খেলা শেষে হাত মেলাচ্ছেন ভারত ও বাংলাদেশের ক্রিকেটারেরা। ছবি: এক্স।
জয়ের কৃতিত্ব বৃষ্টিকে দিচ্ছেন ভারত অধিনায়ক আয়ুষ মাত্রে। একটা সময় দেখে মনে হচ্ছিল, হাসতে হাসতে ম্যাচ জিতবে বাংলাদেশ। কিন্তু বৃষ্টির পর ছবি বদলে গেল। বাংলাদেশকে ডাকওয়ার্থ লুইস নিয়মে ১৮ রানে হারাল ভারত। বৃষ্টি না হলে জেতা কঠিন হত, মানছেন আয়ুষ। টসের পর দু’দলের ক্রিকেটারেরা হাত না মেলালেও খেলা শেষে দেখা গেল, ভারত ও বাংলাদেশের ক্রিকেটারেরা হাত মেলাচ্ছেন।
বাংলাদেশের বিরুদ্ধে নাটকীয় জয়ের পর দেখা যায়, বাকি ক্রিকেটারেরা একটি টুপি দিচ্ছেন আয়ুষকে। পরে বিষয়টি বোঝা যায়। সেই টুপিতে সই ছিল বৈভব সূর্যবংশী-সহ বাকি ক্রিকেটারদের। সেই টুপিই তুলে দেওয়া হয় আয়ুষের হাতে। কেন সতীর্থেরা তাঁকে সই করা টুপি দিয়েছেন, তার কারণও জানান আয়ুষ। তিনি বলেন, “ওরা আমাকে উজ্জীবিত করার জন্য এটা করেছে। ওরা বোঝাতে চেয়েছে, যে কোনও পরিস্থিতিতে আমি আমার দলকে জেতাতে পারি।”
খেলা শেষে আয়ুষ প্রশংসা করলেন বৈভব ও বাঙালি অভিজ্ঞান কুন্ডুর। তাঁরা না থাকলে চাপে পড়ত ভারতের ব্যাটিং। ২৩৮ রানের মধ্যে বৈভব করে ৭২ রান। অভিজ্ঞানের ব্যাট থেকে আসে ৮০ রান। আয়ুষ বলেন, “যে ভাবে বৈভব ও অভিজ্ঞান ব্যাট করেছে তা অসাধারণ। এই উইকেটে ব্যাট করা সহজ নয়। উইকেটে বল পড়ে ব্যাটে সহজে আসছিল না। ফলে ব্যাটারদের মানিয়ে নিতে হচ্ছিল। সেটাই ওরা খুব ভাল ভাবে করেছে। ওদের ব্যাটিং আমাদের জয়ের ভিত গড়ে দিয়েছিল।”
বাংলাদেশের ইনিংসের মাঝে বৃষ্টিতে বেশ কিছু ক্ষণ খেলা বন্ধ থাকে। তার আগে ছন্দে খেলছিলেন বাংলাদেশের ব্যাটারেরা। বৃষ্টিতে সেই ছন্দ নষ্ট হয়। সেটাই সুবিধা করে দেয় ভারতকে। আয়ুষ বলেন, “বৃষ্টির বিরতিতে আমরা এটাই আলোচনা করছিলাম যে, এতে আমাদের সুবিধা হল। কারণ, তার আগে খেলার রেশ বাংলাদেশের হাতে ছিল। আমরা বলছিলাম, বৃষ্টি আমাদের জেতার সুযোগ করে দিয়েছে। সেটা কাজে লাগাতে হবে। আমরা সেটা করেছি।”
বৃষ্টির পর পার্ট-টাইম স্পিনার বিহান মলহোত্রের হাতে বল তুলে দেন আয়ুষ। চার ওভার বল করে ১৪ রান দিয়ে ৪ উইকেট নেন বিহান। সেখানেই হেরে যায় বাংলাদেশ। সেই সিদ্ধান্তের নেপথ্য কারণও জানিয়েছেন আয়ুষ। তিনি বলেন, “বাংলাদেশের ব্যাটারেরা আশা করেনি, ওই সময় আমি পার্ট-টাইম স্পিনারকে বল দেব। কারণ, ওই পরিস্থিতিতে পার্ট-টাইম স্পিনারের বল খেলা কঠিন হয়। ওরা বিহানের বোলিং খুব বেশি দেখেনি। ও ইয়র্কার ভাল করে। গতির হেরফের করতে পারে। ওর উপর আমার বিশ্বাস ছিল।
টসের সময় বাংলাদেশের সহ-অধিনায়ক জ়াওয়াদ আবরার ও আয়ুষ হাত মেলাননি। ক্রিকেটারেরাও করমর্দন করেননি। যদিও খেলার মাঝেই বিবৃতি দিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড জানায়, কাউকে অসম্মান করার কোনও অভিপ্রায় তাদের ছিল না। যা হয়েছে তা পুরোটাই অনিচ্ছাকৃত ও সাময়িক অসাবধানতার ফলে হয়েছে। ক্রিকেটের সংস্কৃতি রক্ষার বিষয়ে ক্রিকেটারদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানায় তারা। খেলা শেষে তার প্রতিফলন দেখা যায়। দু’দেশের ক্রিকেটারেরা একে অপরের সঙ্গে হাত মেলান। অর্থাৎ, ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে যে দৃশ্য দেখা যাচ্ছে, তা ভারত-বাংলাদেশের ছোটদের ম্যাচে দেখা যায়নি। বাংলাদেশের অধিনায়ক আজিজুল হাকিমও জানান, ভারতের মতো শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে যে লড়াই তাঁরা করেছেন তাতে তিনি দলকে নিয়ে গর্বিত।