Martha Yasik

উনিশ মাস টানা সমুদ্রযাত্রা করে আসেন কলকাতায়

উদ্দেশ্য ছিল ভাগ্য অন্বেষণ। ছোটবেলা থেকেই দারিদ্রের সঙ্গে লড়াই করতে করতে হয়ে পড়েছিলেন বেপরোয়া। সম্পূর্ণ একা এই নারী ছিলেন লন্ডনের ইহুদি, নাম মার্থা ইসাক। সবচেয়ে বড় কথা, তিনিই ছিলেন প্রথম ইউরোপীয় মহিলা চিত্রশিল্পী, যিনি এই শহরে এসেছিলেন।

অরিন্দম মুখোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: ২১ জুন ২০২৬ ০৬:০৬
Share:

প্রতিভাময়ী: মার্থা ইসাক। মিনিয়েচার আর্ট বা ক্ষুদ্রাকৃতির চিত্র অঙ্কনই ছিল তাঁর পেশা।

১৭৭৯ সালের ৫ জুলাই, এক সোমবারের সকাল। ছুটির দিন নয়, তবু কলকাতায় সাধু জনের গির্জায় বেশ ভিড়। প্রচুর পালকি আর ফিটনে ভর্তি গির্জা চত্বর। অফিস ফেলে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বেশ কিছু পদস্থ কর্তাও উপস্থিত সেখানে। কয়েক জন বিবিও উপস্থিত। গির্জায় এই জনসমাগমের উপলক্ষ একটি বিবাহ। এমনিতে কর্তাদের মন ভাল নেই। মরাঠা মুলুকে বছরের শুরুতেই পেশোয়াদের হাতে প্রথম ইঙ্গ-মরাঠা যুদ্ধে হারতে হয়েছে কোম্পানিকে। মাথা নিচু করে মেনে নিতে হয়েছে বড়গাওঁ-এর সন্ধি। তবে বিয়ের মতো আনন্দ-অনুষ্ঠান এই ধরনের দুঃখ খানিক ভুলিয়ে দেয়। তার উপর এটি ঠিক সাধারণ বিয়ে নয়। এই বিয়ে নিয়ে সাহেব-বিবিদের কৌতূহলও যথেষ্ট। তাই হাসিমুখে তারা জড়ো হয়েছে গির্জার চ্যাপেলে। এই বিয়ের প্রেক্ষাপট জানতে হলে আমাদের ফিরে যেতে হবে ১৭৭৯ খ্রিস্টাব্দের বেশ কিছুকাল আগের লন্ডনে।

আঠারো শতকের ইংল্যান্ডে ইহুদিদের ব্যবসা-বাণিজ্যের উপর নানা বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল। ফলে তাঁরা ব্যবহৃত পণ্যের বাণিজ্য, নানা ধরনের হাতের কাজ, তথা পরম্পরাগত স্বর্ণকার বা মণিকার হিসাবে জীবনযাত্রা নির্বাহ করতেন। সূক্ষ্ম হাতের কাজের জন্য ইংল্যান্ডে ইহুদি কারিগরদের চিরকালই চাহিদা ছিল। আদি পর্বের ইঙ্গ-ইহুদি শিল্পীদের ইতিহাস রচয়িতা আলফ্রেড রুবেনসের মতে, পরম্পরাগত শিল্পদক্ষতার কারণেই সে যুগের ইংল্যান্ডের বেশ কিছু ইহুদি জীবিকা হিসাবে চিত্রকলা বেছে নেন।

যাঁকে নিয়ে এই লেখা, তিনি ছিলেন সেকালের লন্ডনের এক মহিলা চিত্রকর। নাম কুমারী ইসাক। তিনি সম্ভবত ১৭৫৫ সালে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। দরিদ্র ঘরের কন্যা। পিতা লেভি ইসাক ছিলেন আশকেনাজি গোষ্ঠীর ইহুদি। মর্টিমারের ১৭৬৩ সালের ইউনিভার্সাল ডাইরেক্টরি-র দ্বিতীয় খণ্ড থেকে জানা যায়, লেভি ইসাক এমব্রয়ডারির কাজ করতেন। লেভির কন্যা ছাড়াও এক পুত্র বেঞ্জামিনও ছিল এমব্রয়ডার। পরে এক রঙের কোম্পানিতে শিক্ষানবিশ হিসাবে যোগ দেয় সে।

