ছবি: রৌদ্র মিত্র।
সে যুগটা ছিল সাদা-কালোর যুগ। সেই যুগে চিকাইদা ছিল আমার কৈশোরের হিরো। শুধু আমার নয়, আমার মতো অনেকের। আমাদের কুঞ্জপুর এলাকার বচ্চন ছিল চিকাইদা। বচ্চন মানে, খোদ অমিতাভ বচ্চন। বম্বের অ্যাংরি ইয়াং ম্যান। বচ্চনের মতোই ফর্সা, লম্বা, কাটা-কাটা চোখমুখ আর চুলের কাট। আমাদের অনেকেরই ধারণা ছিল, ইচ্ছে করলে অনেক বাঘা-বাঘা হিরোর ভাত মেরে দিতে পারে চিকাইদা। চিকাইদার একটা পোশাকি নাম ছিল। তরুণ। সেই সাদা-কালোর যুগে তিনকড়ি, পঞ্চানন্দ, গৌরহরি, রাখাল, কালীচরণ, গোবিন্দ— এমন সব নাম থেকে বেরিয়ে এসে তখন আধুনিক নাম রাখার চল হয়েছে। বিকাশ অশোক সঞ্জীব রবীন তরুণ ইত্যাদি-প্রভৃতি। এর মধ্যে ‘চিকাই’ ডাকনাম হিসেবে কিছুটা অত্যাধুনিক বলা যেতে পারে।
যে কথা বলছিলাম, চিকাইদার নায়কোচিত চেহারা। যে কোনও কারণেই হোক, অভিনয়ের দিকে যায়নি চিকাইদা। তবে সে তার উপযুক্ত পেশাই বেছে নিয়েছিল। চিকাইদা ঘাড় গুঁজে কেরানির কাজ করবে অথবা ইস্কুলে ছাত্রদের নামতা শেখাবে, এগুলো ঠিক তার ইমেজের সঙ্গে খাপ খায় না। চিকাইদার স্টুডিয়ো ছিল। সে ছিল ক্যামেরাম্যান।আগেই বলেছি, সেটা ছিল সাদা-কালো যুগ। চিকাইদা যখন কাঁধে ক্যামেরা ঝুলিয়ে অনুষ্ঠান বাড়ির ছবি তুলতে যেত, কিংবা ভিউফাইন্ডারে চোখ রেখে শাটার টিপত, তখন মনে হত, হিরো হো তো অ্যায়সা।
সে সময়ে বড়দের দেখলে, ছেলে-ছোকরারা সিগারেট লুকিয়ে ফেলত। তখন বর্ষাকালে বৃষ্টি হত, শরতের নীল আকাশে ফুলবাবুর মতো ভেসে বেড়াত সাদা মেঘের দল, আর হেমন্তে বেলা ছোট হয়ে আসত, বিকেল-সন্ধে জুড়ে মন ছেয়ে থাকত অপূর্ব এক বিষাদে। মনে হত, কাউকে যেন কিছু বলার ছিল, কিন্তু বলে ওঠা হল না।
তখন এ-বাড়ির তরকারি, শুক্তো, চচ্চড়ি ও-বাড়ি যেত, ও-বাড়ির কুলের চাটনি কিংবা সজনেফুল ভাজা আসত এ-বাড়ি। ঠাকুরমা ফোকলা মুখে রূপকথার গল্প বলত ছোটদের। আকাশের চাঁদ দেখাত। আর হাইব্রিড শব্দটা এমন ছড়িয়ে পড়েনি।
তখন সমাজে প্রেমের এমন ছড়াছড়ি ছিল না। প্রেমের বিয়ে একদম হত না তা নয়, কিন্তু সে কালেভদ্রে। সমাজ তাদের দিকে এমন ভুরু কুঁচকে তাকাত, যেন তারা রাষ্ট্রদ্রোহী কোনও কাজকর্ম করে ফেলেছে। সে সময় দেখাশোনা করে বিয়ের রেওয়াজটাই বেশি ছিল। পাত্রপক্ষ কনে দেখতে আসত, তার পর কনেপক্ষ যেত পাত্র দেখতে। কখনও একাধিক বার যাতায়াত হত। কিন্তু এই দেখাশোনার খুঁটিপুজোটা হত ছবি আদানপ্রদানের মধ্য দিয়ে। মূলত মেয়েদের ছবিই পাঠানো হত পাত্রপক্ষের কাছে। সেই ছবি তোলা হত স্টুডিয়োয়। এক দিন মেয়ে বেশ সেজেগুজে স্টুডিয়োয় গিয়ে ছবি তুলিয়ে আসত। বেশির ভাগ সময়ে মেয়ের সঙ্গে থাকত মেয়ের মা। স্টুডিয়োয় নানা অ্যাঙ্গল থেকে নানা ভঙ্গিতে ছবি তুলত ক্যামেরাম্যান। এখানেই দরকার হত তার কেরামতি। ক্যামেরাম্যানের হাত যত ভাল হবে, ছবিও তত ভাল উঠবে। এই জায়গায় অপ্রতিদ্বন্দ্বী ছিল চিকাইদা। হাত এত ভাল ছিল যে, খুব সাধারণ মেয়েও অসাধারণ হয়ে উঠত তার হাতে। সবাই বলত, ম্যাজিক আছে চিকাইয়ের হাতে। সেই সাদা-কালোর যুগে ছবিও ছিল সাদা-কালো। ক্যামেরার মধ্যে রিল ভরে ছবিতুলতে হত।
চিকাইদার স্টুডিয়োর নাম ছিল ‘স্টুডিয়ো বিউটি’। আমাদের রঘুনাথপুরে আরও একটা স্টুডিয়ো ছিল। ‘স্টুডিয়ো মোনালিসা’। সেই স্টুডিয়োর মালিক ছিল গোপালদা। গোপালদা ছিল ছোটখাটো, গোলগাল চেহারার মানুষ। মাথার সামনের দিকে টাক। অর্থাৎ গ্ল্যামারে চিকাইদার কাছে নিতান্তই ভরাডুবি অবস্থা তার। তার উপর হাতও তেমন সরেস নয়। ফলে বিয়ের জন্যে ছবি তোলাতে বিউটি স্টুডিয়োতেই ভিড় হত বেশি।
রঘুনাথপুরে এমন একটা কথা রটে গেল যে, বিউটি স্টুডিয়ো অবিবাহিত মেয়েদের কাছে পয়া। সেখানে ছবি তোলালে পছন্দ অবধারিত। তাই বিউটি স্টুডিয়োয় ভিড় উত্তরোত্তর বাড়তে লাগল।
কিন্তু কথায় বলে, নিয়মেরও ব্যতিক্রম আছে। এখানেও তেমনই হল। এখানে ব্যতিক্রম হল কুসুমদির বেলায়। চিকাইদাদের কয়েকটা বাড়ি পরেই কুসুমদিদের বাড়ি। শ্যামবর্ণ কুসুমদির মুখটা ভারী মিষ্টি। চোখদুটো শান্ত আর গভীর। লাজুক প্রকৃতির কুসুমদি মাথা হেঁট করে রাস্তায় চলত সব সময়। পাড়ার লোকজন বলত, কুসুমের মতো মেয়ে হয় না। সেই কুসুমদি এক দিন বিকেলের দিকে হাজির হল স্টুডিয়ো বিউটিতে। সঙ্গে মা। কুসুমদির মা বললেন, “বাবা চিকাই, মেয়েটার একটা যোগাযোগ হয়েছে। একটা ভাল করে ছবি তুলে দাও তো!”
চিকাইদা অবাক হয়ে বলল, “বাবা! এখনই মেয়ের বিয়ে দিয়ে দেবেন কাকিমা!”
কুসুমদির মা বললেন, “এখনই আর কোথায়! বয়স তো হল, এখন থেকেই ব্যবস্থা না নিলে… মেয়ের বিয়ে তো আর বললেই হয়ে যায় না… তাই একটু আগে থেকেই… তার উপর মেয়ের গায়ের রং চাপা!”
চিকাইদা বলল, “কোথায় চাপা, কুসুম তো দিব্যি ফুটফুটে!”
শুনে কুসুমদির নত মাথা আরও একটু নত হল।
যা-ই হোক, সেদিন কুসুমদির ছবি তুলে দিয়েছিল চিকাইদা। যেমন অন্যদের বেলায় তোলে, নানা অ্যাঙ্গল থেকে, নানা ভঙ্গিতে। দু’দিন পর স্টুডিয়ো থেকে সেই ছবি নিয়ে গেল কুসুমদির বাবা।
তার পর অনেক দিন কেটে গেছে। এর মধ্যে অনেক মেয়ের ছবি তুলল চিকাইদা। আশপাশের এলাকায় স্টুডিয়ো বিউটির সুখ্যাতি ভালই ছড়িয়েছে। তাই সে-সব এলাকা থেকেও মেয়েরা আসেছবি তোলাতে।
এখানে আর একটা কথা বলা দরকার। চিকাইদার তোলা ছবি দিয়ে শুরু হওয়া যে-সব সম্বন্ধ বিয়ে পর্যন্ত গড়াত, সে-সব ক্ষেত্রে কনেপক্ষ বিয়ের ছবি তোলার জন্যে চিকাইদাকেই ডাকত। ফলে চিকাইদার কাজের শেষ ছিল না।
কুসুমদির ছবি তোলার পর যখনই তাদের বাড়ির পাশ দিয়ে যাতায়াত করত চিকাইদা, তখনই এক বার আড়চোখে তাকিয়ে নিত। বোধহয় দেখার চেষ্টা করত, বাড়ির সামনে প্যান্ডেলের বাঁশ-টাঁশ পড়েছে কি না। তা হলে আর একটা কাজ পেতে পারে সে। কিন্তু তেমন কেনও উদ্যোগ চোখে পড়ল না তার। তখন বাড়ির অনুষ্ঠান বাড়িতেই হত; ভাড়া করা হলে নয়। পাড়ার ছেলেরা কোমরে গামছা জড়িয়ে পরিবেশন করত। ‘কেটারিং’ শব্দটা ছিল অচেনা।
কিছু দিন পর আবার মায়ের সঙ্গে বিউটি স্টুডিয়োতে গেল কুসুমদি। কুসুমদির মা বললেন, “দেখো না বাবা, ছবি তো অনেক জায়গায় পাঠানো হল, কিন্তু পছন্দ কিছুতেই হচ্ছে না। তুমি ভাল করে আর একটা ছবি তুলে দাও।”
এবারও নানা অ্যাঙ্গল থেকে, নানা ভঙ্গিতে ছবি তুলল চিকাইদা। বলল, “এমন ছবি তুলেছি কাকিমা, পছন্দ হবেই। শিয়োর একেবারে।”
এবারও দু’দিন পর কুসুমদির বাবা ছবি নিয়ে গেল।
দিন যায়। যাতায়াতের পথে প্রায়ই চিকাইদা কুসুমদিদের বাড়ির দিকে তাকিয়ে দেখে, সামনে বাঁশ পড়ল কি না।
কিছু দিন পর সেই একই ঘটনা। কুসুমদির মা কুসুমদিকে নিয়ে হাজির চিকাইদার স্টুডিয়োয়। আগের বারের ছবিও সবাই ক্যানসেল করে দিয়েছে।
এবার কুসুমদি যেন খুবই মুহ্যমান। বার বার প্রত্যাখ্যাত হবার গ্লানি চোখেমুখে।
কুসুমদির মা বলল, “দেখো না বাবা, কী যে হচ্ছে! কত মেয়ের তো বিয়ে হয়ে যাচ্ছে। অথচ আমাদের মেয়েটার… এদিকে বয়স তো আর থেমে নেই, বলো না…”
কুসুমদির দিকে এক বার আড়চোখে তাকাল চিকাইদা। মেয়েটা মাথা নামিয়ে এমন ভাবে মাটির দিকে তাকিয়ে আছে, যেন মস্ত কোনও পাপ করে ফেলেছে সে।
চিকাইদা বলল, “চিন্তা করবেন না কাকিমা। নতুন একটা ক্যামেরা কিনেছি, দামি ক্যামেরা। কুসুমের ছবি দিয়ে শুরু করব। এমন ছবি তুলব কুসুমের, পছন্দ হবেই।”
কথাগুলো এমন ভাবে বলল চিকাইদা, যেন কুসুমদির ছবি তুলবে বলেই নতুন ক্যামেরাটা কিনেছে।
*****
তার পর বেশ কিছু দিন কেটে গেছে। এর মধ্যে কুসুমদি আর ছবি তোলাতে আসেনি। চিকাইদা লক্ষ রাখছে কুসুমদিদের বাড়ির সামনে বাঁশ পড়ল কি না। কুসুমদিকেও অনেক দিন দেখতে পায়নি চিকাইদা। আগে তবু রাস্তাঘাটে মাঝে মাঝে দেখা হত।
হঠাৎ এক দিন কুসুমদিকে দেখতে পেল চিকাইদা। ঠিক এই জায়গায় তার দেখা পাবে, কল্পনাও করতে পারেনি সে। সাইকেল চালিয়ে স্টুডিয়োয় আসছিল চিকাইদা। দেখল, ‘স্টুডিয়ো মোনালিসা’ থেকে বেরিয়ে আসছে কুসুমদি। দ্রুত সাইকেল চালিয়ে কুসুমদির পাশে ব্রেক করল সে। একটু চমকে উঠে চিকাইদার দিকে তাকাল কুসুমদি।
চিকাইদা জিজ্ঞেস করল, “এদিকে কোথায় গিয়েছিলি?”
কুসুমদি একটু থমকে গিয়ে বলল, “ওই তো ওখানে।”
“ওখানে মানে? কোথায়?”
“ওই স্টুডিয়োয়।”
চিকাইদা ভুরু দুটো একটু কুঁচকে বলল, “কেন!”
“ছবি তুলিয়েছিলাম একটা, সেটা নিতে এসেছিলাম।”
“কার ফটো! তোর?”
“হ্যাঁ।” বলল কুসুমদি।
চিকাইদা বলল, “কেন, ফটো তোলার কী দরকার পড়ল!”
কুসুমদি চুপ করে থাকে।
“কী হল! কথা বলছিস না যে!” অধৈর্য শোনায় চিকাইদার গলা।
এবারও কুসুমদি চুপ।
চিকাইদা বলল, “বুঝতে পেরেছি, বিয়ের জন্য। কিন্তু আমি তো তোর পাত্রী দেখার ফটো তুলে দিয়েছিলাম! সেটা কী হল?”
কুসুমদি চুপ।
চিকাইদা বলল, “বুঝতে পেরেছি। পছন্দ হয়নি।”
এ কথা শুনে জল এসে গেল কুসুমদির চোখে। খুব দ্রুত সেটা মুছে ফেলল কুসুমদি। কিন্তু দৃষ্টি এড়াল না চিকাইদার। চিকাইদা বলল, “দেখি, কেমন ছবি তুলেছে!”
কুসুমদি খুব মৃদু স্বরে বলল, “কী হবে দেখে!”
“আরে দেখিই না!” একটু জোরেই বলে উঠল চিকাইদা।
এবার চিকাইদার দিকে মুখ তুলে তাকাল কুসুমদি। বলল, “কী হবে দেখে তোমার!”
চিকাইদা নাছোড়বান্দার মতো বলল, “আরে বাবা, দেখিই না এক বার, দে ছবিটা...”
কুসুমদি ব্যাগ থেকে খামবন্ধ ছবিটা বার করে তুলে দিলচিকাইদার হাতে।
খাম খুলে ছবির দিকে তাকাল চিকাইদা। ভুরু আবার কুঁচকে গেছে। কিছু ক্ষণ দেখে বলল, “এটা একটা ছবি হয়েছে! ছ্যা ছ্যা! গোপালদা ছবির বোঝে কী! ছবি তোলা কিঅত সহজ!”
বলেই ছবিটা কুচিকুচি করে ছিঁড়ে ফেলল চিকাইদা।
কুসুমদি অবাক হয়ে বলল, “এ মা! এটা কী করলে!”
চিকাইদা নির্বিকার মুখে বলল, “দেখলি তো, ছিঁড়ে ফেললাম।”
কুসুমদি অবাক হয়ে বলে, “কিন্তু ছিঁড়ে ফেললে কেন! এখন বাড়িতে কী বলব আমি!”
চিকাইদা বলল, “আমি তোর ছবি তুলে দেব। আমি ছাড়া কেউ তোর ছবি তুলতেই পারবে না। গোপালদার সাধ্য কী তোর ছবি তোলে! চল।”
কুসুমদি হাঁ করে তাকিয়ে থাকে চিকাইদার মুখের দিকে।
চিকাইদা বলে, “কী হল, শুনতে পেলি না!”
কুসুমদি বলে, “কোথায়?”
