(বাঁ দিক থেকে) সলমন আঘা, ঈশান কিশন, রশিদ খান। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম
১৯ মাস আগে ব্রিজটাউনের সেই রাত এখনও উজ্জ্বল ভারতের ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে। মাঠের মাঝখানে রোহিত শর্মার ভারতের জাতীয় পতাকা গেঁথে দেওয়ার দৃশ্য আরও এক বার তাঁরা দেখতে চান আগামী ৮ মার্চ। এ বারও বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম দাবিদার সূর্যকুমার যাদবের দল। দেশের মাঠে প্রতিযোগিতা হলেও লড়াই কঠিন। ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, নিউ জ়িল্যান্ড, পাকিস্তানের মতো ক্রিকেট শক্তিরা রয়েছে। থাকবে ঘরের মাঠে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার প্রত্যাশার চাপও।
এখনও কোনও দেশ পর পর দু’বার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি। নজির গড়ার সুযোগ রয়েছে ভারতের সামনে। এ বারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নেই রোহিত শর্মা। নেই বিরাট কোহলিও। তাঁদের জায়গা নিয়েছেন অভিষেক শর্মা, তিলক বর্মারা। ভারতের তরুণ ক্রিকেটারেরাও টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে দাপট বজায় রেখেছেন। আশায় রয়েছেন দেশের ক্রিকেটপ্রেমীরাও।
ভারতীয় দল যেমন বদলে গিয়েছে, তেমনই বদলে গিয়েছে এ বারের বিশ্বকাপ। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটসংস্থার সিদ্ধান্তে প্রতিযোগিতা থেকে বহিষ্কৃত হয়েছে বাংলাদেশ। তাদের জায়গায় সুযোগ পেয়েছে স্কটল্যান্ড। বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়ে পাকিস্তান আবার ভারত-ম্যাচ বয়কটের কথা ঘোষণা করে জয় শাহদের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছে। শুরুর আগেই আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে বিশ্বকাপ। বিতর্কের মধ্যেই চলেছে প্রস্তুতি।
ভারতের পাঁচটি এবং শ্রীলঙ্কার তিনটি স্টেডিয়ামে হবে ৫৫টি ম্যাচ। তালিকায় রয়েছে কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সও। ইডেনে প্রথম ম্যাচ প্রথম দিনই। মুখোমুখি হবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ় এবং স্কটল্যান্ড। সে দিনই মাঠে নামবে পাকিস্তান-নেদারল্যান্ডস এবং ভারত-আমেরিকা। গ্রুপ ‘এ’-তে এই চার দলের সঙ্গে রয়েছে নামিবিয়া। গ্রুপ ‘বি’-তে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া, শ্রীলঙ্কা, আয়ারল্যান্ড, জ়িম্বাবোয়ে, ওমান। গ্রুপ ‘সি’র পাঁচটি দল হল ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ়, নেপাল, ইটালি এবং স্কটল্যান্ড। গ্রুপ ‘ডি’-তে রয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা, নিউ জ়িল্যান্ড, আফগানিস্তান, কানাডা এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহি।
ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে আকর্ষণ রয়েছে ফুটবলে চার বার বিশ্বজয় করা ইটালিকে নিয়ে। গত দু’টি ফুটবল বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে না পারা ইটালি কি ক্রিকেটে ঝুঁকছে? নিশ্চিত করে বলার মতো সময় এখনও আসেনি। তবে বিশ্বকাপে ইটালির উপস্থিতি ক্রিকেটের বিশ্বায়নের পক্ষে ইতিবাচক। যদিও জয় শাহদের ২০ দেশের বিশ্বকাপে নেই দক্ষিণ আমেরিকার কোনও দেশ।
এ বারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আকর্ষণের কেন্দ্রে ইটালি। ফুটবলে চার বার বিশ্বজয়ী ইটালি প্রথম বার খেলবে ক্রিকেট বিশ্বকাপ। ইটালির অধিনায়ক এই নিয়ে দ্বিতীয় বার বিশ্বকাপ খেলবেন। ৪২ বছরের ওয়েন ম্যাডসেনের প্রথম বিশ্বকাপ কিন্তু ক্রিকেটের নয়। ২০০৬ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে হকি বিশ্বকাপ খেলেছিলেন! অথচ ক্রিকেট খেলেন ইটালির হয়ে। দক্ষিণ আফ্রিকার আর এক প্রাক্তন ক্রিকেটার জেজে স্মাটসও রয়েছেন ইটালি দলে।
ইটালির মতো ক্রিকেটের আরও কিছু খুদে দেশ রয়েছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে। নেপাল, নামিবিয়া, ওমান, নেদারল্যান্ডস, স্কটল্যান্ড, কানাডা, আমেরিকা রয়েছে। ২০ ওভারের ক্রিকেটে হালকা ভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই কোনও দলকেই। দু’-তিনটে ভাল বা খারাপ ওভারই ম্যাচের রং বদলে দিতে পারে। গত বিশ্বকাপেই পাকিস্তানকে হারিয়ে দিয়েছিল আমেরিকা। বিশ্বকাপে রয়েছে জ়িম্বাবোয়ে, আয়ারল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরশাহির মতো দেশও। যারা ক্রিকেট বিশ্বে কুলীন না হলেও নিজেদের দিনে যে কোনও দলকে হারিয়ে দিতে পারে।
আগের চেয়ে দুর্বল হলেও পাকিস্তান, ওয়েস্ট ইন্ডিজ়, শ্রীলঙ্কাকে হিসাবের বাইরে রাখা যায় না। খেতাবের দৌড়ে থাকতেই পারে তারা। আফগানিস্তানকে হেলাফেলা করা যায় না। বিশেষ করে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে তো নয়ই। গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেই শেষ চারে পৌঁছে গিয়েছিলেন রশিদ খানেরা। যে কোনও দলকে হারাতে পারেন তাঁরা। এ বারও আফগানেরা ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের চমকে দিতে পারেন।
নিউ জ়িল্যান্ড টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে কিছুটা পিছিয়ে ধারাবাহিকতার অভাবের জন্য। যদিও মিচেল স্যান্টনারের দলে ডেভন কনওয়ে, টিম সেইফার্ট, ডারেল মিচেল, রাচিন রবীন্দ্র, গ্লেন ফিলিপস, জেকব ডাফি, কাইল জেমিসন, লকি ফার্গুসনের মতো ক্রিকেটার রয়েছে। একক দক্ষতায় ম্যাচ জেতানোর ক্ষমতা রয়েছে তাঁদের।
নিউ জ়িল্যান্ড ছাড়াও ভারতের সঙ্গে বিশ্বকাপ জয়ের মূল দৌড়ে থাকতে পারে অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড এবং দক্ষিণ আফ্রিকা। ২০ ওভারের ক্রিকেটে দলগত শক্তির নিরিখে এই চার দল বাকিদের চেয়ে এগিয়ে। হ্যারি ব্রুকের দলে রয়েছেন জস বাটলার, ফিল সল্ট, বেন ডাকেট, সাম কারেন, জ্যাক উইলস, জফ্রা আর্চারের মতো ক্রিকেটার। গত বারের সেমিফাইনালিস্ট ইংল্যান্ডকে গুরুত্ব দিতেই হবে।
দক্ষিণ আফ্রিকা গত বারের রানার্স। এডেন মার্করামের দলে রয়েছেন কুইন্টন ডি কক, ডেভিড মিলার, রায়ান রিকেলটন, ট্রিস্টান স্টাবস, মার্কো জানসেন, কাগিসো রাবাডা, কেশব মহারাজের মতো ক্রিকেটারেরা রয়েছেন।
ক্রিকেটের ২২ গজে অস্ট্রেলিয়া অস্ট্রেলিয়াই। কে আছে, কে নেই গুরুত্বপূর্ণ নয়। অস্ট্রেলিয়া দলটাই গুরুত্বপূর্ণ। প্রথম কয়েকটা ম্যাচে অনিশ্চিত জশ হেজ়লউড। মিচেল মার্শের দলে রয়েছেন টিম ডেভিড, ট্রেভিস হেড, ম্যাথু শর্ট, গ্লেন ম্যাক্সওয়েল, মার্কাস স্টোইনিস, ক্যামেরন গ্রিনের মতো ক্রিকেটারেরা। গত দু’বার সেমিফাইনালে উঠতে না পারার আক্ষেপ এ বার মিটিয়ে নিতে চাইবেন অজিরা।
ট্রফি ধরে রাখার ক্ষেত্রে এই চার দেশই ভারতের মূল প্রতিপক্ষ। সলমন আলি আঘা বা লিটন দাসেরাও চাপে রাখতে পারতেন সূর্যদের। বাংলাদেশ বহিষ্কার হওয়ায় এবং পাকিস্তান ভারত-ম্যাচ বয়কট করায় বিশ্বকাপের আকর্ষণ খানিকটা হলেও কমবে।