ইসাক মহিলা, ইহুদি, তার উপর আবার চিত্রকর— তৎকালীন লন্ডনে এই ত্র্যহস্পর্শ ছিল এক কথায় বিরল। তিনি শিল্পী টমাস বার্গেসের ছাত্রী ছিলেন। টমাস লন্ডনের মেডেন লেনে সেই সময় একটি অঙ্কন বিদ্যালয় চালাতেন। তিনি লন্ডনের ইহুদি উপাসনালয় গ্রেট সিনাগগের র‌্যাবাই বা পুরোহিত ইসাক পোলাকের প্রতিকৃতি অঙ্কন করেন। সম্ভবত তাঁর ছাত্রীর সূত্রেই টমাসের সঙ্গে পরিচয় হয় ইসাক পোলাকের।

ইসাকের ১৭৭৪ সাল-পরবর্তী কম-বেশি চার বছরের কার্যাবলি আমাদের কাছে প্রায় অজ্ঞাত। এর পর ১৭৭৮ সালের শুরুতে আমরা তাঁকে আবার আবির্ভূত হতে দেখি কলকাতায়। নিয়ম মেনে তিনি নিশ্চিত ভাবে কলকাতায় আসার জন্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কোর্ট অব ডিরেক্টরস-এর কাছে আবেদন করেছিলেন এবং তা মঞ্জুরও হয়েছিল। প্রচলিত মত অনুসারে, সে যুগে বেশির ভাগ ব্রিটিশ মহিলারা স্বামীর সঙ্গে বা ধনী স্বামী খুঁজতে ভারতে আসতেন। এই কথাটি ভুল না হলেও সর্বাংশে সত্য নয়। গবেষক কেটি হিকম্যান দেখিয়েছেন, ব্রিটিশ সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠিত হওয়ার দু’শো বছর আগে সে দেশের মহিলারা সতেরো শতকের গোড়ার দিকে প্রথম ভারতে পা রাখেন। এঁরা ছিলেন দুঃসাহসী, অভিযানপ্রিয়। না হলে সে যুগে উনিশ মাস লাগাতার সমুদ্রযাত্রা করে কেউ ইংল্যান্ড থেকে ভারতে আসত না। বিশেষত যখন প্রায়ই ঝড়ের মুখে পড়ে নানা জাহাজ ধ্বংস হত, বা জলদস্যুদের হাতে পড়ে সর্বস্ব খোয়াতে হত। কোম্পানির আমলে আসা এই মহিলারা পেশায় ছিলেন খুচরো ব্যবসায়ী, পোশাক প্রস্তুতকারক, অভিনেত্রী, চিত্রকর, পাচক, দাসী, দোকানদার, শিক্ষক, শুশ্রূষাকারিণী, খ্রিস্টধর্মপ্রচারক, ডাক্তার, ভূতত্ত্ববিদ, উদ্ভিদ-সংগ্রাহক, লেখক, ভ্রমণকারী প্রভৃতি।

ইসাক সম্ভবত ভাগ্য অন্বেষণে এবং স্বামী সন্ধান— দু’টি কারণেই এ দেশে আসেন। দরিদ্র ইহুদি পরিবারের সন্তান ইসাক নিঃসন্দেহে বেপরোয়া ও উচ্চাকাঙ্ক্ষী ছিলেন। পেশা ও জাতিগত কারণে লন্ডনে তাঁর অর্থ রোজগার বা ভাগ্য পরিবর্তনের সুযোগ ছিল না বললেই চলে। তাই তাঁর কলকাতা আগমনের প্রাথমিক উদ্দেশ্য ছবি এঁকে অর্থ রোজগার হলেও, নিশ্চিত ভাবে অপর উদ্দেশ্য ছিল এ দেশের কোনও বিত্তশালী উচ্চপদস্থ আমলা বা ব্রিটিশ সেনা আধিকারিককে বিয়ে করে থিতু হওয়া। আঠারো শতকে এ দেশে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি অধিকৃত অঞ্চলগুলিতে ইউরোপীয় মহিলাদের সংখ্যা ছিল বেশ কম। ফলে এখানে যোগ্য অবিবাহিত পুরুষ পাওয়া ইংল্যান্ডের চেয়ে অনেক সহজ ছিল। আর আবহাওয়া ছাড়া কলকাতার ক্রমবর্ধমান নাগরিক জীবনও ছিল ব্রিটেনেরই মতো, ফলে এখানে ব্রিটিশ মহিলারা বসবাস করতেও স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করতেন।

