(বাঁ দিকে) ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (ডান দিকে)। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
ইরানে থাকা আমেরিকানদের অবিলম্বে সেই দেশ ছাড়তে বলল মার্কিন প্রশাসন। ইরানে কোনও মার্কিন দূতাবাস নেই। সুইৎজ়ারল্যান্ডের মাধ্যমে ইরাননিবাসী আমেরিকানদের উদ্দেশে শুক্রবার সকালে এই বার্তা দিয়েছে ওয়াশিংটন। বলা হয়েছে, যত দ্রুত সম্ভব আমেরিকান নাগরিকদের ইরান ছেড়ে বেরিয়ে যেতে হবে। আমেরিকার সরকারের সাহায্য ছাড়াই তা করতে হবে। কেউ যদি বেরোতে না পারেন, তবে নিরাপদ স্থানে তাঁদের আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ইরান এবং আমেরিকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বরাবরই তিক্ত। গত কয়েক সপ্তাহে তিক্ততা বেড়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, যে কোনও মুহূর্তে ইরানে সামরিক পদক্ষেপ পারে আমেরিকা। পাল্টা প্রত্যাঘাতের হুমকি দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইও। এই পরিস্থিতিতে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার আয়োজন করা হয়েছে ওমানে। ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাগচী ইতিমধ্যে সেখানে পৌঁছেও গিয়েছেন। তার মধ্যেই মার্কিন প্রশাসনের কাছ থেকে ইরাননিবাসী আমেরিকানদের জন্য এল সতর্কবার্তা।
দূতাবাসের বিবৃতিতে মার্কিন নাগরিকদের উদ্দেশে বলা হয়েছে, ‘‘এখনই ইরান ছাড়ুন। আমেরিকার সরকারি সাহায্য ছাড়া ইরান ত্যাগ করার পরিকল্পনা তৈরি রাখুন। হাতে সময় খুব কম। বিমান বাতিল এবং অন্যান্য ঝামেলা শুরু হয়ে যেতে পারে। সরাসরি বিমান সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করুন। যদি ইরান ছেড়ে বেরোতে না-পারেন, নিরাপদ আশ্রয় খুঁজুন। সেখানে পর্যাপ্ত খাবার, জল, ওষুধ ও অন্য জরুরি সামগ্রীর ব্যবস্থা রাখুন।’’ ইরানে মার্কিন নাগিরকদের প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে বেরোতে নিষেধ করেছে দূতাবাস। সদা সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। যে কোনও মুহূর্তে যে কোনও পরিস্থিতির জন্য তৈরি থাকতে বলা হয়েছে। সবসময় ফোনে চার্জ দিয়ে রাখার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।
যাঁদের আমেরিকা এবং ইরান উভয় দেশের পাসপোর্ট রয়েছে, তাঁদের ইরানি পাসপোর্টের ভিত্তিতে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে মার্কিন প্রশাসন। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘‘ইরানে এখন মার্কিন নাগরিকেরা মোটেই নিরাপদ নয়। তাঁদের ধরপাকড় শুরু হতে পারে। গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে। অকারণে আটকে রাখা হতে পারে।’’ আমেরিকান পাসপোর্ট বা আমেরিকার সঙ্গে যে কোনও রকম যোগাযোগ গোপন করে যেতে বলেছে মার্কিন দূতাবাস। স্থলপথে ইরান ছাড়ার ক্ষেত্রে আর্মেনিয়া বা তুরস্কের সীমান্ত ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে নিরাপত্তা সম্পর্কে সম্পূর্ণ নিশ্চিত হয়েই ইরান ছাড়তে হবে মার্কিন নাগরিকদের। দূতাবাস জানিয়ে দিয়েছে, আমেরিকার সরকার কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতির দায় নিতে পারবে না। কারও নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিতে পারবে না।
আর্মেনিয়ার সীমান্ত খোলা আছে। উপযুক্ত মার্কিন পাসপোর্ট দেখিয়ে সেখানে প্রবেশ করতে পারবেন যে কেউ। ১৮০ দিন পর্যন্ত ভিসা ছাড়াই সেখানে থাকা যাবে। তুরস্কের সীমান্তও খোলা। সেখানে মার্কিন পাসপোর্ট নিয়ে প্রবেশ করা গেলেও ভিসা ছাড়া থাকা যাবে সর্বোচ্চ ৯০ দিন। খোলা রয়েছে তুর্কমেনিস্তানের সীমান্তও। তবে সেখানে যেতে গেলে মার্কিন নাগরিকদের সে দেশের সরকারের বিশেষ অনুমতি নিতে হবে। আজ়ারবাইজানের সীমান্ত বন্ধ রয়েছে। নাগরিকদের ইরান ছাড়ার ক্ষেত্রে ইরাক, আফগানিস্তান এবং পাকিস্তানকে এড়িয়ে যাওয়ার পরমার্শ দিয়েছে দূতাবাস।