সরফরাজ় আহমেদ। — ফাইল চিত্র।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নিলেন সরফরাজ় আহমেদ। পাকিস্তানের প্রাক্তন অধিনায়ক রবিবার নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন। ক্রিকেট ছাড়ার আগেই তিনি জুনিয়র দলের কোচ এবং জাতীয় দলের নির্বাচকের দায়িত্ব সামলেছেন। এ বার পাকিস্তানের টেস্ট দলের কোচ হতে পারেন বলে জল্পনা চলছে।
করাচির এই উইকেটকিপারের আন্তর্জাতিক অভিষেক হয় ২০০৭-এ, জয়পুরে ভারতের বিরুদ্ধে। তিনি দেশের হয়ে ৫৪টি টেস্ট, ১১৭টি এক দিনের ম্যাচ এবং ৬১টি টি-টোয়েন্টি খেলেছেন। সব মিলিয়ে তিনি ৬১৬৪ রান করেছেন। ছ’টি শতরান এবং ৩৫টি অর্ধশতরান রয়েছে। এ ছাড়া ৩১৫টি ক্যাচ এবং ৫৬ স্টাম্প করেছেন।
বিভিন্ন ফরম্যাট মিলিয়ে সরফরাজ় দেশকে ১০০টি ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ৫০টি এক দিনের ম্যাচ, ৩৭টি টি-টোয়েন্টি এবং ১৩টি টেস্টে অধিনায়কত্ব করেছেন। তাঁর নেতৃত্বের পাকিস্তান টি-টোয়েন্টিতে এক নম্বরে উঠে এসেছিল। টানা ১১টি টি-টোয়েন্টি সিরিজ় জিতে বিশ্বরেকর্ড করেছিল।
তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ২০১৭ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জেতা। গ্রুপ পর্বে ভারতের কাছে দুরমুশ হয়েছিল পাকিস্তান। ফাইনালে ফখর জ়মানের শতরানের দৌলতে ভারতকে ১৮০ রানে হারিয়েছিল তারা। পাকিস্তানের আট বছরের আইসিসি ট্রফির খরা কাটিয়েছিলেন সরফরাজ়। তার আগে পাকিস্তানকে নেতৃত্ব দিয়ে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপও জিতিয়েছিলেন সরফরাজ়। সে বারও ফাইনালে ভারতকে হারিয়েছিল পাকিস্তান।
একাধিক ক্রিকেটার উঠে এসেছেন সরফরাজ়ের সমর্থনে। এঁদের মধ্যে বাবর আজ়ম, শাহিন আফ্রিদি, হাসান আলি, ইমাম উল হক, ফাহিম আশরফ, ফখর জ়মান এবং শাদাব খান রয়েছেন। মহম্মদ রিজ়ওয়ানের উত্থানের পর থেকেই জাতীয় দলে সরফরাজ়ের প্রভাব কমতে থাকে। শেষ বার পাকিস্তানের হয়ে খেলেছিল ২০২৩-এর ডিসেম্বরে, পার্থ টেস্টে।
সরফরাজ় এ দিন লিখেছেন, “পাকিস্তানের প্রতিনিধিত্ব করা জীবনের সেরা সম্মান। তিন ফরম্যাটে নেতৃত্ব দিয়ে স্বপ্নপূরণ হয়েছে। বরাবর ভয়ডরহীন ক্রিকেট খেলতে চেয়েছি। পাশে থাকার জন্য পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডকে ধন্যবাদ।”