তৎকালীন ইংল্যান্ডে ইহুদিদের উপর বাণিজ্যের বিধিনিষেধ থাকলেও, ভারতে এই ধরনের কোনও বিধিনিষেধ ছিল না। ফলে এই সময় থেকে বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে ইহুদিরা নিয়মিত কলকাতায় আসতে শুরু করেন। ইংল্যান্ডে সে যুগে এ কথাও প্রচলিত ছিল, কলকাতা কাউকে নিরাশ করে না। তাই ইসাক ভাগ্য অন্বেষণে এখানে আসতে উদ্বুদ্ধ হন। তা ছাড়া কলকাতায় তাঁর এক জন পূর্বপরিচিত মানুষ ছিলেন। তিনি সে সময়ের অন্যতম প্রভাবশালী ব্রিটিশ আমলা, অগাস্টাস ক্লিভল্যান্ড। সে যুগে কলকাতার সুপ্রিম কোর্টের নামজাদা অ্যাটর্নি উইলিয়াম হিকি তাঁর স্মৃতিকথায় লিখেছেন, ইসাক কলকাতায় আসার পর এই ক্লিভল্যান্ডই তাঁকে ছবি আঁকার কাজ পেতে নানা ভাবে সাহায্য করেছিলেন।

আঠারো শতকে এ দেশে ইউরোপীয় মহিলাদের সংখ্যা ছিল বেশ কম। তাও সে সময় ভারতে আসা অন্তত চার জন ব্রিটিশ পেশাদার মহিলা চিত্রকরকে আমরা দেখতে পাই। ইসাক ছাড়া বাকি তিন জন হলেন ক্যাথরিন রিড, সারা ব্যাক্সটার এবং ডায়ানা হিল। প্রথম ভারতে আসেন ক্যাথরিন। তিনি মাদ্রাজে বসবাস করতেন এবং সেখানেই ১৭৭৮ সালের শেষ দিকে প্রয়াত হন। আর ওই বছরের শুরুতেই ইসাক কলকাতায় পৌঁছন। বাকি দুই চিত্রকর এ দেশে এসেছিলেন ইসাকের পরবর্তী সময়ে। সেই হিসাবে পূর্ব ভারত তথা কলকাতায় আসা প্রথম ইউরোপিয়ান মহিলা চিত্রকর ইসাকই।

উইলিয়াম হিকি তাঁর স্মৃতিকথায় লিখেছেন, ১৭৭৮ সালের প্রথম দিকে ইসাক নামের এক তরুণী কলকাতায় এসে পৌঁছন। ক্ষুদ্রাকৃতির চিত্র অঙ্কন বা মিনিয়েচার আর্টই ছিল তাঁর পেশা। যে যুগে মহিলা চিত্রশিল্পীরা ছিলেন পুরুষ শিল্পীদের অবজ্ঞা ও উপহাসের পাত্রী। উইলিয়াম হিকি তার নিজের ছবি আঁকাতে ভীষণ ভালবাসতেন আর সেই সময় ইংল্যান্ডে তাঁর বোনকে পাঠানোর জন্যও তিনি নিজের একটি ছবি আঁকানোর কথা ভেবেছিলেন। ইসাক যখন হিকির ছবি আঁকছেন, তখন ক্লিভল্যান্ড হঠাৎ হিকিকে ইঙ্গিত করে বলে বসেন, যারা কুশ্রী, তারা কেন যে ছবি আঁকায় সেটা তিনি নাকি বুঝতে পারেন না।

