আইপিএল ট্রফি। —ফাইল চিত্র।
সাজঘরে ধূমপান করেছেন রাজস্থান রয়্যালসের অধিনায়ক রিয়ান পরাগ। ডাগ আউটে বসে মোবাইল ব্যবহার করেছেন রাজস্থানের ম্যানেজার রোমি ভিন্দার। ম্যাচ শেষে সমাজমাধ্যমে রিল বানিয়েছেন পঞ্জাব কিংসের পেসার অর্শদীপ সিংহ। চলতি আইপিএলে বার বার নিয়ম ভাঙতে দেখা গিয়েছে ক্রিকেটার ও সাপোর্ট স্টাফদের। সেই কারণে কি আরও কড়া নিয়ম আনতে চলেছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড? এই বিষয়ে মুখ খুললেন আইপিএলের চেয়ারম্যান অরুণ ধূমল।
ইতিমধ্যেই এই সব কাজে পদক্ষেপ করেছে বোর্ড। পরাগ ও ভিন্দারকে জরিমানা করা হয়েছে। অর্শদীপকে সতর্ক করেছে বোর্ড। সব দলকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, ভবিষ্যতে যেন এই ঘটনা আর না ঘটে। আগেই কয়েকটি নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই নির্দেশিকায় কি আরও কড়াকড়ি করা হবে?
‘ইন্ডিয়া টুডে’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ধূমল জানিয়েছেন, ক্রিকেটের সম্মান যাতে কোনও ভাবে নষ্ট না হয়, সে দিকে সতর্ক তাঁরা। তিনি বলেন, “সমাজমাধ্যমে যা দেখা যায়, তা সব সময় সত্যি হয় না। কিন্তু আমাদের লক্ষ্য রাখতে হবে, ক্রিকেটের সম্মান যাতে কোনও ভাবে না কমে। যা ঘটে তার থেকে অনেক বেশি সমাজমাধ্যমে ছড়ায়। তাই আমাদেরই সতর্ক থাকতে হবে।”
তাঁরা ইতিমধ্যেই কিছু নিয়ম করেছেন। কিন্তু তা ক্রিকেটারদের ভয় দেখানোর জন্য নয়, বরং তাঁদের ভালর জন্য। এই বিষয়টি স্পষ্ট করে দিয়েছেন ধূমল। তিনি বলেন, “কিছু নিয়ম করা হয়েছে। আমি নিশ্চিত, প্রতিটা দল তাদের ভূমিকা জানে। এমনকি, ক্রিকেটারেরাও জানে তাদের কী করতে হবে। কারণ, যদি আইপিএলের মতো প্রতিযোগিতায় কোনও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে, তা হলে তার প্রভাব ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের উপরেও পড়বে। ক্রিকেটারেরাও সেখান থেকে বাঁচতে পারবে না। তাই নিজেদের ভাল তাদেরই বুঝতে হবে। যা নিয়ম করা হয়েছে তা ক্রিকেটারদের ভালর জন্যই।”
সমাজমাধ্যমকে খুব একটা ভাল চোখে দেখেন না ধূমল। তিনি সমাজমাধ্যম ব্যবহারও খুব একটা করেন না বলে জানিয়েছেন। কিন্তু কাউকে আটকানোর ক্ষমতা তাঁর নেই। ধূমল বলেন, “সমাজমাধ্যমই এখন সবচেয়ে অসামাজিক। আমি নিজে সমাজমাধ্যমে খুব একটা ব্যবহার করি না। কারণ, আমার মতে, এর বাইরেও সামাজিক হওয়ার মতো অনেক বিষয় রয়েছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক ভাবে এটা সমাজমাধ্যমের যুগ। তাই কাউকে আটকাতেও পারব না। তার মধ্যেই নিজের ভাল সকলকে বুঝতে হবে।”
আইপিএলের মাঝেই ১০ দলের জন্য আট পাতার একটি নির্দেশিকা জারি করেছে বোর্ড। বেশ কিছু দল এবং ক্রিকেটারের তরফে এ বার বিধিনিষেধ লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে। বাইরের লোককে সাজঘরে ঢুকতে দেখা যাচ্ছে। দলের খবর বাইরে বার হচ্ছে। এতে ক্রিকেটারদের সুরক্ষা ও খেলার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। সেই কারণেই প্রতিযোগিতার মাঝপথে নতুন করে কড়া হয়েছে উদ্বিগ্ন বিসিসিআই।
বোর্ড সচিব দেবজিৎ শইকীয়া দশটি ফ্র্যাঞ্চাইজিকে পেশাদারিত্ব এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন লিখিত ভাবে। ওই নির্দেশিকায় প্রধান যে বিষয়গুলি বলা হয়েছে—
· টিম ম্যানেজারের লিখিত অনুমতি ছাড়া হোটেলে ক্রিকেটার বা সাপোর্ট স্টাফেদের ঘরে কোনও বাইরের ব্যক্তি প্রবেশ করতে পারবেন না।
· অতিথিদের সঙ্গে শুধুমাত্র হোটেলের লবি বা রিসেপশনে দেখা করা যাবে।
· হানি ট্র্যাপিং এবং যৌন হেনস্থার মতো আইনি জটিলতা এড়াতে এই সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে।
· হোটেল থেকে বার হওয়ার আগে ক্রিকেটার এবং কর্মীদের অবশ্যই সিকিউরিটি লিয়াজোঁ অফিসার বা টিম ইন্টিগ্রিটি অফিসারকে জানাতে হবে।
· ব্যক্তিগত বা বিনোদনের কারণে বাইরে গেলেও টিম ম্যানেজারকে আগে থেকে অবহিত করা বাধ্যতামূলক।
· ম্যাচ চলাকালীন ডাগআউট, সাজঘর বা মাঠে দল মালিকেরা ক্রিকেটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারবেন না।
· পিএমওএ (প্লেয়ার্স অ্যান্ড ম্যাচ অফিসিয়ালস অ্যাকসেস) প্রোটোকল লঙ্ঘন করাকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে দেখা হবে।
· রিয়ান পরাগ এবং যুজবেন্দ্র চাহালের ভ্যাপিং সংক্রান্ত বিতর্কের পর বিসিসিআই স্পষ্ট করেছে যে, মাঠ, সাজঘর, ডাগআউট এবং টিম হোটেলে ই-সিগারেট সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
· ভারতে ই-সিগারেট আইনত নিষিদ্ধ, তাই এটি সেবন করলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার পাশাপাশি আইনি পদক্ষেপও করা হতে পারে।
বিসিসিআই নির্দেশ দিয়েছে যে, এই নির্দেশিকা পাওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিটি দলকে একটি বাধ্যতামূলক ব্রিফিং করতে হবে এবং সমস্ত ক্রিকেটার ও কর্মীদের কাছ থেকে নিয়ম মানার লিখিত প্রতিশ্রুতি নিতে হবে।
যদি কেউ এই নিয়ম লঙ্ঘন করে, তবে বিসিসিআই নিম্নলিখিত পদক্ষেপ নিতে পারে:
· সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা ফ্র্যাঞ্চাইজিকে শো কজ় নোটিস পাঠানো।
· বিশাল অঙ্কের আর্থিক জরিমানা।
· চলতি বা পরবর্তী প্রতিযোগিতা থেকে বরখাস্ত বা বহিষ্কার।
· গুরুতর ক্ষেত্রে আইনি পদক্ষেপ।