অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জিতে ট্রফিতে চুমু কার্লোস আলকারাজ়ের। ছবি: রয়টার্স।
কার্লোস আলকারাজ় যখন কনিষ্ঠতম হিসাবে কেরিয়ার স্ল্যাম জিতলেন, তখন দর্শকাসনে বসে রাফায়েল নাদাল। স্পেনের এই তারকার দখলেই ছিল এই রেকর্ড। ২০১০ সালে ২৪ বছর ১০১ দিন বয়সে কেরিয়ার স্ল্যাম পূর্ণ করেছিলেন রাফা। তাঁর রেকর্ড ভেঙে ২২ বছর ২৭২ দিন বয়সে রেকর্ড গড়েছেন আলকারাজ়। নোভাক জোকোভিচকে চার সেটের লড়াইয়ে (২-৬, ৬-২, ৬-৩, ৭-৫) হারিয়ে অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জিতেছেন তিনি। চ্যাম্পিয়ন হয়ে দুই গুরুকে শ্রদ্ধা পুরুষদের টেনিসে শীর্ষবাছাই তারকার।
কেরিয়ারের প্রথম অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জিতে আলকারাজ় প্রথমেই বললেন জোকোভিচের কথা, “এত বছর ধরে জোকোভিচকে খেলতে দেখছি। এত বছর ধরে সেরা ফর্মে খেলা সহজ নয়। জোকোভিচ তা করে দেখিয়েছে। টেনিসকে সমৃদ্ধ করেছে। ওর কাছে অনেক কিছু শিখেছি। ওর সঙ্গে কোর্ট ভাগ করে নিতে পারা সম্মানের। ও আমার কাছে গুরুর মতো। ওকে হারিয়ে এই জয়ের আনন্দ আরও বেশি হচ্ছে।” জোকোভিচ প্রতিপক্ষ হলেও তাঁকে গুরুর সম্মান দিয়েছেন স্পেনের তারকা।
তার পরেই আর এক গুরু নাদালের কথা বলেছেন আলকারাজ়। নাদালের অ্যাকাডেমি থেকেই উত্থান তাঁর। সরাসরি নাদাল তাঁকে টেনিস না শেখালেও মনে মনে তাঁকেই গুরু মানেন আলকারাজ়। একসঙ্গে জুটি বেঁধে খেলেওছেন। সেই গুরুর রেকর্ড তাঁর সামনেই ভেঙেছেন তিনি। আলকারাজ় বলেন, “রাফাকে দর্শকাসনে দেখে অদ্ভুত লাগছে। ও ১৬ বছর বয়স থেকে আমাকে দেখছে। আমার খেলা দেখেছে। এত দিন অ্যাকাডেমিতে দেখছে। এখন দর্শকাসনে বসে দেখছে। ও আমার গুরু। ওর সামনে এই ট্রফি জিততে পেরেছি। আমার পাশে থাকার জন্য ওকে ধন্যবাদ।”
অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জেতা সহজ ছিল না আলকারাজ়ের পক্ষে। সেমিফাইনালে আলেকজ়ান্ডার জ়েরেভের বিরুদ্ধে হ্যামস্ট্রিংয়ের সমস্যায় পড়েছিলেন। যে ম্যাচ স্ট্রেট সেটে জেতা উচিত, সেই ম্যাচ জিততে খেলতে হয়েছিল পাঁচ সেট। খেলা শেষে জ়েরেভ অভিযোগ করেছিলেন, আলকারাজ় ও সিনারকে বাড়তি সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। সব সমালোচনার জবাব ফাইনালে দিয়েছেন আলকারাজ়। তার জন্য নিজের দলকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি। সপ্তম গ্র্যান্ড স্ল্যাম জিতে আলকারাজ় বলেন, “আমার দল জানে, চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য কতটা পরিশ্রম করতে হয়েছে। ওরা আমার খারাপ সময় দেখেছে। আমাকে সব সময় সাহায্য করেছে। বিশ্বাস জুগিয়েছে। তাই এই জয় আমার পাশাপাশি ওদেরও।” তাঁকে সমর্থন করার জন্য রড লেভার এরিনার দর্শকদেরও ধন্যবাদ জানিয়েছেন আলকারাজ়।