IPL 2026

রাজস্থানকে হারা ম্যাচ জেতাল আর্চার, দেশপাণ্ডের দুই ওভার! ব্যর্থ রশিদ, রাবাডার লড়াই, ঘরের মাঠে হার শুভমনহীন গুজরাতের

যশস্বী জয়সওয়াল, ধ্রুব জুরেলের ব্যাটিংয়ের সৌজন্যে রাজস্থান ২১০/৬ স্কোর খাড়া করেছিল। ২০৪/৮ স্কোরে আটকে গেল গুজরাত। রাজস্থান জিতল ৬ রানে। চলতি আইপিএলে এই নিয়ে দ্বিতীয় বার প্রথমে ব্যাট করা দল জিতল।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৪ এপ্রিল ২০২৬ ২৩:২৯
Share:

রাজস্থান ক্রিকেটারদের উল্লাসের মুহূর্ত। ছবি: পিটিআই।

চেনা পথে হাঁটেননি রিয়ান পরাগ। শনিবার গুজরাতের বিরুদ্ধে টসে জিতেও বাকি অধিনায়কদের মতো প্রথমে বোলিং নয়, ব্যাটিং নিয়েছিলেন। দিনের শেষে সেই সিদ্ধান্ত প্রায় ব্যর্থ হয়েই গিয়েছিল। ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিল শেষ দু’টি ওভার। ১২ বলে ১৫ দরকার ছিল গুজরাতের। সেই চাপের সময়ে জফ্রা আর্চার এবং তুষার দেশপাণ্ডে দিলেন ৪ রান করে। ওখানেই ম্যাচ জিতে গেল রাজস্থান। প্রশংসিত হল রিয়ানের বুদ্ধি। যশস্বী জয়সওয়াল, ধ্রুব জুরেলের ব্যাটিংয়ের সৌজন্যে রাজস্থান ২১০/৬ স্কোর খাড়া করেছিল। ২০৪/৮ স্কোরে আটকে গেল গুজরাত। রাজস্থান জিতল ৬ রানে। চলতি আইপিএলে এই নিয়ে দ্বিতীয় বার প্রথমে ব্যাট করা দল জিতল।

Advertisement

পেশিতে টান ধরায় এ দিনের ম্যাচে খেলতে পারেননি শুভমন গিল। তাঁর জায়গায় নেতৃত্ব দেন রশিদ। তিনিই জানান, কুমার কুশাগ্রের অভিষেক হচ্ছে। সেই কুশাগ্রই শুভমনের জায়গায় ওপেন করতে নামেন। তবে খুব একটা সাফল্য পাননি। তিনটি চারের সাহায্যে ১৪ বলে ১৮ করে আউট হন। বড় রান পাননি জস বাটলারও। তিনি ২৬ করে ফিরে যান। বাটলার আউট হওয়ার পর খেই হারায় গুজরাত। ৬ রানে মধ্যে ৩ উইকেট পড়ে যায় তাদের। এক সময় ১৩৩/৫ হয়ে গিয়েছিল। টিকতে পারেননি রাহুল তেওটিয়া (১২) এবং শাহরুখ খানও (১১)। চার ওভারে ৪১ রানে ৪ উইকেট রবি বিশ্নোইয়ের।

অনেকেই ভেবেছিলেন গুজরাতের আশা শেষ। সেখান থেকে খেলা ঘুরিয়ে দেন রশিদ (২৪) এবং রাবাডা (অপরাজিত ২৩)। দুই বোলার মিলে রাজস্থানের বোলারদের নাভিশ্বাস তুলে দেন। যেখানে অনায়াসে ম্যাচ পকেটে পুরে ফেলার কথা, সেখানে রশিদ-রাবাডার হাতে রাজস্থানের বোলারেরা অনেকটা রান হজম করেন। দু’ওভার বাকি থাকার সময় মনে হয়েছিল ম্যাচ আর বাকি নেই। তখন ক্রিজ়ে জমে গিয়েছেন রশিদ-রাবাডা। কিন্তু আর্চারের বল খেলতে পারেননি দুই ব্যাটার। ১৯তম ওভারে একটিও চার হয়নি, যা রাজস্থানের ইনিংসে প্রথম বার ঘটে। শেষ ওভার করতে আসেন দেশপাণ্ডে। তিনি ছ’টি বলই ইয়র্কার করেন। পঞ্চম বলে তুলে মারতে গিয়ে আউট হন রশিদ। শেষ বলে অশোক শর্মা ছয় মারতে পারলে ম্যাচ সুপার ওভারে যেত। অশোক বল ব্যাটেই ঠেকাতে পারেননি।

Advertisement

এ দিন প্রথমে ব্যাট করতে নেমে রাজস্থান শুরুটা খারাপ করেনি। ব্যাট করতে নেমে বৈভব সূর্যবংশী মহম্মদ সিরাজের প্রথম বলেই চার মারে। সেই ওভারে আরও একটি চার আসে। পরের ওভারে কাগিসো রাবাডাকেও চার মারে। ১৯ রানের মাথায় ক্যাচ পড়ে বৈভবের। অশোক শর্মার বলে বৈভব অফসাইডে খেলতে গিয়েছিল। অনেকটা দৌড়ে গিয়েও বল তালুবন্দি করতে পারেননি জস বাটলার। সেই বল সিরাজের বাঁচাতে গিয়ে বাউন্ডারি পার করে দেন। পরের বলেই অশোককে ছয় মারে বৈভব। পাওয়ার প্লে-তে কোনও উইকেট না হারিয়ে ৬৯ তুলে দেয় রাজস্থান।

তার পরেই ফিরতে হয় বৈভবকে। নিজের দ্বিতীয় বলেই ১৫ বছরের ক্রিকেটারকে ফেরান রশিদ খান। স্টাম্পে থাকা বল পুল করতে গিয়েছিল বৈভব। মিড উইকেটে সহজ ক্যাচ নেন গ্লেন ফিলিপস। পাঁচটি চার এবং একটি ছয়ের সাহায্যে ১৮ বলে ৩১ করে বৈভব।

Advertisement

তবে রাজস্থানের রান রেট তাতে কমেনি। যশস্বীর সঙ্গে জুটি বেধে গুজরাতের বোলারদের চাপে ফেলে দেন জুরেল। শনিবার চলতি আইপিএলে প্রথম অর্ধশতরান করলেন যশস্বী। শেষ পর্যন্ত ছ’টি চার এবং তিনটি ছয়ের সাহায্যে ৩৬ বলে ৫৫ করে ফেরেন যশস্বী। রিয়ান পরাগ (৮) ব্যর্থ। জুরেলের সঙ্গে জুটি বাঁধেন শিমরন হেটমায়ার (১৮)। থামানো যাচ্ছিল না জুরেলকে। সিরাজ, রাবাডাদের মেরে তিনি ৪২ বলে ৭৫ করেন। মেরেছেন পাঁচটি চার এবং পাঁচটি ছয়। শেষের দিকে অনেকগুলি বল খেলে দেন রবীন্দ্র জাডেজা। সেই অনুযায়ী রান ওঠেনি। অবশ্য সেই রানই জিতিয়ে দিল রাজস্থানকে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement