হার্দিক পাণ্ড্য। —ফাইল চিত্র।
১৪ বছর পর জয় দিয়ে আইপিএল শুরু করেছে মুম্বই ইন্ডিয়ান্স। গত চার বছরের ব্যর্থতা কাটিয়ে এ বারের আইপিএলে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লক্ষ্যে নেমেছে তারা। কিন্তু দলের অধিনায়ক হার্দিক পাণ্ড্যের পাখির চোখ অন্য এক প্রতিযোগিতা। সেই কারণে মুম্বইয়ের অনুশীলনে গরহাজির থাকছেন তিনি।
শনিবার দিল্লি ক্যাপিটালসের বিরুদ্ধে খেলবে মুম্বই। দিল্লির ঘরের মাঠে সেই ম্যাচে নামার আগে দু’দিন মুম্বইয়ের অনুশীলনে যাননি হার্দিক। জানা গিয়েছে, চোট সামলাতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। হার্দিকের পাখির চোখ ২০২৭ সালের এক দিনের বিশ্বকাপ। তার আগে যাতে কোনও ভাবেই আবার চোট না লাগে, সে দিকে সতর্ক তিনি। সেই কারণেই আইপিএলে প্রয়োজনীয় বিশ্রাম নিয়ে নিচ্ছেন মুম্বইয়ের অধিনায়ক।
‘টাইমস অফ ইন্ডিয়া’ জানিয়েছে, গত চার মাস ধরে নিজের বোলিংয়ে জোর দিয়েছেন হার্দিক। তিনি ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড ও দলকে আস্বস্ত করতে চান যে, বিশ্বকাপে পুরো ১০ ওভার বল করার মতো ফিটনেস রয়েছে তাঁর। আইপিএল শেষ হওয়ার পরেই বিশ্বকাপের প্রস্তুতি শুরু করবে ভারত। তার আগে নিজেকে তৈরি রাখছেন হার্দিক। এ বারের আইপিএলে তাঁকে অনেক বেশি বল করতে দেখা যেতে পারে। প্রথম ম্যাচে কেকেআরের বিরুদ্ধে তিন ওভার বল করেছেন হার্দিক। প্রতি ম্যাচেই এই ছবি দেখা যেতে পারে।
৩ জানুয়ারি নিউ জ়িল্যান্ড সিরিজ়ের জন্য ভারতীয় দল ঘোষণা করার সময় বোর্ডের সচিব দেবজিৎ শইকীয়া জানিয়েছিলেন, ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সেন্টার অফ এক্সেলেন্স হার্দিককে ১০ ওভার বল করার ছাড়পত্র দেয়নি। অথচ তার পাঁচ দিন পরেই বিজয় হজারে ট্রফিতে চণ্ডীগড়ের বিরুদ্ধে ১০ ওবার বল করেন হার্দিক। ৬৬ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন তিনি।
জানা গিয়েছে, হার্দিক নিজেই নির্বাচক ও দলের ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে কথা বলেছেন। তাঁকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, যদি পরের বছর বিশ্বকাপে হার্দিক ১০ ওভার বল করার মতো ফিট থাকেন, তা হলে দলের সুবিধা হবে।
ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের এক সূত্র ‘টাইমস অফ ইন্ডিয়া’কে বলেছে, “বিশ্বকাপে হার্দিকের ভূমিকা খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, দক্ষিণ আফ্রিকার পিচে গতি ও বাউন্স থাকে। হার্দিক থাকলে দলের ভারসাম্য ভাল থাকবে। এমন নয় যে প্রতি ম্যাচে ওকে ১০ ওভার করতে হবে। হয়তো ৬-৭ ওভারই বল করানো হবে। কিন্তু যদি দরকার পরে, তা হলে যাতে হার্দিক তৈরি থাকে, সেই বার্তা ওকে দেওয়া হয়েছে।”
ওই সূত্র আরও জানিয়েছে, হার্দিকের পাশাপাশি আরও পেসার-অলরাউন্ডার তৈরি রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে। ঘরোয়া ক্রিকেটে বেশি বল করা শুরু করেছেন নীতীশ কুমার রেড্ডি। তাঁকেও একটি বিকল্প হিসাবে ভাবা হচ্ছে।