বাংলার জয়ের নায়ক শাহবাজ় আহমেদ। ছবি: এক্স।
লাহলিতে দাপট দেখালেন বাংলার বোলারেরা। বিশেষ করে শাহবাজ় আহমেদ ও আকাশদীপ। দু’ইনিংস মিলিয়ে শাহবাজ় নিলেন ১১ উইকেট। আকাশদীপের দখলে ৬ উইকেট। রঞ্জির কোয়ার্টার ফাইনালে নামার আগে ছন্দে বাংলা। গ্রুপের শেষ ম্যাচে হরিয়ানাকে ১৮৮ রানে হারাল তারা। তিন দিনে খেলা জিতে গেল বাংলা।
হরিয়ানার বিরুদ্ধে নিয়মরক্ষার ম্যাচ হলেও হালকা ভাবে নেয়নি বাংলা। এই ম্যাচে মহম্মদ শামি ও সূরজ সিন্ধু জয়সওয়ালকে বিশ্রাম দিয়েছিল তারা। বাকি দল একই ছিল। প্রথম ইনিংসে ১৯৩ রান করে বাংলা। আগের ম্যাচে দ্বিশতরান করা সুদীপ চট্টোপাধ্যায় করেন ৮৬ রান। বাকি কেউ প্রথম ইনিংসে রান পাননি। দেখে মনে হচ্ছিল, বাংলা সমস্যায় পড়তে পারে।
দলকে খেলায় ফেরান বোলারেরা। হরিয়ানাকে প্রথম ইনিংসে মাত্র ৩১.১ ওভারে ১০০ রানে অলআউট করে দেন তাঁরা। আকাশদীপ ৪০ রান দিয়ে ৫ উইকেট নেন। শাহবাজ় ৪২ রান দিয়ে নেন ৫ উইকেট। হরিয়ানার ব্যাটারদের মধ্যে সর্বাধিক ২৯ রান করেন ওপেনার যুবরাজ সিংহ। প্রথম ইনিংসে ৯৩ রানের লিড পায় বাংলা।
দ্বিতীয় ইনিংসেও বাংলার ব্যাটারেরা বড় রান করতে পারেননি। সুদীপ মাত্র ৫ রান করেন । দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলার ইনিংস টানেন অধিনায়ক অভিমন্যু ঈশ্বরণ ও সুদীপ ঘরামি। অভিমন্যু করেন ৮৩ রান। ঘরামি করেন ৬১ রান। ২০০ রানে শেষ হয়ে যায় বাংলার দ্বিতীয় ইনিংস। ফলে হরিয়ানার সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ২৯৪ রান। প্রথম ইনিংসে বাংলার বোলারেরা যে রকম বল করেছিলেন, তাতে হরিয়ানার পক্ষে রান তাড়া করা কঠিন ছিল। হলও তাই।
চতুর্থ ইনিংসে হরিয়ানা আরও কম ওভার টেকে। মাত্র ২৬.১ ওভারে ১০৫ রানে অলআউট হয়ে যায় পুরো দল। সর্বাধিক অধিনায়ক অঙ্কিত কুমারের ২৫ রান। অর্থাৎ, দু’ইনিংস মিলিয়ে ৫৭.২ ওভারে ২০৫ রান দিয়ে হরিয়ানার ২০ উইকেট নিয়েছেন বাংলার বোলারেরা। দ্বিতীয় ইনিংসে ৩৮ রান দিয়ে ৬ উইকেট নেন শাহবাজ়। আকাশদীপ ৪০ রান দিয়ে ২ উইকেট নেন। আকাশদীপ ও বিকাশ সিংহ ১ করে উইকেট নেন। ১৮৮ রানে জেতে বাংলা।
এই জয়ের ফলে সাত ম্যাচে ৩৬ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ শীর্ষে থেকে পরের রাউন্ডে উঠল বাংলা। এই গ্রুপ থেকে দ্বিতীয় দল হিসাবে হরিয়ানা, উত্তরাখণ্ড ও সার্ভিসেসের মধ্যে এক দল কোয়ার্টার ফাইনালে যাবে। বাংলা যে ছন্দে রয়েছে তাতে নকআউটে নামার আগে আত্মবিশ্বাস অনেকটাই বেশি থাকবে অভিমন্যুদের।