খুদে ট্রফিজয়ীদের সঙ্গে (বাঁ দিক থেকে) অভিষেক ডালমিয়া, অনুষ্টুপ মজুমদার, মিঠুন মনহাস এবং মনোজ তিওয়ারি। — ফাইল চিত্র।
শেষ হল ‘এনসিসি বেবি লিগ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট ২০২৬’। এই প্রতিযোগিতা উপস্থাপনা করেছে ‘কিডস অন জ়ি ফাইভ’ এবং আয়োজন করেছে ন্যাশনাল ক্রিকেট ক্লাব, মেনল্যান্ড সম্বরণ অ্যাকাডেমির সাহায্যে। বুধবার ফাইনালে ৭৩ রানে পাটুলি ক্রিকেট অ্যাকাডেমিকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হল পল্লীশ্রী। ফাইনাল আরও বেশি উজ্জ্বল হয়ে উঠল ভারতীয় বোর্ড প্রেসিডেন্ট মিঠুন মনহাসের উপস্থিতিতে।
এ দিন টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় পল্লীশ্রী। শৌভিক ঘোষের (৩২ বলে ৭৭) ও স্পন্দন দে-র (২৮ বলে ৬৫) ইনিংসের সুবাদে নির্ধারিত দশ ওভারে তারা তোলে ১৫৫/১। জবাবে রান তাড়া করতে নেমে পরের পর উইকেট হারাতে থাকে পাটুলি ক্রিকেট অ্যাকাডেমি। প্রয়েজনীয় রান রেটের সঙ্গে পাল্লা দিতে চেষ্টা করেছিল তারা। পাটুলির ক্রিকেটার নীল সরকার (২৬ বলে ৪৮) ভাল খেলে। কিন্তু তা ফাইনাল জেতানোর পক্ষে যথেষ্ট ছিল না। পল্লীশ্রীর মহম্মদ মেহরাব মোল্লা ১১ রান দিয়ে দু’উইকেট নেয়। বেদবিজয় রায় ২৩ রান দিয়ে নেয় ২ উইকেট। শেষ পর্যন্ত দশ ওভারে ৮২/৬ স্কোরেই থেমে যায় পাটুলি ক্রিকেট অ্যাকাডেমির লড়াই।
বেবি লিগের ফাইনালে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি মিঠুন মনহাস ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ঝুলন গোস্বামী, মনোজ তিওয়ারি, অনুষ্টুপ মজুমদার, গার্গী বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো ক্রিকেট-ব্যক্তিত্বরা। খেলা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে মিঠুন বলেন, ‘‘এই বেবি লিগকে অবশ্যই ভাল উদ্যোগ বলতে হবে। এত ছোট-ছোট বয়সে ক্রিকেটারেরা চাপ সামলে ম্যাচ খেলছে! পুরোটাই অবাক করার মতো। একজন খুদে ক্রিকেটারকে অল্প বয়সে যন্ত্রের থেকে দূরে রাখা বাঞ্ছনীয়। তার চেয়ে তারা ক্রিকেট খেলুক। আর সেই প্রেক্ষিতে বেবি লিগের মতো মঞ্চের চেয়ে ভালো কী-ই হতে পারে? অভিষেক ডালমিয়াকে অভিনন্দন এ রকম এক টুর্নামেন্টের আয়োজনের জন্য। দারুণ কাজ করেছেন অভিষেক। ভবিষ্যতে এই প্রতিযোগিতা আরও বড় রূপ নেবে’’
প্রাক্তন সিএবি প্রেসিডেন্ট অভিষেক ডালমিয়া ‘এনসিসি বেবি লিগ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট’ প্রসঙ্গে বলেন, ‘‘টুর্নামেন্টটা সত্যি খুব ভাল হয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা, ভাল ক্রিকেট হয়েছে। বাচ্চারা উপভোগ করেছে, মনপ্রাণ দিয়ে খেলেছে। বেবি লিগ আয়োজনের উদ্দেশ্য ছিল শিশু ক্রিকেটারদের নিজেদের প্রতিভা প্রদর্শনের একটা মঞ্চ তৈরি করে দেওয়া। ভাল লাগছে দেখে যে, ওরা সেই মঞ্চকে সঠিক ভাবে ব্যবহার করেছে।’’ বাংলার রঞ্জি জয়ী অধিনায়ক সম্বরণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘আমরা পরীক্ষামূলক ভাবে টুর্নামেন্টটা করেছিলাম। ভাবিনি এমন উত্তুঙ্গ সাফল্য পাব। আমরা এ বছর ২৪টা দল নিয়ে টুর্নামেন্ট করেছি। পরের বছর দলের সংখ্যা অবশ্যই বাড়বে।” ফাইনাল দেখতে এসেছিলেন ইডেন কিউরেটর সুজন মুখোপাধ্যায়ও। তিনি নিজ উদ্যোগে ক্রিকেটারদের রিস্ট ব্যান্ড উপহার দিয়ে যান।