হিকি তাঁর বন্ধুর এই ধরনের অপ্রত্যাশিত মন্তব্যে বেশ ক্ষুব্ধ হন। এই অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সামলাতে ইসাক তাঁর স্বভাবসুলভ সরল ভঙ্গিতে ক্লিভল্যান্ডকে ভর্ৎসনা করে বলেন, হিকিকে এই ধরনের কথা বলা তাঁর অনুচিত হয়েছে। ইসাক আরও বলেন, কলকাতায় যদি শুধু সুন্দর মানুষদের ছবিই আঁকতে হয়, তা হলে তাঁকে ব্যবসা গুটিয়ে লন্ডন ফিরে যেতে হবে। ইসাক যে সেই সময় আরও কিছু ছবি এঁকেছিলেন, তার কথাও অন্যান্য সূত্রে জানা যায়। সে যুগে কলকাতার সুপ্রিম কাউন্সিলের নামজাদা সদস্য রিচার্ড বারওয়েলের প্রথম পত্নী সান্ডারসনের প্রতিকৃতিও ইসাক এঁকেছিলেন।

লেখার শুরুতেই ছিল ১৭৭৯ খ্রিস্টাব্দের ৫ জুলাই কলকাতার এক বিবাহবাসরের কথা। এই বিয়ে ছিল ইসাকেরই। এই বিয়ে নিয়ে কৌতূহলের মূল কারণই হল, পাত্রী ছিলেন এক ইহুদি চিত্রকর। যদিও বিয়ের চার দিন আগে পয়লা জুলাই ব্রিটিশ চার্চের অধীনে ইসাককে ধর্মান্তরিত হয়ে খ্রিস্টান হতে হয়। কলকাতায় ব্যাপটাইজ়েশনের আগের সব নথিতে আমরা তাঁর পদবির উল্লেখ পেলেও পারিবারিক নামের কোনও উল্লেখ দেখতে পাই না। কিন্তু সাধু জনের গির্জার ব্যাপটাইজ়েশন রেজিস্টারে তাঁর নাম উল্লেখ করা হয়েছে মার্থা হিসাবে। তাই কারও কারও মতে, মার্থা তাঁর খ্রিস্টধৰ্ম গ্রহণের পরবর্তী নাম। নতুন কোনও তথ্য না পাওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে সঠিক সিদ্ধান্তে আশা মুশকিল।

বিয়ের সময় মার্থা ইসাকের বয়স ছিল চব্বিশ। তাই গির্জার খাতায় বিয়ের পক্ষে পাত্রীর বয়স যে খানিক বেশি, তারও উল্লেখ দেখা যায়। অর্থাৎ কলকাতায় আসার প্রায় দেড় বছরের মাথায় ইসাকের জীবনের এই নতুন অধ্যায় শুরু হয়। ইসাকের বেছে নেওয়া জীবনসঙ্গী ছিলেন আলেকজ়ান্ডার হিগিনসন। যিনি ছিলেন সে যুগে কোম্পানির এক উচ্চপদস্থ, দুঁদে আমলা। বিয়ের সময় ১৭৭৯ সালে তিনি কোম্পানির বাণিজ্য বোর্ডের এক জন সদস্য ছিলেন।

মার্থা ইসাকের কাহিনি অসম্পূর্ণ থেকে যাবে তাঁর স্বামী আলেকজ়ান্ডার হিগিনসনের (১৭৪৬-১৭৯৩) কথা বাদ দিলে। হিগিনসন ইংল্যান্ডের একটি প্রাচীন সামরিক পরিবারের সন্তান। তাঁর পরিবার আর্থিক দিক থেকেও রীতিমতো সচ্ছল ছিল। হিগিনসন ছিলেন পলাশির যুদ্ধ-পরবর্তী বাংলায় ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির এক গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা। ১৭৬৩ সালে ঊর্ধ্বতন বণিক পদে তিনি কলকাতায় কোম্পানির কাজে যোগ দেন। কোম্পানির পক্ষ থেকে তিনি বীরভূমের তত্ত্বাবধায়ক, বর্ধমানের প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য, তথা পরবর্তী কালে এই পরিষদের প্রধান, জঙ্গল মহলের সেটলমেন্ট আধিকারিক এবং ১৭৭৯ খ্রিস্টাব্দ থেকে কোম্পানির বাণিজ্য পরিষদের সদস্য ছিলেন।

হিগিনসন সব মিলিয়ে উনিশ বছর এ দেশে কাটিয়েছিলেন। সে যুগে কোম্পানির অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মচারীদের মতো তাঁরও উপরি আয় বেশ ভালই ছিল। তাই ১৭৮২ সালে অবসর গ্রহণের পর বিপুল অর্থ নিয়ে তিনি ইংল্যান্ডে ফিরে যান। হিকির থেকে জানা যায়, তিনি যখন ১৭৮৩ সালে প্রবাস থেকে কলকাতায় ফেরেন, তখন তিনি আর হিগিনসনদের এই শহরে দেখতে পাননি। সম্ভবত মার্থা ইসাকও কম-বেশি পাঁচ বছর কলকাতায় অবস্থান করে এই সময়ই হিগিনসনের সঙ্গে লন্ডনে ফিরে যান। ভুল বিনিয়োগে তাঁর সারা জীবনের সঞ্চয়ের অধিকাংশই বিনষ্ট হয়। ১৭৯৩ সালে মাত্র সাতচল্লিশ বছর বয়সে তাঁর মৃত্যু হয়।

কম বয়সে আলেকজ়ান্ডার হিগিনসনের মৃত্যু হলেও মার্থা ইসাক ছিলেন দীর্ঘায়ু। হিগিনসন-দম্পতি কলকাতা থেকে ইংল্যান্ডে ফেরত যাওয়ার পর তাঁদের তিন পুত্রসন্তানের জন্ম হয়। যাঁদের মধ্যে চার্লস হারউড হিগিনসন পরবর্তী কালে কলকাতার সুপ্রিম কোর্টের বিচারকও হন। অপর দুই সন্তান (জুনিয়র) আলেকজ়ান্ডার এবং জর্জ পাওয়েল উভয়েই ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর গ্রেনাডিয়ার গার্ডে যোগ দিয়েছিলেন। ১৮৪০ সালের ১৫ অগস্ট পঁচাশি বছর বয়সে মার্থা ইসাকের মৃত্যু হয়। তিনি তখন ৪৬, উইম্পোল স্ট্রিটের টাউনসেন্ড কটেজে থাকতেন। তাঁকে সমাহিত করা হয় গ্রেট মার্লোর সমাধিস্থলে। ১৮৩৮ সালে মার্থার ইচ্ছাপত্রে তিনি তাঁর পুত্র (জুনিয়র) আলেকজ়ান্ডারকে সমস্ত বই, ছবি এবং ছবির প্রিন্ট দিয়ে যান। স্বামী আলেকজ়ান্ডার হিগিনসন বহু অর্থ নষ্ট করলেও পৈতৃক সূত্রে ইহুদি রক্তের মার্থা ইসাক সেই পথে পা বাড়াননি। প্রৌঢ় অবস্থাতেও তিনি যে প্রভূত অর্থের অধিকারিণী ছিলেন, তা ১৮২৫ সালে তার অপর পুত্র জর্জ পাওয়েলের বিয়েতে তাঁকে ৭ হাজার পাউন্ড প্রদান করা থেকেই বোঝা যায়। এই অর্থ ছিল তাঁর ব্যক্তিগত সম্পত্তির এক-চতুর্থাংশ।

নিজের অজান্তেই মার্থা ইসাক ছিলেন ইতিহাসের এক নতুন অধ্যায়ের রচয়িতা। কারণ তিনি ছিলেন ব্রিটিশ ভারতের রাজধানী কলকাতার বুকে পা রাখা প্রথম ইউরোপীয় মহিলা চিত্রশিল্পী। ছোটবেলা থেকেই দারিদ্রের সঙ্গে লড়াই করতে করতে ইসাক হয়ে পড়েন বেপরোয়া। না হলে সে যুগে সম্পূর্ণ একা মহিলা হয়ে তিনি উনিশ মাস লাগাতার সমুদ্রযাত্রা করে এক সম্পূর্ণ অজানা ভবিষ্যতের উদ্দেশ্যে পা বাড়াতেন না। সব বাধা উপেক্ষা করে ইসাকের কলকাতার ব্যবসা জমে উঠতে না উঠতেই বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ায় তাঁর শিল্পীজীবনের পরিসমাপ্তি ঘটে। কারণ বিবাহ-উত্তর কালে কলকাতায়, বা কলকাতা থেকে স্বদেশে ফিরে গিয়ে মার্থা ইসাক আর কারও ছবি এঁকেছিলেন বলে জানা যায় না।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন