষা দিতে পারেনি। ক্লাস এইটটা দু’বছর ধরে রপ্ত করে পরের বছর বার্ষিক পরীক্ষায় সবচেয়ে বেশি নম্বর পেয়েছিল সমাজবিদ্যায়। একশোর মধ্যে সতেরো। তবে কুট্টি বরাবরই খুব সাহসী। সমাজবিদ্যার ওই সতেরো সম্বল করে ইস্কুলকে চোখের জলে বিদায় দিয়ে সমাজসেবায় নেমে পড়েছে। সমাজসেবার একমাত্র পাটাতন হল শাসকদলের বিরাট ছাতা। আর এক বার সেই ছাতার মাথা হতে পারলে কোনও বাপের বেটার হিম্মত হয় না সেই ছাতার মাথার সামনে মাথা তুলে কথা বলার।
ঈশ্বরের কৃপায় কুট্টির শরীরটা বিশাল। তার উপর শরীরচর্চা আর বাপের টাকা খরচা— এই দুটো সমানতালে করে করে প্রকাণ্ড এক কলেবরের মালিক হয়েছে। গদাধরের পৈতৃক ব্যবসা ছিল কয়লার। বাড়ি বাড়ি গ্যাসের প্রচলন হওয়ার ফলে কয়লা আর তেমন ভাবে কদর পাচ্ছিল না। কুট্টি এক দিন গদাধরকে বললে, “ওসব কয়লা-ফয়লা ছাড়ো, গ্যাস দাও। নিখিলদাকে দিয়ে ডিলারের লাইসেন্স করিয়ে দিচ্ছি।”
নিখিল পাইন হল শাসকদলের গ্যাস দেওয়ার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক। গদাধর সভয়ে বললেন, “না বাবা! এ বয়সে গ্যাস দেওয়া আর সম্ভব নয়। ওই ধিকধিক করে কয়লা যেমন জ্বলছে জ্বলুক। মনে হয় কয়লা আর আমি দু’জনেই এক সঙ্গে নিবে যাব।”
কুট্টি কাঁধটা একটু ঝাঁকিয়ে বলে গেল, “ওঃ মাই গড! কী ওল্ড বিউটিফুল ফুল!”
চলে যাওয়ার পর উমা গদাধরকে জিজ্ঞেস করলেন, “হ্যাঁ গো, কুট্টি কী বলে গেল?”
গদাধর কান খোঁচাতে খোঁচাতে বললেন, “ওর ইংরিজিটা বুঝিনি। আমি সারা জীবনে ইংরিজিতে একুশের বেশি পাইনি। ও আরও এক কাঠি সরেস, জীবনে এগারোর বেশি পায়নি। ওদের পার্টিতে বোধহয় এই ধরনের ইংরিজির ক্লাস হচ্ছে।”
উমা বললেন, “খুব ভাল হয়েছে! ছেলেটার মুখে ওই জন্যই চমৎকার ইংরিজির ফুল ফুটছে।”
যাই হোক, গদাধরের মিষ্টি জীবন একেবারে ছন্নছাড়া। সারাদিন মোবাইলে অনলাইনে বড় বড় মিষ্টির দোকানের মিষ্টির ছবি দেখে কাটাচ্ছেন। এক বার ভেবেছিলেন অনলাইনে লুকিয়ে মিষ্টি আনাবেন কি না, কিন্তু প্রথম কথা, অনলাইনে অর্ডার দেওয়া ব্যাপারটা গদাধরের সেভাবে রপ্ত হয়নি। দ্বিতীয় হল, উমা যদি ছেলেকে বলে দেয়, তা হলে ভীষণ ঝামেলা হবে। বরং চুপিচুপি বেরিয়ে দোকানে মিষ্টি খেয়ে নেবেন।
গদাধরের যে অবর্ণনীয় কষ্ট, সেটা কেউ বুঝছে না। ছেলে, বৌ, এমনকি মেয়েও না। এক বার গদাধরের মনে হয়েছিল, একটা মিষ্টি আত্মহত্যা করবেন। মানে প্রচণ্ড মিষ্টি আর দই খেয়ে মারা যাবেন। কিন্তু এই পথে বোধহয় আজ অবধি কেউ মরেনি। কলেরা ফলেরা হয়ে খুব কষ্ট পেলেন, কিন্তু মরলেন না, তখন একটা বেইজ্জতের ব্যাপার হয়ে যাবে। গদাধর ভাবতেই পারছিলেন না, গত এগারো দিন একটাও রসগোল্লা, পান্তুয়া, চমচম, একদানা বোঁদে, ক্ষীরের গজা রাবড়ি, দই কিচ্ছু মুখে পড়েনি। একা একা বসে গদাধরের চোখে জল এসে যাচ্ছিল। উমাও ছেলের ভয়ে বাড়ির গোপালের ডায়েট পাল্টে দিয়েছে। এখন গোপালের দু’বেলা পুজো হচ্ছে কুচো নিমকি, শসা, শিঙাড়া, চানাচুর দিয়ে। মিষ্টির কোনও নামগন্ধ নেই। ছেলে বলেছে, প্রসাদে মিষ্টি দেখলেই বাবার আবার মিষ্টির শোক উথলে উঠবে।
সেদিন রাত্তিরে গদাধর স্বপ্ন দেখলেন, গোপাল হামাগুড়ি দিয়ে এসে গদাধরের বুকের উপর বসে রেগে গিয়ে বলছে, “তুই ব্যাটা নিজের নাক কেটে আমার খাওয়াটা লাটে তুললি! দু’বেলা এত নিমকি শিঙাড়া চানাচুর খেয়ে এই ছোট্ট লিভার সহ্য করতে পারে? তুই শুগারে পড়লি, আর আমাকে অম্বলে ফেললি।”
ঘুমটা ভেঙে গদাধর ঠাকুরঘরে গিয়ে ঘুমন্ত গোপালের সামনে বসে কেঁদেকেটে প্রার্থনা করলেন, “হে গোপাল! তোমার-আমার এই মরণদশা কাটাও। তুমিই তো সব। তোমার অসাধ্য কিচ্ছু নেই। তুমি ওই দুর্দান্ত রাবণ, দুর্যোধন, দুঃশাসন, কংসকে ধ্বংস করলে আর এই সামান্য ব্যাপারটা ম্যানেজ করতে পারছ না? কেন মিছিমিছি আমি করলা চিবোচ্ছি আর তুমি বাজে তেলের নিমকি, শিঙাড়া গিলছ?”
এর মধ্যে গদাধর এক দিন চুপিচুপি পাড়ার ক্ষেমঙ্করী মিষ্টান্ন ভান্ডারে গিয়ে দুটো রসগোল্লা চেয়েছিলেন। মালিক আমতা আমতা করে বলেছিল, “না কাকা, আপনাকে কোনও মিষ্টি দেওয়া যাবে না। নোনতা চাইলে এক ঝুড়ি দিয়ে দেব।”
গদাধর ধমক দিয়েছিলেন, “কেন! আমি কি বিনা পয়সায় মিষ্টি খাব?”
মালিক মোলায়েম স্বরে বলেছিল, “রাগ করবেন না কাকু। শুধু আমরা নই, আপনাকে এদিকের কোনও দোকানেই মিষ্টি দেবে না।”
গদাধর অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করেছিলেন, “কেন? পয়সা দিলে মিষ্টি দেবে না কেন?”
মালিক একটু নিচু গলায় বলেছিল, “কুট্টিদা এপাড়া ওপাড়ার সব মিষ্টির দোকানে বলে গেছে, আপনাকে কেউ মিষ্টি দিলে দোকান ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়ে যাবে। কুট্টিদার কথা কে অমান্যি করবে বলুন? তার উপর কুট্টিদার চেলারা হরবখত আশপাশে ঘুরঘুর করছে। আপনি ছেলের সঙ্গে বাড়িতে বসে ব্যাপারটা মিটিয়ে ফেলুন, তার পর আসুন। বিনা পয়সায় মিষ্টি খাইয়ে দেব।”
দীর্ঘশ্বাস ফেলে ক্ষেমঙ্করী থেকে বেরিয়ে এসেছিলেন গদাধর।
তবে গদাধরের মন বলছে, গোপালও যখন লিভার ট্রাবলে পড়েছে, তখন নিশ্চয়ই কিছু না কিছু ব্যবস্থা করবে। ক’দিন ধরে গোপালের দিকে তাকালেই গদাধরের মনে হচ্ছে গোপাল যেন মিটিমিটি হাসছে।
ডাক্তার মাইতি ব্লাড রিপোর্ট হাতে নিয়ে অবাক চোখে তাকিয়ে আছেন। এক বার গদাধরের দিকে দেখছেন, এক বার রিপোর্টটা দেখছেন। ডঃ মাইতি এক মাস বাদে গদাধরকে খালি পেট আর খাওয়ার দু’ঘণ্টা পরের শুগারের রিপোর্ট এনে দেখাতে বলেছিলেন। আজ রিপোর্ট নিয়ে গদাধর দেখাতে এসেছেন। রিপোর্ট দেখে ডাক্তারবাবু অবাক হয়ে গেছেন। ওষুধগুলো এভাবে কাজ করবে এবং গদাধর যে এমন ভাবে কঠোর নিয়ম মেনে চলবেন, সেটা ভাবতেই পারেননি। খালি পেটে সুগার একশো পঁচানব্বই থেকে নেমে পঁচাশি আর খাওয়ার পর দুশো পঞ্চান্ন থেকে নেমে একশো দশ।
গদাধরের সঙ্গে হ্যান্ডশেক করে ডঃ মাইতি বললেন, “গদাধরবাবু, আপনি মির্যাকল করেছেন। আমার কোনও রোগী এক মাসে এই উন্নতি করতে পারেনি। আমার তো বিশ্বাসই হচ্ছে না! কিন্তু আপনি যে জায়গা থেকে পরীক্ষা করিয়েছেন, তারা কখনও ভুল রিপোর্ট দেয় না।”
গদাধর মুখে স্বর্গীয় হাসি নিয়ে বললেন, “আমার কোনও কৃতিত্ব নেই! সব গোপালের আর আপনার। আপনার ওষুধগুলো অব্যর্থ।”
ডাক্তারবাবু একটু কৌতূহল নিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, “গোপালবাবু কে?”
