স্মৃতি মন্ধানা (বাঁ দিকে) ও গ্রেস হ্যারিসের ব্যাটে জিতল বেঙ্গালুরু। ছবি: পিটিআই।
পর পর দু’ম্যাচে হারের পর জয়ে ফিরল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। গ্রুপের শেষ ম্যাচে ইউপি ওয়ারিয়র্জ়কে হারিয়ে মহিলাদের আইপিএলের ফাইনালে জায়গা পাকা করে নিল তারা। দাপট দেখিয়ে জিতলেন স্মৃতি মন্ধানারা। প্রথমে ব্যাট করে ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৪৩ রান করে ইউপি। ১৩.১ ওভারে রান তাড়া করে ৮ উইকেটে জিতে নেয় বেঙ্গালুরু। অর্ধশতরান করেন গ্রেস হ্যারিস ও মন্ধানা।
প্রথম পাঁচ ম্যাচ জেতায় ফাইনালে উঠতে বাকি তিন ম্যাচের মধ্যে মাত্র একটি জয় দরকার ছিল বেঙ্গালুরুর। কিন্তু আগের দুই ম্যাচে হারতে হয়েছিল তাদের। বৃহস্পতিবার আবার জয়ে ফিরলেন মন্ধানারা। ব্যাটে-বলে জয়ের নায়ক হ্যারিস। বল হাতে ২ উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি ব্যাট হাতে করলেন ৭৫ রান।
ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভাল করে ইউপি। ফিবি লিচফিল্ড চোটে ছিটকে যাওয়ায় এই ম্যাচে অধিনায়ক মেগ ল্যানিংয়ের সঙ্গে ওপেন করেন দীপ্তি শর্মা। ভাল খেলছিলেন তাঁরা। ওপেনিং জুটিতে ৮ ওভারে ৭৪ রান ওঠে। বেঙ্গালুরুকে খেলায় ফেরান নাদিন ডি ক্লার্ক। নবম ওভারের প্রথম বলেই ৪১ রানের মাথায় ল্যানিংকে আউট করেন তিনি। সেই ওভারেই ফেরান এমি জোনসকে। জোড়া ধাক্কা থেকে বেরাতে পারেনি ইউপি।
মাঝের ওভারে পর পর উইকেট পড়তে থাকে ইউপি-র। দীপ্তি টিকে থাকলেও বাকি কেউ রান পাননি। দীপ্তি ৫৫ রান করেন। ডি ক্লার্ক ৪ ওভারে ২২ রান দিয়ে ৪ উইকেট নেন। চলতি প্রতিযোগিতায় প্রথম বার বল করতে এসে হরলীন দেওল (১৪) ও ক্লোয়ি ট্রিয়নের (৬) বড় উইকেট নেন হ্যারিস। ১ করে উইকেট নেন লরেন বেল ও শ্রেয়াঙ্কা পাটিল।
১৪৪ রানের লক্ষ্য বড় না হলেও ঝুঁকি নিতে চায়নি বেঙ্গালুরু। প্রথম বল থেকে হাত খোলেন হ্যারিস। চার মেরে ইনিংস শুরু করেন তিনি। আর থামানো যায়নি তাঁকে। ক্রান্তি গৌড়, শিখা পাণ্ডে, দীপ্তি শর্মারা তাঁকে থামাতে পারেননি। অভিজ্ঞ সোফি একলেস্টোনও ব্যর্থ। শেষ পর্যন্ত ৩৭ বলে ৭৫ রান করে আউট হন হ্যারিস। ১৩টি তার ও দু’টি ছক্কা মারেন তিনি। তত ক্ষণে জয়ের কাছে পৌঁছে গিয়েছে দল।
বাকি কাজ সারেন মন্ধানা। আরও একটি অর্ধশতরান করেন বেঙ্গালুরুর অধিনায়ক। চার মেরে খেলা শেষ করেন তিনি। ৪১ বল বাকি থাকতে ম্যাচ জেতে বেঙ্গালুরু। ২৭ বলে ৫৪ রানে অপরাজিত থাকেন মন্ধানা। আটটি চার ও দু’টি ছক্কা মারেন তিনি।
৮ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট নিয়ে সকলের ধরাছোঁয়ার বাইরে বেঙ্গালুরু। আপাতত এক সপ্তাহ খেলা নেই তাদের। মন্ধানারা দেখবেন, বাকি চার দলের মধ্যে কারা প্লে-অফে ওঠে। পয়েন্ট তালিকায় সকলের নীচে অভিষেক নায়ারের ইউপি। তবে এখনও সুযোগ রয়েছে তাঁদের। যদি গ্রুপের শেষ ম্যাচে গুজরাত মুম্বইকে বড় ব্যবধানে হারায় ও ইউপি বড় ব্যবধানে দিল্লিকে হারায়, তবেই প্লে-অফে ওঠার সুযোগ থাকবে আইপিএলে কলকাতা নাইট রাইডার্সের প্রধান কোচের দলের। নইলে মেয়েদের আইপিএলের ব্যর্থতা নিয়েই আইপিএলে নামতে হবে অভিষেককে।