(বাঁ দিকে) হার্দিক পাণ্ড্যকে চুমু প্রেমিকা মাহিকা শর্মার (ডান দিকে)। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের পর। ছবি: পিটিআই।
বিয়ে হয়নি। তা-ও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতেই প্রেমিকা মাহিকা শর্মাকে বউয়ের স্বীকৃতি দিলেন হার্দিক পাণ্ড্য। বডোদরার অলরাউন্ডার জানালেন, মাহিকা তাঁর জীবনে আসার পর সবকিছুই জয়ময় হয়ে গিয়েছে। নিজেকে বদলে ফেলার কৃতিত্ব বিলিয়ে দিলেন ব্যক্তিগত সহকারীদের।
২০২৪ সালে বিশ্বকাপ জয়ের পর ব্যক্তিগত জীবনে নানা উত্থান-পতনের মধ্যে দিয়ে গিয়েছেন হার্দিক। নাতাসা স্তাঙ্কোভিচের সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের পর মাহিকার সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছেন তিনি। বিশ্বজয়ের পরও তাঁর মুখে সেই কঠিন সময়ের কথা। হার্দিক বলেছেন, ‘‘গত বিশ্বকাপের পর থেকে বেশ কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে গিয়েছি। অনেক কিছু ঘটেছে আমার জীবনে। সে সব থেকে নিজেকে মুক্ত করে পঞ্চম বার ফিরে আসাটা সহজ ছিল না।’’
মাহিকাকে নিয়ে উচ্ছ্বসিত হার্দিক আরও বলেছেন, ‘‘মাহিকা যবে থেকে আমার জীবনে এসেছে, তবে থেকে সব কিছুই ভাল হচ্ছে। তার পর থেকে আমি শুধু সামনে এগিয়ে চলেছি। মাহিকার কথা আলাদা করে না বললেই নয়। আমার স্ত্রী পাশে না থাকলে এ সব সম্ভবই হত না। আমি সত্যিই খুব খুশি।’’
পর পর দু’বার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতলেন। অনুভূতি কেমন? হার্দিক বললেন, ‘‘এমন জয়ের জন্যই তো বাঁচি। এই জন্যই তো ক্রিকেট খেলি। এই ট্রফি জেতার জন্যই তো খেলি। দেশের জন্য যত বেশি সম্ভব ট্রফি জেতাই লক্ষ্য আমার। বার্বাডোজ়ে সেই জয়ের পরই ঠিক করে নিয়েছিলাম, যে প্রতিযোগিতাই খেলব, জেতার চেষ্টা করব। আমি শুধু ট্রফি জিততে চাই। এর পিছনে প্রচুর কঠোর পরিশ্রম থাকে। আমাকে যাঁরা সাহায্য করেন, তাঁরা প্রচুর পরিশ্রম করেন। আমার নিরাপত্তাকর্মী, পাচক, পুষ্টিবিদ, ফিজিয়ো, ট্রেনারেরাই আমাকে বদলে দিয়েছেন। আমার দলের কারও কৃতিত্ব কম নয়। ওদের সকলকে ধন্যবাদ।’’
আরও ১০ বছর খেলতে চান হার্দিক। জিততে চান অন্তত ১০টি ট্রফি। হার্দিক বলেছেন, ‘‘আমি এখন দলের অন্যতম সিনিয়র। তবে ক্রিকেটজীবনের অর্ধেক এখনও বাকি। অন্তত আরও ১০ বছর খেলতে চাই। আইসিসির প্রতিযোগিতা আর আইপিএল মিলিয়ে অন্তত ১০টা ট্রফি জিততে চাই। তবে আমার কাছে আইসিসি ট্রফির গুরুত্ব অনেক বেশি। এখনও পর্যন্ত তিনটে জিতলাম। আরও জিততে হবে। আগামী ১০ বছরে আরও পাঁচ-ছ’টা জিততেই হবে আমায়। এটাই আমার লক্ষ্য।’’
দেশের মাটিতে বিশ্বকাপ জিতে কেমন লাগছে? হার্দিক বলেছেন, ‘‘ভীষণ আবেগপ্রবণ লাগছে। খুব খুব উত্তেজিত লাগছে। দেশের মাটিতে বিশ্বকাপ জয়ের অনুভূতিই আলাদা। বিরাট ব্যাপার। আমরা দলের সকলে আত্মবিশ্বাসী ছিলাম। আগের দিন থেকেই জানতাম, আমরাই বিশ্বকাপ জিতব। বলতে পারেন ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সেমিফাইনালের ১৯তম ওভারেই ব্যাপারটা ঠিক হয়ে গিয়েছিল।’’