Discovery of Fire

যা মনে করা হত, তার আগেই আগুনকে ব্যবহার করত আদিম মানব! নতুন গবেষণায় আরও পিছিয়ে গেল সময়

আধুনিক মানুষের আবির্ভাব হয়েছে আজ থেকে প্রায় তিন লক্ষ বছর আগে। আগুন জ্বালানোর জ্ঞান তারও আগে থেকে রপ্ত করেছিল আদিমানবেরা। তারও আগে আগুন ব্যবহার করতে শুরু করেছিল আদিমমানব।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১০ জুন ২০২৬ ০৮:৫৮
Share:

ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।

আগুন আবিষ্কার সভ্যতার ইতিহাসে অন্যতম এক গুরুত্বপূ্র্ণ ঘটনা। সেই আগুন শুধু রান্না করতে নয়, শত্রুর থেকে বাঁচাতেও সাহায্য করেছিল। শীতের দিনে উষ্ণ রাখতে সাহায্য করেছিল। কিন্তু ঠিক কবে প্রথম আগুন আবিষ্কার করেছিল আদিম মানব? তা নিয়ে কিন্তু রয়েছে তর্ক-বিতর্ক। দক্ষিণ আফ্রিকার গুহা থেকে মেলা কিছু তথ্যপ্রমাণ পরীক্ষা করে সম্প্রতি গবেষকেরা দাবি করেছেন, যবে মনে করা হত, তারও কয়েক লক্ষ বছর আগে আগুনের ব্যবহার শুরু করেছিল আধুনিক মানবের পূর্ববর্তী প্রজন্ম। তবে আবিষ্কার করতে পেরেছিল কি না, তার প্রমাণ মেলেনি।

Advertisement

আধুনিক মানুষের আবির্ভাব হয়েছে আজ থেকে প্রায় তিন লক্ষ বছর আগে। আগুন জ্বালানোর জ্ঞান তারও আগে থেকে রপ্ত করেছিল আদিমানবেরা। তারও আগে আগুন ব্যবহার করতে শুরু করেছিল আদিমমানব। বিজ্ঞানীদের মতে, ওই সময়ে তারা আগুন জ্বালাতে জানত না। তখন প্রাকৃতিক উপায়ে সৃষ্ট আগুনকে ব্যবহার করত আদিমানবেরা। আগুন জ্বালাতে এবং প্রয়োজন মতো নিয়ন্ত্রণ করতে শেখে অনেক পরে। সাম্প্রতিক এক প্রত্নতাত্ত্বিক অনুসন্ধানে জানা গিয়েছিল, ৫০ হাজার বছর আগে নয়, আজ থেকে অন্তত চার লক্ষ বছর আগে আগুন জ্বালাতে শিখে নিয়েছে আদিমানবেরা। এ বার নতুন এক গবেষণা বলছে, আদিম মানব আগুন ব্যবহার করত ১০ থেকে প্রায় ১৭ লক্ষ বছর আগে। সে রকমই প্রমাণ মিলেছে।

গত কয়েক বছর ধরে খননকাজ চালিয়ে ওয়ান্ডারওয়ার্ক গুহা থেকে বেশ কিছু জিনিসপত্র উদ্ধার করা হয়েছে। তা থেকে বিজ্ঞানীদের ধারণা, ওই গুহায় আগুনের ব্যবহার করত মানুষ। তা-ও প্রায় ১০ লক্ষ বছর আগে। উদ্ধার হওয়া বেশ কিছু পোড়া হাড়, পুড়ে যাওয়া পাথরের অস্ত্র পরীক্ষা করে সে রকম ধারণা হয়েছে বিজ্ঞানীদের।

Advertisement

‘প্লস ওয়ান’ নামে একটি পত্রিকায় সেই গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে। তাতে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুসারে, দক্ষিণ আফ্রিকার ওই গুহা থেকে মেলা জিনিসপত্রের বিশেষ এক পদ্ধতিতে পরীক্ষা করানো হয়েছে। তাকে বলা হয় ‘বোন লুমিনেসেন্স’। এই পরীক্ষায় হাড়, জীবাশ্মের উপরে এক রকম উজ্জ্বল নীল আলো ফেলা হয়। বিশেষ অনুবীক্ষণ যন্ত্রে তা দেখা হয়। হাড় পুড়ে গেলে তা উজ্জ্বল লাল হয়ে ওঠে অণুবীক্ষণের ফিল্টারে।

ওই পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে, সেগুলির কোনওটির বয়স ১ লক্ষ ৭ হাজার, কোনওটির বয়স ১৭ লক্ষ। সেগুলিকেই আপাতত আগুন ব্যবহারের সবচেয়ে প্রাচীন প্রমাণ বলে ধরছেন বিজ্ঞানীরা। তার আগে আগুন ব্যবহারের কোনও প্রমাণ এখন পর্যন্ত পাননি বিজ্ঞানীরা। প্রশ্ন ওঠে, ওই গুহায় বসবাসকারীরা যে আগুন ব্যবহার করেছিল, দাবানল বা প্রাকৃতিক কারণে আগুন লেগে পুড়ে যায়নি, তার প্রমাণ কী? গবেষকদের দাবি, গুহার প্রবেশপথের ৩০ মিটার ভিতরে ওই হাড়গোড়গুলি মিলেছিল। দাবানলের আগুন গুহার অত ভিতরে প্রবেশ করা সম্ভব নয়।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement