ব্রেন্ডন ম্যাকালাম। —ফাইল চিত্র।
সিডনিই কি শেষ টেস্ট ব্রেন্ডন ম্যাকালামের? অ্যাশেজ় শেষ হলেই কি চাকরি যাবে ইংল্যান্ডের কোচের? তেমনটাই ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। কোচ হিসাবে অ্যাশেজ়ে ব্যর্থ ম্যাকালাম। তাঁর ‘বাজ়বল’ তত্ত্বকে ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। এ বার হয়তো তাঁর প্রতি মোহভঙ্গ হয়েছে ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ডের।
‘ডেইলি মেল’ জানিয়েছে, সিডনি টেস্টের আগে সেখানে পৌঁছে গিয়েছেন ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান রিচার্ড গৌল্ড। বোর্ডের চেয়ারম্যান রিচার্ড থম্পসন আগে থেকেই সেখানে রয়েছেন। দু’জন মিলে ইংল্যান্ডের হারের ময়নাতদন্ত করবেন। তার পরেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। যা পরিস্থিতি, তাতে ম্যাকালামের চাকরি বাঁচার বিশেষ আশা নেই। তবে একটি বিষয়ই তাঁকে আরও দু’মাস বাঁচিয়ে দিতে পারে। তা হল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। তার কয়েক দিন আগে কোচ বদলে ফেললে দলের উপর প্রভাব পড়তে পারে। ফলে হয়তো আরও কয়েক দিন কোচের পদে থাকবেন ম্যাকালাম।
২০২২ সালে ইংল্যান্ডের কোচ হওয়ার পর টেস্টে শুরুটা ভাল হয়েছিল ম্যাকালামের। বেন স্টোকসের সঙ্গে তাঁর জুটি জমে গিয়েছিল। প্রথম ১৯ টেস্টের মধ্যে ১৩টি জিতেছিল ইংল্যান্ড। হেরেছিল ৪টি। কিন্তু ২০২৪ সালের পর থেকে ছবিটা বদলে গিয়েছে। শেষ দু’বছরে ইংল্যান্ড হেরেছে ১৩টি টেস্ট। জিতেছে ১২টি। মোট ৪৪ টেস্টের মধ্যে ইংল্যান্ড ২৫টি ম্যাচ জিতেছে। ১৭টি হেরেছে। তিন বার বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে উঠতে ব্যর্থ হয়েছে তারা। ২০২৭ সালেও ফাইনালে ওঠার আশা খুব কম।
অ্যাশেজ়ে হারের পর ম্যাকালাম জানিয়েছিলেন, তিনি কোচ থাকবেন কি না সেই সিদ্ধান্ত ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড নেবে। সেখানে তাঁর বলার কিছু নেই। তাঁর একমাত্র কাজ ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে দলকে জেতানো। সেই কাজটাই করছেন তিনি। এখন দেখার, ম্যাকালামকে নিয়ে ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড কী সিদ্ধান্ত নেয়।
সিডনিতে অ্যাশেজ়ের পঞ্চম টেস্টে ইংল্যান্ডের দলে খেলবেন ম্যাথু পটস। ইংল্যান্ডের হয়ে ১০টি টেস্ট খেলে ফেললেও এখনও অ্যাশেজ়ে খেলার সুযোগ পাননি এই পেসার। এ বার তা পাবেন তিনি। ১২ জনের দলে রাখা হয়েছে শোয়েব বশিরকেও। তবে তাঁর খেলার সম্ভাবনা কম।
চলতি সিরিজ়ে হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পেয়েছেন জফ্রা আর্চার ও গাস অ্যাটকিনসন। মার্ক উডও চোটে। ফলে পেস আক্রমণে বদল করতে বাধ্য হয়েছে ইংল্যান্ড। ব্রাইডন কার্স, জশ টংদের পাশে সিডনিতে দেখা যাবে পটসকে। ইংল্যান্ড চাইবে জয় দিয়ে অ্যাশেজ় শেষ করতে। তা হলে অন্তত কিছুটা হলেও মুখরক্ষা হবে তাদের। সিডনিতে জিততে পারলে হয়তো চাকরি বাঁচানোর সুযোগ আরও একটু বেশি পাবেন ম্যাকালাম।