গত বারের আইপিএলে তারকা হয়ে উঠেছে বৈভব সূর্যবংশী। —ফাইল চিত্র।
প্রতি বছরই নতুন তারকার জন্ম দেয় আইপিএল। গত বার সব আলো কেড়ে নিয়েছিল বৈভব সূর্যবংশী। ১৪ বছরের এই বাঁহাতি ব্যাটার মাত্র সাত ম্যাচ খেলেই বুঝিয়ে দিয়েছিল, ভারতের ভবিষ্যৎ তিনিই। পরের এক বছরে তা আরও স্পষ্ট হয়েছে। তারকা হয়ে উঠেছে বৈভব। ঠিক তেমনই এ বারও তারকা হওয়ার সুযোগ রয়েছে কয়েক জন ক্রিকেটারের। তাঁদের মধ্যে পাঁচ জন ব্যাটারকে বেছে নিল আনন্দবাজার ডট কম।
যে পাঁচ জনকে বেছে নেওয়া হয়েছে, তাঁরা কেউ এখনও জাতীয় দলে ডাক পাননি। এই পাঁচ জনের মধ্যে তিন জন আগেও আইপিএলে খেলেছেন। দু’জন এ বারই প্রথম বার খেলবেন। পাঁচ জনের মধ্যে দু’জন চেন্নাই সুপার কিংসের ক্রিকেটার। বাকি তিন জন কলকাতা নাইট রাইডার্স, পঞ্জাব কিংস ও দিল্লি ক্যাপিটালসের হয়ে নামবেন এ বার।
এই বছরই অধিনায়ক হিসাবে ভারতকে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জিতিয়েছেন। তবে গত বছরই আইপিএলে নজর কেড়েছিলেন তিনি। গত বার মরসুমের মাঝপথে রুতুরাজ গায়কোয়াড়ের বদলে নেওয়া হয়েছিল আয়ুষকে। সাত ম্যাচে ২৪০ রান করেছিলেন তিনি। ৩৪.২৯ গড় ও ১৮৮.৯৮ স্ট্রাইক রেটে রান করেছেন। সর্বাধিক ৯৪ রান। ৩১ চার ও ১১ ছক্কা মেরেছিলেন। ভাল খেলায় তাঁকে ছাড়েনি চেন্নাই। ধরে রেখেছে।
এ বার চেন্নাইয়ের হয়ে গোটা মরসুম ওপেন করার সুযোগ পাবেন আয়ুষ। মুম্বইয়ের এই ক্রিকেটার ইতিমধ্যেই ১৩ প্রথম শ্রেণির ম্যাচে ৬৬০ রান, সাতটি লিস্ট এ ম্যাচে ৪৫৮ রান ও ১৩ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ৫৬৫ রান করেছেন। ঘরোয়া ক্রিকেটে ছ’টি শতরান রয়েছে তাঁর।
ভারতের অনূর্ধ্ব-১৯ অধিনায়কত্ব আয়ুষকে পরিণত করেছে। চেন্নাইয়ে মহেন্দ্র সিংহ ধোনির মতো শিক্ষক পাবেন তিনি। পাশাপাশি ওপেনিং জুটিতে সঞ্জু স্যামসনের মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটারকে পাবেন আয়ুষ। সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে অনূর্ধ্ব-১৯ দলের সতীর্থ বৈভবের মতোই তারকা হয়ে উঠতে পারবেন তিনি।
আয়ুষ মাত্রে। —ফাইল চিত্র।
আইপিএলের নিলামের আগে তাঁর নাম খুব বেশি কেউ জানতেন না। কিন্তু নিলামে বাকিদের সঙ্গে লড়াই করে ১৪ কোটি ২০ লক্ষ টাকায় তাঁকে কিনেছে চেন্নাই। আইপিএলের ইতিহাসে সবচেয়ে দামি ঘরোয়া ক্রিকেটার তিনি। তার পরেই সকলের আগ্রহ শুরু হয় প্রশান্তকে ঘিরে।
এখনও পর্যন্ত তেমন আহামরি পরিসংখ্যান নেই প্রশান্তের। উত্তর প্রদেশের এই ব্যাটার ২ প্রথম শ্রেণির ম্যাচে ৭ রান ও ন’টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ১১২ রান করেছেন। কিন্তু তাঁর দিকে নজর ছিল চেন্নাইয়ের স্কাউটিং দলের। নিশ্চয়ই কোনও প্রতিভা তাঁরা দেখেছেন। নইলে কেন এক ঘরোয়া ক্রিকেটারের জন্য এত টাকা খরচ করবেন। হয়তো এ বারের আইপিএলেই তারকা হয়ে উঠতে পারেন প্রশান্ত।
প্রশান্ত বীর। —ফাইল চিত্র।
গত বারই পঞ্জাব কিংসের হয়ে প্রথম নজর কেড়েছিলেন। অনেকটা অভিষেক শর্মার মতো ব্যাটিংয়ের ধরন। শুরু থেকে বড় শট খেলতে ভালবাসেন এই বাঁহাতি ব্যাটার। গত বার আইপিএলে ১৭টি ম্যাচই খেলেছিলেন তিনি। করেছিলেন ৪৭৫ রান। ২৭.৯৪ গড় ও ১৭৯.২৫ স্ট্রাইক রেটে রান করেছিলেন তিনি। সর্বোচ্চ ১০৩ রান। একটি শতরানের পাশাপাশি দু’টি অর্ধশতরান ছিল এই ব্যাটারের। ৫৫টি চার ও ২৫টি ছক্কা মেরেছিলেন তিনি। পঞ্জাব তাঁকে ধরে রেখেছে।
ঘরোয়া ক্রিকেটে একটি প্রথম শ্রেণির ম্যাচে ৪০ রান, ১৬টি লিস্ট এ ম্যাচে ৫২২ রান ও ৪৬টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ১৩১৯ রান করেছেন তিনি। ঘরোয়া ক্রিকেটে তিনটি শতরান করেছেন।
প্রিয়াংশের একটিই সমস্যা। ধারাবাহিকতার অভাব। সেই সমস্যা মেটাতেই হয়তো গত আইপিএলের পর যুবরাজ সিংহের সঙ্গে সময় কাটিয়েছেন। এ বারও পঞ্জাবের হয়ে ওপেন করবেন প্রিয়াংশ। যদি এ বারও একই রকম ফর্মে থাকেন তা হলে ভারতের টি-টোয়েন্টি দলের দরজা তাঁর জন্য খুলে যেতে পারে।
প্রিয়াংশ আর্য। —ফাইল চিত্র।
বাবা রাজেশ রঞ্জন ওরফে পাপ্পু যাদব প্রাক্তন সাংসদ। মা রঞ্জিত রঞ্জনও প্রাক্তন সাংসদ। কিন্তু ছেলে ছোট থেকেই ক্রিকেট পাগল। সেই সার্থককে এ বার নিলামে মাত্র ৩০ লক্ষ টাকায় কিনেছে কলকাতা নাইট রাইডার্স। দিল্লির হয়ে ঘরোয়া ক্রিকেট খেলা এই ব্যাটার দু’টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচে ২৮, সাতটি লিস্ট এ ম্যাচে ১৪৩ ও পাঁচটি টি-টোয়েন্টিতে ৬৬ রান করেছেন।
পরিসংখ্যান বিশাল কিছু না হলেও ইতিমধ্যেই সার্থককে নিয়ে আলোচনা চলছে। গত দিল্লি প্রিমিয়ার লিগে একটি ম্যাচে ছ’বলে ছ’টি ছক্কা মেরেছেন তিনি। গায়ে জোর রয়েছে তাঁর। কেকেআরের হয়ে প্রস্তুতি ম্যাচেও একের পর এক ছক্কা মেরেছেন এই ব্যাটার। কলকাতার মিডল অর্ডারে সুযোগ পেতে পারেন তিনি। প্রথম বার নেমেই তারকা হয়ে উঠতে পারেন সার্থক।
সার্থক রঞ্জন। —ফাইল চিত্র।
পাঁচ জনের মধ্যে অভিজ্ঞতা সবচেয়ে বেশি চন্দননগরের ছেলের। বাংলার হয়ে বেশ কয়েক বছর খেলছেন। রঞ্জি, বিজয় হজারে, মুস্তাক আলি, তিন ফরম্যাটেই বাংলা দলে খেলেন। কেরিয়ারে ২৯ প্রথম শ্রেণির ম্যাচে ১৩২৪ রান, ১৮ লিস্ট এ ম্যাচে ৫৯২ রান ও ৪৫ টি-টোয়েন্টিতে ১১৮১ রান করেছেন তিনি। পাশাপাশি উইকেটরক্ষক হিসাবেও নজর কেড়েছেন তিনি।
আইপিএলে ২০২৩ সাল থেকে দিল্লি ক্যাপিটালসে খেলছেন অভিষেক। তিন বছরে মোট ৩১ ম্যাচে ৬৬১ রান করেছেন তিনি। ২৫.৪২ গড় ও ১৪৯.৮৯ স্ট্রাইক রেটে রান করেছেন তিনি। সর্বাধিক ৬৫ রান। ৬৫টি চার ও ২৭টি ছক্কা মেরেছেন এই বাঁহাতি ব্যাটার।
অভিষেক পোড়েল। —ফাইল চিত্র।
অভিষেককে ধরে রেখেছে দিল্লি। এ বার লোকেশ রাহুলের সঙ্গে ওপেন করতে নামবেন তিনি। ঘরোয়া ক্রিকেটে ভাল খেলায় অনেক বারই ছোট ফরম্যাটে তাঁর জাতীয় দলে খেলার দাবি উঠেছে। যদি এ বার আইপিএলে অভিষেক ভাল খেলেন, তা হলে সেই সুযোগ তিনি পেতে পারেন। তারকা হয়ে ওঠার সুযোগ রয়েছে বাঙালি ক্রিকেটারের।