দিল্লি ক্যাপিটালসের দুই ব্যাটার নীতীশ রানা (বাঁ দিকে) ও লোকেশ রাহুল। ছবি: পিটিআই।
দেদার রান দিয়েছেন দিল্লি ক্যাপিটালসের বোলারেরা। অভিষেক শর্মার অপরাজিত ১৩৫ রানে ভর করে দিল্লির বিরুদ্ধে ২৪২ রান করেছে সানরাইজ়ার্স হায়দরাবাদ। শেষ পর্যন্ত ৪৭ রানে হেরেছে দিল্লি। বোলারেরা ব্যর্থ হলেও এই হারের দায় দলের দুই ব্যাটারের উপর চাপিয়েছেন দিল্লির ডিরেক্টর অফ ক্রিকেট বেণুগোপাল রাও।
২৪৩ রান তাড়া করতে নেমে পাথুম নিসঙ্ক মাত্র ৮ রান করে আউট হন। প্রথম উইকেটে লোকেশ রাহুল ও নীতীশ রানার মধ্যে ৪৫ বলে ৮৬ রানের জুটি হয়। রাহুল ২৩ বলে ৩৭ রান করেন। নীতীশ করেন ৩০ বলে ৫৭ রান। দিল্লির হয়ে সবচেয়ে বড় জুটি তাঁদেরই। অথচ সেই দুই ব্যাটার রাহুল ও নীতীশকেই হারের জন্য দায়ী করেছেন বেণুগোপাল।
খেলা শেষে দিল্লির ডিরেক্টর অফ ক্রিকেট বেণুগোপাল বলেন, “২৪০ রানের বেশি তাড়া করতে নামলে প্রথম ছয় ওভার সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আমরা পাওয়ার প্লে-তে ৫৯ রান করেছিলাম। ২০-৩০ রান কম করেছিলাম। পাওয়ার প্লে শেষে ৮০ থেকে ৯০ রান হওয়া উচিত ছিল। আমাদের ব্যাটিং গভীরতা আছে। শুরুটা ভাল হলে হয়তো ম্যাচটা জিততেও পারতাম। কিন্তু শুরুটা ভাল করতে পারিনি।” সরাসরি রাহুল ও নীতীশের নাম না করলেও পরোক্ষে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন, দুই ব্যাটারই হারের জন্য দায়ী।
পাওয়ার প্লে-তে রাহুল বেশি বল খেলতে পারেননি বলেও মনে হয়েছে বেণুগোপালের। তাতে ছন্দ হারিয়েছেন তিনি। বেণুগোপাল বলেন, “নিসঙ্ক আউট হওয়ার পর রাহুল বেশি বল খেলতে পারেনি। তখন নীতীশ বেশি বল খেলছিল। বল না পেলে ছন্দ পাওয়া মুশকিল। সেটাই রাহুলের সঙ্গে হয়েছে। সেই কারণেই আমাদের রান কম হয়েছে। তাতে খেলার রাশ হায়দরাবাদের হাতে চলে গিয়েছে।”
সমালোচনার মুখে পড়েছেন অধিনায়ক অক্ষর পটেল। পার্ট টাইম স্পিনার নীতীশকে দিয়ে চার ওভার বল করিয়েছেন তিনি। অথচ, বিশেষজ্ঞ স্পিনার কুলদীপ যাদবকে মাত্র দু’ওভার দিয়েছেন। এর কারণ কেউ বুঝতে পারছেন না। বেণুগোপাল জানিয়েছেন, এই সিদ্ধান্ত পুরোপুরি অধিনায়কের। তিনি বলেন, “শেষপর্যন্ত মাঠে নেমে অধিনায়কের যা মনে হয়, সেটাই হয়। নীতীশকে চার ওভার বল দেওয়ায় অক্ষরের দিকে আঙুল তোলা সহজ। ও ঝুঁকি নিয়েছিল। যদি তা কাজে লাগত, তখন বলতেন, দেখুন কী অসাধারণ পরিকল্পনা। টি-টোয়েন্টিতে এই ধরনের ঘটনা হয়েই থাকে।”
দলের ফিল্ডিংয়ের দিকেও আঙুল তুলেছেন বেণুগোপাল। অভিষেকের ক্যাচ পড়েছে। রান আউটের সুযোগ নষ্ট হয়েছে। এ ভাবে জেতা মুশকিল বলেই মনে করেন তিনি। বেণুগোপাল বলেন, “অভিষেক সুযোগ দিয়েছিল। কিন্তু আমরা নিতে পারিনি। ৫০ করার পরে রান আউটের সুযোগ ছিল। ৮৪ বা ৮৬ রানের মাথায় ক্যাচ পড়েছে। তার খেসারত দিতে হয়েছে। এ রকম ভুল করলে জেতা মুশকিল।”