গদাধর গম্ভীর গলায় বললেন, “আমার গৃহদেবতা। উনিই অসম্ভবকে সম্ভব করেছেন।”
ডঃ মাইতি কপালে হাত ঠেকিয়ে বললেন, “ওঃ স্যরি! ঠিক কথা। ঈশ্বরই তো সব। যাক গদাধরবাবু, আপনাকে এটার জন্যে একটা পুরস্কার দেব।”
গদাধর কৌতূহল নিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, “কী দেবেন বলুন তো?”
“আপনি যদি এভাবে থাকতে পারেন, তা হলে সপ্তাহে দুটো করে ছোট মিষ্টি খেতে পারেন। কিন্তু তার বেশি কিছুতেই নয়।”
আপ্লুত গদাধর ডাক্তারবাবুকে প্রণাম করতে যাচ্ছিলেন, কিন্তু ডাক্তারবাবু তড়িঘড়ি আটকে দিলেন।
পরদিন গদাধরের বাড়িতে হুলস্থুল ব্যাপার। কুট্টি ওদের বাড়ির কাজের লোক মতিকে ধরে এই মারে তো সেই মারে! কেউ ব্যাপারটা বুঝতেই পারছে না।
কুট্টি তার চুলের মুঠি ধরে ঝাঁকাচ্ছে, আর বলছে, “সত্যি কথা বল, না হলে আমি তোকে ছাদ থেকে নীচে ফেলে দেব।”
গদাধর বাড়িতে ছিলেন না। বাড়ি ফিরতেই তাঁর মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ল। গদাধর বুক চেপে ধরে বিছানায় শুয়ে পড়লেন।
উমা ব্যস্ত হয়ে কুট্টিকে বলল, “ওরে, তোর বাবার কী হল দেখ।”
কুট্টি গম্ভীর হয়ে উত্তর দিল, “কিচ্ছু হয়নি, শুগার নেবে গেছে। এখনই তরতর করে উঠে পড়বে।”
কুট্টির কাছ থেকে উমা যা আবিষ্কার করলেন, তাতে উমারই শরীর খারাপ করতে লাগল। গদাধর নাকি বাড়ির কাজের লোক মতিকে নিয়ে গিয়ে শুগার টেস্ট করিয়েছেন নিজের নামে। সেই রিপোর্টই নিয়ে গিয়ে ডঃ মাইতিকে দেখিয়ে দুটো মিষ্টির অনুমতি নিয়ে এসেছেন পুরস্কার হিসেবে। গদাধর জানত না, কুট্টির এক চেলা সেই সময় কাউন্টারে দাঁড়িয়ে ছিল। গদাধর যখন নিজের নাম বলে মতিকে রক্ত দেওয়ালেন, তখন সেই চেলাটি ভীষণ অবাক হয়ে গেছিল, কারণ সেই ছেলেটি মতিকে আর গদাধরকে ভালই চেনে। সেই চেলা মারফত খবর পেয়ে মতিকে চেপে ধরতেই সব খবর বেরিয়েছে। মতি এই ব্লাড প্রক্সির জন্যে গদাধরের কাছ থেকে দুশো টাকা পেয়েছে।
কুট্টি পরদিন জোর করে নিয়ে গিয়ে গদাধরকে শুগার টেস্ট করিয়ে এনেছে। খালিপেটে দুশো আর খাওয়ার পর দুশো ষাট। গদাধর আরও বিরাট গাড্ডায় পড়ে গেলেন, তিনি এখন রাত দিন করলাসেদ্ধ, নিমপাতার রস ইত্যাদি খান আর চিঁ চিঁ করে গৃহদেবতার বিরুদ্ধে অনুযোগ করে, “হে ঠাকুর! আমাকেও ফাঁসালে, নিজেও ফাঁসলে!”
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে