(বাঁ দিকে) আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (ডান দিকে)। —ফাইল চিত্র।
ইরানের চাবাহার বন্দর প্রকল্পের জন্য নতুন করে কোনও বরাদ্দ ঘোষণা করা হল না কেন্দ্রীয় বাজেটে। গত কয়েক বছর ধরে ইরানের দক্ষিণ উপকূলের এই বন্দর প্রকল্পের জন্য বার্ষিক অর্থবরাদ্দ করে আসছে ভারত। প্রতি বছর ১০০ কোটি টাকা করে বরাদ্দ করা হচ্ছিল এই প্রকল্পে। এ বার তা থেকে বিচ্যুতি ঘটল। চাবাহার বন্দর প্রকল্পের জন্য কোনও আর্থিক বরাদ্দ ঘোষণা করা হল না এ বছরের বাজেটে।
ইরানের দক্ষিণ উপকূলে সিস্তান-বালোচিস্তান অঞ্চলে অবস্থিত চাবাহার বন্দর কৌশলগত ভাবে ভারতের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে পাকিস্তানের সঙ্গে উত্তেজনার মাঝে এই বন্দরের গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি পেয়েছে ভারতের কাছে। পাকিস্তানকে এড়িয়ে আফগানিস্তান-সহ মধ্য এশিয়ার বিভিন্ন দেশ, ইউরোপ এবং রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যের জন্য চাহাবার ভারতের কাছে কৌশলগত দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ। তেহরানের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে এই বন্দর প্রকল্পে কাজ চালাচ্ছে নয়াদিল্লি।
কিন্তু এখন ইরান এবং আমেরিকার মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। ইরানে হামলা চালাতে পারে আমেরিকা, এমনও আশঙ্কা করছেন অনেকে। তেহরানকে অর্থনৈতিক ভাবেও চাপে ফেলতে চাইছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত বছরের সেপ্টেম্বরে ইরানের উপরে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছেন তিনি। চাবাহার বন্দর প্রকল্পে বিনিয়োগের জন্যও ভারতের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন ট্রাম্প। যদিও পরে দিল্লিকে ছ’মাস সময় দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ট্রাম্পের ওই ‘ছাড়’-এর মেয়াদ ফুরোচ্ছে আগামী এপ্রিলে।
গত মাসেই বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছিলেন চাবাহার বন্দর প্রকল্প নিয়ে আমেরিকার সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে ভারত। জয়সওয়াল ওই সময়ে বলেছিলেন, “আপনারা জানেন, গত ২৮ অক্টোবর আমেরিকার পক্ষ থেকে চাবাহার ব্যবহার নিয়ে শর্তসাপেক্ষে ছাড় দিয়েছিল। তার মেয়াদ রয়েছে এই বছরের ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত। আমরা এই বিষয়ে আমেরিকার সঙ্গে কথা বলছি ও কী ব্যবস্থা করা যায় তা দেখা হচ্ছে।” এই কূটনৈতিক টানাপড়েনের মাঝে ২০২৬ সালের কেন্দ্রীয় বাজেটে ইরানের চাবাহার বন্দর প্রকল্পের জন্য নতুন করে কোনও বরাদ্দ ঘোষণা করল না নয়াদিল্লি। ঘটনাচক্রে গত মাসেই ইরানের বাণিজ্যিক সঙ্গীদের উপর ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপানোর কথা ঘোষণা করেন ট্রাম্প।