বৈভব সূর্যবংশী। —ফাইল চিত্র।
২০২৫ সালের আইপিএলের আগে নিলামে বৈভব সূর্যবংশীর পিছনে রাজস্থান রয়্যালসকে ১ কোটি ১০ লক্ষ টাকা খরচ করতে দেখে অবাক হয়েছিলেন অনেকে। তখনও বৈভব তারকা হয়নি। কিন্তু এখন সে তারকা। চলতি আইপিএলে বৈভব ভরসা দেখাচ্ছে রাজস্থান রয়্যালসকে। তিন বছর আগে রাজস্থান যে ভাবে তার উপর ভরসা দেখিয়েছিল তার দাম দিচ্ছে সে। সেই নেপথ্য কাহিনি শোনা গেল এত দিনে।
বৈভবকে প্রথম দেখেছিলেন রাজস্থানের ‘ট্যালেন্ট আইডেন্টিফিকেশন কো-অর্ডিনেটর” অক্ষয় কারাঞ্জে। তাঁকে রাজস্থানের কর্তা থেকে শুরু করে সাপোর্ট স্টাফ, সকলে ‘জহুরি’ বলে ডাকেন। জহুরি যেমন হিরে চেনে, তেমনই হিরে তুলে আনেন তিনি। অক্ষয় প্রথম দর্শনেই বুঝে গিয়েছিলেন, বৈভব ভবিষ্যতের তারকা।
২০২৩ সালের ঠিক আগে বৈভবকে প্রথম দেখেছিলেন অক্ষয়। সঙ্গে সঙ্গে তিনি দলের হোয়াটস্অ্যাপ গ্রুপে জানিয়ে দিয়েছিলেন, দুর্দান্ত এক প্রতিভা এসেছে। একে নিতেই হবে। সেই সময় রাজস্থানের ডিরেক্টর অফ ক্রিকেট তথা কোচ ছিলেন কুমার সঙ্গকারা। তিনি অক্ষয়ের কথা শুনে ট্রায়ালে ডেকেছিলেন বৈভবকে। বাকিটা ইতিহাস।
গুয়াহাটিতে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সকে হারানোর নেপথ্যে বড় ভূমিকা নিয়েছে বৈভব। ১৪ বলে ৩৯ রানের ইনিংস খেলেছে ১৫ বছরের ব্যাটার। জসপ্রীত বুমরাহের প্রথম বলেই ছক্কা হাঁকিয়েছে সে। মুম্বইকে হারিয়ে সাংবাদিক বৈঠকে বৈভবকে দলে নেওয়া নিয়ে প্রশ্নের জবাব দেন সঙ্গকারা।
সেখানেই তিনি অক্ষয়ের প্রসঙ্গ তোলেন। সঙ্গকারা বলেন, “২০২৩ এর ঠিক আগে অক্ষয় বৈভবের নাম প্রথম বলেছিল। ও বলেছিল, দুর্দান্ত এক প্রতিভা এসেছে। আমাদের ওর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। ওকে নিতেই হবে। তখন আমরা আর এক জনকে পাঠায় ওকে দেখার জন্য। সে এসেও একই কথা বলে। তার পর ওকে ট্রায়ালে ডাকা হয়।”
ট্রায়ালে পাঁচ মিনিটের মধ্যেই বৈভবকে পছন্দ হয়ে গিয়েছিল সঙ্গকারার। তিনি বুঝে গিয়েছিলেন, এই ক্রিকেটার সাধারণ নয়। সঙ্গকারা বলেন, “স্কাউটদের (যাঁরা ক্রিকেটার তুলে আনেন) মতামতের উপর ভরসা করে আমরা ট্রায়াল করি। অক্ষয় ওকে দেখেই বুঝে গিয়েছিল। ওর উপর আমাদের ভরসা ছিল। তাই বৈভবকে ডেকেছিলাম। ট্রায়ালে ওকে পাঁচ মিনিট দেখে বুঝে গিয়েছিলাম, ও সাধারণ প্রতিভা নয়। তখনই ঠিক করে নিয়েছিলাম, ওকে দলে নিতে হবে। এখন সকলে দেখতে পাচ্ছে, ও কী মানের ব্যাটার। এই বয়সেই ও তারকা হয়ে গিয়েছে।”
অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের পাশাপাশি বরাবর তরুণ প্রতিভার দিকে নজর থাকে রাজস্থানের। এই দলেই শুরু করেছিলেন সঞ্জু স্যামসন। চলতি বছর তাঁর ব্যাটেই ভারত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতেছে। রিয়ান পরাগের মতো তরুণও এই দলেই বড় হয়েছেন। এ বার রাজস্থানের অধিনায়ক তিনি। তিন বছর আগে আরও এক প্রতিভায় বিনিয়োগ করেছিল রাজস্তান। তার ফল পাচ্ছে তারা।