মহম্মদ শামি। —ফাইল চিত্র।
শনিবারই খেলার ফয়সালা প্রায় হয়ে গিয়েছিল। বাকি কাজটা রবিবার সকালে করলেন বাংলার ক্রিকেটারেরা। ইনিংস ও ৪৬ রানে সার্ভিসেসকে হারাল বাংলা। বোনাস পয়েন্ট নিয়ে জিতে এক ম্যাচ বাকি থাকতে রঞ্জি ট্রফির কোয়ার্টার ফাইনালে উঠলেন মহম্মদ শামিরা। গ্রুপের শেষ ম্যাচে হরিয়ানার বিরুদ্ধে নক আউটের প্রস্তুতি সারতে পারবে বাংলা।
রঞ্জির এলিট গ্রুপ সি-তে বাংলা সকলের উপরে রয়েছে। ৬ ম্যাচে তাদের পয়েন্ট ৩০। দ্বিতীয় স্থানে থাকা হরিয়ানার পয়েন্ট ৬ ম্যাচে ২৪। শেষ ম্যাচে যদি বাংলা হরিয়ানার কাছে হারে, একমাত্র তখনই বাংলা দ্বিতীয় স্থানে নামবে। নইলে গ্রুপ শীর্ষেই শেষ করবে তারা। গ্রুপের বাকি ছয় দল নিজেদের শেষ ম্যাচ জিতলেও বাংলাকে টপকাতে পারবে না। প্রতিটি গ্রুপ থেকে প্রথম দুই দল রঞ্জির কোয়ার্টার ফাইনালে যাবে। তাই বাংলার নক আউট পাকা হয়ে গিয়েছে। শেষ ম্যাচের ফলের উপর নির্ভর করবে, কোয়ার্টার ফাইনালে কাদের মুখোমুখি হবেন শামিরা।
শনিবার খেলা শেষে সার্ভিসেসের রান ছিল ৮ উইকেট হারিয়ে ২৩১। বাংলার প্রথম ইনিংসের রানের থেকে ১০২ রানে পিছিয়ে ছিল সার্ভিসেস। তাদের হাতে ছিল ২ উইকেট। রবিবার আরও ৫৬ রান করে সার্ভিসেস। জয়ন্ত গোয়াত ৬৮ রানে অপরাজিত থাকেন। আদিত্য কুমার করেন ২৬ রান। কিন্তু দলের লজ্জা আটকাতে পারেননি তাঁরা। ২৮৭ রানে অল আউট হয়ে যায় সার্ভিসেস।
বাংলার বোলারদের মধ্যে দ্বিতীয় ইনিংসে ৫ উইকেট নেন শামি। ২ উইকেট মুকেশ কুমারের। ১ করে উইকেট নেন আকাশদীপ, সূরজ সিন্ধু জয়সওয়াল ও শাহবাজ় আহমেদের। রবিবার শেষ দু’টি উইকেট যায় শাহবাজ় ও আকাশদীপের ঝুলিতে। কল্যাণীর মাঠে যে ভাবে সার্ভিসেসকে বাংলা হারাল তাতে নক আউটের আগে তাদের মনোবল অনেকটাই বেড়ে গেল।
প্রথম ইনিংসে সুদীপ চট্টোপাধ্যায়ের দ্বিশতরান এবং অভিমন্যু ঈশ্বরণ ও শাকির হাবিব গান্ধীর ব্যাটে ৫১৯ রান করে বাংলা। জবাবে দ্বিতীয় দিনের শেষে সার্ভিসেসের প্রথম ইনিংসের রান ছিল ৮ উইকেটে ১২৬। সেখান থেকে ১৮৬ রানে শেষ হয় তাদের প্রথম ইনিংস। ৮৫ রানে অপরাজিত থাকেন নকুল শর্মা। ৫১ রানে ৪ উইকেট নেন সুরজ সিন্ধু জয়সওয়াল। ৫০ রানে ৩ উইকেট নেন আকাশদীপ। প্রথম ইনিংসে ৩৭ রানে ২ উইকেট নেন শামি।
৩৩৩ রানে পিছিয়ে থাকা সার্ভিসেসকে ফলোঅন করান বাংলার অধিনায়ক অভিমন্যু। তাঁকে হতাশ করেননি শামি। একাই সার্ভিসেসের ব্যাটারদের নাকাল করে ছাড়েন। তাঁর সঙ্গে যোগ দেন আকাশও। ভারতীয় দলের দুই বোলারের দাপটে সুবিধা করতে পারেননি সার্ভিসেসের কোনও ব্যাটারই। শামিকে আবার চেনা ফর্মে পাওয়া গেল। শনিবার খেলা শেষে সার্ভিসেসের রান ছিল ৮ উইকেটে ২৩১। অধিনায়ক রজত পালিওয়াল করেন ৮৩। ৬২ রান করেন মোহিত অহলওয়াত। তার পরেও ইনিংসে হার বাঁচাতে পারল না সার্ভিসেস।