—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।
জলপাইগুড়ি জেলার সাত তৃণমূল প্রার্থীর মধ্যে ছয় জনই নিজের পাড়াতেই হেরেছেন। প্রাক্তন অনগ্রসর কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী বুলু চিকবরাইক ছাড়া সব প্রার্থীরাই নিজেদের বুথেই প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপির থেকে পিছিয়ে ছিলেন। তাতেই প্রশ্ন উঠেছে, যাঁরা নিজের পাড়াতে তথা এলাকাতেই জনপ্রিয় নয় তাঁদের কেন প্রার্থী করল দল? তৃণমূলের অন্দরের প্রশ্ন, দলের উপরতলার সঙ্গে কি নিচুতলার যোগাযোগ একেবারে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল?
জলপাইগুড়ি জেলা তৃণমূল নেতাদের দাবি, কারা প্রার্থী হচ্ছেন তা জানা গিয়েছে প্রার্থী তালিকা দেখে। তার ফলে যা হওয়ার তাই হয়েছে। নাগরাকাটা বিধানসভায় তৃণমূল প্রার্থী করেছিল পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি সঞ্জয় কুজুরকে। দলের একাংশ দাবি করেছিল, সঞ্জয়ের জনসংযোগের কারণেই তাঁকে প্রার্থী করা হয়েছে। ভোটের ফলাফলে দেখা গিয়েছে নাগরাকাটা ব্লক অফিসের ভোটে অর্থাৎ নিজের ভোট কেন্দ্রে ২৮৩ ভোটে পিছিয়ে রয়েছেন সঞ্জয়। ময়নাগুড়ির প্রার্থী নিয়ে স্থানীয় তৃণমূল নেতাদের একাংশ উচ্ছ্বসিত ছিলেন। গ্রামীণ পুলিশের চাকরি ছেড়ে রামমোহন রায় দলে যোগ দিয়ে প্রার্থী হয়েছিলেন। রামমোহনের নামে এলাকায় ফ্যান ক্লাবও রয়েছে। সেই রামমোহনও নিজের বুথে প্রায় ২৭০-এর বেশি ভোটে পিছিয়ে। ময়নাগুড়ির এক পুরোনো তৃণমূল নেতার কথায়, ‘‘প্রার্থীর সঙ্গে দলের কেউ ছিল না, বিভিন্ন পেশা থেকে কয়েকজন তোষামোদকারী গিয়ে জুটেছিল। তাঁরাই ওকে ভুলপথে চালিত করেছে।’’
জলপাইগুড়িতে দাপুটে নেতা বলে পরিচিত কৃষ্ণ দাসকে প্রার্থী করেছিল তৃণমূল। রাজগঞ্জে এশিয়াডে সোনা জয়ী স্বপ্না বর্মণকে প্রার্থী করা হয়েছিল। ডাবগ্রাম-ফুলবাড়িতে প্রার্থী করা হয়েছিল বিজেপির প্রার্থী তথা বিদায়ী বিধায়ক শিখা চট্টোপাধ্যায়ের ‘ধর্মপুত্র’ রঞ্জন শীলশর্মাকে। কোনও কৌশলই কাজে দেয়নি তৃণমূলের। সকলে তো ভোটে পরাজিত হয়েছেন এমনকী সকলেই নিজের পাড়াতেই হেরেছেন। জলপাইগুড়ি তৃণমূলের জেলা চেয়ারম্যান খগেশ্বর রায় বলেন, ‘‘কয়েকদিন যাক। পরিস্থিতি ফিরুক, দলকে যা বলার বলব।’’
অন্যদিকে, বিজেপির রাজ্য সাধারণ সম্পাদক বাপি গোস্বামী কটাক্ষ. ‘‘এখন তো তৃণমূল মানুষের কথায় চলতো না, টাকায় চলতো। মানুষ তাদেরকে প্রত্যাখ্যান করে বাংলার ঐতিহ্যকে রক্ষা করেছে।’’
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে