Mamata Banerjee

ঘরে তালা! কলকাতা পুরসভার অধিবেশন বসল কক্ষের বাইরে, থানায় মালা, কাউন্সিলরদের মমতার বার্তা: লড়াই করতে হবে

শুক্রবার কালীঘাটে কলকাতা পুরসভার তৃণমূল কাউন্সিলরদের নিয়ে বৈঠকে বসেন মমতা। সূত্রের খবর, সেখানে তিনি কাউন্সিলরদের কারও চাপের কাছে মাথা নত করতে বারণ করেছেন। জানিয়েছেন, পদত্যাগ করা চলবে না।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২২ মে ২০২৬ ২৩:২৯
Share:

তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। —ফাইল চিত্র।

শুক্রবার সকালে কলকাতা পুরসভার অধিবেশন কক্ষে প্রবেশই করতে পারেননি তৃণমূলের কাউন্সিলরেরা। বাধ্য হয়ে অধিবেশন কক্ষের বাইরেই সভা বসান ফিরহাদ হাকিম, মালা রায়েরা। তৃণমূল সাংসদ তথা কলকাতা পুরসভার চেয়ারপার্সন মালা পরে থানার দ্বারস্থও হন। সন্ধ্যায় কলকাতা পুরসভার সেই তৃণমূল কাউন্সিলরদের নিয়েই বৈঠকে বসলেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সূত্রের খবর, সেখানে তিনি লড়াই চালিয়ে নিয়ে যাওয়ার বার্তা দিয়েছেন। জানিয়েছেন, কেউ চাপ দিলেও পদত্যাগ করা চলবে না। নেত্রীর ধর্না কর্মসূচির ভাবনাচিন্তা রয়েছে বলেও খবর।

Advertisement

মমতার বার্তা

শুক্রবার কালীঘাটে কলকাতা পুরসভার তৃণমূল কাউন্সিলরদের নিয়ে বৈঠকে বসেন মমতা। সূত্রের খবর, সেখানে তিনি কাউন্সিলরদের কারও চাপের কাছে মাথা নত করতে বারণ করেছেন। জানিয়েছেন, পদত্যাগ করা চলবে না। সূত্রের খবর, আগামী দিনে রাস্তায় নেমে আন্দোলন করার কথাও জানিয়েছেন নেত্রী। বৈঠকে বলা হয়, কাউন্সিলরেরা সকলেই জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধি এবং তাঁদের সাংবিধানিক মেয়াদ আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত বহাল রয়েছে। সেই সময়সীমা শেষ না-হওয়া পর্যন্ত পুরসভার কাজ চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন নেত্রী, বলে খবর। বৈঠকে কাউন্সিলরদের জনসংযোগ বৃদ্ধি করতেও বলা হয়েছে। নাগরিক পরিষেবা যাতে কোনও ভাবেই ব্যাহত না হয়, সেই নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি, সাধারণ মানুষের সঙ্গে আরও বেশি করে যোগাযোগ রাখার কথা বলা হয়েছে। এমনটাই বলছে ওই সূত্র। বর্তমান পরিস্থিতিতে যাতে নাগরিকেরা পরিষেবা থেকে বঞ্চিত না হন, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে কাউন্সিলরদের।

আন্দোলনের ভাবনাচিন্তা

ধর্না কর্মসূচি নিয়েও তৃণমূলনেত্রী ভাবনাচিন্তা করছেন বলেও খবর। একটি সূত্রের দাবি, বৈঠকে প্রথমে মমতা ধর্নার বদলে ধর্মঘট বলে ফেলেন। রাজ্যে যখন সিপিএম ক্ষমতায় ছিল, তখন বহু বার ধর্মঘট করেছিলেন মমতা। গত ১৫ বছর ধরে মুখ্যমন্ত্রী থাকার সময়ে এই ধর্মঘটের রাজনীতি দূরে সরিয়েছিলেন তিনি। এ বার তাঁর তৃণমূল আবার রাজ্যের বিরোধী দলের আসনে। সূত্রের খবর, বৈঠকে উপস্থিত অনেকের মনেই প্রশ্ন ওঠে, তবে কি আবার ধর্মঘটের রাজনীতিতে ফিরছেন মমতা! এ সব ভাবনাচিন্তা যখন অনেকের মনে চলছে, তখনই মমতা জানিয়ে দেন, ধর্মঘটের কথা নয়, ধর্নার কথা বলছেন তিনি। এমনটাই বলছে সূত্র। সূত্রের খবর, আগামী দিনে কোথায় ধর্না কর্মসূচি করা হবে, সে নিয়েও ভাবনাচিন্তা রয়েছে নেত্রীর। কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিমকে এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে খবর। প্রাথমিক ভাবে ডোরিনা ক্রসিং এলাকায় প্রতিবাদ কর্মসূচি করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তবে প্রশাসনিক অনুমতি না-মিললে পুরসভার ভিতরেই বিকল্প জায়গায় কর্মসূচি সংগঠিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তৃণমূল নেতৃত্বের বক্তব্য, এক দিকে যেমন আদালতে আইনি লড়াই চলবে, অন্য দিকে, তেমনই রাস্তায় নেমে রাজনৈতিক প্রতিবাদ জারি থাকবে।

Advertisement

দায়িত্ব কার

সম্প্রতি পদত্যাগ করা বরো-৯ এর চেয়ারপার্সন দেবলীনা বিশ্বাসের বিষয়টিও বৈঠকে উঠে এসেছে বলে খবর। তাঁর ইস্তফার পর সংশ্লিষ্ট দায়িত্ব কার হাতে তুলে দেওয়া হবে, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। দলীয় নেতৃত্ব সম্ভাব্য নামগুলি খতিয়ে দেখছেন এবং খুব শীঘ্রই নতুন দায়িত্ব বণ্টন করা হতে পারে বলে সূত্রে খবর। আইনি, প্রশাসনিক এবং রাজনৈতিক— তিনটি ক্ষেত্রেই সমান্তরাল ভাবে লড়াই চালানোর কৌশল নিয়েছে দল। কাউন্সিলরদের মনোবল অটুট রাখার পাশাপাশি সংগঠনকে আরও সক্রিয় করার দিকেও জোর দেওয়া হয়েছে এই বৈঠকে।

কক্ষে তালা

শুক্রবার পুরসভার মাসিক অধিবেশন ডাকা হয়েছিল। সেই অনুযায়ী কাউন্সিলরেরা এসেছিলেন। অভিযোগ, কলকাতা পুরসভার অধিবেশন কক্ষে তালা দেওয়া ছিল। সে কারণে শুক্রবার ভিতরে ঢুকতেই পারেননি কাউন্সিলরেরা। তৃণমূল সাংসদ মালা পুরসভার চেয়ারপার্সন। তিনি নিজে অধিবেশনের জন্য ঘরটি খুলে দেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু তার পরেও তালা খোলা হয়নি। অভিযোগ, নতুন সেক্রেটারি জানিয়ে দেন, তিনি এখনও দায়িত্ব নেননি। তাই চাবি দিতে পারবেন না। এর পর মালা অধিবেশন কক্ষের বাইরে কাউন্সিলর্‌স ক্লাব রুমে সভা বসান। ওই ঘরে অধিবেশনের উপযুক্ত আসনবিন্যাস নেই। নেই মাইকের ব্যবস্থাও। বৈঠকে ছিলেন মেয়র ফিরহাদ হাকিমও। মাইক ছাড়াই সেখানে নিজের বক্তব্য জানান ডেপুটি মেয়র অতীন ঘোষ। ফিরহাদ বলেন, ‘‘হাউস খোলা এবং বন্ধ করা চেয়ারপার্সনের কাজ। আজ যা হল, অত্যন্ত দুঃখের, অপমানের। এখানে উপস্থিত সকলকে অভিনন্দন জানাচ্ছি গণতন্ত্রের জন‍্য লড়াই চালিয়ে যাওয়ার জন্য। এই লড়াই আমরা চালিয়ে যাব। রাজ্য সরকারকে বলব, কাজ করতে হবে। বর্ষা এলে শহরে জল জমলে কে দায়িত্ব নেবে? কলকাতায় কোনও বিপর্যয় হলে দায়িত্ব কে নেবে? নির্বাচিত সদস্যদের না-মানলে তো সাংবিধানিক সঙ্কট তৈরি হবে। গণতন্ত্রের উপরে কেউ নেই।’’ মালা পরে বলেন, ‘‘কার নির্দেশে অধিবেশন কক্ষ বন্ধ রাখা হল, আমাদের কেন অধিবেশন করতে দেওয়া হল না, চিঠি দিয়ে জানতে চেয়েছি। তার কোনও উত্তর এখনও পাইনি। সরকারে যে কেউ আসতে পারে। কিন্তু এটা নির্বাচিত পুর বোর্ড। অধিবেশন কক্ষ বন্ধ করে এমন ঘটনা আগে কখনও দেখিনি। এটা ইতিহাস হয়ে রইল।’’

বিজেপির বক্তব্য

পুরসভায় তৃণমূল কাউন্সিলরদের কাণ্ডকে ‘নাটক’ বলে কটাক্ষ করেছেন বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষ। তিনি বলেন, ‘‘পুরসভার অধিবেশনে কেন বিরোধী কাউন্সিলরদের ডাকা হয়নি? ওটা ফিরহাদ হাকিমের বৈঠকখানা তো নয়। বিধানসভায় যাঁরা বিরোধীদের অধিকারের কথা বলেন, তাঁরাই পুরসভায় সেটা মানেন না। কলকাতা পুরসভায় নাটক হচ্ছে।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement