অজিত আগরকর। —ফাইল চিত্র।
বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মা, রবিচন্দ্রন অশ্বিনদের টেস্টজীবন শেষ হওয়ার নেপথ্যে অজিত আগরকরের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে বলে মনে করা হয়। মহম্মদ শামির মতো বোলারকেও দীর্ঘ দিন ধরে জাতীয় দলের বাইরে রেখেছেন প্রধান নির্বাচক। তা-ও তাঁর উপরই ভরসা রাখতে চাইছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)।
গৌতম গম্ভীরের মতো আগরকরের নানা সিদ্ধান্ত নিয়েও সমালোচনা হয়েছে। ভারতীয় দল নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন তুলেছেন প্রাক্তন ক্রিকেটারদের একাংশও। তবে তাঁর উপর বোর্ড কর্তাদের ভরসা অটুট। আপাতত আগরকরকেই প্রধান নির্বাচক রেখে দিতে চাইছে বিসিসিআই। ২০২৭ সালের জুন মাস পর্যন্ত আগরকরের সঙ্গে চুক্তি বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত হয়েছে।
একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে বিসিসিআইয়ের এক কর্তা বলেছেন, ‘‘আগরকরের কার্যকালে ভারতীয় দলে প্রচুর পরিবর্তন হয়েছে। কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার ব্যাপারে যথেষ্ট সাহসের পরিচয় দিয়েছেন আগরকর। বোর্ড তাঁকেই দায়িত্বে রাখতে চাইছে। আইপিএলের মাঝে বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্তা এবং আধিকারিকেরা আগরকরের সঙ্গে আলোচনা করবেন।’’ তিনি জানিয়েছেন, আগরকরকে কাজ চালিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হবে। সবকিছু ঠিক থাকলে এবং চুক্তি চূড়ান্ত হলে সরকারি ভাবে বিষয়টি ঘোষণা করবে বিসিসিআই। প্রাক্তন অলরাউন্ডার যে ভাবে ভারতীয় দলের তারকা সংস্কৃতিতে রাশ টেনেছেন, তা-ও খুশি করেছে বোর্ড কর্তাদের।
একাধিক কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরও আগরকরের কার্যকালে ভারতীয় দল উল্লেখযোগ্য কয়েকটি সাফল্য পেয়েছে। ২০২৪ এবং ২০২৬ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়, ২০২৫ সালে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জয়ের মতো সাফল্য রয়েছে। ২০২৩ সালে এক দিনের বিশ্বকাপের ফাইনালেও উঠেছিল ভারতীয় দল। তাঁর কার্যকালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থার (আইসিসি) প্রতিযোগিতাগুলিতে ভারতীয় দলের পারফরম্যান্সই সবচেয়ে ভাল। টেস্টে তেমন সাফল্য না এলেও সাদা বলের ক্রিকেটে ভারতীয় দলের দাপট প্রভাবিত করেছে বিসিসিআই কর্তাদের। ২০২৭ সালের অক্টোবর-নভেম্বরে এক দিনের বিশ্বকাপ রয়েছে। তার আগে বড় কোনও পরিবর্তনের পক্ষে নন বোর্ড কর্তারা। স্থিতাবস্থা বজায় রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিসিসিআই। কর্তারা চাইছেন আগরকর এবং গম্ভীরের নেতৃত্বেই আগামী বিশ্বকাপের পরিকল্পনা এবং দল গঠনের কাজ চলুক। আগরকরের সঙ্গে জাতীয় নির্বাচক হিসাবে কাজ চালিয়ে যাবেন প্রজ্ঞান ওঝা এবং রুদ্রপ্রতাপ সিংহও। তাঁদের সঙ্গে দু’জন নতুন নির্বাচক আসতে পারেন।
অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে গত টেস্ট সিরিজ়ের মাঝে হঠাৎ অবসর ঘোষণা করেছিলেন অশ্বিন। দেশে ফেরার পর রঞ্জি ট্রফি খেলতে বাধ্য করা হয়েছিল কোহলি এবং রোহিতকে। তবে গত বছর আইপিএলের সময় দু’জনেই হঠাৎ টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন। সেই অর্থে অস্ট্রেলিয়াতেই কোহলি, রোহিত এবং অশ্বিনের টেস্টজীবন শেষ হয়ে গিয়েছে। গত বছর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির পর শামিকেও আর জাতীয় দলের জন্য বিবেচনা করেননি আগরকর। রোহিতকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে নেতৃত্ব থেকেও। ভারতীয় দলের সার্বিক পালাবদলের অন্যতম মুখ আগরকর।