অজিঙ্ক রাহানে। ছবি: পিটিআই।
আইপিএলে হেরেই চলেছেন অজিঙ্ক রাহানেরা। চেন্নাই সুপার কিংসের কাছে হারের পর ব্যাটিং ব্যর্থতা মেনে নিলেন কলকাতা নাইট রাইডার্সের অধিনায়ক। তাঁর মতে, উপরের দিকের অন্তত এক জন ব্যাটারের শেষ পর্যন্ত ২২ গজে থাকা দরকার ছিল। প্রশংসা করলেন চেন্নাইয়ের ব্যাটারদের। প্রথম একাদশের রদবদলের ইঙ্গিতও দিয়ে রাখলেন রাহানে।
ম্যাচের পর হারের কারণ ব্যাখ্যা করে রাহানে বলেন, ‘‘আমরা বেশ ভাল বল করেছি। আবার এটাও ঠিক চেন্নাইয়ে পিচে ১৯০ রান খুবই ভাল। চেন্নাই পাওয়ার প্লে খুব ভাল কাজে লাগিয়েছে। পাওয়ার প্লেই ম্যাচে দু’দলের পার্থক্য তৈরি করে দিয়েছে। আমরা বোধহয় প্রথম ৬ ওভারে ৩৬ বা ৩৭ রান করতে পেরেছি। এটাই খুব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে গিয়েছে। আমাদের উপরের দিকের এক জন ব্যাটারের শেষ পর্যন্ত ২২ গজে থাকা উচিত ছিল। তা হলে হয়তো অন্যরকম হতে পারত।’’ আদৌ কি কিছু হত? একটা ভাল জুটিও তো তৈরি করতে পারেননি কেকেআর ব্যাটারেরা। উল্লেখ্য, চেন্নাইয়ের বিরুদ্ধে কেকেআরের হয়ে সর্বোচ্চ রান রমনদীপ সিংহের ৩৫!
প্রথম একাদশ নির্বাচন কি ঠিক হচ্ছে? পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে কেকেআর অধিনায়ক বলেছেন, ‘‘আমরা শেষ দু’টো ম্যাচ যে দল নিয়ে খেললাম, সেটা সত্যিই ভাল। তবে আমাদের আরও ভাবতে হবে। আমরা জিততে পারছি না ঠিকই। তা-ও মাথা উঁচু রাখতে হবে আমাদের। চিবুক উঁচু রাখতে হবে। বার বার ম্যাচের ফল যদি পক্ষে না আসে, তা হলে প্রথম একাদশ নিয়ে ভাবতেই হবে। তবে আমরা ইতিবাচক ভাবেই ভাবতে চাই। সাহসী থাকতে চাই।’’ বার বার আত্মবিশ্বাস ধরে রাখার কথা বললেও রাহানেকে ম্যাচের পর সম্পূর্ণ দিশেহারা দেখিয়েছে। ম্যাচ চলাকালীনও তাঁর চেহারায় আত্মবিশ্বাসের ছাপ খুঁজে পাওয়া যায়নি।
দলের পারফরম্যান্সে হতাশ হলেও রাহানে প্রশংসা করলেন কার্তিক ত্যাগীর। কেকেআর অধিনায়ক বলেছেন, ‘‘কার্তিক সত্যিই খুব ভাল বল করেছে। সম্পূর্ণ ওর কৃতিত্ব। প্রতি ম্যাচে উন্নতি করছে। বলের গতিও দুর্দান্ত। ওর বলে ছয় মারা কোনও ব্যাটারের পক্ষেই সহজ নয়। স্পিনারেরও ভাল বল করেছে। এর পরও আমাদের ইতিবাচক থাকতে হবে। আত্মবিশ্বাস ধরে রাখতে হবে।’’
প্রশ্ন তৈরি হয়েছে রাহানের নেতৃত্ব নিয়েও। স্পিনারেরা ভাল বল করেছেন, নিজেই স্বীকার করছেন। অথচ অনুকূল রায় এবং বরুণ চক্রবর্তীকে দিয়ে পুরো ৪ ওভার করে বল করালেন না। প্রতি ম্যাচে জঘন্য পারফরম্যান্স করে যাওয়া বৈভব অরোরার উপর আস্থা রেখে চেন্নাইয়ের রান অযথা বাড়িয়ে দিলেন।