হার্দিক পাণ্ড্য। ছবি: পিটিআই।
মুম্বই ইন্ডিয়ান্সে যে হার্দিক পাণ্ড্য আর থাকবেন না, এটা পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে শুক্রবারই। কিন্তু তাঁর দল ছাড়তে চাওয়ার কারণ কি শুধুই ব্যর্থতা, নাকি অন্য কিছু? সংবাদ সংস্থার একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, কিছু সতীর্থের ‘দায়বদ্ধতা’ দেখে বিধ্বস্ত হার্দিক। মানসিক ভাবে এতটাই ভেঙে পড়েছিলেন যে মরসুমের মাঝেই নেতৃত্ব ছাড়তে চেয়েছিলেন।
শোনা গিয়েছে, হার্দিক ইতিমধ্যেই কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে দিয়েছেন দল ছাড়ার কথা। ২০২৪-এ গুজরাত থেকে মুম্বইয়ে ফেরার পর সে বছর দল শেষ করেছিল সকলের শেষে। গত বছর দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার খেললেও, এ বার দল শেষ করেছে নবম স্থানে। মালিকেরাও নাকি হার্দিকের পারফরম্যান্সে ক্ষুব্ধ। তবে হার্দিক নিজেই সতীর্থদের কারণে দলে থাকতে চাইছেন না।
সংবাদ সংস্থার দাবি, দলের সিনিয়র ক্রিকেটারদের দায়বদ্ধতায় খুশি নন হার্দিক। তাঁর দাবি, ভারতের হয়ে খেলার সময় হার্দিকের থেকে সব সময় ১০০ শতাংশ প্রত্যাশা করা হয়। সেই সতীর্থেরাই মুম্বইয়ে খেলার সময় ১০০ শতাংশ দেন না। ফলে দোষ চাপে হার্দিকের ঘাড়ে। মুখে না বললেও হার্দিকের ইঙ্গিত যে সূর্যকুমার যাদব এবং জসপ্রীত বুমরাহদের দিকে তা নিয়ে সন্দেহ নেই। দু’জনেই এ বার প্রত্যাশামাফিক খেলতে পারেননি।
ওই সূত্রের কথায়, “হার্দিক মানসিক ভাবে পুরোপুরি বিধ্বস্ত। মরসুমের মাঝে পিঠেও চোট পেল। প্লে-অফের দৌড় থেকে ছিটকে যাওয়ার পরেই ও কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে দিয়েছিল, আর দলে থাকতে চায় না। সিদ্ধান্ত বদলানোর প্রশ্নই নেই। সকলকে বুঝতে হবে হার্দিকের বয়স মাত্র ৩২। দু’বছর আগে দলে ফিরেছিল। সে বছরই ওকে সমর্থকেরা ব্যঙ্গ করেছিল। এ বছরও সব কিছু পরিকল্পনামাফিক হয়নি।”
ওই সূত্র আরও বলেছেন, “একজন তরুণ ক্রিকেটার আর কী সহ্য করবে। গত তিন বছর মোটেই ভাল যায়নি। ২০২১-এ যে সাজঘর ছেড়ে বেরিয়ে এসেছিল হার্দিক, ২০২৪-এ ফিরে দেখল সেটা অনেক বদলে গিয়েছে। সিনিয়র ক্রিকেটারদের ভাবনাচিন্তা এক রকম ছিল না। যদি দৃষ্টিভঙ্গি আলাদা হওয়া সত্ত্বেও ফলাফল পাওয়া যায় তবে হতাশ হওয়ার থাকে না। কিন্তু প্রত্যেকেই যদি নিজের নিজের মতো করে ভাবতে থাকে, তা হলে একটা সময়ের পর মানসিক ভাবে নিজেকে ঠিক রাখা যায় না। তাই মরসুমের মাঝপথেই হার্দিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে মুম্বইয়ে আর থাকবে না। অগস্টের মধ্যেই ওর সিদ্ধান্ত জানা যাবে।”