চিকাইদা বলে, “কোথায় আবার, আমার স্টুডিয়োয়। বাড়ি ফিরে যাবি না, কাউকে কিছু বলবি না। সোজা চলে আসবি আমার স্টুডিয়োয়।ঠিক আছে?”
বলেই ওর স্টুডিয়োর দিকে সাইকেল চালিয়ে দিল চিকাইদা।
*****
চিকাইদা স্টুডিয়োর ছবি তোলার ঘরে ঢুকে ফটাফট সব আলো জ্বেলে দিল। পিছন পিছন ঘরে ঢুকল কুসুমদি। দরজাটা চেপে দিল চিকাইদা। আলোয় ভাসাভাসি ঘর থেকে বোঝার উপায় নেই বাইরে দিন না রাত। এক দিকের দেওয়ালে একটা লম্বা আয়না। চিকাইদা বলল, “তোর সামনের দিকের চুলগুলো ঘেঁটে গেছে। একটু চিরুনি চালিয়ে নে।”
কুসুমদি এবার একটু কঠিন গলায় বলল, “দরকার নেই চিরুনি দেওয়ার। তুলতে হলে এই রকমই তোলো।”
কুসুমদির গলার দৃঢ়তায় একটু যেন থমকে যায় চিকাইদা। তাড়াতাড়ি বলে ওঠে, “ঠিক আছে, ঠিক আছে; তোর যেটা ভাল মনে হয়…”
ক্যামেরার ভিউফাইন্ডারে চোখ রাখে চিকাইদা। তার পর চোখ সরিয়ে নিয়ে বলে, “তোর টিপটা বড্ড ছোট লাগছে। এখানে বড় টিপ আছে, চেঞ্জ করে নিবি?”
“টিপের কোনও দরকার নেই। টিপ ছাড়াই তোলো।” বলে কপাল থেকে টিপটা খুঁটে তুলে ফেলেদেয় কুসুমদি।
চিকাইদা অবাক হয়ে বলে, “এ কী করছিস, ছবি ভাল উঠবে না যে!”
কুসুমদি স্থির চোখে তাকায় চিকাইদার দিকে। তার পর বলে, “তুমি ভাল ছবি তুলতে চাও?”
চিকাইদা একটু অবাক হয়ে বলে, “হ্যাঁ, ছবি তো ভাল করেই তুলতে হবে। বিয়ের দেখাশোনা বলে কথা! সেই জন্যই তো বলছি, চুলটুলগুলো একটু ঠিক করে নে।”
“সত্যিই চাও!” কুসুমদির চোখ স্থির চিকাইদার চোখের উপর।
চিকাইদা বলে, “কেন বল তো!”
“কিছু বুঝি না ভেবেছ! আগেও পারোনি, আজও পারবে না। ছবির পর ছবি তুলে, ক্যামেরার রিল শেষ হয়ে যাবে, ভাল ছবি কিছুতেই তুলতে পারবে না তুমি। ঠিক সময়ে হাত কেঁপে যাবে তোমার। নতুন রিল পরালে সে রিলও শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু এ জন্মে আমার ভাল ছবি উঠবে না তোমার ক্যামেরায়। তোমার শয়তানি আমি ধরে ফেলেছি। ভিতুর ডিম একটা!”
চুপ করে থাকে চিকাইদা। মাথা নিচু। চোখ পায়ের নখের দিকে।
কুসুমদি বলে, “কী হল, ঠিক বলেছি তো!”
চিকাইদা একটু মাথা চুলকে বলে, “একটা চান্স দিবি? আর একটা ছবি তুলব তোর। সে ছবিটা অবশ্য আমার কাছেই থাকবে। আমার মা-কে শুধু দেখাব। জিজ্ঞেস করব, পাত্রী পছন্দ কি না। আমি শিয়োর, পছন্দ হবেই।”
কুসুমদি বলল, “আমি কিছু জানি না। তোমার যা ইচ্ছে হয় করো।”
*****
জানি, এই পর্যন্ত শুনে অনেকেই বলে উঠবে, ‘যাহ্! এমন আবার হয় নাকি! যত্তসব রং-চড়ানো গল্প!’
আমি বলব, ‘হত, হত। সাদা-কালো ছবির যুগে এমন রঙিন ঘটনা মাঝে মধ্যে ঘটে যেত।’
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে