IPL 2026

হেরেও স্বস্তি বেঙ্গালুরুর! আইপিএলে প্রথম স্থানেই শেষ করলেন কোহলিরা, ঈশান, ক্লাসেনের ব্যাটিং জেতাল হায়দরাবাদকে

হায়দরাবাদের ব্যাটিং তাণ্ডবের কাছে হেরে গেল বেঙ্গালুরু। তবে দিনের শেষে স্বস্তি পেলেন বিরাট কোহলিরা। পয়েন্ট তালিকায় প্রথম দুইয়ে থাকা নিশ্চিত হয়ে গেল বেঙ্গালুরুর।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২২ মে ২০২৬ ২৩:৩৫
Share:

হায়দরাবাদের ক্রিকেটারদের উচ্ছ্বাস। ছবি: সমাজমাধ্যম।

হায়দরাবাদের ব্যাটিং তাণ্ডবের কাছে হেরে গেল বেঙ্গালুরু। তবে দিনের শেষে স্বস্তি পেলেন বিরাট কোহলিরা। পয়েন্ট তালিকায় প্রথম স্থানে থাকা নিশ্চিত হয়ে গেল বেঙ্গালুরুর। ফলে প্রথম কোয়ালিফায়ারে হারলেও ফাইনালে যাওয়ার আরও একটি সুযোগ থাকবে তাদের। এ দিন প্রথমে ব্যাট করে অভিষেক শর্মা, ঈশান কিশন ও হাইনরিখ ক্লাসেনের দাপটে ২৫৫/৪ তুলেছিল হায়দরাবাদ। জবাবে বেঙ্গালুরু থেমে গেল ২০০/৪ স্কোরে। হায়দরাবাদ জিতল ৫৫ রানে।

Advertisement

এই ম্যাচ জেতায় বেঙ্গালুরুর মতো হায়দরাবাদও গ্রুপ পর্ব শেষ করল ১৮ পয়েন্টে। তবে রান রেটের কারণে তৃতীয় স্থানে থাকল তারা। বেঙ্গালুরুর রান রেট টপকে যেতে অন্তত ৯০ রানের ব্যবধানে জিততে হত হায়দরাবাদকে। তা হয়নি। অন্য দিকে, প্রথম দুই নিশ্চিত করার জন্য বেঙ্গালুরুতে ১৬৬ রান তুলতে হত। সেই রান অনায়াসে তুলে ফেলে তারা।

শুক্রবারের ম্যাচের পর পয়েন্ট তালিকায় সকলের উপরে শেষ করল বেঙ্গালুরু। তারা ২৬ মে প্রথম কোয়ালিফায়ার খেলবে গুজরাতের বিরুদ্ধে। হায়দরাবাদ থাকছে তৃতীয় স্থানেই। চতুর্থ স্থান ভরাট হওয়া এখনও বাকি।

Advertisement

শুরু থেকেই হায়দরাবাদের মেজাজ বাঁধা ছিল চড়া সুরে। অভিষেক শর্মা এবং ট্র্যাভিস হেড এমনিতেই আগ্রাসী ক্রিকেট খেলার জন্য প্রসিদ্ধ। কিন্তু বেঙ্গালুরুর বিরুদ্ধে কাজটা কঠিন ছিল মূলত ভুবনেশ্বর কুমার এবং জশ হেজ়লউডের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের জন্য। দুই বোলারকেই পাড়ার স্তরে নামিয়ে আনলেন হায়দরাবাদের ব্যাটারেরা। প্রথম ওভারেই ভুবনেশ্বরকে একটি চার এবং একটি ছয় মারেন অভিষেক। দ্বিতীয় ওভারে হেজ়লউড দেন আট রান। এর পর ভুবনেশ্বরকে দু’টি চার মারেন অভিষেক। চতুর্থ ওভারে রাসিখ দারকে আনা হলে, তিনিও রেহাই পাননি। তিনটি চার মেরে শুরু করেন হেড। যদিও সেই ওভারেই রাসিখ ফেরান হেডকে।

তাতে বেঙ্গালুরুর লাভের চেয়ে ক্ষতি হয় বেশি। কারণ অভিষেকের সঙ্গে এ বার আগ্রাসী মেজাজে ব্যাট করতে থাকেন ঈশান কিশনও। প্রথম দিকে অবশ্য ঈশান খুব বেশি আগ্রাসী খেলেননি। সুযোগ করে দিচ্ছিলেন অভিষেককে খেলা। তরুণ অভিষেক ২০ বলে অর্ধশতরান করেন। নবম ওভারে সুযশ শর্মা এসে অভিষেককে (৫৬) ফেরানোর পর আক্রমণাত্মক খেলতে থাকেন ঈশান।

তিনি আরও আত্মবিশ্বাস পান হাইনরিখ ক্লাসেন ক্রিজ়ে আসার পর। প্রতি ওভারেই চার-ছয় হতে থাকে নিয়ম করে। ১৩তম ওভারে হেজ়লউডকে তিনটি ছয় এবং একটি চার মেরে ২৭ রান নেন ক্লাসেন। পরের ওভারে সুযশও দু‌’টি ছক্কা হজম করেন। ঈশান তার মধ্যে অর্ধশতরান করে ফেলেন, চলতি আইপিএলে টানা চতুর্থ বার। পিছনে ছিলেন না ক্লাসেনও। তিনি অর্ধশতরান করে ফিরে যান ক্রুণাল পাণ্ড্যের বলে। দু’টি চার এবং পাঁচটি ছয়ের সাহায্যে ২৪ বলে ৫১ করেন তিনি। ঈশান আউট হন ইনিংসের শেষ বলে। আটটি চার এবং তিনটি ছয়ের সাহায্যে ৪৬ বলে ৭৯ করেন।

ইংল্যান্ড থেকে ফিরে ফিল সল্ট বেঙ্গালুরু শিবিরে যোগ দিলেও এ দিন তাঁকে প্রথম একাদশে রাখা হয়নি। আঙুলের চোটে ছিটকে যান জেকব বেথেলও। ফলে নতুন ওপেনিং জুটি তৈরি করতে হত বেঙ্গালুরুকে। বিরাট কোহলির সঙ্গে ওপেনিংয়ে আনা হয় বেঙ্কটেশ আয়ারকে। সেই কৌশল কাজেও লাগে। শুরু থেকে বেঙ্কটেশের কাজ ছিল চালিয়ে খেলা। তিনি সেটাই করেন। প্রথম ওভারেই প্যাট কামিন্সকে একটি চার এবং একটি ছয় মারেন। চতুর্থ ওভারে শিবম কুমারকে তিনটি ছয় এবং একটি চার মারেন বেঙ্কটেশ।

অর্ধশতরানের আগেই ফিরতে হয় বেঙ্কটেশকে (৪৪)। তিনি ক্রিজ়ে থাকাকালীন ধীরে খেলছিলেন কোহলি। হাত খুলতে গিয়ে উইকেট দিতে হয় তাঁকেও (১৫)। বেঙ্গালুরুর চিন্তা বাড়িয়ে ফিরে যান দেবদত্ত পডিক্কলও (২১)। সেখান থেকে বেঙ্গালুরুকে দাঁড় করান অধিনায়ক পাটীদার এবং ক্রুণাল। চতুর্থ উইকেটে ৫৭ বলে ৮৪ রানের জুটি গড়েন তাঁরা। অবশ্য যে ভাবে আস্কিং রেট লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছিল তাতে বেঙ্গালুরুর জয়ের আশা ক্রমশ কমছিল। পাটীদার ৫৬ রানে ফিরে যান। ক্রিজ়ে থাকেন ক্রুণাল (অপরাজিত ৪১) এবং টিম ডেভিড (অপরাজিত ১৫)।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement