বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। —ফাইল চিত্র।
সরকার বদলের পর বাংলাদেশের ক্রিকেটেও বদল এসেছে। অন্তর্বর্তী বোর্ডের সভাপতি হয়েছেন বাংলাদেশের প্রাক্তন অধিনায়ক তামিম ইকবাল। এ বার বাংলাদেশের বিশ্বকাপে না খেলা নিয়েও তদন্ত হবে। চলতি বছর সুরক্ষার কারণ দেখিয়ে ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে আসেনি বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত তাদের বিশ্বকাপ থেকে বয়কট করা হয়েছিল। সেই বিষয়ে এ বার শুরু হবে তদন্ত।
বাংলাদেশ সরকার তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। বাংলাদেশের যুব ও ক্রীড়া দফতরের সচিব মাহবুব উল ইসলাম সংবাদসংস্থা এএনআই-কে বলেন, “ভারতে আয়োজিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে যুব ও ক্রীড়া দফতর।”
কমিটিতে রয়েছেন যুব ও ক্রীড়া দফতরের প্রশাসনিত শাখার অতিরিক্ত সচিব একেএম ওলি উল্লাহ, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের প্রাক্তন প্রধান নির্বাচক তথা দেশের ক্রিকেট দলের প্রাক্তন অধিনায়ক হাবিবুল বাশার ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী তথা ক্রীড়া উদ্যোক্তা ফয়সল দাস্তগির। ওলি উল্লাহকে এই কমিটিকে আহ্বায়ক করা হয়েছে।
জানা গিয়েছে, বাংলাদেশের বিশ্বকাপে না খেলার সিদ্ধান্তের নেপথ্যে ঠিক কী কী কারণ ছিল, কোনও কূটনৈতিক ব্যর্থতার কারণে তারা এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখবে এই কমিটি। তদন্ত করে ১৫ দিনের মধ্যে তাদের রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে।
চলতি বছর ফেব্রুয়ারি মাসে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার আগে ভারতে খেলতে আসতে আপত্তি জানায় বাংলাদেশ সরকার। আইপিএলের নিলামে নেওয়ার পরেও ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের নির্দেশে মুস্তাফিজুর রহমানকে কলকাতা নাইট রাইডার্স ছেড়ে দেওয়ার পর শুরু হয় এই সমস্যা। বাংলাদেশের দাবি ছিল, ভারতের মাটিতে তাদের ক্রিকেটার, সাংবাদিক ও দর্শকেরা সুরক্ষিত নন। পাকিস্তানের মতো বাংলাদেশের সব ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় করার দাবি জানায় তারা। কিন্তু লাগাতার বৈঠকের পরেও সেই দাবি মানেনি আইসিসি।
নিজেদের সিদ্ধান্তে অনড় থাকে বাংলাদেশ। সে দেশের ক্রিকেট বোর্ড জানায়, সরকার যা বলবে, তারা সেটাই মানবে। বাংলাদেশ পিছু না হটায় আইসিসি বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দিয়ে দেয়। বিকল্প দল হিসাবে স্কটল্যান্ড বিশ্বকাপে খেলে। পরবর্তীতে শাকিব আল হাসানের মতো বাংলাদেশি ক্রিকেটার জানান, এই সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হয়নি। বিশ্বকাপ খেলা উচিত ছিল বাংলাদেশের। এ বার সেই ঘটনায় তদন্তের নির্দেশ দিল বাংলাদেশ সরকার।